Home Blog Page 2

বাংলাদেশে তথা উন্নয়নশীল দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার এবং উপায়সমূহ

2

বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার?
অথবা,
উন্নয়নশীল দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উপায়সমূহ লিখ ।
অথবা,
বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজ পদক্ষেপসমূহ বর্ণনা কর।

সুশাসন বা Good Governance হচ্ছে বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে একটি ব্যাপক প্রচলিত ধারণা, যার মাধ্যমে দেশের জনগণ কিভাবে শাসিত হবে, কিভাবে রাষ্ট্র
পরিচালিত হবে, রাষ্ট্র ও সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে ইত্যাদি জানা যায়।
আধুনিক সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বিরাজমান সকল সমস্যার সমাধান ঘটিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। মূলত রাষ্ট্রকে সু ব্যবস্থাপনা ও সঠিক পরিচালনার মাধ্যমে উৎকর্ষের শীর্ষে পৌঁছে দেওয়াই হচ্ছে সুশাসনের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

• বাংলাদেশে তথা উন্নয়নশীল দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসমূহ :

বাংলাদেশে সহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠাকল্পে নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা যেতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন

ঔপনিবেশিক শাসনামলে ব্রিটিশরা তাদের স্বার্থান্বেষী প্রতিষ্ঠান ব্যতীত কোনো আধুনিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেনি। ১৯৪৭ পরবর্তীতেও কোনো প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হয়নি। সামরিক শাসনে রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান, চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এতই দুর্বল ছিল যে, আইয়ুব খান এসব প্রতিষ্ঠানকে নিজ দুর্বল প্রতিষ্ঠানসমূহকে নিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হয়। তাই বাংলাদেশে সু-শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন।

গণতান্ত্রিক চর্চা বৃদ্ধি

বাংলাদেশে শাসন ব্যবস্থায় আজ পর্যন্ত যারা নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তাদের মধ্যে কর্তৃত্বপরায়ণতা, পিতৃতান্ত্রিকতা, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও স্বজনপ্রীতি পরিলক্ষিত হয় এবং নেতা ও দলের মধ্যে রয়েছে গণতান্ত্রিক চর্চা ও মূল্যবোধের অভাব। তাই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, বাংলাদেশের সু-শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা পরিহার করে অর্থাৎ নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে গণতান্ত্রিক চর্চা তথা জাতির বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।

জবাবদিহিতা

সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে জবাবদিহিতা। কেননা দেশের সরকার এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা থাকলে তারা অন্যায় কাজ করতে ভয় পাবে। সহজে দুর্নীতিতে ঝরাবে না। যাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

স্বচ্ছতা

প্রশাসন কিংবা সরকার ব্যাবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা কেবল বিলাশীতায় পরিণত হবে। তাই প্রর্তেক বিভাগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা পরিহার

বাংলাদেশে শাসন ব্যবস্থায় আজ পর্যন্ত যারা নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তাদের মধ্যে কর্তৃত্বপরায়ণতা, পিতৃতান্ত্রিকতা, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও স্বজনপ্রীতি পরিলক্ষিত হয় এবং নেতা ও দলের মধ্যে রয়েছে গণতান্ত্রিক চর্চা ও মূল্যবোধের অভাব। তাই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, বাংলাদেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা পরিহার করে অর্থাৎ নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে গণতান্ত্রিক চর্চা তথা জাতির বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।

চারিত্রিক দৃঢ়তার বৃদ্ধি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের চারিত্রিক দুর্বলতা অত্যন্ত একটি। নীতির প্রশ্নে অটল থাকা, নিজের বা অন্যের প্রতি প্রদর্শিত আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়া, অন্যায় নির্দেশকে অগ্রাহ্য করা, অঙ্গীকার/প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অন্যায় রুখে দাঁড়ানো প্রভৃতি চারিত্রিক সবলতা নেতাদের মাঝে দেখা যায় না। কার্যত এর বিপরীত অবস্থানটিই বিদ্যমান।

দুর্নীতি প্রতিরোধ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের অধিকাংশ দুর্নীতির সাথে প্রত্যক্ষ ও বারোক্ষভাবে জড়িত। দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। কারণ দুর্নীতি সুশাসনের অন্তরায়।

বহিঃশক্তির উপর নির্ভরশীলতা

বিদেশি শক্তি ও সাহায্যদাতা দেশগুলোর উপর নির্ভর করে ক্ষমতা চর্চার চেষ্টা করে। থাকে দেশীয় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে বিদেশি প্রভুশক্তির অনধিকার হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেয় নির্দ্বিধায়। যা আমাদের দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্তরায়। তাই বহিঃশক্তির প্রভাবমুক্ত সু-শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে।

স্বজনপ্রীতি পরিহার

বাংলাদেশে শাসন ব্যবস্থায় আজ পর্যন্ত যারা নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তাদের মধ্যে কর্তৃত্বপরায়ণতা, পিতৃতান্ত্রিকতা, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও স্বজনপ্রীতি পরিলক্ষিত হয় এবং নেতা ও দলের মধ্যে রয়েছে গণতান্ত্রিক চর্চা ও মূল্যবোধের অভাব। তাই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, বাংলাদেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা পরিহার করে অর্থাৎ নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে গণতান্ত্রিক চর্চা তথা জাতির বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।

ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ সিন্ডিকেট কঠোরহস্তে দমন

সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি বড় অন্তরায় হচ্ছে ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের মধ্যকার আঁতাত। ঋণখেলাপি শ্রেণি এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে। প্রতিনিধি নির্বাচনে অর্থের যোগান দিচ্ছে। এসব প্রতিনিধিরা অবশ্যই ব্যবসায়ীদের স্বার্থে আইন ও নীতিমালা তৈরি করে, যা সু-শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে, অন্যদিকে এরা মাস্তান পোষে এবং আইন এদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাই এদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

রাজনৈতিক ঐকমত্য সৃষ্টি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ঐকমত্য প্রশ্নে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, যার ফলে আজও সমাধান হয়নি বাঙালি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দ্বন্দ্ব, স্থানীয় সরকার কাঠামো, পররাষ্ট্র নীতি ইত্যাদি। অতএব, বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রয়াসে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে ।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ

মানুষের বাকস্বাধীনতা ও জনগণের সচেতনতার জন্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। কিন্তু ক্ষমতার অধিষ্ঠিত হয়ে সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে যা সুশাসনের অন্তরায়। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের ত্রুটি কিংবা দুর্নীতি জনগণের সামনে উপস্থাপনের লক্ষ্যে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকে স্বাধীনতা দিতে হবে। এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। কারণ গণমাধ্যম দেশের সুশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ভূমিকা পালন করে।

পরিশেষে বলা যায় যে,
সুশাসন একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশে সুশাসন নেই বললেই চলে। তাই বাংলাদেশে সু-শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কতকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন করতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সবার নৈতিক চরিত্রের উন্নতি ও দেশপ্রেম দৃঢ় করতে হবে। তাহলেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।


আমাদের সাথেই থাকুন–

facebook.com/sazzathj

facebook.com/sazzathj

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার উপায় – কিভাবে একজন সফল উদ্যোক্তা হবেন !

0
সফল উদ্যোক্তা হওয়ার উপায়

একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে তার বিশেষ দক্ষতা থাকতে হয়, আর তা কাজে লাগিয়ে নিজেই প্রতিষ্ঠান গড়ে নিজের ও অন্যের জন্য কর্মসংস্থান করা যায়। একজন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার ধাপ নিয়ে নিচে আলোচনা করা হল।

সুস্পষ্ট লক্ষ্য স্থির ও কঠোর পরিশ্রম

উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হতে আপনাকে অবশ্যই সুস্পষ্ট লক্ষ্য স্থির করতে হবে। প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রেই এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন সফল উদ্যোক্তা তার লক্ষ্যের প্রতি স্থির থাকেন এবং সে লক্ষ্য মাথায় রেখে কঠোর পরিশ্রমের সাথে সুনির্দিষ্ট কিছু কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। অর্থাৎ লক্ষ্যে পৌছার জন্য যত ধরনের বাধাই আসুক না কেন তা মেনে নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে/

সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পর্কে ভালো জ্ঞান ও দক্ষতা 

আপনি যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করবেন সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান বা দক্ষতা থাকতে হবে। অর্থাৎ সে ব্যবসা সম্পর্কে যেন পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা থাকে । প্রয়োজন হলে সে কাজে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে ভালোভাবে শিখুন। তাতে করে আপনি অভিজ্ঞ হয়ে উঠবেন এবং পরবর্তীতে আপনি নিজের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সফল হবেন ।

ঝুঁকি গ্রহণ ও কৌশলী হওয়া

যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে আপনাকে কৌশলী হতে হবে এবং ঝুঁকি গ্রহণের মনোভাব থাকতে হবে। ক্রেতাদের অবস্থা ও বাজারের চাহিদা অনুযায়ী, ব্যবসা করতে হবে। অর্থাৎ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতা ও বাজারে যে পণ্যের চাহিদা রয়েছে সে পণ্য নিয়ে ব্যবসা করতে হবে। আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীরা বাজারে কী পণ্য নিয়ে আসছে সেগুলো খেয়াল রাখুন। সবকিছুর বিবেচনায় আপনাকে ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদন করতে হবে। যখন দেখবেন লাভের পরিমাণ বেশি এবং ঝুঁকির পরিমাণ কম তখন ঠিকই ঝুঁকি নেওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

নেতৃত্ব দেওয়া 

একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি থাকতে হবে। একজন মানুষ সকল বিষয়ে দক্ষ হয় না। এক্ষেত্রে টিম গঠন করে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে এবং টিম পরিচালনায় দক্ষ হতে হবে। একজন সফল উদ্যোক্তাকে নিজে যেমন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তেমনি অন্যদেরও সঠিক পথে পরিচালনা করেন। কাকে কি বললে সে ভালো কাজ করবে তা খুব সহজেই ধরতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী, আচরণ করতে পারেন। কর্মীদের ভেতর থেকে তাদের সেরাটা বের করে আনার সহজাত ক্ষমতা একজন সফল উদ্যোক্তার রয়েছে।

অর্থ ব্যবস্থাপনা ও হিসাব

একটি নতুন উদ্যোগ লাভের মুখ দেখতে বেশ কিছুটা সময় লাগে। এ লাভ আসার আগ পর্যন্ত হাতে থাকা অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে যে সমস্ত জায়গায় অতিরিক্ত ব্যয় হয় সে সকল ব্যয় বন্ধ করুন এবং আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটি আয় ব্যয়ের হিসাব রাখুন। এর ফলে কতটুকু লাভ হচ্ছে বা ক্ষতি হচ্ছে তা জানা যাবে।

গ্রাহকদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও অভিযোগ গ্রহণ 

গ্রাহকদের সাথে আন্তরিকতার সাথে কথা বলে ও হাসিমুখে তাদের অভিযোগ গ্রহণ করে যত দ্রুত সম্ভব সেগুলোর সমাধান দিতে হবে। এতে করে গ্রাহকদের সাথে আপনার ও আপনার প্রতিষ্ঠানের একটি সু-সম্পর্ক স্থাপন হবে। গ্রাহকদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে আপনাকে পারদর্শী হতে হবে।

আত্মবিশ্বাস ও ব্যর্থতার জন্য প্রস্তুত থাকা

নিজের ক্ষমতা ও যাবতীয় গুণাবলির ওপর পরিপূর্ণ আস্থাশীল ও বিশ্বাস স্থাপন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে বিশ্বাস অর্জন করতে হবে যে, সব বাধা অতিক্রম করেই আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছবেন । সফল উদ্যোক্তারা তাদের কাজকে উপভোগ করেন, সেকারণে তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যান। তাছাড়া কোনো কাজের ক্ষেত্রে সফলতা ও ব্যর্থতা দু’টোই থাকে। আপনার ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা আসতেই পারে। এ ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে আপনাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সফল উদ্যোক্তা হতে হলে আপনাকে অবশ্যই ওপরে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জন করতে হবে। সততার সাথে নিজেকে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তুলুন । দেখবেন সবকিছুই সহজ মনে হচ্ছে।


আপনিও চাইলে আমাদের ইরাকক্সে লিখতে পারেন আপনার লিখা, তাই আমদের সাথে যোগাযোগ করুন–

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুশীল সমাজের ভূমিকা

0

সুশীল সমাজ সর্বদা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সুশীল সমাজ সমাজের বিভিন্ন উন্নয়ন তথা সমাজের মানুষের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। উন্নয়নশীল দেশ সত্যিকার স্বাধীনতার সুফল পেতে সুশীল সমাজ অগ্রনী ভূমিকা পালন করে।
আজ আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুশীল সমাজের ভূমিকা নিয়ে আলচনা করব। চলুন শুরু করা যাক-
→ নিম্নে উন্নয়নশীল দেশে গণতন্ত্রায়ণে সুশীল সমাজের ভূমিকা আলোচনা করা হলো:

সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠা :

গণতান্ত্রিক চেতনায় সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠায় সুশীল সমাজ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সাংবিধানিক সরকার একটি বৈধ সরকার। সংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের গুরুত্ব মূল্যায়নের প্রতিফলন ঘটে।

সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন :

সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে সুশীল সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুর্নীতিগ্রস্ত, ঋণখেলাপি, অসৎ, অযোগ্য ব্যক্তি যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সুশীল সমাজ তার জন্য কাজ করে ।

স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন :

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা একটি অত্যবশ্যকীয় কাজ। একটি গণতান্ত্রিক উন্নয়নশীল দেশে ভয়হীন, স্বাধীন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে সুশীল সমাজ নির্বাচন কমিশনকে বাধ্য করে।

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা :

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সুশীল সমাজ সর্বদা তৎপর। জনগণের অধিকার ভোগ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুশীল সমাজ কাজ করে।

আইনের শাসন :

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পূর্বশর্ত হলো আইনের শাসন। গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনের শাসন গুরুত্বপূর্ণ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সুশীল সমাজ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে ।

স্বাধীন বিচারব্যবস্থা :

স্বাধীন বিচারব্যবস্থা গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত। স্বাধীন বিচারব্যবস্থা সমাজের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমন নাগরিকের অধিকার রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে গণতন্ত্রায়নের জন্য স্বাধীন বিচারব্যবস্থা অপিরিহার্য।

প্রশাসনিক জবাবদিহিতা :

শাসন বিভাগ তার উপর অর্পিত ক্ষমতা বা কার্যবলির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা আবশ্যক। শাসন বিভাগের কার্যবলির জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে সুশাসন নিশ্চিত হবে। তাই প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে সুশীল সমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে ।

জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল :

গণতন্ত্রের প্রধান উপাদান হলো জনমত। সুশীল সমাজ জনমতের উপর সর্বদাই গুরুত্ব প্রদান করে থাকে। সুশীল সমাজ জনমত সৃষ্টি করে গণতন্ত্রায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

জাতিগত বিরোধ নিরসন :

উন্নয়নশীল দেশে বিভিন্ন গোষ্ঠীর জাতি, উপজাতি বসবাস করে। অনেক সময় এরা নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, সুশীল সমাজ গোষ্ঠী, জাতি ও উপজাতির এসব সংঘাত নিরসনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ৷

দুর্নীতি প্রতিরোধ :

গণতন্ত্র বিকাশে দুর্নীতি একটি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। সুশীল সমাজ দুর্নীতি প্রতিরোধ করে গণতন্ত্র বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

জনগণকে গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণ

সুশীল সমাজ সবসময় গণতান্ত্রিক মনের হয়ে থকে। এজন্য সুশীল সমাজ জনগণকেও গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে গণতন্ত্র রক্ষা ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


পরিশেষে বলা যায়, একটি উন্নয়নশীল দেশের গণতন্ত্র বিকাশে সুশীল সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।সুশীল সমাজ একটি রাষ্টের সরকারের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে আইনের মাধ্যমে, স্বচ্ছতা ও জবাব্দিহিতার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করে। সুতরাং সুশীল সমাজই হলো সমাজের সেই অগ্রগামী গোষ্ঠী যারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সদা তৎপর

Bandarban Zila Police Mobile APP

0

Privacy Policy

Bandarban Zila Police built the Bandarban Zila Police app as a Free app. This SERVICE is provided by Bandarban Zila Police at no cost and is intended for use as is.

This page is used to inform visitors regarding our policies with the collection, use, and disclosure of Personal Information if anyone decided to use our Service.

If you choose to use our Service, then you agree to the collection and use of information in relation to this policy. The Personal Information that we collect is used for providing and improving the Service. We will not use or share your information with anyone except as described in this Privacy Policy.

The terms used in this Privacy Policy have the same meanings as in our Terms and Conditions, which are accessible at Bandarban Zila Police unless otherwise defined in this Privacy Policy.

Information Collection and Use

For a better experience, while using our Service, we may require you to provide us with certain personally identifiable information, including but not limited to Balaghata Police Lines, Bandarban Sadar, Bandarban.. The information that we request will be retained by us and used as described in this privacy policy.

The app does use third-party services that may collect information used to identify you.

Link to the privacy policy of third-party service providers used by the app

Log Data

We want to inform you that whenever you use our Service, in a case of an error in the app we collect data and information (through third-party products) on your phone called Log Data. This Log Data may include information such as your device Internet Protocol (“IP”) address, device name, operating system version, the configuration of the app when utilizing our Service, the time and date of your use of the Service, and other statistics.

Cookies

Cookies are files with a small amount of data that are commonly used as anonymous unique identifiers. These are sent to your browser from the websites that you visit and are stored on your device’s internal memory.

This Service does not use these “cookies” explicitly. However, the app may use third-party code and libraries that use “cookies” to collect information and improve their services. You have the option to either accept or refuse these cookies and know when a cookie is being sent to your device. If you choose to refuse our cookies, you may not be able to use some portions of this Service.

Service Providers

We may employ third-party companies and individuals due to the following reasons:

  • To facilitate our Service;
  • To provide the Service on our behalf;
  • To perform Service-related services; or
  • To assist us in analyzing how our Service is used.

We want to inform users of this Service that these third parties have access to their Personal Information. The reason is to perform the tasks assigned to them on our behalf. However, they are obligated not to disclose or use the information for any other purpose.

Security

We value your trust in providing us your Personal Information, thus we are striving to use commercially acceptable means of protecting it. But remember that no method of transmission over the internet, or method of electronic storage is 100% secure and reliable, and we cannot guarantee its absolute security.

Links to Other Sites

This Service may contain links to other sites. If you click on a third-party link, you will be directed to that site. Note that these external sites are not operated by us. Therefore, we strongly advise you to review the Privacy Policy of these websites. We have no control over and assume no responsibility for the content, privacy policies, or practices of any third-party sites or services.

Children’s Privacy

These Services do not address anyone under the age of 13. We do not knowingly collect personally identifiable information from children under 13 years of age. In the case we discover that a child under 13 has provided us with personal information, we immediately delete this from our servers. If you are a parent or guardian and you are aware that your child has provided us with personal information, please contact us so that we will be able to do the necessary actions.

Changes to This Privacy Policy

We may update our Privacy Policy from time to time. Thus, you are advised to review this page periodically for any changes. We will notify you of any changes by posting the new Privacy Policy on this page.

This policy is effective as of 2022-06-25

Contact Us

If you have any questions or suggestions about our Privacy Policy, do not hesitate to contact us at [email protected].

This privacy policy page was created at privacypolicytemplate.net and modified/generated by App Privacy Policy Generator

ক্রুসেড সিরিজ বাংলা (সকল পর্ব এক সাথে) – মহাবীর সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবী।

0

ক্রুসেড সিরিজ টি মহাবীর সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবী কে নিয়ে নির্মিত এক যুগান্ত কারি সিরিজ । আমাদের দেশের এস এ টিভি কর্তৃক বাংলা ডাবেড হয়। যা নিচে ক্রম অনুযায়ী সাজানো হল। সিরিজ টি দুই সিজনে বিভক্ত নিচে সকল পর্ব একসাথে দেওয়া হল।

ক্রুসেড সিরিজ সিজন ১

বিশ্ব ইতিহাসে ক্রুসেড বলতে পবিত্র ভূমি অর্থাৎ জেরুজালেম এবং কন্সটান্টিনোপল এর অধিকার নেয়ার জন্য ১০৯৫ – ১২৯১ সাল পর্যন্ত মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইউরোপের খ্রিস্টানদের সম্মিলিত শক্তির পরিচালিত যুদ্ধগুলোকে বোঝায়। প্রথম ক্রুসেডের সূত্রপাত হয় পোপ দ্বিতীয় উর্বানের মাধ্যমে। ক্রুসেডারদের সঙ্গে মুসলমানদের যুদ্ধকে বলা যেতে পারে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে সবচাইতে বড় ধরনের যুদ্ধ। কেউ কেউ এটিকে ধর্মের লেবাস পরিয়ে দিতে চাইলেও ক্রুসেডারদের মূল উদ্দেশ্য ছিল পার্থিব। এটি ছিল একধরনের অর্থনৈতিক আগ্রাসন, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছে। মুসলিম বিশ্বের একজন অকুতোভয় বীরসেনানী সালাউদ্দিন আইয়ুবি ১১৮৭ সালের ২ অক্টোবর শুক্রবার, জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করেন। তিনি আরব ও ইসলামকে একই পতাকাতলে নিয়ে আসেন এবং কোনরূপ রক্তপাত ছাড়াই বাহল মোকাদ্দাস জয় করেন।
ইতিহাসে ক্রুসেডের নায়ক হচ্ছেন। মহাবীর সালাউদ্দিন আইয়ুবি। যিনি পাশ্চাত্যে সালাদিন নামে পরিচিত।

ক্রুসেড সিরিজের প্রথম সিজনে দেখানো হয়েছে সুলতান সালাহ উদ্দিন এর বেড়ে উঠার গল্প। চলুন দেরি না করে শুরু করি দেখা।

ক্রুসেড পর্ব ১

ক্রুসেড পর্ব ০২

ক্রুসেড পর্ব ০৩

ক্রুসেড পর্ব ০৪

ক্রুসেড পর্ব ০৫

ক্রুসেড পর্ব ০৬

ক্রুসেড পর্ব ০৭

ক্রুসেড পর্ব ০৮

ক্রুসেড পর্ব ০৯

ক্রুসেড পর্ব ১০

ক্রুসেড পর্ব ১১

ক্রুসেড পর্ব ১২

ক্রুসেড পর্ব ১৩

ক্রুসেড পর্ব ১৪

ক্রুসেড পর্ব ১৫

ক্রুসেড পর্ব ১৬

ক্রুসেড পর্ব ১৭

ক্রুসেড পর্ব ১৮

ক্রুসেড পর্ব ১৯

ক্রুসেড পর্ব ২০

ক্রুসেড পর্ব ২১

ক্রুসেড পর্ব ২২

ক্রুসেড পর্ব ২৩

ক্রুসেড পর্ব ২৪

ক্রুসেড পর্ব ২৫

ক্রুসেড পর্ব ২৬

ক্রুসেড পর্ব ২৭

ক্রুসেড পর্ব ২৮

ক্রুসেড পর্ব ২৯

ক্রুসেড পর্ব ৩০

ক্রুসেড পর্ব ৩১

ক্রুসেড পর্ব ৩২

ক্রুসেড পর্ব ৩৩

ক্রুসেড পর্ব ৩৪

ক্রুসেড পর্ব ৩৫

ক্রুসেড পর্ব ৩৬

ক্রুসেড পর্ব ৩৭

ক্রুসেড পর্ব ৩৮

ক্রুসেড পর্ব ৩৯

ক্রুসেড পর্ব ৪০

ক্রুসেড পর্ব ৪১

ক্রুসেড পর্ব ৪২

ক্রুসেড পর্ব ৪৩

ক্রুসেড (সিজন 2) মহাবীর গাজী সালাউদ্দিন

এই সিজনে সিরিজটির নাম মহাবীর গাজী সালাউদ্দিন নামে পরিচালিত হয়।

ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে সাথে থাকার জন্য।

আমাদের কে আপনার মূলবান মতামত জানান।

পাট শাক – পাট শাকের উপকারিতা ও তার পুষ্টিগুণ, চলুন জেনে নেই।

0
পাট শাক

পাট শাক পুষ্টিগুণে ভরা যা অনেকের কাছেই প্রিয় একটি খাবার। যেমন, আমার-ই খুব প্রিয়। পাটশাক খেতে যেমন সুস্বাদু আর তেমনই সহজলভ্য। সাধারণত পাটশাক ভেজে নিয়ে গরম ভাতের সাথে খাওয়া হয়। এটি শাক হিসেবে শুধু মুখরোচকই নয় পাটের পাতায় রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ।

পাট শাকে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন সি, ই, কে, বি- ৬ এবং নিয়াসিন রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাটশাকে ক্যালরি থাকে ৭৩। এতে আমিষ থাকে ৩.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৯৮ মিলিগ্রাম, লোহা ১১ মিলিগ্রাম ও ক্যারোটিন ৬৪০০ (আইইউ)। তাছাড়া পাট শাকে রয়েছে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যারোটিন এবং খাদ্যআঁশ। এসব পুষ্টি উপাদান রোগবালাই থেকে আমাদেরকে দূরে রাখে।

সম্মানিত পাঠক জেনে নিন এবার পাট শাকের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ সম্পর্কে।

মুখের রুচি বাড়ায়

তেতো স্বাদের পাটশাক খাওয়ার রুচি বাড়ায়। মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনে ও মেদ বৃদ্ধির আশঙ্কা কমায়। পাটশাকের তেতো স্বাদ মুখে লালা ক্ষরণ করে শ্বেতসারকে ভাঙতে সাহায্য করে। এতে হজমের সুবিধা হয় ফলে খাবারের রুচি বাড়ে।

নিদ্রাহীনতা দূর করে

পাটশাকে থাকা ম্যাগনেশিয়াম উপাদান শরীরে প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদন করে যা স্নায়ুতন্ত্র শান্ত রাখে এবং নিরবচ্ছিন্ন নিদ্রা নিশ্চিত করে। তাই ভাল ঘুমের জন্য পাট শাক খেতে পারেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

পাট শাকের ভিটামিন এ, ই এবং সি শরীরের রোগ পতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে থাকা ভিটামিন সি ও ক্যারোটিন মুখের ঘা দূর করতে সাহায্য করে। তাছাড়া ভিটামিন-সি রক্তের শ্বেত কনিকা বৃদ্ধি করে এবং ভিটামিন-এ, ভিটামিন ই চোখ, হৃদপিণ্ডসহ অন্যান্য অঙ্গের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

হাড়ের বৃদ্ধি সাধন করে

পাটশাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম আছে যা হাড় ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ করে। তাছাড়া এতে থাকা আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান হাড় গঠন ও ক্ষয়পূরণ করে এবং হাড়ভঙ্গুরতা রোধ করে।

উচ্চ রক্তচাপ দূর করে

পাটশাকে বিদ্যমান উচ্চ মাত্রার পটাশিয়াম রক্তসঞ্চালন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা দূর হয়। এছাড়া পাটশাক রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত খেলে হার্ট অ্যাটাক এবং ষ্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়।

আয়রণের ভাল উৎস

পাটশাকে প্রচুর পরিমান আয়রন থাকে যা রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে সহায়তা করে। পাটশাকে থাকা আয়রন দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং কর্মদক্ষতাও বৃদ্ধি করে।

হজম শক্তি বড়ায়

পাটশাকে থাকা খাদ্যআঁশ হজম প্রক্রিয়াকে দারুণভাবে ত্বরান্বিত করে আমাদের হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

বাতের ব্যথা দূর করে

আপনি জানলে অবাক হবে যে পাট শাক বাতের ব্যথায় বেশ উপকারী। পাট শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে। ভিটামিন-ই গেঁটেবাত, আর্থরাইটস এবং প্রদাহ জনিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এই সকল রোগের জন্য পাট শাক একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ্য।

পরিশেষে বলব এরকম আরও পোস্ট পেতে আমাদের পাশেই থাকে চোখ রাখুন আমাদের ফেইসবুক পেইজ এবং ফেইসবুক গ্রুপে। সময় নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

রাজনৈতিক তত্ত্ব কি? রাজনৈতিক তত্ত্বের বিষয়বস্তু সমূহের আলোচনা।

0

রাজনৈতিক তত্ত্ব কী? অথবা, রাজনৈতিক তত্ত্ব বলতে কী বুঝ?

ভূমিকাঃ রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাস বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ সর্বদাই নিজেদের ভাবধারাকে একটি তাত্ত্বিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণের জন্য তত্ত্ব গঠন অপরিহার্য কারণ সকল বৈজ্ঞানিক জ্ঞানই হলো তত্ত্বগত। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে রাজনৈতিক তত্ত্বের উপরই মূলত একটি রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।

রাজনৈতিক তত্ত্বের সংজ্ঞা

অতীতে রাজনৈতিক তত্ত্ব বলতে প্লেটো, অ্যারিস্টটল, রুশো, মিল প্রমুখ চিন্তাবিদদের জাঁকজমকপূর্ণ দার্শনিকদের লালিত তত্ত্বকেই বোঝায়। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক তত্ত্বের সংজ্ঞা পরিবর্তিত হয়েছে। মূলত রাজনৈতিক তত্ত্বের সংজ্ঞায় আমরা বলতে পারি যে, রাজনীতি সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট তত্ত্ব যেকোনো রাজনৈতিক ঘটনা গবেষণা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে তাকে রাজনৈতিক তত্ত্ব বলে।

প্রামাণ্য সংজ্ঞাঃ নিম্নে রাজনৈতিক তত্ত্বের কয়েকটি প্রামাণ্য

সংজ্ঞা প্রদান করা হলো :

ফ্রান্সিক কোকার (Francis Coker)-এর মতে, “যখন সরকার তার সংগঠন এবং কার্যকে সাময়িক ফলাফল অর্জনের নিমিত্ত কেবলমাত্র বর্ণনা, ভুলনা ও বিচারের তথ্যরূপে গ্রহণ না করে মানুষের নিরন্তন প্রয়োজন, আকাঙ্ক্ষা ও মতামতের মূল্যায়নের তথ্য হিসেবে পরিগণিত হয়, তখন রাজনৈতিক তত্ত্বের উদ্ভব ঘটে।

কার্ল জি. হেলে (Carl J. Hempel) বলেন, “রাজনৈতিক তত্ত্ব বিভিন্ন বিষয়ে এক নিয়মিত বা সমরূপ নমুনা সম্পর্কে ধারণা দান করে।

জে. এ. বিল এবং আর. এল. হার্ডসেড (J.A. Bill and R.L.. Hardgrave) বলেছেন, “Theory is a set of systematically related generalizations suggesting new observations for empirical testing.” সাধারণ তত্ত্ব বলতে বোঝায় বাস্ত বক্ষেত্রে পরীক্ষার জন্য পর্যবেক্ষণমূলক এক সাধারণ সূত্রে যা অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরস্পরের সাথে সংশ্লিষ্ট।

পরিশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক তত্ত্বকে প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। জে. রোলাল্ড পেনক রাজনৈতিক তত্ত্বকে পাঁচটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। যথা : নৈতিক, কাল্পনিক, সমাজতান্ত্রিক, আইনগত এবং রাজনৈতিক। কালের বিবর্তনধারায় রাজনৈতিক তত্ত্ব একটি শক্ত কাঠামোর উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যায় ফলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি বিজ্ঞানের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

রাজনৈতিক তত্ত্বের বিষয়বস্তু

ভূমিকা : রাজনৈতিক তত্ত্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি আলোচ্য বিষয়) গ্রাজনৈতিক তত্ত্ব রাষ্ট্রব্যবস্থায় এবং রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপের এক বিশেষ ধরনের চিন্তাভাবনা) রাজনীতি প্রধান আলোচ্য বিষয়সমূহ রাজনৈতিক তত্ত্বের অংশ। রাজনৈতিক তত্ত্ব কতকগুলো রাজনৈতিক বিষয়কে একত্রিত করে থাকে? রাজনৈতিক বিষয়বস্তুর গুরুত্ব সাধারণত রাজনৈতিক তত্ত্বেরই অন্তর্ভুক্ত।

→ রাজনৈতিক তত্ত্বের বিষয়বস্তু বিষয়বস্তুসমূহ আলোচনা করা হলো

রাজনৈতিক তত্ত্বের ব্যবহারিক দিক:

বাস্তব জীবনের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও কাঠামো গড়ে তোলার চিন্তাভাবনাকে রাজনৈতিক ব্যবহারিক তত্ত্ব বলা হয়। যেমন- বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ন ও রাজনৈতিক নেতাদের চিন্তাভাবনা) ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বিভিন্ন রাজত্ব ও শাসনব্যবস্থার অন্তর্গত এ ধরনের ব্যবহারিক চিন্তা- ভাবনার উদাহরণ পাওয়া যায়) ব্রোষ্ট্রের শক্তি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠার মাধ্যমে রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার প্রকাশ পায়। ব্যবহারিক চিন্তাভাবনা রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার একটি দিকমাত্র।

রাজনৈতিক তত্ত্বের তাত্ত্বিক দিক :

রাজনৈতিক তত্ত্বের বিষয়বস্তু তত্ত্বগত দিক থেকে ব্যবহারক দিক থেকে অনেক আলাদা। রাজনৈতিক তত্ত্বের বিষয়বস্তুর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো তত্ত্বগত দিক। এটিকে অনেক সময় কেতাবি বা গ্রন্থগত রাষ্ট্রতত্ত্ব বলা হয়।(রাজনৈতিক তত্ত্বের রাজনৈতিক দিক বলতে এই কেতাবী রাষ্ট্রচিন্তাকে বোঝায়। এরা রাজনৈতিক কাঠামোর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাভাবনা করে থাকে।)

রাষ্ট্রদর্শন সম্পর্কে আলোচনা

রাজনৈতিক তত্ত্বের অন্যতম আরেকটি বিষয়বস্তু হলো রাষ্ট্রদর্শন সম্পর্কে আলোচনা। এক্ষেত্রে একটি রাষ্ট্রের উৎপত্তি, গঠন, পরিবর্তন, কার্যাবলি, রাষ্ট্রের সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক, নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য, সার্বভৌমত্ব প্রভৃতি তত্ত্বগত আলোচনার মধ্যে অন্তর্গত থাকে। অর্থাৎ বলা যায়, রাষ্ট্রদর্শনের আলোচনা ও ভাবভিত্তিক।

রাজনৈতিক মূল্যবোধের আলোচনা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ একটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো রাষ্ট্রে বসবাসরত জনগণ যেসব রাজনৈতিক আইনকানুন, আচার-আচরণ মেনে চলে তাকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলা হয়। রাজনৈতিক মূল্যবোধের সাথে সরকার ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক মূল্যবোধের ফলে জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে। রাজনৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে রাজনীতিতে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়।

উপসংহার:

পরিশেষে বলা যায় যে, বর্তমান জীবনধারা অভিজ্ঞতার ধারা মানুষের রাষ্ট্রসম্পর্কিত চিন্তাভাবনা প্রভাবিত করে। রাজনৈতিক তত্ত্বের মাধ্যমে মানুষ তার অভিজ্ঞতাকে বাস্তবে রূপায়িত করতে পারে। তাই অধিকাংশ রাজনৈতিক তত্ত্বই হয় মানুষের কোনো কর্তৃত্ব মেনে চলা বা পরিবর্তনের আশায় উচ্চ কর্তৃত্বের সমালোচনা সম্পর্কিত।

পড়া মনে রাখার উপায়, ৫টি সহজ কৌশল।

0

পড়ার জন্য সঠিক সময় নির্বাচন করা :

অনেকেরই ধারণা সারাদিন-সারারাত পড়লেই পড়া বৈশি মনে থাকে। এটা নিতান্তই ভুল ধারণা, কারণ সবসময়ই আমাদের ব্রেইন একইভাবে কাজ করতে পারে না। কিন্তু গবেষণা করে দেখা গেছে বিকালের পর আমাদের ব্রেইনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই বিকালের পরে অর্থাৎ সন্ধ্যায় বা রাতে পড়া বেশি কার্যকর হয়।

পড়ার জন্য সঠিক সময় নির্বাচন করাঃ

অনেকেরই ধারণা সারাদিন-সারারাত পড়লেই পড়া বৈশি মনে থাকে। এটা নিতান্তই ভুল ধারণা, কারণ সবসময়ই আমাদের ব্রেইন একইভাবে কাজ করতে পারে না। কিন্তু গবেষণা করে দেখা গেছে বিকালের পর আমাদের ব্রেইনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই বিকালের পরে অর্থাৎ সন্ধ্যায় বা রাতে পড়া বেশি কার্যকর হয়।

নির্দিষ্ট পরিমাণে ঘুমানোঃ

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রেইন যেকোনো ইনফরমেশন বা তথ্যকে মেমোরি বা স্মৃতিতে পরিণত করে ঘুমানোর সময়। তাই পড়ালেখা মনে রাখার জন্য পড়ালেখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুমানো জরুরি। সাধারণত একজন সুস্থ ব্যক্তির কমপক্ষে প্রত্যহ ৬-৮ ঘণ্টার মতো ঘুমানো উচিত। এর থেকে কম ঘুমালে পড়া মনে রাখার ক্ষমতা কমে যায়।

পড়তে বসার পূর্বে ১০ মিনিট হাঁটাঃ

পড়ার টেবিলে বসার পূর্বে ১০ মিনিট হাঁটলে বা হালকা ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এতে পড়া মনে রাখতে বেশ সুবিধা হয়। ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে পড়ার পূর্বে ১০ মিনিট হাঁটলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা প্রায় ১০ শতাংশ পরিমাণ বেড়ে যায়। তাহলে একটু হাঁটার পরেই শুরু হোক পড়ালেখা।

পড়ার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণঃ

যে বিষয়টি পড়বে তার প্রতি মনোযোগ হওয়াটা অতীব জরুরি। এতে পড়া সহজেই মনে থাকবে। পড়ার সময় মোবাইল ফোনটি বন্ধ রেখে অথবা সাইলেন্ট করে পড়তে হবে। তা না হলে পড়ার মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। পড়ার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ অনুভব করলে তা সহজেই মস্তিষ্কে মেমোরি বা স্মৃতিতে রূপান্তরিত হয়ে যায় এবং স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী হয়।

বেশি বেশি পড়া ও অনুশীলন করাঃ

আমাদের ব্রেইন ক্ষণস্থায়ী স্মৃতিগুলোকে তখনই দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে পরিণত করে, যখন তা বারবার ইনপুট দেয়া হয়। বারবার ইনপুট দেয়ার ফলে ব্রেইনের স্মৃতি গঠনের স্থানে গাঠনিক পরিবর্তন হয় যা দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি তৈরিতে সাহায্য করে। তাই বেশি বেশি পড়া ও অনুশীলন করা, পড়া মনে রাখার অন্যতম উপায়।

কর্ম কৌশল – সফলভাবে টিমওয়ার্কের কৌশল।

0

কৰ্ম কৌশল – সফলভাবে টিমওয়ার্কের কৌশল
একসাথে দলগত হয়ে কাজ করলে অনেক সমস্যার সমাধান দ্রুত বের করা যায়। এছাড়াও তৈরি, হয় নানা ধরনের নতুন ভাবনা। যে কাজগুলো করলে তৈরি হবে কার্যকর ও কর্মদক্ষ একটি টিম বা দল। সে বিষয়ে কিছু কার্যকর কৌশল নিচে উল্লেখ করা হলো।

লক্ষ্য ঠিক করে কাজ বন্টন করা

সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য ঠিক করে টিম মেম্বারদের কাজ বন্টন করুন। এর মাধ্যমেই দ্রুত ও নির্ভুলভাবে কাজ সম্পন্ন করে সফলতার দিকে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

সময়ের মূল্য দেওয়া

নিজেরসহ অন্যদের সময়ের দিকে খেয়াল রেখে কাজ করুন। এতে পুরো টিমের আউটপুট বেশি হবে। সবসময় চেষ্টা করুন কম সময়ে বেশি আউটপুট দিতে।

সুসম্পর্ক বজায় রাখা

টিম মেম্বাররা পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হলে সকলের মাঝে সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে। যা সুচারুভাবে কার্য সম্পাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা

দলের একজনের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকলে সবার মধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই মেম্বারদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে পারলে কাজে গতি আসবে।

একাত্মবোধ গড়ে তোলা

যেকোনো কাজে যখন সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকে, তখন কাজটা সহজ হয়ে যায় এবং ভালো ফলাফলও পাওয়া যায়। তাই দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে একাত্মবোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

সবার সাথে সমান আচরণ করা

একজন যোগ্য ও ভালো টিম মেম্বার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে প্রশ্রয় না দিয়ে কাজের দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু বিচার করেন। তাই কাজের স্বার্থে সবাইকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।

কাজে উদ্যম, সৃজনশীলতা ও নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা

বিভিন্ন ধরনের আইডিয়া যখন একসাথে হয়ে নতুন কিছু তৈরি হয়। তখনই কাজে উদ্যমতা আসৈ। কাজের প্রতি স্পৃহা বাড়ে। এভাবে একসাথে কাজ করলে সৃজনশীলতার পরিবেশ তৈরি হয়।

নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করা

যোগ্য টিম মেম্বার হিসেবে নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করতে হবে নিজের সামর্থ্য ও মেধার পুরোটা দিয়ে কাজ করার পর প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

অন্যের কাজে সাহায্য করা

নিজের কাজের পাশাপাশি প্রয়োজনে অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতাও থাকতে হবে। যাতে কাজ আরও দ্রুত ও ভালো হয়। এখানে নিজেকে ব্যক্তি না ভেবে একটি ইউনিটের অংশ ভাবা ।

ভুল স্বীকারের মানসিকতা থাকা

যোগ্য টিম মেম্বার হতে হলে অবশ্যই ভুলকে স্বীকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। ভুল স্বীকার করে তা শোধরানোর চেষ্টা করতে হবে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা

কোনো কাজ করতে হলে সেখানে নানা সমস্যা আসতে পারে। সেগুলো মেনে নিয়েই কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে ঝুঁকি নেবার মানসিকতা থাকতে হবে।

টিমের সমস্যা ও দ্বন্দ্বের সমাধান করা

সদস্যদের মাঝে দ্বন্দ্ব বা মতের অমিল অস্বাভাবিক নয়, তবে তা দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে হবে। দলীয়ভাবে সকল সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে হবে নিজেদেরকেই।

সবার পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া

টিমের অন্য মেম্বারদের কাজ সম্পর্কে আইডিয়া ও পরামর্শ নিতে হবে এবং তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। টিমে বিভিন্ন মনের মানুষ থাকায় তাদের ফিডব্যাক কাজকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

পরিশেষে বলা যায়

যেকোনো কাজে সাফল্যের জন্য ভালো টিমওয়ার্কের কোনো বিকল্প নেই। এভাবে টিমওয়ার্ক সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখার পাশাপাশি, ভালো একজন টিম মেম্বার হতে পারলেই সাফল্য হাতের মুঠোয় চলে আসবে।

আন্তর্জাতিকতাবাদ – আন্তর্জাতিকতাবাদ কি বিশ্বসভ্যতার জন্য আশীর্বাদ না হুমকিস্বরূপ!!

0
আন্তর্জাতিকতাবাদ

আন্তর্জাতিকতাবাদ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। জাতীয়তাবাদের বৃহত্তম রূপই হচ্ছে আন্তর্জাতিকতাবাদ। আন্তর্জাতিকতাবাদের অনুপ্রেরণায় পৃথিবীর অনেক দেশই পৃথক জাতীয়তাবাদী আশা-আকাঙ্ক্ষা ছেড়ে আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্ববোধে আবদ্ধ হয়ে আছে ।

আন্তর্জাতিকতাবাদের সংজ্ঞা

আন্তর্জাতিকতাবাদ হচ্ছে জাতীয়তাবাদের আন্তর্জাতিক রূপ। আন্তর্জাতিকতাবাদ বলতে এমন এক ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে বিশ্বের সকল জনগণ একাত্ম ও মিলনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে উঠে সকল জাতিকে একতার বন্ধনে আবদ্ধ করে।

প্রামাণ্য সংজ্ঞা

বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ বিভিন্নভাবে আন্তর্জাতিকতাবাদের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। নিম্নে কিছু উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞা তুলে ধরা হলো :

বার্ট্রান্ড রাসেল বলেন, “আন্তর্জাতিকতাবাদ হচ্ছে এমন একটি মানসিক পরিস্থিতি যেখানে জাতির সীমানা প্রায় এক না হলে সীমানা এক প্রকৃত আন্তর্জাতিকতা গড়ে ওঠে না।”

গোল্ডস্মিথ বলেন, “আন্তর্জাতিকতাবাদ এমন এক অনুভূতি যে, একজন ব্যক্তি শুধু একটি রাষ্ট্রের সদস্য নয়, কিন্তু বিশ্বের একজন নাগরিক।” (Internationalism is the feeling that the individual is not only a member of his state but a citizen of the world.)

Dictionary of social Science এর ভাষায়, “আন্তর্জাতিকতাবাদ হলো এমন একটি মানসিক অনুভূতি ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধের চেতনা যা মানব জাতির মধ্যে ঐক্য ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করে ।

ড. এ. কে. মহাপাত্র বলেন, “আন্তর্জাতিকতাবাদ হলো সাম্য ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এক প্রীতিপূর্ণ বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠা। বৃহৎ, ক্ষুদ্র, সবল, দুর্বল নির্বিশেষে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা।”

উপসংহার

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, আন্তর্জাতিকতাবাদ বিশ্বভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি এবং সকল জাতি রাষ্ট্রের মধ্যে ঐক্যের মিলবন্ধন সৃষ্টি করে। জাতীয়তাকে নির্দিষ্ট গণ্ডীর বাইরে রেখে বৃহত্তর এক জাতি-গোষ্ঠী তৈরি করে।

আন্তর্জাতিকতাবাদ কি বিশ্বসভ্যতার জন্য আশীর্বাদ না হুমকিস্বরূপ!! বিস্তারিত আলোচনা

ভূমিকা

আন্তর্জাতিকতাবাদ হলো বিশ্বের সকল মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধের অন্যতম ধারক ও বাহক। এটি মানুষের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সহ অবস্থানের কথা বর্ণনা করে। সকল মানুষ একক সমাজের অন্তর্ভুক্ত ও পরস্পর পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীল হয়। আধুনিক বিশ্বের প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে এই নির্ভরশীলতা ও সহযোগিতা আরো বেড়ে গেছে। সকল জাতিরাষ্ট্রগুলো অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকে। একবিংশ শতাব্দীতে আন্তর্জাতিকতাবাদ বিশ্বের জনগণের মধ্যে আরো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন মানুষে মানুষে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যদিকে নানান সংকট ও সমস্যা ঘনীভূত হচ্ছে। আন্তর্জাতিকতাবাদ সভ্যতার জন্য বিশ্বের মানুষের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ নিম্নে এ সংক্রান্ত আলোচনা করা হলো

আন্তর্জাতিকতাবাদ কি সভ্যতার জন্য আশীর্বাদ না হুমকিস্বরূপ!!!

ব্যাখ্যা :

আন্তর্জাতিকতাবাদ বিশ্বের মানুষের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। আন্তর্জাতিকতাবাদের ধারণা থেকে জাতিসংঘসহ আরো অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংঘ গড়ে উঠেছে। যেসব সংঘ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আন্তর্জাতিকতাবাশ সভ্যতার যেসব দিক উন্নয়নে অবদান রাখে তা নিম্নে সবিস্তারে আলোচনা করা হলো :

সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ

আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে বিশ্বের দেশগুলো তাদের সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ করছে। এক্ষেত্রে UNESCO গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কারণ UNESCO বিশ্ব সংস্কৃতি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কাজ করে থাকে। সেই সাথে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জিনিসগুলো সংরক্ষণের জন্য দেশগুলোকে সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকে।

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা

আন্তর্জাতিকবাদের কারণে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর মানবাধিকার এর সনদ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিশ্বের দারিদ্র্য, নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মানবাধিকার চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া Human Rights Watch, Amnesty International ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে থাকে।

আরও পড়ুনঃ- আইন ও আইনের উৎস সমূহ।

তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তির উন্নয়ন

আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তির উত্তরোত্তর উন্নয়ন ঘটছে। ফলে বৈশ্বিক যোগাযোগ সহজ হয়েছে। কম্পিউটার, মোবাইল, ইন্টারনেট প্রভৃতির উন্নয়নের ফলে সভ্যতাসমূহের বিকাশ দ্রুত হচ্ছে। পাশাপাশি এসবের নেতিবাচক অবদানও লক্ষণীয়।

সাংস্কৃতিক আদান প্রদান

আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এক দেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, অন্য দেশের মানুষ উপভোগ করতে পারছে। দেশীয় ভাষা, খাদ্যাভ্যাস এর সাথে বৈদেশিক ভাষা খাদ্যাভ্যাসের মিলন ঘটেছে। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিশ্ব পাচ্ছে এক নতুন মাত্রা।

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা

আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে সংঘাতময় বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নানা সময় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা পরিলক্ষিত করে এর থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে ১৯১৯ সালে জাতিপুঞ্জ এবং ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা আন্তর্জাতিকতাবাদের অন্যতম নিদর্শন। বর্তমান জাতিসংঘ, ইরাকযুদ্ধ, বসনিয়া সংকট, ভারত পাকিস্তান যুদ্ধবন্ধসহ নানা ক্ষেত্রে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। যদিও ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে তেমন কোনো অগ্রগতি সাধন করতে পারে নাই। তাই বলা যায়, আন্তর্জাতিকতাবাদ মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।

আন্তর্জাতিক আইন ও আদালত প্রতিষ্ঠা

আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে বিভিন্ন চুক্তির দ্বারা আন্তর্জাতিক আইন ও আদালতের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি অন্যতম যা পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া সমুদ্র আইন, আন্তর্জাতিক নদী আইন, মানবাধিকার আইন, UNHCR আইন প্রভৃতি অন্যতম। এসব চুক্তির মধ্যে আন্তর্জাতিক আদালত প্রতিষ্ঠা অন্যতম। এই আদালতে অনেক যুদ্ধাপরাধী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীর বিচার সম্পন্ন হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ দমন

একবিংশ শতাব্দীতে সন্ত্রাসবাদ এর উত্থান একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। মধ্যপ্রাচ্যে I.S-এর উত্থান, প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলা, লন্ডন এ হামলা, ইসলামাবাদের বোমা হামলা, কাবুল এ বোমা হামলা, বাংলাদেশের হলি আর্টিজানে হামলা প্রভৃতি ঘটনাগুলো সন্ত্রাসবাদের উত্থানের ইঙ্গিত বহন করে। এই সন্ত্রাস মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায় একাত্মতা প্রকাশ করেছে এবং তা মোকাবিলা করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বাংলাদেশ সরকার সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। ১৯১৫ সালে WTO চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যের প্রসার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চুক্তির আওতায় উন্নত দেশগুলো বেশি সুবিধা ভোগ করলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনেক সুযোগ-সুবিধা ছাড়া দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিকতাবাদের উদাহরণস্বরূপ WTO-এর অবদান অনস্বীকার্য ।

সামাজিক উন্নয়ন

আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে সামাজিক উন্নয়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতিসংঘের UNDP প্রতিষ্ঠান বিশ্বে দেশগুলোর উন্নয়নের তদারকি করে থাকে। সমাজের মানুষের শিক্ষা, | স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন প্রভৃতি সুযোগ-সুবিধার তদারকি করে অনগ্রসর দেশগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা করে থাকে। ফলে বিশ্বের দেশগুলে সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নত হচ্ছে। বেড়ে যাচ্ছে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।

শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন

আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে UNICEF। বিশ্বের দেশগুলোর প্রদর চাঁদার কারণে প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন দেশে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে থাকে। তাছাড়া শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, নারী ও শিশু পাচার রোধকরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে অবদান রাখে। আন্তর্জাতিকতাবাদ অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে অবদান রাখার পাশাপাশি শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অবদান রাখে।

মাদক পাচার ও চোরাচালান রোধ

আন্তর্জাতিকতাবাদ মাদক পাচার ও চোরাচালান রোধে সহযোগিতা করে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের চুক্তির আওতাধীন দেশগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। তাছাড়া বিভিন্ন দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় এসব অবৈধ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

আন্তর্জাতিকতাবাদ ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখে। আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে দেশগুলো অর্থনৈতিক দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশগুলোর মধ্যে মূলধন বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক দেশ অর্থনৈতিক চুক্তির আওতায় শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করছে। ফলে আমদানি রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক দেশ দক্ষ মানব সম্পদ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে এসব সম্ভবপর হয়েছে।

পরিশেষ

পরিশেষে আমরা বলতে পারি, আন্তর্জাতিকতাবাদ বিশ্বের মানুষের জন্য হুমকিস্বরূপ নয়, বরং আশীর্বাদস্বরূপ । কেননা, আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে উত্তরোত্তর উন্নয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে আন্তর্জাতিকতাবাদের সমালোচনা করে এটাকে হুমকিস্বরূপ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিছু সমালোচনা থাকলেও সার্বিক দিক | আশীর্বাদস্বরূপ কেননা ভ্রাতৃত্বের জয়গান গেয়ে আন্তর্জাতিকতাবাদের থেকে আন্তর্জাতিকতাবাদ বিশ্বের জন্য নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলে আন্তর্জাতিকতাবাদের শেষ।