Home Blog Page 3

মুক্তবাজার অর্থনীতি ও তার ধারণা।

0
মুক্তবাজার অর্থনীতি

মুক্তবাজার অর্থনীতি কি? অথবা, মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারণা দাও।

ভূমিকা

বর্তমান অর্থনৈতিক বিশ্বব্যবস্থায় মুক্তবাজার অর্থনীতি একটি আলোচিত বিষয়। মুক্তবাজার অর্থনীতি শুধু আয় অর্থনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা রাজনৈতিক বিষয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতি উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উন্নত দেশগুলো মুক্তবাজার অর্থনীতির দোহাই দিয়ে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর বাজার দখল করে স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

মুক্তবাজার অর্থনীতি

মুক্তবাজার অর্থনীতি হলো এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্যের অবাধ বিচার এবং পণ্যের অবাধ বিচরণ এবং পণ্যের ও অর্থের ও অথের আদান-প্রদান। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সমাজের বণ্টন ও উৎপাদন সম্পর্কিত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয় দামের ভিত্তিতে যা মূলত নির্ধারিত ভোক্তা শ্রমিক এবং উৎপাদনের উপকরণসমূহের স্বত্ত্বাধিকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত মিলনের ফলে।

মুক্তবাজার অর্থনীতি সম্পর্কে বলা যায় যে, “A free market economy is an economy in which the allocation for resources is determided only by their supply and the demand of them. This is mainly a theoritical concept as every country, even capitalist ones, places some restrictions on the ownership and exchange of commodities.” Source :(http://economics.about.com/es/economicsglossary/9/freemarkete.htm)

McGrow Hill Dictionary of Modern Economics এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, “মুক্তবাজার অর্থনীতি হলো অর্থনৈতিক সংগঠনের এমন এক অবস্থা, যেখানে সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিতে কী কী দ্রব্য ও সেবা কী পদ্ধতিতে কার ভোগের জন্য উৎপাদিত হবে, সেসব প্রশ্নের মীমাংসার ভার বাজারে সরবরাহ ও চাহিদা শক্তির উপর ছেড়ে দেওয়া হয়।’

উপসংহার

উপরিউক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, মুক্তবাজার অর্থনীতি হলো সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে চাহিদা ও যোগানের উপর একটি পণ্যের দাম নির্ধারিত হবে এবং ক্রেতারা পণ্য কিনে ভোগ করবে।

এইচএসসি পরীক্ষার পর ক্যারিয়ার ভাবনা। এক নতুন জীবনযাত্রার সূচনা।

2
এইচএসসি পরীক্ষার পর ক্যারিয়ার ভাবনা।

এইচএসসি’র পর ক্যারিয়ার ভাবনা।
উচ্চ মাধ্যমিক (HSC) পরীক্ষা মানে জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার হওয়া। এইচএসসি পরীক্ষার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগ পর্যন্ত এ মাস তিন চারেকের অবসরটুকুর ব্যাপ্তি অল্প হলেও এর মূল্য অনেক বেশি। নিজের জীবনের উন্নয়নে কিংবা কর্মজীবন, সামাজিক জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে এই সময়টুকুই হতে পারে জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। না জানা বিষয়কে জানতে, অল্প জানা বিষয়ে নিজের দখলদারিত্ব আরও পাকাপোক্ত করতে এই অবসরে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কোর্স করতে পারেন।

শুদ্ধ উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গি

শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলতে জানা মানুষ সবার নজর কাড়ে। সেই সাথে আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গি আপনাকে এনে দিতে পারে আলাদা গুরুত্ব। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান এসব বিষয়ে শর্ট কোর্স করিয়ে থাকে। নিজেকে সমৃদ্ধ করতে এই কোর্স করে ফেলতে পারেন।

সংবাদ উপস্থাপনা

সারাদেশের মানুষ এক নামে আপনাকে চিনবে, সেইসাথে হবে ভালো রোজগার— এমনটা চাইলে করে ফেলতে পারেন সংবাদ উপস্থাপনার কোর্স। সংবাদ উপস্থাপনা পেশা হিসেবেও চমৎকার । যেকোনো পেশায় থেকেও পার্ট টাইম পেশা হিসেবে সংবাদ উপস্থাপক হওয়া যায়। অনেক শিক্ষার্থী, ব্যাংকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, সরকারি চাকরজীবী পার্টটাইম পেশা হিসেবে সংবাদ উপস্থাপনা করেন।

টিভি রিপোর্টার

আমাদের দেশে টিভি চ্যানেলে কাজের ক্ষেত্র দিনদিন বাড়ছে। ব্যক্তির আগ্রহ, যোগ্যতা আর সৃজনশীলতা থাকলে সহজেই এগুলোতে স্থান করে নেওয়া সম্ভব। সাংবাদিকতা বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা না করেও যে-কেউ ভালো প্রশিক্ষণ নিয়ে এখানে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন এইচএসসি পরীক্ষার পর।

রেডিও জকি

বর্তমানে তারুণ্যের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠেছেন রেডিও জকিরা । অনেক বন্ধুর সাথে যেমন একদিন দেখা বা কথা না হলে খারাপ লাগে, তেমনি পছন্দের কোনো রেডিও জকির অনুষ্ঠান একদিন না শুনলেও মনটা খুঁতখুঁত করে অনেকেরই। এমন জনপ্রিয় একজন রেডিও জকি হয়ে তাই গড়ে তুলতে পারেন আপনার ক্যারিয়ারও। রেডিও জকি হবার একটা ছোট্ট কোর্স বা ওয়ার্কশপ এ ব্যাপারে অনেক কাজে আসবে।

কম্পিউটার কোর্স

কম্পিউটার বর্তমান জীবনে কী পরিমাণ অপরিহার্য জিনিসে রূপান্তরিত হয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই একটা ভালো কম্পিউটার কোর্স করে নিতে পারেন এই সময়ে। কেননা এইচএসসি পরীক্ষার পর অবসর থাকা উচিত নয়।

ভিডিও এডিটিং

যত দিন যাচ্ছে ভিডিও কনটেন্টের প্রসার তত বাড়ছে। সেইসাথে বাড়ছে ভিডিও এডিটর পেশার চাহিদা। ভিডিও এডিটিংয়ের কোর্স করে তা শিখে নিয়ে খুব সহজেই রোজগার করা সম্ভব। পড়াশোনার পাশাপাশি আয়ের এটি একটি ভালো মাধ্যম।

কনটেন্ট রাইটিং

অনলাইন বিজনেস যেভাবে বাড়ছে তাতে ভালো কনটেন্ট লিখতে জানলে কনটেন্ট রাইটার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। আবার পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম কাজ হিসেবেও কনটেন্ট রাইটিং করা সম্ভব। তাই এ বিষয়ে একটা কোর্স হতে পারে সুদূরপ্রসারী সুফলের কারণ ।

ডিজিটাল মার্কেটিং

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মানুষ নির্ভরশীল হয়ে উঠছে অনলাইনের প্রতি । সেই সাথে বাড়ছে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের চাহিদা। তাই এ বিষয়ে একটা কোর্স হতে পারে ভবিষ্যৎ পেশার জন্য উপকারী । আর নিজে ব্যবসা করার ইচ্ছে থাকলে এ বিষয়ে জানা আবশ্যক।

কুকিং কোর্স/শেফ কোর্স

আন্তর্জাতিক মানের পেশাগুলোর মধ্যে একটি হলো শেফ। এদিকে ভবিষ্যৎ গড়ার ইচ্ছে থাকলে বা হোটেল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়তে চাইলে শেফ কোর্স বা কুকিং কোর্স করে ফেলতে পারেন। ঘরে খাবার বানিয়ে অনেকেই ব্যবসা করেন। সেক্ষেত্রেও এ কোর্স কাজে দেবে।

উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ

উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করার ইচ্ছে থাকলে এই সময়ে গ্রহণ করতে পারেন উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ। এসব প্রশিক্ষণে ব্যবসার শুরু থেকে ব্যবসা চালানো, মূলধন নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। বিশেষ করে অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে এসব কোর্স দারুণ কাজে দেবে।

হোটেল ম্যানেজমেন্ট

এখনকার পাঁচতারা হোটেল মানেই যেন একটা ছোটখাটো শহর। এসব হোটেল চালাতে গেলে প্রয়োজন পেশাদার কর্মী। কারণ একটি আধুনিক পাঁচতারা হোটেলে বেশকিছু বিভাগ থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, হাউস কিপিং, পাবলিক রিলেশন, মার্কেটিং, ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট, হোটেলের ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজমেন্টসহ সব জায়গায় হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্স করা লোকের কদর বেশি থাকে। তাই ভবিষ্যতের প্রয়োজনে হোটেল ম্যানেজমেন্টের কোর্স করতে পারেন।

ফ্যাশন ডিজাইনিং

ফ্যাশন সচেতন মানুষমাত্রই নিজেকে অন্যের চেয়ে আলাদাভাবে তুলে ধরতে ভালোবাসেন। পোশাক ও অনুষঙ্গে আগ্রহ থাকলে করে ফেলতে পারেন ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের কোনো শর্ট কোর্স। সেক্ষেত্রে নিজের পোশাক তো বটেই অন্যের কাছ থেকেও কাস্টমাইজ পোশাকের অর্ডার নিয়ে রোজগার করতে পারবেন। পোশাক নিয়ে ব্যবসা করার ইচ্ছা থাকলেও এ কোর্স অনেক কাজে দেবে। এছাড়া চাকরির ক্ষেত্রেও ফ্যাশন ডিজাইনের রয়েছে অনেক সুযোগ। ফ্যাশন ডিজাইনারদের জন্য গার্মেন্টস, বায়িং হাউজ, বুটিক হাউজ ইত্যাদিতে চাকরি করার সুযোগ রয়েছে।

ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং

অভ্যন্তরীণ গৃহসজ্জার প্রতি দিনে দিনে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। নিজেরা বাড়ি না সাজিয়ে অনেকেই প্রফেশনাল ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের শরণাপন্ন হন। এছাড়া অফিস সাজানো বা প্ল্যানিং তো আছেই। তাই করে ফেলতে পারেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনিংয়ের কোর্স। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি পার্ট টাইম কাজ হিসেবে সহজেই এখান থেকে রোজগার করা যায় । চাইলে এ পেশাতেই ভবিষ্যৎ গড়তে পারেন।

সুইং-কাটিং

ঘরে বসে রোজগারের জন্য সেলাইয়ের কাজ একটি ভালো মাধ্যম। পড়াশোনার পাশাপাশি যেমন এ কাজ করা যায়, তেমনি পেশা হিসেবে নেওয়া যায়। কাজ পাবার জন্য বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। প্রতিবেশীরা বা এলাকার মানুষজনই সাধারণত পোশাক তৈরির অর্ডার দিয়ে থাকে। আবার পোশাক নিয়ে অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে চাইলে কাটিং-সুইংয়ের কোর্স করা থাকলে বেশ কাজে আসে। এক্ষেত্রে পোশাক তৈরি করে যেমন বিক্রি করতে পারবেন, তেমনি গ্রাহকের চাহিদামাফিক পোশাক তৈরি করে ডেলিভারিও করতে পারবেন।

স্ক্রিন প্রিন্ট

প্রচার ও প্রচারণার এই যুগে স্ক্রিন প্রিন্টে কাজের ক্ষেত্র দিন দিন বাড়ছে। স্ক্রিন প্রিন্টের কোর্স করে নিয়ে যুক্ত হওয়া যায় এই কাজে । টি-শার্ট, মগ, ব্যানার ইত্যাদিতে স্ক্রিন প্রিন্টের কাজ শুরু করা যায় খুব কম মূলধন দিয়েই। স্ক্রিন প্রিন্টকে মূল পেশা হিসেবে যেমন নিতে পারেন, তেমনি পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম কাজ হিসেবেও নিতে পারেন।

হস্তশিল্প

হাতে তৈরি জিনিসের সমাদর যুগ যুগ ধরেই রয়েছে। আড়ং বা সোর্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো হস্তশিল্পের জন্যই বিশ্বজুড়ে সুনাম অর্জন করেছে। এইচএসসি’র পর এই অবসরে করতে পারেন হস্তশিল্প তৈরি করার কোর্স। বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশনের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসব কোর্স করিয়ে থাকে। অনেক শিল্পী ব্যক্তিগতভাবেও হস্তশিল্প তৈরি করা শিখিয়ে থাকেন। সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের এটি একটি ভালো মাধ্যম। এতে নিজে ব্যবসা করার যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনি কোনো হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মী হিসেবে কাজ করার সুযোগও রয়েছে।

টাইডাই ও বাটিক

কাপড়ে রঞ্জনশিল্প খুবই প্রাচীন একটি কাজ। সুদূর অতীত থেকেই মানুষ হাতে কাপড়ে রঙ করে আসছে নানান পদ্ধতিতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো টাইডাই বা বন্ধনরঞ্জন এবং বাটিক । টাইডাই পদ্ধতিতে কাপড় বেঁধে রঙে চুবিয়ে পুরো কাপড় রঙ করা হয়। এতে বাঁধা জায়গাগুলোতে নকশা তৈরি হয়। আর বাটিক পদ্ধতিতে কাপড় প্রিন্ট করতে ব্যবহার করা হয় মোম। এই দুটি পদ্ধতিই বেশ সহজে শেখা সম্ভব এবং খুব কম ব্যয়ে বেশি লাভ করা সম্ভব। বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশন নিয়মিত কোর্স করায় এ দুটি বিষয়ে। আবার ইউটিউবের ভিডিও দেখেও শিখে নিতে পারেন সহজে। কাঁচামাল ও উপাদানও বেশ সহজলভ্য। টাইডাই ও বাটিক হতে পারে আপনার রোজগারের অন্যতম মাধ্যম।

প্রচ্ছদ ও অলংকরণ

যারা ছবি আঁকতে পছন্দ করেন বা চারুকলায় পড়ার কথা ভাবছেন তাদের জন্য এটা হতে পারে দারুণ পেশা। এতে আঁকার অনুশীলন যেমন হবে, তেমনি হবে রোজগারও । বিভিন্ন প্রকাশনীতে কাজ করতে পারেন প্রচ্ছদ শিল্পী হিসেবে। কার্টুন আঁকতে পারেন পত্র-পত্রিকার জন্যও । খুব ভালো ছবি আঁকতে জানলে পোর্ট্রেট এঁকে বা গৃহসজ্জার জন্য ছবি এঁকে বিক্রি করেও আয় করা যায়।

এইচএসসি পরীক্ষার পর ক্যারিয়ার

এছাড়াও শিখতে পারেন সূচিশিল্প ও এমব্রয়ডারি। একসময় সুঁই-সুতোর কাজ নারীদের একচেটিয়া ভাবা হতো, কিন্তু ব্যাপারটা আসলে তা নয়। সূচিশিল্প নারী-পুরুষ যে কেউ মেশিন এমব্রয়ডারি শিখে নিলে খুব কম বিনিয়োগে ব্যবসা শুরু করে বাড়িতে বসেই আয় করা সম্ভব।

এইচএসসি পরীক্ষার পর অনেক সময় পাওয়া যায়, তাই অবসরে না থেকে ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনা শুরু করাই উত্তম।

ইবনে রুশদ – মুসলিম বিশ্বের অমূল্য রত্ন বিখ্যাত এক মুসলিম দার্শনিক।

1
ইবনে রুশদ - বিখ্যাত মুসলিম দার্শনিক।
ইবনে রুশদ - একজন বিখ্যাত মুসলিম দার্শনিক যিনি একাধারে চিকিৎসক, যুক্তিবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, গণিতবিদ এবং জ্যোতিবিদ।

ইবনে রুশদ – যিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত মুসলিম দার্শনিক এবং তার পাশাপাশি তিনি একাধারে যুক্তিবিদ্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গনিত, জ্যোতিবিদ্যা এবং রাষ্ট্রতত্ত্বে অবদান রাখেন। এমন কি তিনি কুরআন, হাদিস, ফিকহ,  কালাম প্রভৃতি বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।

জন্ম ও পরিচয়

ইবনে রুশদের পূর্ণ নাম আবুল ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন আহমাদ ইবনে রুশদ। প্যাটিন ভাষায় তিনি অ্যাভেররোজ নামে খ্যাতি লাভ করেছেন। (১১২৬ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম সভ্যতার ইউরোপীয় কেন্দ্র (কর্ডোভায় একটি বিখ্যাত কাজি, পরিবারে তার জন্ম হয়। তার পিতা ও পিতামহ উভয়েই কর্ডোতার কাজি পদে সমাসীন ছিলেন। তার পিতামহ আল-মুরাবীদ সুলতানের আমলে সারা আদালুসের কাজি উল ফুযযা বা প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষা জীবন

ইবনে রুশদ শৈশবেই শিক্ষার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন। পারিবারিকভাবে তিনি ছিলেন গভীর শিক্ষানুরাগী একটি পরিবারের সদস্য। সে কারণে পরিবার থেকেই তার শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী হন। তার অধ্যয়নের নেশা এতোই প্রবল ছিল যে, সত্তর বছর বয়সেও তিনি যোগ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। সে যুগের কোনো বিশিষ্ট গ্রন্থকারের গ্রন্থ তাঁর অপঠিত ছিল না। তিনি কুরআন, হাদীস, ফিকহ, কালাম, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, তত্ত্ব প্রভৃতি বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনে রুশদ:

অন্যান্য প্রথম শ্রেণির দার্শনিক ও ধর্মতত্ত্ববিদের মতো ইবনে রুশদও চিকিৎসা জগতে যথেষ্ট সুনামের অধিকারী। বিশেষত দার্শনিক-চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনে সিনা তার আদর্শ ছিলেন। ইবনে রুশদ চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ে বেশ কিছু প্রণিধানযোগ্য গ্রন্থ রচনা করেন। ‘কুল্লিয়াত ফিত তিব’ তাঁর অমর রচনাবলির অন্যতম। এতে তিনি রোগ, রোগের সাধারণ লক্ষণ, রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সম্ভাব্য বিভিন্ন ঔষধ সম্পর্কে পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও তথ্যসম্বলিত আলোচনা করেন। তিনি ভেষজ সম্পর্কে মোট ১৮ খানা বই লেখেন।

আইন বিজ্ঞানী ইবনে রুশদ

চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতো আইন বিজ্ঞানেও ইবনে রুশদের অসামান্য প্রতিভার চূড়ান্ত বিকাশ পরিলক্ষিত হয়। পিতামহ ও পিতার পথ ধরে তিনিও এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১১৬৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সেভিলের এবং ১১৭১ খ্রিস্টাব্দে কর্ডোভার কাজি পদে নিয়োজিত হন। এ সময়ে একজন কৌশলী ও বিজ্ঞ আইনবিদ হিসেবে তাকে এতো অধিক ব্যস্ত থাকতে হয় যে, তার জ্ঞান সাধনার ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ- ইমাম গাজ্জালী

রাজকীয় হেকিম ইবনে রুশদ:

১১৬২ খ্রিষ্টাব্দে ইবনে রুশদ মুয়াহীদ খলীফা আবু ইয়াকুব ইউসুফের আমন্ত্রণে মারাকেশ গমন করেন। সেখানে খলীফা তাকে রাজকীয় হেকিম এবং উজিরের পদ দিয়ে সম্মানিত করেন। এ সময় দার্শনিক-ধর্মতত্ত্ববিদ ইবনে তুফায়েলের বন্ধুত্ব খলিফার দরবারে তাকে পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। খলিফা আবু ইয়াকুরের মৃত্যুর পর আল-মানসুর খলীফা পদে অধিষ্ঠিত হন। ফলে তার সম্মান ও গ্রহণযোগ্য আরো বহুগুণ বেড়ে যায়।

ষড়যন্ত্রের কবলে ইবনে রুশদ

খলীফার দরবারে ইবনে রুশদের উচ্চ মর্যাদা ও বিশেষ সম্মান লাভ আমীর মহলে তাকে বিশেষ ঈর্ষার পাত্রে পরিণত করে। তিনি তাদের সকলের হিংসা, শত্রুতা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হন। দেশের ফকিহ ও আলিম সমাজ তার সুখ্যাতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করতে আরম্ভ করে। তারা ছড়াতে থাকে যে, ইবনে রুশন ইসলামে বিশ্বাস করে না এবং কুরআন মাজীদকে আল্লাহর কালাম মনে করে না। এ প্রচারণার ফলে দেশের আলিম সমাজ ও গোড়াপন্থী ধর্মতত্ত্ববিদগণ তাকে মুনাফিক সাব্যস্ত করে এবং তার ওপর ভীষণভাবে ক্ষেপে যায়। তাদের চাপে, প্রভাবে ও ক্রমাগত দাবির মুখে খলীফা শেষ পর্যন্ত ইবনে রুশদকে মারাকেশ ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ করতে বাধ্য হন। ফলে তিনি মারাকেশ ছেড়ে চলে যান। কিন্তু কিছুদিন পরেই খলীফা প্রকৃত সত্য অবহিত হন এবং তার সামনে ষড়যন্ত্রকারীদের কুটচাল স্পষ্ট হয়ে যায়। ফলে তিনি ইবনে রুশদকে আবারো দরবারে ফিরিয়ে আনেন এবং ষড়যন্ত্রকারীদের উচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য আগের চেয়েও বেশি সম্মান ও ক্ষমতা দান করেন।

পরলোক গমন

ক্রমাগত পরিশ্রম, অব্যাহত জ্ঞানসাধনা, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা ইবনে রুশদকে শারীরিকভাবে দুর্বল করে দেয়। তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে এবং ১১৯৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ৭২ বছর বয়সে তিনি পরলোক গমন করেন। মারাকেশে রাজকীয় সম্মানে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।

আইন কি ও আইনের উৎস সমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

1
আইনের উৎস সমূহ এবং আইন।

আইনের উৎস সমূহ এবং আইন কি এই নিয়ে আজকের আলোচনা। ইনশাল্লাহ আমরা বিস্তারিত জানতে পারব। চলুন শুরু করা যাক।

আইনের সংজ্ঞা (Definition of Law)

‘আইন’ শব্দটি ফরাসি শব্দ। ইংরেজিতে আইনকে বলা হয় Law. যার উৎপত্তি টিউটনিক ‘ল্যাগ’ (Lag) শব্দ থেকে। lag শব্দের অর্থ ‘স্থির বা অপরিবর্তনীয় ও সমভাবে প্রযোজ্য। সুতরাং শাব্দিক অর্থে আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট নিয়মাবলির সমষ্টিকে বুঝায়।

এক কথায় বলা যায়, সমাজবদ্ধ মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী যে কতগুলো নিয়মকানুন যা সকলের জন্যেই সমভাবে প্রয়োগ করা হয় তাকেই আইন বলে।

আইন ও আইনের উৎস (Law & Source of Law)

সার্বভৌম শক্তির অনুমোদনকেই আইনের একমাত্র উৎস হিসেবে অভিহিত করা হয়। কেননা, রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রথা বা রীতিনীতি বা ধর্মীয় অনুশাসন আইনে পরিণত হয় না। কিন্তু তা সত্ত্বেও আইনের প্রকৃতি পর্যালোচনা করলে আইনের নিম্নোক্ত উৎসসমূহ লক্ষ্য করা যায়।

প্রথা (Custom) :

প্রথাই আইনের প্রাচীনতম উৎস। আচার-ব্যবহার বহুদিন ধরে প্রবর্তিত থাকলে প্রথায় পরিণত হয়। প্রাচীনকালে আইন সাধারণত প্রথামূলকই ছিল। তৎকালীন সমাজে প্রথার সাহায্যে দ্বন্দ্ব-মীমাংসার ব্যবস্থা করা হতো। কবে এবং কিভাবে প্রথার উদ্ভব ঘটেছিল তা অবশ্য সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায় নি। তবে এটি নিশ্চিত যে ধর্মের ভয়েই হোক বা অপরকে অনুকরণ করেই হোক বা উপযোগিতার জন্যেই হোক তখন লোকে অধিকাংশ প্রথাকে মান্য করে চলতো। রাজনৈতিক অর্থে প্রথাকে আইন বলে গণ্য করা না গেলেও বর্তমানে প্রথা যে প্রবর্তিত আইনসমূহের অন্যতম প্রধান উৎস সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

ধর্ম (Religion) :

মানুষের ওপর ধর্মের প্রভাব অপরিসীম। প্রাচীনকাল থেকেই সমাজে প্রথার পেছনে ধর্মীয় অনুমোদন ছিল। ন্যায়-অন্যায়, পাপ-পুণ্য ইত্যাদি মূল্যবোধ ধর্ম চিহ্নিত করেছে বলে প্রাচীন ও সভ্যযুগে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতিনীতি প্রভাব বিস্তার করে। সে কালে ধর্মীয় বিধানই রাষ্ট্রীয় আইন হিসেবে বিবেচিত হতো। বর্তমান যুগেও ধর্মীয় রীতিনীতিকে আইনরূপে গ্রহণ করে রাষ্ট্রীয় আইন প্রবর্তন করা হয়। বাংলাদেশে হিন্দু ও মুসলমানদের পারিবারিক আইন তাদের স্ব-স্ব ধর্মকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। তাই বলা যায়, ধর্ম আইনের আরেকটি অন্যতম উৎস।

বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা (Scientific Discussion) :

আইনবিদদের বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা বা তাদের আইন বিষয়ক গ্রন্থাবলিও আইনের উৎস হিসেবে কাজ করে। অইনবিদনের আইন সংক্রান্ত মূল্যায়ন, আলোচনা, আইনের ব্যাখ্যা ইত্যাদি থেকে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় আইনের সন্ধান লাভ করে। বৃটেনের আইন ব্যবস্থায় কোক, ব্লাক স্টোন, আমেরিকার কেল্ট প্রমুখ আইনবিদদের অনেক অভিমতই আইনের মর্যাদা লাভ করেছে। ইসলামি আইনের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম গাজ্জালী, ইবনে রুশদ, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহম্মদ বিন হাম্বল (রাঃ) প্রমুখ ইসলামি চিন্তাবিদদের মূল্যবান আলোচনা ও অভিমত গুরুত্বসহকারে আইনের উৎস হিসেবে দেখা হয়।

বিচার বিভাগীয় রায় (Judicial Decision):

বিচারকালে বিচারক যদি প্রচলিত আইনের মাধ্যমে আদালতে উত্থাপিত মামলার নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হন তখন তিনি স্বীয় বুদ্ধি এবং মেধার সাহায্যে প্রচলিত আইনের সাথে সঙ্গতি বিধান করে আইনের একটা নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে মামলার রায় প্রদান করেন। বিচারকের এ নতুন ব্যাখ্যা অনুরূপ কোনো মামলার ক্ষেত্রে যখন অন্য বিচারকরা গ্রহণ করেন তখন তা আইনে পরিণত হয়ে যায়। তাই দেখা যায়, বিচারকের রায়ও আইনের একটি উৎস। এজন্যে গেটেল বলেন, “আইন প্রণেতা হিসেবে রাষ্ট্রের উদ্ভব হয় নি, উদ্ভব হয়েছিল প্রথার ব্যাখ্যাকর্তা ও প্রয়োগকারী হিসেবে।

ন্যায় বিচার (Justice):

বিচারকগণের দায়িত্ব ন্যায় বিচার সম্পাদন করা। কিন্তু দেশে প্রচলিত আইনের সাহায্যে এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। এসব ক্ষেত্রে বিচারপতিগণ ব্যক্তিগত ন্যায়-নীতির ধারণার ভিত্তিতে বিরোধের মীমাংসা করেন। আইনের সুস্পষ্ট নির্দেশের অনুপস্থিতিতে ন্যায় বিচার আইনের অসম্পূর্ণতা দূর করতে সাহায্য করে থাকে। হেনরি মেইন Equity-র সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, “anybody of rules existing by the side of the original civil law, founded on distinct principles and claiming incidentally to supersede the civil law in virtue of a superior sanctity inhernet in those principles.”

আইন প্রণয়ন (Legislation) :

বর্তমান যুগে আইন হলো আইনের সর্বপ্রধান উৎস। গিলঞ্জি (Gilchrist) বলেছেন, “It is chief source of law and is tending to supplant the other sources. দেশের আইনসভা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে জনমত অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করে। জনকল্যাণমূলক তত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট রাষ্ট্রে সরকারের কর্মক্ষেত্রের পরিধি যথেষ্ট প্রসারিত হয়েছে। এ বিপুল দায়িত্ব সম্পাদনের জন্যে প্রয়োজন হয় অসংখ্য আইনের। আইনপরিবস এসব আইন সৃষ্টি করে।

নির্বাহী ঘোষণা ও ডিক্তি (Executive Order and Decree)

বর্তমান যুগে নানা কারণে আইনসভা তার কর্তৃত্বকে শাসন বিভাগের মাধ্যমেও পরিচালনা করে। এ অবস্থায় শাসন বিভাগের জারিকৃত ঘোষণা ও আদেশ আইনে পরিণত হয়। তাই শাসনিক আইনের উৎস নির্বাহী ঘোষণা ও ডিকি।

বৈদেশিক চুক্তি (Foreign Treaty)

সাধারণত বৈদেশিক চুক্তিগুলো শাসন বিভাগের যারা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। প্রায় দেশেই বৈদেশিক চুক্তি ঘোষিত হওয়ার পর তা আইনসভায় গৃহীত হয়ে আইনে পরিণত হয়। অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বৈদেশিক চুক্তি ঘোষিত হওয়ার আগেই আইনসভার অনুমোদন লাভ করতে হয়।

সংবিধান (Constitution):

সংবিধান আইনের সবচেয়ে বড় উৎস। সংবিধান আইনের বিশেষ দলিল। আইনসভা ও অন্যান্য সরকারি বিভাগের ক্ষমতা সীমিত ও তাদের কার্যরীতি প্রতিষ্ঠার জন্যে সংবিধান রচনা করা হয়। সংবিধানে জনগণের অধিকারসমূহ লিপিবন্ধ থাকে। সংবিধানে বিভিন্ন ধরনের বিধান আইনসভা ও সরকারের পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। সংবিধান পরিপন্থী কোনো আদেশ-নির্দেশ আইনে পরিণত হতে পারে না। তাই সংবিধান মূলত আইন তৈরির প্রধান উৎস।

আন্তর্জাতিক আইন (International Law) :

বর্তমানে আইনের উৎস হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনকেও ধরা হয়ে থাকে। কারণ আন্তর্জাতিক আইন সুসভ্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে পারস্পরিক সম্বন্ধ নির্ধারণ করে এবং রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে পারস্পরিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। টি. জে পরে (T. J. Lawrence) বলেছেন, “আন্তর্জাতিক আইন বলতে সেসব বিধিবিধানকে বুঝায় যা সাধারণভাবে সুসভ্য রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে।”

জনমত (Public Opinion):

জনমত আইনের একট অত্যাধুনিক উৎস। আধুনিক বিশ্বে জনমতের ভিত্তিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণীত হয়ে থাকে। বর্তমানে আইনসভা জনমতকে উপেক্ষা করে কোন আইন প্রণয়ন করতে পারে না। আবার আইনসভা কখনও কখনও আইন প্রণয়নের পূর্বে জনমত যাচাই করে আইন প্রণয়ন করে।

সংহতিকরণ (Integration) :

সংহতিকরণ আইনের একটি সহায়ক উৎস। আইন প্রণয়নের পর তা বিন্যস্ত করার প্রয়োজন পড়ে। এ বিন্যাসকরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে আইনের অসংগতি দূর করা। এ সময় আইনের কিছু কিছু পরিবর্তন ঘটে। পরিবর্তনের কারণে আবার নতুন নতুন আইনের সংযোজন হয়। এক্ষেত্রে সংহতিকরণ আইন প্রণয়নের উৎস হিসেবে কাজ করে।

আইনজ্ঞদের ভাষ্য (Comments of Lawyer):

অনেক আইনবিদদের রচনাবলিও আইনের উৎস হিসেবে কাজ করছে। তাদের ব্যাখ্যা ও আলোচনা আইনের প্রকৃত অর্থ, অভিপ্রায় ও মর্ম উদ্ঘাটন করে। এসব গ্রন্থে অনেক আইনগত নীতি থাকে, যেগুলো বিভিন্ন রাষ্ট্রে পরবর্তীতে আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন- বৃটেনের আইন ব্যবস্থায়ও কোক (Coke), ব্ল্যাকস্টোন (Blackstone). বেল্ট (Kent) প্রমুখ পণ্ডিতের ব্যাখ্যার বিশেষ অবদান রয়েছে।

প্রশাসনিক ঘোষণা ( Administrative Declaration):

অনেক সময় আইনসভা তার নির্বাহী কর্তৃত্বের বহুলাংশ শাসন বিভাগের কর্মকর্তাদের হাতে অর্পণ করে। তখন শাসন বিভাগের কর্মকর্তাগণ অর্পিত ক্ষমতাবলে বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী ঘোষণা ও ডিগ্রি প্রদানের দ্বারা নতুন আইনের সৃষ্টি করেন।

পরিশেষ

উপর্যুক্ত আলোচনার নিরিখে বলা যায়, আইন নিছক কোন ধারণা নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উৎসের সমন্বয়ে গড়ে ওঠেছে। বর্তমানে সংবিধান, আইনসভা আইনের অন্যতম উৎস হলেও প্রথা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং অন্য উৎসসমূহও আইন প্রণয়নে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। তাই আমরা রাষ্ট্রপতি উইলসনের সাথে একমত হয়ে বলতে পারি যে, “বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা দ্বারা আইনের সৃষ্টি সভ্যতার এক বিশেষ স্তরে উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত আইনের উৎসরূপে গণ্য করা হয় না।”

আমাদের সাথেই থাকুন,

facebook.com/EracoxBangla

 

সেলজুক সুলতান মালিক শাহ’র পরিচয় ও তার কৃতিত্ব।

0

সুলতান মালিক শাহের পরিচয় ও কৃতিত্ব (Introduction and Achievements of Seljuq Sultan Malik Shah)

সুলতান মালিক শাহ’র পরিচয়

সেলজুক বংশের সুলতানদের মধ্যে মালিক শাহ (শাসনকাল: ১০৭২-১০৯২ খ্রি.) সর্বাপেক্ষা ক্ষমতাশালী ও সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন। পিতা আল্প আরসালানের মৃত্যুর পর আবুল ফাতাহ মালিক শাহ সেলজুক শাসক হন। আড়ম্বর, ঐশ্বর্য ও জনকল্যাণের দিক দিয়ে মালিক শাহের শাসনকাল রোমান অথবা আরব শাসনের শ্রেষ্ঠ যুগের সমকক্ষ ছিল। মালিক শাহের এ শ্রেষ্ঠত্বের পেছনে যে সব বিষয় ক্রিয়াশিল ছিল বলে বিবেচনা করা হয় সেগুলো হলো—
প্রথমত, মালিক শাহের শাসনকালে সেলজুবাদের প্রভুত্ব সিরিয়া ও প্যালেস্টাইনে বিস্তার লাভ করে।
দ্বিতীয়ত, তিনি আব্বাসি খিলাফতকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য রাজধানীকে ইস্পাহান থেকে বাগদাদে স্থানান্তরিত করেন।
তৃতীয়ত, তিনি শাসনসংস্কার ও শিক্ষা-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করে ইসলামি বিশ্বের গৌরবের পতাকা সমুন্নত রাখেন।

মৃত্যু, মালিক শাহ ২১ বছর রাজত্বের পর ১০৯২ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ নভেম্বর মাত্র ৩৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। পি. কে. হিট্টি বলেন, “মালিক শাহের রাজত্বকালে সেলজুক ক্ষমতা সর্বোচ্চ বিন্দুতে উপনীত হয়।

সুলতান মালিক শাহ’র কৃতিত্ব

বিদ্রোহ দমন:

মালিক শাহের রাজত্বের প্রথমভাগে কয়েকটি বিদ্রোহ দেখা দেয়। তিনি এ সব বিদ্রোহ সাফল্যের সাথে দমন করেন। বিদ্রোহ গুলোর একটি পারস্যের (বর্তমান ইরান) তুসে তার ভাইয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল।

বাইজান্টাইনদের ওপর প্রভুত্ব বিস্তার:

সুলতান মালিক শাহ রোমের সামন্ত রাজা সুলাইমানকে পরাজিত করে সীমান্ত পর্যন্ত সেলজুক রাজ্য বিস্তার করেন এবং অনেকগুলো দ্বীপ দখল করেন। কনস্টান্টাইন ডুকাসের পুত্রের সিংহাসন ত্যাগের পর নাইসিফোরাস বোটানিয়েটস বাইজান্টাইন সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি ও তার উত্তরাধিকারী অলেক্সিয়াস কমনিসাস মালিক শাহকে ঊর্ধ্বতন প্রভু বলে স্বীকার করে তাকে করদানে সম্মত হন। ১০৭৪-৭৫ খ্রিষ্টাব্দে সুলাইমান গ্রিকদের এন্টিয়ক থেকে বিতাড়িত করে সুলতানের নামে নগরটি পুনরাধিকার করেন।

রাজ্যের সংহতি বিধান:

সুলতান মালিক শাহ রাজ্য সম্প্রসারণ অপেক্ষা রাজ্যের সংহতি বিধানে বেশি মনোযোগী ছিলেন। চীনের সীমান্ত থেকে পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত এবং উত্তরে জর্জিয়া থেকে দক্ষিণে ইয়েমেন বিস্তৃত মালিক শাহের বিশাল রাজ্যের সর্বত্র সুখ ও শান্তি বিরাজ করত।

সাহিত্য ও ললিতকলার পৃষ্ঠপোষকতা:

মালিক শাহের উদার পৃষ্ঠপোষকতার ফলে সাহিত্য ও ললিতকলা সমৃদ্ধি লাভ করেছিল। তার সময়ে ইসলামি রাজ্যে ফারসি ভাষা চর্চার অভূতপূর্ব তৎপরতা দেখা যায়। মালিক শাহ সেলজুক সাম্রাজ্যের নগরগুলোতে অনেক উচ্চবিদ্যালয় নির্মাণ করেন। সৈয়দ আমীর আলী বলেন, “মালিক শাহের রাজত্বকালে উদার-পৃষ্ঠপোষকতার ফলে সাহিত্য ও ললিতকলা সমৃদ্ধি লাভ করেছিল। (৪৬)

জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ:

মালিক শাহ ছিলেন একজন প্রজারঞ্জক শাসক। আব্বাসি খলিফা রশীদ ও মামুনের মতো তিনি সওদাগর ও মুসাফিরদের নিরাপত্তার জন্য বাণিজ্য ও হজযাত্রার পথের পাশে বিশ্রামাগার ও প্রহরীগৃহ নির্মাণ করেন। তিনি রাজ্যের সর্বত্র রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, সুরম্য অট্টালিকা ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানে স্থানে পানি নিষ্কাশনের জন্য নর্দমা খনন করেন। মালিক শাহ উজির নিজাম-উল-মূলকের সহায়তায় সুষ্ঠু কর ব্যবস্থার বাস্তবায়নের জন্য সামন্ততন্ত্র চালু করেন। তিনি সৈন্যদের মধ্যে ভূমি বণ্টন করে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত কর আদায়ের ব্যবস্থা করেন।

স্থাপত্যশিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা:

স্থাপত্যশিল্পের দিক থেকে বিচার করলে মালিক শাহের রাজত্বকাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজাম-উল-মূলক প্রথম ইস্পাহানের জামে মসজিদ নির্মাণে সেলজুক স্থাপত্যরীতি প্রবর্তন করেন। সেলজুক আমলে ইরানে নির্মিত অসংখ্য মসজিদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ইস্পাহানের জামে মসজিদ।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা:

মালিক শাহের অর্থানুকূল্যে বিদ্যোৎসাহী উজির নিজাম শিক্ষার প্রসারে বাগদাদে ১০৬৫ ১০৬৭ খ্রিষ্টাব্দে ইসলামের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় নামে খ্যাত নিজামিয়া মাদ্রাসা নির্মাণ করেন। এটি ছাড়াও তিনি রাজ্যের সর্বত্র অসংখ্য মাদ্রাসা নির্মাণ করেন। ইসলামের শ্রেষ্ঠ ধর্মতাত্ত্বিক এবং চিন্তাবিদ ইমাম গাজ্জালি (১০৫৮-১১১১ খ্রি.) এ মাদ্রাসায় অধ্যাপনা করেন। মহাকবি শেখ সাদী এ মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা:

মালিক শাহ জ্যোতির্বিজ্ঞানেরও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ১০৭৫ খ্রিষ্টাব্দে উজির নিজামের পরামর্শে মালিক শাহ নিশাপুরে একটি জ্যোতির্বিদ সম্মেলন আহ্বান করেন। ঐ সম্মেলনে জ্যোতির্বিদ্যা চর্চার সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণীত হয়। গ্রহ-নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের জন্য নিশাপুরে একটি মানমন্দিরও নির্মাণ করা হয়। প্রখ্যাত দার্শনিক, কবি, জ্যোতির্বিদ এবং গণিতবিশারদ উমর খৈয়ামের নেতৃত্বে জ্যোতির্বিদসহ বিজ্ঞানীরা জ্ঞান-বিজ্ঞানকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

জালালি পঞ্জিকা প্রবর্তন:

উমর খৈয়ামের নেতৃত্বে নিশাপুরের জ্যোতির্বিদরা চান্দ্র মাসের পরিবর্তে সৌর মাস অনুযায়ী গণনার প্রথা চালু করেন। প্রচলিত গণনাপদ্ধতির যাবতীয় ভুল সংশোধন করে একটি নতুন পঞ্জিকা তৈরি করা হয়। সুলতান মালিক শাহ জালাল-উদ-দৌলাহর নামানুসারে এটির নামকরণ হয় জালালি পঞ্জিকা। ঐতিহাসিক গিবনের মতে, ‘নির্ভুলতায় এ গণনা জুলীয় গণনাকে অতিক্রম করে গ্রেগরীয় গণনার কাছাকাছি পৌঁছেছিল।’

নিজামুল মুলক ও তার অবদান:

সেলজুক রাজত্বে শাসনকাজের সংস্কার, সমৃদ্ধি এবং প্রভাব-প্রতিপত্তির জন্য মালিক শাহের সুযোগ্য প্রজ্ঞাবান উজির খাজা হাসান নিজাম-উল-মুলকের অবদান ছিল অপরিসীম। আল্‌প-আরসালান এবং মালিক শাহের উজির হিসেবে খাজা হাসান সেলজুক বংশ তথা আব্বাসি সুন্নি খিলাফতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। ইবনে খাল্লিকান বলেন, “মালিক শাহের প্রায় বিশ বছরের রাজত্বকালে (১০৭৩-১০৯২) নিজামুল মুলক নিজ হাতে সমস্ত ক্ষমতা এমনভাবে কেন্দ্রীভূত করেন যে, সুলতানের সিংহাসনে উপবিষ্ট থাকা অথবা মৃগয়ায় যাওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ ছিল না।(৪৭) নিজামের একনিষ্ঠ সেবা ও আনুগত্যে প্রীত হয়ে সুলতান মালিক শাহ তাকে ‘আতাবেগ’ (আমিরের শাসনকর্তা) উপাধিতে ভূষিত করেন। এজন্যই পি. কে. হিট্টি নিজামুল মুলককে ইসলামের রাজনৈতিক ইতিহাসের অলঙ্কার বলে অভিহিত করেন। সৈয়দ আমীর আলী বলেন, “এশিয়া যে সকল উজির ও শাসকের জন্মদান করেছিল তার মধ্যে ইয়াহহিয়া বার্মাকির পর নিজাম-উল-মুলক-ই শ্রেষ্ঠ।” নিজাম-উল-মুলকের ‘সিয়াসত নামা’ গ্রন্থকে (Siyasat Namah) রাজ্য শাসনপ্রণালির ওপর লিখিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণামূলক রচনা বলে মনে করা হয়।

(৪৫) It was Malik Shah (1072-92) under whom Seljuq power reached its meridian. Ref: P.K. Hitti, History of the Arabs, p.476
(৪৬) During Malik Shah reign Arts and literature were fostered by a lavish patronage. -Ref: Syed Ameer Ali, A Short History of the Saracens, p.316
(৪৭) One of the ornaments of political history of Islam. -Ref: P.K. Hitti, History of the Arabs, p.477,
(৪৮) Nizam ul-Mulk was probably, after Yahya Barmeki, the ablest minister and administrator Asia has ever produced. -Ref: Syed Ameer Ali, A Short History of the Saracens, p.315

সুলতান আল্প আরসালান এর পরিচয় ও কৃতিত্ব।

0
সুলতান আল্প আরসালান - সেলজুক বংশের তৃতীয় সুলতান।

সুলতান আল্প আরসালানের পরিচয় ও কৃতিত্ব Introduction and Achievements of Sultan Alp Arsalan

আল্প আরসালানের পরিচয়

সেলজুক সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা ভূমিলের কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় তার মৃত্যুর পর ভাইয়ের ছেলে আলপ আরসালান সেলজুকদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। আরসালান শব্দের অর্থ বীর সিংহ। আলপ আরসালান একজন বীর সিংহের’ মতোই দায়িত্ব পালন করেছেন। খলিফা আল-কায়িম (১০৩১-১০৭৫ খ্রি.) তাকে আজুদদ্দৌলাহ উপাধি প্রদান করেন। তিনি ১০৬৩-১০৭৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সগৌরবে শাসন করে সেলজুক বংশের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করেন। এ মহান শাসক ১০৭৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত একজন বিদ্রোহীর হাতে গুরুতরভাবে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

আলুপ আরসালানের চরিত্র

ঐতিহাসিক ইবনুল আসীর আলুপ আরসালানকে উদার, মহানুভব, ন্যায়পরায়ণ ও জ্ঞানী শাসক, ধার্মিক, দয়ালু, সানশীল, দরিদ্রের প্রতি সহমর্মী, নিন্দনীয় কার্যকলাপ বিমুখ এবং সর্বোপরি সাহসী বলে বর্ণনা করেছেন। রোম সম্রাটের প্রতি সদয় ব্যবহার তার মহানুভবতার পরিচয় বহন করে। তিনি ন্যায়পরায়ণ এবং প্রজাহিতৈষী শাসক হিসেবেও খ্যাতি লাভ করেন। মনোবল, ধর্মবল ও বাহুবলে তিনি সমান ছিলেন। দুর্বল আব্বাসি শাসকের সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল। এশিয়া মাইনরে সুন্নি ইসলামের প্রাধান্য বিস্তারের ক্ষেত্রে আলুপ আরসালান ছিলেন অগ্রপথিক।

আল্প আরসালানের কৃতিত্ব

মুসলিম প্রাচ্যে গৌরবোজ্জ্বল শাসনের সূচনা:

রাজ্যে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আলুপ আরসালান মুসলিম প্রাচ্যে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করেন। পি কে হিট্টি বলেন, তুমিল (১০৩৭-১০৬৩), তার ভ্রাতুষ্পুত্র ও উত্তরাধিকারী আলপ আরসালান (১০৬৩-১০৭২) এবং মালিক শাহের শাসনকাল (১০৭২-১০৯২) মুসলিম প্রাচ্যে সেলজুক উত্থানের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করে।

সাম্রাজ্য সুসংহতকরণ:

আলুপ আরসালানের রাজত্বকালে তুর্কি উপজাতিরা দলে দলে মুসলিম বাহিনীতে যোগদান করলে তার পক্ষে আব্বাসি সাম্রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল পুনর্দখল করে একটি সুসংহত রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। এর ফলে মুসলিম সৈন্যবাহিনীর মর্যাদা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। মুসলিম বাহিনী আরও শক্তিশালী এবং অপ্রতিহত হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে মালাজকার্দের যুদ্ধে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

নতুন রাজধানী প্রতিষ্ঠা:

সেলজুক বংশের প্রতিষ্ঠাতা তুমিল পূর্বাঞ্চলের খোরাসান প্রদেশের মার্তে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু এটি রাজ্যের এক প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় বিদ্রোহ দমন ও বাইজান্টাইনদের মোকাবিলায় সমস্যা দেখা দিত। দূরদর্শী প্রশাসক হিসেবে আলপ আরসালান রাজ্যের কেন্দ্রস্থল ইস্পাহানে রাজধানী স্থানান্তর করেন।

দুর্বল আব্বাসি খলিফার সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক:

অতীতে বুয়াইয়া আমিররা দুর্বল আব্বাসি খলিফাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানলেও সেলজুক সুলতানরা খলিফাদের সাথে শ্রদ্ধা ও ভক্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। আলপ আরসালান ও তার পূর্বসূরি তুগ্রিলের মতোই দুর্বল খলিফা কায়িমের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতেন।

বাইজান্টাইনদের সাথে সাথে ও লালাভ:

আপন আরসাপানের রাজত্বকালের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল বাইজান্টাইনদের সাথে সংঘাত ও জয়লাভ। ভূমিলের সময় মুসলমানদের সাথে বাইজান্টাইনদের যে সংঘর্ষের সূচনা হয় আলপ আরসালানের সময় তা চরম আকার ধারণ করে। ভূমিস ১০৬০ খ্রিস্টাব্দে বাইজান্টাইনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে -তাদেরকে কারাডোর্সিয়া ও জির্জিয়া থেকে বিতাড়িত করেন। তবে এ অ্যালকে স্থায়ীভাবে জয় করেন আলপ আরসালান। এর পর ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে তিনি জর্জিয়া ও আর্মেনিয়া জয় করে আজারবাইজানে অবস্থানের সময় খবর পান যে, ডায়াজিনিস রানা (মাস) নামের এক ব্যক্তি সম্রাজ্ঞী ইউভোগিয়ার কল্যাণে বধ্যভূমি থেকে মুক্তি পেয়ে বাইজান্টাইন সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি বাগদাদ পশ্চিম এশিয়া রোমকদের পদানত করার উদ্দেশ্যে দু’লক্ষ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে অকস্মাৎ এশিয়া মাইনর আক্রমণ করেছেন। ঐতিহাসিকদের মতে, কনস্টান্টিনোপল থেকে বিজয়াভিয়ান অথবা পৃষ্ঠনের জন্য ইতোপূর্বে এর চেয়ে বেশি সুসজ্জিত ও বড় সৈন্যবাহিনী বের হয়নি।

মালাজগ্রিট যুদ্ধ ও সন্দি;

বাইজান্টাইনদের আগমনের সংবাদে বিচলিত না হয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার জন্য আলপ আরসালান মাত্র ৪০,০০০ সৈন্য নিয়ে আর্মেনিয়ার দিকে যাত্রা করেন এবং মালাজকার্দে ঘাঁটি স্থাপন করেন। মালাজকার্দ ছিল বর্তমান আজোম এবং ভ্যান নগরদ্বয়ের মধ্যস্থলে অবস্থিত একটি বিখ্যাত দুর্গ। এখানে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হয়। প্রথম দিকে মুসলমান সেনারা শত্রুর সংখ্যাধিক্যে ভীত হয়ে পড়লেও তাদের অদম্য স্পৃহার ফলে অচিরেই বাইজান্টাইনরা শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয়। সম্রাট রোমানাস বন্দি হন। পি কে হিট্টির মতে, মালাজকার্নে বাইজান্টাইনদের বিপর্যয়ে সেলজুক নেতৃত্বাধীন মুসলমানরা সর্বপ্রথম রোমান সম্রাটের অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারে সমর্থ হয়। এভাবে এশিয়া মাইনরের তুর্কিকরণের প্রথম বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে আলাপ-আলোচনার পর সুলতান ও রোমানাসের মধ্যে সন্ধি স্থাপিত হয়। এ সন্ধির শর্তানুসারে রোমানাস তার কন্যাদের আপ আরসালানের পুত্রদের সাথে বিবাহ দিতে ও বন্দিত্ব মোচনের জন্য দশ লক্ষ এবং বাৎসরিক রাজস্বস্বরূপ তিন লক্ষ ষাট হাজার স্বর্ণমুদ্রা দিতে এবং সকল যুদ্ধবন্দি ফেরত দিতে রাজি হন।

যুদ্ধের ফলাফল:

মালাজকার্দের যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ যুদ্ধে মুসলমানদের জয়লাভের ফলে এশিয়া মাইনরে বাইজান্টাইন প্রভুত্ব হ্রাস পেয়ে সেলজুক প্রাধান্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। আরসালান যুদ্ধজয়ের পর অধিকৃত অখালের শাসনভার পিতৃব্যপুত্র সুলায়মান ইবন কুতলুমিশের হাতে অর্পণ করেন। সুলায়ম বিজ্ঞ শাসক ও সাহসী যোদ্ধা হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেন। তিনি রাজ্যসীমা উত্তরে হেলেসপন্ট ও পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করেন এবং বাইজান্টাইন সম্রাটদের কাছ থেকে কর আদায় করেন। মালাজকার্দের যুদ্ধে মুসলিম বিজয় এশিয়া মাইনরে খ্রিস্টান প্রভৃত্বের সম্ভাবনা দূর করে এবং ইসলামের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটায়। এশিয়া মাইনরের তুর্কিকরণ শুধু ইসলামের রাজ্য এবং ধর্ম বিস্তারেই সহায়ক ছিল না, বরং এর ফলে পরবর্তীকালে অটোমান তুর্কিদের আবির্ভাব সুনিশ্চিত হয়। মালাজকার্দের যুদ্ধ জয়ের ঘটনাকে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল (বর্তমান ইস্তাম্বুল) জয়ের প্রথম পদক্ষেপ বলেও মনে করা হতো।

ইসলামি বিচার ব্যবস্থা ও প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার পার্থক্য।

0
ইসলামি বিচার ব্যবস্থা
ইসলামি বিচার ব্যবস্থা ও প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার পার্থক্য।

প্রচলিত বিচার ব্যবস্থা ও ইসলামি বিচার ব্যবস্থার পার্থক্য।
Difference Between the Prevalent Judicial System and the Islam

প্রচলিত বিচার ব্যবস্থা ও ইসলামি বিচার ব্যবস্থার মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। নিচে এগুলো উল্লেখ করা হলো।

প্রয়োগ ক্ষেত্রে :

প্রচলিত বিচার ব্যবস্থা বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কার্যকরী হয়। পক্ষান্তরে, ইসলামি বিচার ব্যবস্থা ইসলামি রাষ্ট্র ছাড়া কার্যকরী হয় না।

চুরির শাস্তি ক্ষেত্রে :

ইসলামি বিধানে চুরির শাস্তি হলো চোরের হাত কর্তন করা। যেন পরবর্তীতে এমন কাজের সাহস না পায়। পক্ষান্তরে, সাধারণ বিচার ব্যবস্থায় সামান্য জেল জরিমানার পর চোরকে ছেড়ে দেয়া হয়। এতে সে আরো সাহসী হয়।

হত্যার শাস্তি ক্ষেত্রে :

ইসলামি বিচার ব্যবস্থায় হত্যার শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। পরিভাষায় এটাকে কিসাস বলা হয়। পক্ষান্তরে, প্রচলিত আইনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাস্তি হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

ব্যভিচারের শাস্তি ক্ষেত্র :

ইসলামি আইনে কোনো অবিবাহিত নারী-পুরুষ যেনা-ব্যভিচার করলে শাস্তি একশ’ দোররাঘাত। আর বিবাহিত হলে পাথর মেরে হত্যা করা। অপরপক্ষে, প্রচলিত আইনে জোর করে সতীত্ব হরণের শাস্তি সামান্য জেল-জরিমানা।

অপবাদের শান্তি ক্ষেত্রে :

ইসলামি আইনে কোনো সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপের শাস্তি হলো আশি দোররাঘাত। কিন্তু প্রচলিত আইন ব্যবস্থায় এর জন্য কোনো শাস্তি নির্ধারিত নেই।

মদ্যপান ও জুয়া খেলার শাস্তি ক্ষেত্রে :

ইসলামি আইনে মদ্যপান ও জুয়া খেলার মতো গর্হিত কাজের শাস্তি নির্দিষ্ট রয়েছে। পক্ষান্তরে, সাধারণ বা প্রচলিত আইনে এ দু’টি অপরাধের জন্য কোনো শাস্তি নির্ধারিত নেই।

বিচারকার্যে দীর্ঘসূত্রিতা :

ইসলামি ব্যবস্থায় আইন সুস্পষ্ট। এখানে উকিলের প্রয়োজন হয় না, তাই বিচারকার্য দ্রুত সম্পন্ন হয়। অপরপক্ষে, প্রচলিত আইন এতই জটিল যে, ডাকল ছাড়া মামলা পরিচালনা সম্ভব হয় না। ফলে বিচারকার্যে সময়ও বেশি লাগে।

দেস্তান – মহাকাব্য (সকল পর্ব একসাথে)

0

পরিচালক এবং লেখক পরিচিতিঃ
এই সিরিজের প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করবেন ইব্রু শাহিন এবং এডিপ টেপেলি। এবং এই সিরিজটি বোজদাগ ফিল্ম প্রোডাকশন এবং আমির খলিলজাদেহ পরিচালিত। এটি অষ্টমম শতাব্দীর একটি অমর প্রেমের গল্প, এই সিরিজের লেখক ফেরদা এরিলমাজ এবং নেহির এরদেম।

পেক্ষাপটঃ
তুর্কিদের ইসলাম গ্রহণের আগে নবম শতাব্দীতে সংঘটিত এই গল্পটি একটি অল্পবয়সী মেয়ে এবং একজন খানের ছেলের প্রেমের কাহিনী।মধ্য এশিয়ার পাহাড়ি উপজাতির একটি দরিদ্র মেয়ে এবং একজন খানের প্রতিবন্ধী ছেলের প্রেমের সাথে ঘটে যাওয়া গল্প নিয়ে..।

অনেকেই মনে করছেন এটা ইসলাম গ্রহণের আগের ইতিহাস। তাও আবার প্রেমের কাহিনী নিয়ে। আসলে বিষয়টি শুধু এটুকুই না। আমাদের আগে বোঝা উচিৎ কারা এই সিরিজের পরিচালক এবং প্রযোজক।
আগেই বলা হয়েছে এই সিরিজের প্রযোজক বোজদাগ ফ্লিম প্রোডাকশন।
বোজদাগ ফিল্মের প্রযোজিত কয়েকটা সিরিজ যেগুলোর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে ,
যেমনঃ দিরিলিস আরতুগ্রুল, কুরুলুস উসমান,মেনদিরমান জালালুদ্দিন।

আরো একটা কথা না বললেই নয়, এই সিরিজে শুধু প্রেমের কাহিনী দেখানো হবে না। এখানে তুর্কিদের হারানো ইতিহাস এবং তুর্কি ভূমি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার ঘটনা কে-ও তুলে ধরা হবে। এবং দেখানো হবে জাযাবর তুর্কিরা কিভাবে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহন করে দ্বীনের জন্য নিবেদিতপ্রান হিসেবে আবির্ভূত হয়।

দেস্তান সিরিজ এর সকল পর্ব

দেস্তান সিরিজ এর সকল পর্বের লিংক এইখানে এক সাথে পাওয়া যাবে। সাথে একাধিক সাবটাইটেল ত আছেই। প্রতি মঙ্গলবার ATV তে সম্প্রচারিত হয়। তার পর বাংলা সাবটাইটেল করা হয়, সাবটাইটেল বের হওয়ার সাথে সাথে এখানে লিংক এড করা হবে।

দেস্তান ভলিউম ১

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া / ঐতিহাসিক তুর্কিরা

দেস্তান ভলিউম ২

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া / ঐতিহাসিক তুর্কিরা

ফেসবুক লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া / ঐতিহাসিক তুর্কিরা

দেস্তান ভলিউম ৩

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া / ঐতিহাসিক তুর্কিরা

ফেসবুক লিংকঃ- ঐতিহাসিক তুর্কিরা

দেস্তান ভলিউম ৪

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / ঐতিহাসিক তুর্কিরা / অনুবাদ মিডিয়া

ফেসবুক লিংকঃ- ঐতিহাসিক তুর্কিরা / ঐতিহাসিক তুর্কিরা ২ / হারানো ইতিহাস / হারানো ইতিহাস ২

এক ক্লিক করে সরাসরি ডাউনলোড লিংক অনুবাদ মিডিয়া সাবটাইটেল।

দেস্তান ভলিউম ৫

লিংক সমূহ:- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া / ঐতিহাসিক তুর্কিরা

ফেসবুক লিংকঃ- ঐতিহাসিক তুর্কিরা / অনুবাদ মিডিয়া

দেস্তান ভলিউম ৬

লিংক সমূহঃ- হারানো ইতিহাস / ঐতিহাসিক তুর্কিরা / অনুবাদ মিডিয়া

ফেসবুক লিংকঃ- ঐতিহাসিক তুর্কিরা / হারানো ইতিহাস / অনুবাদ মিডিয়া।

দেস্তান ভলিউম ৭

লিংক সমূহঃ- হারানো ইতিহাস / ঐতিহাসিক তুর্কিরা / অনুবাদ মিডিয়া

ফেসবুক লিংকঃ- হারানো ইতিহাস / ঐতিহাসিক তুর্কিরা / অনুবাদ মিডিয়া।

এক ক্লিক করে সরাসরি ডাউনলোড লিংক অনুবাদ মিডিয়া সাবটাইটেল।

দেস্তান ভলিউম ৮

লিংক সমূহঃ- অনুবাদ মিডিয়া / ঐতিহাসিক তুর্কিরা।

ফেসবুক লিংকঃ- অনুবাদ মিডিয়া / ঐতিহাসিক তুর্কিরা।

এক ক্লিক করে সরাসরি ডাউনলোড লিংক অনুবাদ মিডিয়া সাবটাইটেল।

দেস্তান ভলিউম ৯

লিংক সমূহঃ- অনুবাদ মিডিয়া / ঐতিহাসিক তুর্কিরা।

ফেসবুক লিংকঃ- ঐতিহাসিক তুর্কিরা / অনুবাদ মিডিয়া।

দেস্তান ভলিউম ১০

ফেসবুক লিংকঃ- প্রথম লিংক / ফেসবুক লিংক ২ / ফেসবুক লিংক ৩ / ফেসবুক লিংক ৪ / ফেসবুক লিংক ৫ / ঐতিহাসিক তুর্কিরা / অনুবাদ মিডিয়া।

দেস্তান ১১ বাংলা সাবটাইটেল

ফেসবুক লিংকঃ- ঐতিহাসিক তুর্কিরা

দেস্তান ভলিউম ১২

ফেসবুক লিংকঃ- ঐতিহাসিক তুর্কিরা / উসমান অনলাইন

দেস্তান ভলিউম ১৩

ফেসবুক লিংকঃ- ইসলামি মিডিয়া / ঐতিহাসিক তুর্কিরা / উসমান অনলাইন।

দেস্তান ভলিউম ১৪

FB Link:- অনুবাদ মিডিয়া / অনুবাদ মিডিয়া FB / ঐতিহাসিক তুর্কিরা।

দেস্তান ভলিউম ১৫

ফেসবুক লিংকঃ- ইসলামি মিডিয়া / অনুবাদ মিডিয়া

দেস্তান ভলিউম ১৬

লিংক সমূহঃ- অনুবাদ মিডিয়া / ইসলামি মিডিয়া

দেস্তান ভলিউম ১৭

FB Link:- ইসলামি মিডিয়া / অনুবাদ মিডিয়া।

দেস্তান ভলিউম ১৮

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া

ফেসবুক লিংকঃ- ইসলামি মিডিয়া / অনুবাদ মিডিয়া / উসমান অনলাইন।

দেস্তান ভলিউম ১৯

লিংক সমূহঃ- অনুবাদ মিডিয়া ১ / অনুবাদ মিডিয়া ২ /

ফেসবুক লিংকঃ- ইসলামি অনুবাদ / অনুবাদ মিডিয়া।

দেস্তান ভলিউম ২০

লিংক সমূহঃ- অনুবাদ মিডিয়া

ফেসবুক লিংকঃ-

দেস্তান ভলিউম ২১

লিংক সমূহঃ- অনুবাদ মিডিয়া

ফেসবুক লিংকঃ-

দেস্তান ভলিউম ২২

ফেসবুক লিংকঃ- অনুবাদ মিডিয়া

দেস্তান ভলিউম ২৩

ফেসবুক লিংকঃ- অনুবাদ মিডিয়া

আল্প আরসালান – বুয়ুক সেলজুকলো। (সকল পর্ব একসাথে)

4
আল্প আরসালান - বুয়ুক সেলজুকলো

আল্প আরসালান – বুয়ুক সেলজুকলো একটি জনপ্রিয় টার্কিশ ইসলামিক ড্রামা সিরিজ। বিশ্ব কাপানো এই সিরিজ টি ২২ নবেম্বর ২০২১ এ টার্কিশে তুরষ্কের TRT1 তে প্রচার শুরু হয়।

উক্ত সিরিজ টি উইয়ানিস বুয়ুক সেলজুকলো এর পরবর্তি সিজিন হিসেপে প্রাচারিত হয়। আল্প-আরসালান সিরিজ টি মহান সুলতান মোহাম্মদ আল্প-আরসালান বেগ কে নিয়ে নির্মিত। এখানে তার জীবনি ফুটিয়ে তুলা হয়েছে।

আল্প-আরসালান সিরিজে দেখানে হয়েছে মুসলিমদের হারিয়ে যাওয়া গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাসের কথাঅনুবাদ মিডিয়া। আল্প আরসালান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সুলতান আল্প আরসালান পোষ্ট টি পড়তে পারেন।

আল্প আরসালান – বুয়ুক সেলজুকলো

আল্প আরসালান – বুয়ুক সেলজুকলো সিরিজের সকল ভলিয়ম এখানে একসাথে দেওয়া হয়। এমন কি সকল অনুবাদ অর্থাৎ সাবটাইটেল। যথাঃ- উসমান অনলাইন, অনুবাদ মিডিয়া, দুরবীন মিডিয়া, ইসলামী অনুবাদ ইত্যাদি। আর হ্যা, আরেক কথা, এই খানে সকল পর্ববের লিংক পাবেন এক সাথে, আপলোড হওয়ার সাথে সাথে এখানে পোস্ট করা হবে।

চলুন শুরু করা যাক,

আল্প আরসালান সিজন ০১

আল্প আরসালান ভলিউম ১

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া / ইসলামী অনুবাদ / উম্মাহ ভিউ

ফেসবুক লিংকঃ- উম্মাহ ভিউ

আল্প আরসলান ভলিউম ২

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া / ইসলামী অনুবাদ।

ফেসবুক লিংকঃ- উম্মাহ ভিউ

আল্পআরসালান ভলিউম ৩

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া / ইসলামী অনুবাদ।

ফেসবুক লিংকঃ- উম্মাহ ভিউ।

আল্প-আরসলান ভলিউম ৪

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / উসমান অনলাইন-২ / অনুবাদ মিডিয়া / ইসলামী অনুবাদ

ফেসবুক লিংকঃ- উম্মাহ ভিউ / উসমান অনলাইন / ইসলামি অনুবাদ / অনুবাদ মিডিয়া

আল্প আরসালান ভলিউম ৫

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া / ইসলামী অনুবাদ।

ফেসবুক লিংকঃ- উসমান অনলাইন / উসমান অনলাইন ২ / অনুবাদ মিডিয়া / ইসলামি অনুবাদ।

আল্প-আরসালান ভলিউম ৬

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া

ফেসবুক লিংকঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

এখানে ক্লিক করে সরাসরি ডাউনলোড করুন অনুবাদ মিডিয়া সাবটাইটেল।

আল্প আরসলান ভলিউম ৭

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া

ফেসবুক লিংকঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া

এখানে ক্লিক করে সরাসরি ডাউনলোড করুন অনুবাদ মিডিয়া সাবটাইটেল।

আল্প-আরসালান ভলিউম ৮

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / উসমান অনলাইন ২ / অনুবাদ মিডিয়া / অনুবাদ মিডিয়া ২

ফেসবুক লিংকঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

এখানে ক্লিক করে সরাসরি ডাউনলোড করুন অনুবাদ মিডিয়া সাবটাইটেল।

আল্প আরসলান ভলিউম ৯

লিংক সমূহঃ- অনুবাদ মিডিয়া / উসমান অনলাইন

ফেসবুক লিংকঃ- অনুবাদ মিডিয়া / উসমান অনলাইন।

এখানে ক্লিক করে সরাসরি ডাউনলোড করুন অনুবাদ মিডিয়া কর্তৃক সাবটাইটেল।

আল্প-আরসলান ভলিউম ১০

লিংক সমূহঃ- অনুবাদ মিডিয়া / উসমান অনলাইন

ফেসবুক লিংকঃ- অনুবাদ মিডিয়া / উসমান অনলাইন।

Alp Arsalan Bangla 11

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া

ফেসবুক লিংকঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া-১ / অনুবাদ মিডিয়া ২

Alp arsalan ep 12 bangla

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

ফেসবুক লিংকঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

এক ক্লিক করে সরাসরি ডাউনলোড লিংক উসমান অনলাইন কর্তৃক সাবটাইটেল।

আল্প আরসালান ভলিউম ১৩

লিংক সমূহঃ- অনুবাদ মিডিয়া / উসমান অনলাইন

ফেসবুক লিংকঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

এক ক্লিক করে সরাসরি ডাউনলোড লিংক অনুবাদ মিডিয়া সাবটাইটেল।

আল্প আরসালান ১৪ বাংলা

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া

ফেসবুক লিংকঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

আল্প আরসালান ১৫

Web link:- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া

Facebook link:- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

এক ক্লিক করে সরাসরি ডাউনলোড লিংক উসমান অনলাইন সাবটাইটেল।

আল্প আরসালান ভলিউম ১৬

Web link:- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

FB Link:- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

আল্প আরসালান ভলিউম ১৭

Web Link:- উসমান অনলাইন

FB Link:-

আল্প আরসালান বাংলা ১৮

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

ফেসবুক লিংকঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

আল্প আরসালান ভলিউম ১৯

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

ফেসবুক লিংকঃ-

আল্প আরসালান ভলিউম ২০

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

ফেসবুক লিংকঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

আল্প আরসালান ভলিউম ২১

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

ফেসবুক লিংকঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

আল্প আরসালান ভলিউম ২২

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

ফেসবুক লিংকঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

আল্প আরসালান ভলিউম ২৩

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

ফেসবুক লিংকঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

আল্প আরসালান ভলিউম ২৪

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া।

ফেসবুক লিংকঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া

আল্প আরসালান ভলিউম ২৫

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া

ফেসবুক লিংকঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া

Alp Arsalan Bangla 26

লিংক সমূহঃ- উসমান অনলাইন

আল্প আরসালান ভলিউম ২৭

ফেসবুক লিংকঃ- অনুবাদ মিডিয়া

আল্প আরসালান সিজন ০২

আল্প আরসালান ভলিউম ২৮

লিংক ১

আল্প আরসালান ভলিউম বাংলা সাবটাইটেল ২৯

উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া

আল্প আরসালান ভলিউম ৩০

লিংকঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া

আল্প আরসালান ভলিউম ৩১

লিংকঃ- উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া

আল্প আরসালান ভলিউম ৩২

লিংকঃ- অনুবাদ মিডিয়া / link 2 / উসমান অনলাইন।

আল্প আরসালান ভলিউম ৩৩

লিংক সমূহ – অনুবাদ মিডিয়া / উসমান অনলাইন

Alp Arsalan Bangla subtitle 34

লিংকঃ- অনুবাদ মিডিয়া / উসমান অনলাইন।

আল্প আরসালান ভলিউম ৩৫

লিংক ১

আল্প আরসালান ভলিউম ৩৬

লিংক ১ 

আল্প আরসালান ভলিউম ৩৭

লিংকঃ- উসমান অনলাইন 

আল্প আরসালান ভলিউম ৩৮

লিংকঃইসলামি মিডিয়া / উসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া। 

আল্প আরসালান ভলিউম ৩৯

লিংকঃউসমান অনলাইন / অনুবাদ মিডিয়া / ইসলামী মিডিয়া

আল্প আরসালান ভলিউম ৪০ 

লিংকঃ- লিংক ০১ / লিংক ০২ / লিংক ০৩ 

আল্প আরসালান ভলিউম ৪১

লিংক সমূহঃ- সার্ভার ১ / সার্ভার ২ / 

আল্প আরসালান ভলিউম ৪২

কমেন্ট করতে ভুলবেন না। বন্ধু-বান্ধবের সাথে শেয়ার করুন। আর সকল ধরনের সাবটাইটেল ও সকল লিংক পেতে আমাদের সাথে থাকুন। চাইলে লিংক টি কপি করা রাখতে পারেন- eracox.com/আল্প-আরসালান

অন্য-আন্য ইসলামিক সিরিজ গুলি নিম্নে দেওয়া হলঃ-

দিরিলিস আর্তুগ্রুল

কুরুলুস উসমান

উইয়ানিস – বুয়ুক সেলজুকলো

বারবারোসলার – ভুমধ্যসাগরের তরবারী।

সকল ইসলামিক সিরিজের লিংক পেতে আমাদের সাথে থাকুন। চোখ রাখুন আমদের ফেসবুক পেইজে। আর আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না।

আল্প আরসালান ভলিউম ৪৯

অনুবাদ মিডিয়া, উসমান অনলাইন

এসএসসি’র পর অবসর উদযাপন – নতুন জীবনের অগ্রযাত্রা।

0

এসএসসি’র পর অবসর উদযাপন যে ভাবে করবেন তা নিয়ে আজকের এই টপিক। চলুন শুরু করা যাক –

এসএসসি পরীক্ষার পরের সময়টুকুর মতো লম্বা ছুটি তাড়াতাড়ি আর পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। তবে সময়টা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে তা জীবনের বাঁক ঘুরিয়ে দিতে যথেষ্ট।

নতুন ভাষা শেখা

ইংরেজির পাশাপাশি অন্য বিদেশি ভাষা জানা খুব কাজে দেয়। দেশের বাইরে পড়তে যাওয়া, স্কলারশিপ পাওয়া বা ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বদল অনেক ক্ষেত্রেই কাজে দেবে এই সময়ে বিদেশি কোনো ভাষা শিখে ফেললে।

কম্পিউটার শেখা

ভবিষ্যতের কথা ভেবে শিখে নেওয়া যায় MS Word, MS Excel, Power Point-এর মতো বিষয়গুলো। পড়াশোনা বা অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে তো কাজে দেবেই, ভবিষ্যতে চাকরির ক্ষেত্রেও এর সুফল মিলবে।

ভোকাবুলারি

নিজের ভোকাবুলারিতে নজর দেওয়া যায়। কমপক্ষে ১৫০০ ইংরেজি শব্দ এমনভাবে শেখা দরকার যাতে সেগুলো মাথার ভেতর থাকে সবসময়। পড়াশোনা তো বটেই কথা বলার সময়ও এই শব্দগুলো কাজে দেবে।

নেটওয়ার্কিং

জীবনে সফল হতে গেলে এখন নেটওয়ার্কিং-এর বিকল্প নেই। এই সময়ে অন্তত ১০০ জনের নতুন নেটওয়ার্ক বানিয়ে নেওয়া যায় । লেখক, সাংবাদিক, ডাক্তার, পুলিশ অফিসার, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, মিলিটারি, Mid to High Level corporate বস, পাইলট, কূটনীতিক, কৃষক, রিকশাচালক “যে কেউ হতে পারে এই নেটওয়ার্কের অংশ।

ইলেকট্রনিকসের কাজ

অনেকেরই ইলেকট্রনিকসের কাজের প্রতি ঝোঁক থাকে। নিজে নিজেই হয়তো শেখা হয়েছে টুকটাক কাজ, আরেকটু ভালো করে শিখে নেওয়া যায় এই সময়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি আয়ের কিন্তু খুব ভালো মাধ্যম এটা।

অনলাইন থেকে রোজগার

পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু একটা করে রোজগারের কথা অনেকেই ভাবেন। অনলাইন মাধ্যম হতে পারে একটা ভালো উপায়। শেখা যেতে পারে Search Engine Optimization (SEO)। SEO ব্যবহার করে ইউটিউব বা ফেসবুক পেইজের জন্য কনটেন্ট তৈরি করে রোজগার করা যায়। শেখা যায় ভিডিও এডিটিং। এতে নিজের বানানো ভিডিও নিজেই এডিট বা ফ্রিল্যান্সার ভিডিও এডিটর হিসেবে কাজ করা সম্ভব।

উচ্চশিক্ষার খোঁজখবর

এইচএসসি’র পর কোথায়, কোন বিষয়ে দেশে না কি বিদেশে লেখাপড়ার আগ্রহ সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এখনই এবং সেই অনুযায়ী খোঁজখবরও নিয়ে ফেলতে হবে এই ছুটিতে। বিশেষ করে যারা উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যেতে আগ্রহী। কোন কোন দেশে কী কী স্কলারশিপ দেয়, কী যোগ্যতা বা দরকারি কাগজপত্র— এসব জানা থাকলে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।

এখনই আয়

করোনার এই সময়ে অনেকেই হয়তো পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার কথা ভাবেন। সাইকেল চালাতে পারলে ডেলিভারির কাজ হতে পারে একটা ভালো উপায়। অনলাইন শপ বা ডেলিভারি সার্ভিসগুলোতে যুক্ত হওয়া যায়।

সেলাইয়ের কাজও কিন্তু ঘরে বসে আয় করার জন্য দারুণ উপায়। কাটিং-সুইং এর একটা শর্ট কোর্স করে নেওয়া যায়। ফেসবুকে গ্রুপ বা পেইজ খুলে পোশাক তৈরির অর্ডারও মিলতে পারে তাতে।

নন ফিকশন বই

পড়া যায় কিছু নন ফিকশন বই। হতে পারে সেটা ক্যারিয়ার বা মোটিভেশন সংক্রান্ত বই অথবা কারো বায়োগ্রাফি। বই থেকে নেওয়া যায় জীবনে সফল হবার নির্দেশনা।

অস্কারজয়ী সিনেমা

সিনেমাকে আমরা বিনোদন মাধ্যম ধরে নিলেও এতে আমাদের জীবনেরই প্রতিফলন থাকে। এই ছুটিতে দেখা যায় গত ৩০ বছরের ৩০টা অস্কারজয়ী সিনেমা। এইচএসসি’র পর ক্রিয়েটিভ কোনো বিষয়ে পড়ার ইচ্ছে থাকলে এই সিনেমাগুলো দেখা যেতে পারে।

লাইফ স্কিল

শেখা যায় নানা লাইফ স্কিল, যেগুলো ভবিষ্যৎ জীবনে কাজে লাগবে। যেমন— সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, রান্না, ফার্স্ট এইড দেওয়া, ড্রাইভিং ইত্যাদি।

ভ্রমণ

করোনার ভয় রয়েছে এখনো, তারপরও সম্ভব হলে কিছু জায়গায় এই ফাঁকে ঘুরে আসা যায়। কারণ ভ্রমণ করার জন্য যে সময় দরকার, খুব শিগগির সেটা আর আসবে না।

পরিশেষে

এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া মানে জীবনের এমন একটা পর্যায়ে এসে পৌঁছানো, এই সময়ে যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, তার ফলাফল দীর্ঘমেয়াদি।

তাই এসএসসি-র পরের এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টাকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে নিজের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য।