Home Blog Page 7

শেষ বিকেলের মেয়ে – জহির রায়হান রচিত উপন্যাস।

0

শেষ বিকেলের মেয়ে – জহির রায়হান

শুরুলগ্ন
“শেষ বিকেলের মেয়ে ” উপন্যাস টি পড়ার আগে মনে করেছিলাম নিদিষ্ট একজন মেয়েকে নিয়ে সাজানো এই বইটি।কিন্তু বইটি পড়তে গিয়ে দেখলাম আমার ধারনা টা পুরাপুরি ভুল।শেষ বিকেলের মেয়ে মানে এখানে সেই মেয়েকে বুঝিয়েছে লেখক যে, সারাজীবন অনেক মেয়ে জীবনে আসে, আবার চলেও যায়। শেষ অব্দি যে থাকে তাকেই শেষ বিকেলের মেয়ে বলে আখ্যায়িত করেছেন।

বইয়ের নামকরণ
শেষ বিকেলের মেয়ে নাম টা দেখলেই কোন একটা মেয়ের চরিত্র মানসপটে ভেসে উঠে। মনে হয় একটি মেয়ে কে নিয়ে লেখা।কিন্তু লেখক এই বইটিতে কয়েকটি মেয়ের চরিত্র উপস্থাপন করেছেন।আর বুঝিয়েছেন জীবনের শেষ অব্দি যে থাকবে সেই শেষ বিকেলের মেয়ে। বইটি পড়ার আগে আর পরে নাম নিয়ে দুরকম ধারনা জন্মে পাঠক-পাঠিকাদের মনে।

বইয়ের মূলভাব
লেখক জহির রায়হান শেষ বিকেলের মেয়ে উপন্যাস টিতে প্রধান চরিত্রে কাসেদ কে তুলে ধরেছেন।এই উপন্যাসটি পুরোটা জুড়ে রয়েছে কাসেদের জীবন কাহিনি। তার ভালবাসা,কর্মজীবন,পরিবার জীবন বা মন ভালো খারাপের কাহিনি।

বইয়ের সারসংক্ষেপ
বইয়ের প্রধান চরিত্র কাসেদ।সে একজন নিম্নমানের কেরানি।তার পরিবারে তার অসুস্থ মা এবং খালাতো বোন আছে নাম তার নাহার।নাহার ছোট কালে মা কে হারানোর পর থেকে কাসেদ দের সাথে থাকে।উপন্যাস টির শুরুতে বৃষ্টি মুখর দৃশ্য দিয়ে শুরু করে লেখক।এক আকাশ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কাসেদ বাসায় ফিরে।বাসায় এসে কিছু টা মায়ের বকুনি খাই।তার নিজের ছাতা কোথায় জিজ্ঞেস করলে জানান দেয় তার অফিসের অন্য কেরানি নিয়ে গেছেন।এই দেওয়া নিয়ে ও অনেক্ষণ মায়ের বকা শুনে রুমে যায় কাসেদ।বাসায় এসে জানতে পারে জাহানারা এসেছিল তার খুজে।জাহানারা হচ্ছে কাসেদের অব্যক্ত ভালবাসা।কাসেদ মনে করে জাহানারাও তাকে ভালবাসে।কাসেদ পরে জাহানারার সাথে দেখা করতে গেলে সেখানে মিলে জাহানার কাজিন শিউলির সাথে। শিউলি একজন স্মার্ট, শিক্ষিত,ম্যাচিউর মেয়ে।তার একটাই কথা সে সকল কে বন্ধু ভাবে মিশে কিন্তু পরে সবাই ওকে বউ করতে চাই।শিউলি কাসেদ জাহানারা তিনজনের বন্ধুত্ব বা প্রেম ভালোই চলছিলো এর মাঝে উপস্থিত হলো সালমা নামে এক মেয়ে।সালমা ছোট কাল থেকেই কাসেদ কে ভালবাসতো।কিন্তু কথা হচ্ছে সালমার সাথে যতবারি কাসেদের দেখা হতো বা কথা হতো প্রতিবারে দুজনের ঝগড়া হতো।সালমা এখন বিবাহিত, তার একটা মেয়ে ও আছে। মেয়ের নাম নাকি লিখেছে পলি।কিন্তু সালমা কাসেদের পছন্দের নাম বিপাশা বলে ডাকে।কাসেদের জীবনে এই কজন মেয়ে ছাড়া ও আরো ও একজন মেয়ের আবাস আসলো।যখন কেরানি মকবুল মিয়ার বাড়ীতে ছাতার জন্য কাসেদ গেলো তখন সে একটা মেয়েকে পিছন থেকে দেখে।তার লম্বা চুলে কাসেদ কেমন আকৃষ্ট হয়ে গেছিলো কবির ভাষায় কৃষ্ণবর্ণ মেয়ে।তাকেও নিয়ে ও কাসেদের মনে কিছু হতো।কিন্তু এই হওয়া টা বেশিদিন টিকলোনা।তার অফিসের বড় বস সেই কৃষ্ণবর্ণ মেয়েটিকে বিয়ে করে নিলো।কাসেদোর মনে সব থেকে বেশী জাহানারার জন্য ভালবাসা ছিল।সে বারবার নিজের ভালবাসা জানাতে চেয়েছে কিন্তু পরে জানলো জাহানারার সাথে তার সেতার মাস্টার এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক চলতেছে। এই দুঃখে কাসেদ শিউলিকে বলে ফেললো বিয়ে করতে শিউলি ও তাকে রিজেক্ট করলো।এরি মাঝে একদিন সালমা ও এসেছিলো সব ছেড়ে কাসেদের হাত ধরতে কিন্তু কাসেদ মানা করে দেয়।হঠাৎ করে কাসেদের মা ইহকাল ত্যাগ করলেন।তিনি তার মেয়ে নাহারের ঠিক হওয়া বিয়ে টা ও দেখে যেতে পারেন নি।কাসেদের মায়ের মৃত্যুর পর ওর খালু নাহার কে নিয়ে যায়। কাসেদ একা হয়ে যায়। শেষ বিকেলে জানালার দিকে তাকিয়ে যখন ভাবনাতে মত্ত ছিলো তখনি দরজায় করাঘাত হলো।

আচ্ছা কে এলো??

জাহানারা নয়তো? কাসেদের ভালবাসা বুঝতে পেরে ফিরে আসলো।
নাকি শিউলি?? সে ও কাসেদের ভালবাসা ফিল করে ফিরো আসলো।
নাকি সালমা,হাজার রিজেক্ট হওয়ার পর ও কাসেদ কে সে চাই।

নাকি অন্য কেউ।

কে এসেছে শেষ বিকেলের মেয়ে হয়ে জানতে হলে পড়তে হবে এই উপন্যাস টি।

বইটি পড়ে আমার অনুভূতি
উপন্যাস টি পড়ে আমার কষ্ট লাগলো কাসেদের জন্য। নিজের ভালবাসা এভাবে প্রকাশ করার আগে হারিয়ে ফেলা সত্যি যন্ত্রণা দায়ক।সালমার জন্য ও মন টা খারাপ হয়ে গেলো।যাকে ভালবাসে তাকে তো পেলো না আবার পাওয়া স্বামী টাও মনের মতো না।সব থেকে বেশী আকৃষ্ট করেছে নাহার মেয়েটি।সারা উপন্যাস টি তে দুএকটা কথা বলা উল্লেখ রয়েছে এত কম কথা বলা মেয়ে থাকতে পারে নাহার কে না দেখলে জানা হতো না।মেয়েটি সারাক্ষণ সংসারের কাজ নিয়ে থাকে।কারো ভালো মন্দতে নেই সে এই নাহার মেয়োটি আমাকে সব থেকে বেশী আপ্লূত করেছে।সব শেষে বলবো কাসেদ কে আমার কেমন লুচ্চা ধরনের ছেলে মনে হলো।একসাথে এতজন মেয়ের জন্য ফিল আসে কেমনে।জাহানারা,শিউলি, কৃষ্ণবর্ণ মেয়ে কয়জনের জন্য মন থেকে প্রেমের ফিল হয়? তাই আমার মতে কাসেদ একটা লুচু ছেলে।আবার ভালোও।

শেষান্তে
শেষ বিকেলের মেয়ে উপন্যাস টি একটা রোমান্টিক উপন্যাস। এই উপন্যাস টি পড়ে আমার অনুভূতি অনেক টা ভালো লেগেছে।নাহার এর চুপ স্বভাব। তার কাজ কর্ম,এবং কাসাদের মায়েট আল্লাহ ভীতি, আল্লাহর ইবাদাতে নিজেকে মশগুল রাখা এই বিষয় টা আমার সব থেকে বেশী ভালো লেগেছে।মোট কথা সব কিছু মন কাড়ানোর মতো বই টি।

বই পরিচিতি
বইঃশেষ বিকেলের মেয়ে
লেখকঃজহির রায়হান
ধরণঃউপন্যাস
প্রকাশনীঃঅনুপম প্রকাশনী
পৃষ্ঠাঃ৮০
মূল্যঃ১২০ টাকা

বুক রিভিউ – ফায়েজা সুলতানা পিউ।

চোখের বালি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – একটি সামাজিক উপন্যাস।

0

রবীন্দ্রনাথের সব বইগুলো চমৎকার। চোখের বালি ও ঠিক তেমনি, অসাধারণ ও চমৎকার

চলুন শুরু করা যাক চোখের বালি নিয়ে…..চোখের বালি রবী ঠাকুরের লেখা একটি অন্যতম উপন্যাস। গল্পের নায়ক মহেন্দ্র ও তার মা রাজলক্ষীর কথোপকথনের মধ্যে দিয়েই এই গল্পের সূচনা হয়েছে।

স্বামীহারা রাজলক্ষীর একমাত্র আদরের ছেলে মহেন্দ্র। সমাজের নিয়ম অনুযায়ী তাকে ও বিয়ের জন্য তার মা আকুতি পোষণ করেন।কিন্তু মহেন্দ্র বিয়েতে প্রথমে অমত করে।কারণ,বিয়ে করলে তার মায়ের সুখ কমে যাবে।তাদের মা-ছেলের সম্পর্কে পাটল ধরতে পারে।এইসব, চিন্তা করে অমত প্রকাশ করে।

পরবর্তীতে বন্ধু বিহারীর বিয়ের জন্য পাএী দেখতে গেলে পাএীকে অর্থাৎ, আশাকে দেখে তার পছন্দ হয়ে যায়,এবং আশাকে বিয়ে করার কথা বন্ধুকে জানায়।বিহারী ও এতে কোন বাধা দেয়না।আশার সাথে মহেন্দ্রের বিয়ে হয়ে যায়।

বিয়ের পর থেকেই পুএবধূ আশার উপর ক্রব্ধ হয়ে ওঠেন রাজলক্ষী।এর প্রধান কারণ,আশাকে কাছে পেয়ে মহেন্দ্র তার মা এবং অন্য সবাইকে এক প্রকার ভুলে যেতে বসেছে।বেশিরভাগ সময়ই তারা দুজন একসাথে কাটায়।এরই মধ্যে একদিন বিনোদিনী মহেন্দ্রদের বাসায় এসে উপস্থিত।

বিনোদিনীকে সহজ সরল একটু বোকা ধরণের মেয়ে আশা আপন করে নেয়।মহেন্দ্রের বন্ধু বিহারীর প্রতি বিনোদিনীর দুর্বলতা প্রথম দিকেই অনুমান করা যায়।কিন্তু,তার প্রতি বিহারীর কোনো আকর্ষণ প্রকাশ পায়না।এতে বিনোদিনী রাগে,অভিমানে আশার প্রতি হিংসা আরো বাড়তে থাকে।আশা বিনোদিনীকে যতটা আপন ভেবেছে বিনোদিনী কিন্তু, ততটা ভাবেনি।আশার বিশ্বাসটাই একদিন তার জীবনে কাল হয়ে দাড়ায়।

স্বামীকে সে নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস করে।বিনোদিনীকে বোনের চেয়ে বেশি ভালোবাসে।কিন্ত, তারা সেই বিশ্বাস আর ভালোবাসার দাম দেয়নি।তাকে দুজনে মিলে ঠকিয়েছে।বিনোদিনী আশার সরলতাকে কাজে লাগিয়ে মহেন্দ্রকে তার প্রতি আকৃষ্ট করতে ব্যাকুল হয়ে পড়ে।পরবর্তীতে সে সফল ও হয়।মহেন্দ্র ও বিনোদিনীর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে।এরপরই শুরু হয় আশার করুণ জীবন।তার জীবনের সেই অধ্যায় গুলো সবারই হৃদয়ে দাগ কাটবে।এভাবেই একটি এিভূজ প্রেমের সমীকরণ ক্রমশই ভয়ংকর আকার ধারণ করে।

ব্যক্তিগত মতামতঃ-

এই বইয়ের মাধ্যমে খুব সহজেই বুঝা যায় যে,কাছের মানুষ ইচ্ছা করলে একটা সংসার গড়ে ও দিতে পারে আবার ভাংতে ও পারে।মানুষকে বিশ্বাস করা ভালো কিন্তু, এমনভাবে অন্ধ বিশ্বাস না করাই ভালো। যে অন্ধ বিশ্বাস সংসার জীবনের সবকিছু তোলপাড় করে দেয়।

বুক রিভিউ
চোখের বালি
লেখকঃরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রিভিউ লেখিকাঃ জামিলুন মুনতাহা

বরফ গলা নদী – একটি জহির রায়হান রচিত উপন্যাস।

0

বরফ গলা নদী
লেখক: জহির রায়হান
জনরা: সামাজিক উপন্যাস
প্রকাশক: অনুপম প্রকাশনী
প্রথম প্রকাশ: ১৯৬৯ সাল
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬
মুদ্রিত মূল্য: ১২০ টাকা

আজকে রিভিউ করছি বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক এবং গল্প রচয়িতা জহির রায়হানের বিখ্যাত উপন্যাস, “বরফ গলা নদী”। বইটি রিভিউ করার পূর্বে কাহিনীর প্লট একটু বর্ণনা করে নিচ্ছি।

মরিয়ম নিম্ন-মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে। পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করে টিউশনি করে। তার পরিবারে আছে বাবা হাসমত আলী, অফিসের সামান্য কেরানীর চাকরি করেন; মা সালেহা বিবি; বড় ভাই মাহমুদ, একজন সাংবাদিক; ছোট ভাইবোন খোকন আর দুলু। বিশাল এই পরিবারের ব্যয়ভার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় তাদের সবাইকে।

মরিয়ম টিউশনি পড়ায় সেলিনাকে। সেলিনার পরিবার বেশ ধনী। সেলিনার বড় বোনের দেবর মনসুর মরিয়মকে পছন্দ করে। মরিয়ম বিষয়টা বুঝতে পারলেও কখনো কোনো আগ্রহ প্রকাশ করে না।এর কারণ জাহেদ। জাহেদের কারণে মরিয়মের মনের মধ্যে বিতৃষ্ণা জন্মে গেছে পুরুষ জাতির উপরে। যদিও তার মায়ের খুব ইচ্ছা, মনসুরের সাথে তার বিয়ে যাতে হয়।

অন্যদিকে মাহমুদ ধনী জাতিকে দুই চোখে দেখতে পারে না। এর কারণ অবশ্য পরিবারের দারিদ্রতা। সে শিক্ষিত, তারপরেও মনের মতো চাকরি পাচ্ছে না। পরিবারের বন্ধনও তার কাছে আলাদা কোনো অর্থবহন করে না।
মরিয়ম, মনসুর, মাহমুদ, সেলিনা, এদের সবাইকে নিয়েই সুন্দর উপন্যাস, “বরফ গলা নদী”।

আমার অনুভূতি:
মরিয়মের পরিবারের মতো নিম্ন- মধ্যবিত্ত পরিবার আমাদের আশেপাশেই আছে। তাদের জীবনটা কীভাবে কাটে, এই বইটা পড়ে সেটা খুব ভালোমতো বোঝা যায়। তাছাড়া সেই সময়ে মানুষের জীবনযাপন কেমন ছিল, সেটা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

বইটা পড়ার পর মনে হয়েছিল, এমন গল্প আমার কত পরিচিত। এতো সাধারণ, সহজ, সরল, বাস্তব কাহিনী যে কাহিনীর ভেতরে ডুবে যেতে সময় লাগে না। আর চরিত্রের রূপায়ণ ছিল অসাধারণ। চরিত্রগুলোকে মনে হয়েছে অনেক দিনের চেনা।

কিন্তু বইটা শেষ করার পরে আমার মনে কিছু প্রশ্ন থেকে গিয়েছে।  বই খুঁজেও মনের মতো উত্তর আমি পাইনি। এটা হয়তো পাঠক হিসেবে আমার অপারগতা। কাহিনীর এই অংশটুকু উল্লেখ করছি না। নতুন পাঠক যারা আছেন, তাদের জন্য স্পয়লার হয়ে যেতে পারে।

শেষ কথা:
জহির রায়হানের অন্যসব বইয়ের মতো “বরফ গলা নদী” বইটিও নিজের বৈশিষ্ট্যে অনন্য। একটা মধ্যবিত্ত পরি।

 

পড়াশোনা ভালো করার টিপস।

0

পড়াশোনায় দ্রুত Improve করার ১০টি সিক্রেট টিপস! আজ আমরা কি নিয়ে হাজির হলাম তা টাইটেল দেখেই বুঝতে পারছে, তাহলে সময় না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক।

পড়াশোনা ভালো করার টিপস।

১। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হবে। ফলে অন্যদের চেয়ে বেশি সময় পাওয়া যাবে পড়াশোনার জন্য।

২। প্রতিদিন নতুন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনি অন্যদের থেকে দিন দিন এগিয়ে যাবেন।

৩। আগামীকাল কী পড়বেন তা আগের দিন পরিকল্পনা করে নোট করে রাখুন এবং পরের দিন সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী পড়ুন। পড়া ভাগ ভাগ করে পড়লে পড়তে ভালো লাগে, একঘেয়েমি আসে না।
(নোট টির নাম দিতে পারেন “স্টাডি প্ল্যান”)

৪। প্রতি সপ্তাহ ও মাসে কোন কোন বিষয় বা বই শেষ করবেন তা পরিকল্পনা করে নোট করে রাখুন। এতে করে খুব দ্রুত যে কোনো বই বা বিষয় শেষ করতে পারবেন।

৫। কঠিন বিষয়গুলো প্রতিদিন পড়ুন এবং লিখে হালকা শব্দ করে পড়ার চেষ্টা করুন। এতে করে কঠিন বিষয়গুলো খুব সহজে ভাল ভাবে শেখা হবে এমনকি বেশি দিন মনে থাকবে আপনার।

৬। যে কোনো বিষয়ে সম্পূর্ণ কন্সেপ্ট নিয়ে পড়ুন। নিজ থেকে না বুঝলে অন্যের সাহায্য নিতে পারেন। না বুঝেই কোনো কিছু মুখস্থ করবেন না বোকার মত এবং পড়ার সময় পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ার চেষ্টা করুন সর্বদা।

৭। মোবাইল, ফেইসবুক, মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম, হোটসএপ, ইউটিউব, টেলিগ্রাম, ইমো এসবে সময় ব্যয় কম করুন। যার ফলে আপনার পড়ায় বেশি সময় দিতে পারবেন।

৮। অযথা আড্ডা বাজি, হই হুল্লোড় বা ঘুরাফেরা করা থেকে বিরত থাকুন। এতে করে আপনার মাথায় খারাপ ও অনর্থক এবং বাজে চিন্তা আসবে না যার ফলে আপনি পড়াশুনায় ভালো ভাবে মনোনিবেশ করতে পারবেন।

৯। প্রতিদিন আপনার নিজস্ব স্বপ্নটাকে সকাল, বিকাল, রাতে ঘুমানোর আগে স্মরণ করুন। দরকার হলে স্বপ্নটিকে পড়ার টেবিলে উপর লিখে রাখতে পারেন। যেমন- ” আমি এ প্লাস পাব”, “আমি ভাল পুলিশ অফিসার হবো”। এতে করে বেশি বেশি পড়তে উৎসাহ পাবেন।

১০। আজই নেতিবাচক চিন্তাচেতনার মানুষদের পরিহার করুন এবং যতটুকু পারেন ইতিবাচক মানুষদের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করুন। যার ফলে আপনার ভিতরে ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা পাবেন।

পরিশেষে
কখনো-ই হতাশ হবেন না। খারাপ সময়ে ধৈর্য দরে লক্ষ্য ঠিক রেখে পরিশ্রম করে যান এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। ইনশাআল্লাহ, ভালো ফল পাবেন।

ইরাকক্সের পক্ষ থেকে সকল সৎ-পরিশ্রমীর জন্য শুভকামনা এবং ভালবাসা রইল। আপনার মতামত আমাদের কে জানাতে পারেন কমেন্ট করে। ভাল লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

জীবজগৎ কি? কত প্রকার? জীবের বৈশিষ্ট্য। – বিস্তারিত আলোচনা

1

জীবজগৎ

আমাদের চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন বস্তু, এদের কারাে জীবন আছে আবার কারাে নেই। চেয়ার, টেবিল, হাঁড়ি-পাতিল, ইট, লােহা কেমন বস্তু? আবার আম, জাম, কাঁঠাল, শাপলা, ইলিশ, কই, রুই, গরু, হরিণ, মানুষ এরাই বা কী?
যাদের মধ্যে জীবন নেই তারা জড়। আবাৰ যাদের মধ্যে জীবন আছে তারা জীব। প্রকৃতিতে বিভিন্ন রকমের জীৰ আছে। যেমন : উদ্ভিদ, মানুষ, গরু, ছাগল, মাছ, পাখি ইত্যাদি। পানির শেওলা বা ব্যাঙের ছ্যতাও জীব। এ্যামিবা, ব্যাকটেরিয়া অতিক্ষুদ্র জীব । এ সকল জীব নিয়ে জীবজগৎ গঠিত হয়েছে ।

জীব প্রধানত ২ প্রকার, যথাঃ- প্রণী জীব, ঊদ্ভিদ জীব।

জীবের প্রধান বৈশিষ্ট্য

চলনঃ- জীব চলাচল করতে পারে। প্রণী জীব এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করতে পারে এবং উদ্ভিদ জীব বেরে উঠার সাথে সাথে ডগা নারাচারা করে।

খাদ্য গ্রহণঃ- প্রতিটি জীব-ই খাদ্য গ্রহণ করে।

প্রজননঃ- প্রতিটি জীব ই বংশ বিস্তার করে থাকে। উদ্ভিদ জীবের চারা হয় আর প্রাণী জীবের বাচ্চা হয়।

রেচনঃ- প্রতিটি জীব-ই বিষেশ পক্রিয়ায় তার শরিরে উৎপাদিত বর্জ ত্যাগ করে থাকে।

অনুভুতিঃ- সব জীবে-ই অনুভূতি আছে, আঘাত পেলে ব্যাথা পায়। উদ্ভিদ ও একই কিন্তু খালি চুখে বুঝা যায়।

শ্বাস-প্রশ্বাসঃ- প্রতিটি জীব জন্মের পর থেকে শ্বাস গ্রহন করে ও ত্যাগ করে থাকে। মৃত্যু পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

বৃদ্ধিঃ- প্রতি টি জীব জন্মের পর থেকে আসতে আসতে বৃদ্ধি পেতে থাকে।

অভিযোজনঃ- একটি জীব সহজেই পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে বা মানিয়ে নিতে পারে।

জীবজগৎ এর শ্রেণীবিন্যাস

জীবজগৎ কে উদ্ভিদ রাজ্যে এবং প্রাণী রাজ্যে শ্রেণিবিন্যাস খুব সরলভাবে করা হয়েছিল এবং বুঝতেও সহজ ছিল। কিন্তু, বিপুল সংখ্যক জীব উদ্ভিদ বা প্রাণী রাজ্যের একটার মধ্যেও পড়ছিল না। তাই, দীর্ঘকাল যাবৎ ব্যবহৃত হওয়া দুই রাজ্যের শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি অপর্যাপ্ত বলে পরিগণিত হল। জগতকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে ৷ যথাঃ

  • মনেরা
  • প্রোটিস্টা
  • ফাংগি
  • প্লান্টি
  • অ্যানিম্যালিয়া

ওয়েবসাইট কী? কেন? কিভাবে? বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

0

ওয়েবসাইট বর্তমান যুগে বেশ পরিচিত ও আলোচিত একটি বিষয়। আজকাল এমন লোক পাওয়াই খুব কষ্ট কর হবে যে, ওয়েবসাইট ব্যবহার করেনি! আমরা কোন না কোন তথ্যের জন্য ওয়েবসাইট বিজিট বা ব্রাউজ করে থাকি, সেটা হতে পারে স্কুল কলেজের নোটিস বা গান মুভি অথবা কোন তথ্য পাওয়ার জন্য। এমনকি আমরা যে ইউটিউব ফেসবুক ব্যবহার করি এগুলো ও ওয়েবসাইট।

ওয়েবসাইট কী?

ওয়েবসাইট অথবা শুধু সাইট হল কোন এক ওয়েব সার্ভারে রাখা ওয়েব পৃষ্ঠা, ছবি, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বা কন্টেন্টের সমষ্টিকে বোঝায়, যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অ্যাক্সেস করা যায়। ওয়েব পেইজ মূলত একটি এইচটিএমএল ডকুমেন্ট, যা এইচটিটিপি প্রোটোকলের সাহায্যে ওয়েব সার্ভার থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ওয়েব ব্রাউজারে স্থানান্তরিত বা প্রদর্শিত হয়। সকল উন্মুক্ত ওয়েবসাইটগুলিকে একসাথে “ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব” বা “বিশ্বব্যাপী জাল” নাম দেয়া হয়েছে।
সাধারণত যে ব্যক্তি ওয়েবসাইট তৈরী করে তাকে ওয়েব ডেভেলপার বলে থাকি আবার যে ওয়েবসাইট ডিজাইন করে তাকে ওয়েব ডিজাইনার বলে থাকি।

ওয়েব সাইট কাকে বলে?

সহজে বলতে গেলে ডোমেইন ও সার্ভারের সম্মিলিত রুপ কে ওয়েবসাইট বলে যেখানে ওয়েব পেইজ, ছবি, অডিও, ভিডিও অথবা অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বা কন্টেন্ট রাখা হয় যাতে করে ব্যবহার কারি এইসব তথ্য বা কন্টেন্ট পেতে পারে।

ওয়েবসাইট হল ইন্টারনেট জগতে আপনার একটি ব্যবসা, প্রতিষ্ঠান, বা আপনার কোন শখ, বা কোন জরুরী বিষয় সারা বিশ্বের লোকদের মাঝে তুলে ধরার একটি অন্যতম মাধ্যম। ইন্টারনেটে একটি ওয়েবসাইট করতে হলে আপনাকে নিম্নের উল্লিখিত ৩ টি দাপের মধ্য দিয়ে এগোতে হবে।
প্রথমত, পছন্দ মত বা নিস অনুযায়ী একটি ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে ।
দ্বিতীয়ত, পছন্দের প্লান ও প্যাকেজ অনুযায়ী ভালো মানের ওয়েব হোস্টিং কিনতে হবে ।
তৃতীয়ত, সব শেষে ওয়েবসাইটটি মানানসই ডিজাইন করতে হবে ।

ওয়েব সাইট সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু ধারনাঃ

নিচে ওয়েবসাইট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আপনি কোন ওয়েবসাইট বানাবেন? আপনার ওয়েবসাইট কেমন হবে? আপনার ওয়েবসাইটে কি কি রাখবেন? আপনার ওয়েবসাইট বানানোর মূল উদ্দেশ্য কি?

আশা করি আজকে এই আর্টিকেলটি পড়া শেষে ওয়েবসাইট সম্পর্কে যাবতীয় ভুল ধারণা এবং অজানা ধারণাগুলো আপনার আয়ত্তে চলে আসবে খুব সহজেই ইনশাল্লাহ।

প্রথমে যে বিষয়টি লক্ষ্য করতে হবে যে, আপনি কি কারণে ওয়েবসাইটে বানাতে চাচ্ছেন? আপনার কি ওয়েবসাইট প্রয়োজন? আপনার কাজের জন্য যে ওয়েবসাইট বানাবেন সেটি কি ধরনের হতে হবে? আমরা নিচে কিছু ওয়েবসাইটের তথ্য তুলে ধরলাম যা পড়লে আপনার আইডিয়া হয়ে যাবে যে আপনার কি ধরনের ওয়েবসাইট প্রয়োজন।

যা যা লাগবে

একটি ওয়েবসাইট করতে প্রথমে যা লাগবে তা নিচে উল্লেখ করা হল;

০১। ডোমেইনঃ আপনার পছন্দ অনুযায়ী নাম নিবেন (যদি থাকে)। যে কোন ডোমেইন কম্পানি থেকে রেজিস্ট্রেশন করবেন। যেমন, Namecheap, GoDaddy etc. তবে আমার পছন্দের Namecheap কারন তাদের সার্ভিস টা আমার ভাল লেগেছে।

০২। হোস্টিংঃ আপনার নাম বা ডোমেইন হয়ে গেলে আপনার দরকার পরবে হোস্টিং এর। অনেক কম্পানি হোস্টিং দিয়ে থাকে। যেমন, Namecheap, Bluehost etc. আমি নিজে ব্যবহার করি Namecheap Hosting। আপনারা আপানাদের পছন্দের টা করতে পারেন।

Namecheap থেকে Domain & Hosting নিন একসাথে।

ওয়েব সাইট থেকে কিভাবে আয় করা হয়

আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট থাকে তার মানে আপনি সেই ওয়েবসাইট থেকে ভাল পরিমাণে ইনকাম করতে পারবেন। এবং সেজন্য আপনাকে প্রথামে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কি ধরনের ওয়েবসাইট বানাবেন মানে আপনার নিস কি?! কি ধরনের ওয়েবসাইট থেকে কিভাবে আয় করা যায় নিম্নে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

ক্রুসেড – ক্রুসেডারদের চক্রান্ত ও যুদ্ধ।

0

ক্রুসেড হলো প্রায় দুই শতকব্যাপী ইউরোপ কর্তৃক পরিচালিত সামরিক অভিযান। এর উদ্দেশ্য ছিলো মুসলিমদের হাত থেকে জেরুজালেম ছিনিয়ে নেওয়া এবং বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের বিজয় রথের গতিরোধ করা।
[এই কন্টেন্টের বেশীরভাগ অংশ নেওয়া হয়েছে মুহাম্মাদ আল আরুসির লেখা ‘আল হুকর আস-সালিবিয়্যাহ ফি-মাশরিক ওয়াল মাগরিব’কিতাব থেকে।]

ক্রুসেড এর কারণ।

ক্রুসেডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলো হলো:

১। জেরুজালেম এবং এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের যেসব এলাকা খ্রিষ্টান শাসনাধীনে ছিলো, তা মুসলিমরা জয় করে ফেলায় খ্রিষ্টানদের মাঝে ঘৃণার আগুন জ্বলে ওঠে।

২। মুসলিম সেলজুকরা কন্সটান্টিনোপলের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিলো। মুসলিমদের বিরুদ্ধে খ্রিষ্টান বিশ্বের সাহায্যের আবেদন করেন বাইজেন্টাইন সম্রাট অ্যালেক্সিয়াস কমনিনাস।

৩। জেরুজালেমের খৃষ্টান তীর্থযাত্রীরা মুসলিমদের পক্ষ থেকে খারাপ আচরণের অভিযোগ তোলে। ইউরোপে ফিরে তারা অভিযোগ করে যে মুসলিমদের কাছ থেকে তারা অনেক অবিচার ও হয়রানির শিকার হয়েছে। এভাবে খ্রিষ্টানদের মনে মুসলিমদের ব্যাপারে ঘৃণার বীজ বপনে সবচেয়ে তৎপরদের একজন ছিলেন ফ্রেঞ্চ সন্ন্যাসী পিটার দ্য হামিট।

৪। জেরুজালেমকে মুসলিমদের হাত থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করে পাপমোচন করানোর ধর্মীয় চেতনা ছিলো ক্রুসেডারদের বড় এক উৎসাহের উৎস। যাজক, বিশপ ও পোপদের ভাষণে তা আরো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

৫। সেলজুক মুসলিমদের দখলকৃত এলাকাগুলো মুক্ত করতে মিশরের ফাতিমিরা বাইজেন্টাইনদের সাথে মৈত্রী করতে খুবই উৎসুক ছিলো।

ফ্রান্সে কাউন্সিল অব ক্লারমন্টে পোপ দ্বিতীয় আরবান একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। ৪৮৮ হিজরি মোতাবেক ১০৯৫ খ্রিষ্টাব্দে তারা যুদ্ধ ঘোষণা করতে সম্মত হয়। সেই ভাষণে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ঘৃণা প্রকাশিত হয়। তিনি ঘোষণা করেন, “এই যুদ্ধ কেবল একটি শহর জয় করার যুদ্ধ নয়। এই যুদ্ধ হলো সমগ্র এশিয়া জয় করে এর অপরিমেয় সম্পদ হস্তগত করা। আপনাদেরকে জেরুজালেমে তীর্থযাত্রায় গিয়ে একে দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। আপনাদেরকে এই ভূমি জয় করতেই হবে। কারণ তাওরাত ঘোষণা করেছে যে, এটি হলো প্রবহমান দুধ ও মধুতে ভরা শহর।”[আল আকবর আস-সুন্নিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১২ ]

প্রথম ক্রুসেড ও জেরুজালেম দখল।

৪৮৬ হিজরিতে ফ্রেঞ্চ সন্ন্যাসী পিটার দ্য হার্মিট জেরুজালেম সফর করেন। দেশে ফিরে তিনি পোপের সাথে দেখা করে ক্রুসেডের ডাক দেওয়ার আহ্বান জানান। পোপ প্রথমে উত্তর ইটালির পিয়াকেজানে একটি সম্মেলন করেন। তারপরে ফ্রান্সে কাউন্সিল অব ক্লারমন্টের সম্মেলন হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় যুদ্ধ শুরু করার।

ক্রুসেডার সেনাবাহিনীগুলো কন্সটান্টিনোপলে মিলিত হওয়ার পরিকল্পনা করে। প্রথম বাহিনীটি ছিলো খুবই বিশৃঙ্খল ও এলোমেলো। এটি এশিয়া মাইনর পার হওয়ার পর সেলজুক কালিজ আরসালান তাদেরকে কন্সটান্টিনোপলের খুব কাছে নাইকিয়া শহরে মোকাবেলা করে পরাজিত করেন।

খাইরুদ্দিন বারবারোসা ও অষ্টম ক্রুসেড – হলি লিগ (১৫৩৮ সালের ক্রুসেড)।

রাজা ও সামন্তপ্রভুদের নেতৃত্বে অন্যান্য বাহিনীগুলো অগ্রসর হয় দক্ষিণ ও উত্তর ফ্রান্স (তাই তাদেরকে ফ্র্যাংক বলা হতো) এবং দক্ষিণ ইতালির দিক থেকে। তারা কন্সটান্টিনোপলে জড়ো হয়। এই বাহিনী এশিয়া মাইনর পার হলে কালিজ আরসালান তাদেরকে বাধা দেন। ফলে দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ক্রুসেডাররা তাঁকে পরাজিত করে আট মাস অবরোধ করে রাখার পর এন্টাকিয়া (সেসময় এই শহরের নাম ছিলাে আন্তিও। কিন্তু এটার বর্তমান নাম এন্টাকিয়া যা তুরস্কের হাতায় প্রদেশে অবস্থিত) দখল করে। এরপর ৪৯২ হিজরিতে (১০৯৯ ঈসায়ী) এক মাস অবরোধ করে রাখার পর জেরুসালেম তাদের হস্তগত হয়। সেখানে তারা তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত দ্বীন এবং মানবতার সব নিয়ম নীতির বাইরে গিয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সবরকম বর্বরতা প্রদর্শন করে। তারা প্রায় সত্তর হাজার মুসলিমকে হত্যা করে। আল-আকসা মসজিদ ও এর সংলগ্ন রাস্তাগুলো মুসলিমদের রক্তে ভেসে গিয়েছিলো।

মুসলিমদের দুর্দশার কথা বর্ণনা করে ইবনুল আসির লিখেন:

“জনগণ রমযান মাসে আল-কাদি আবু সাইদ আল-হারওয়ি’র সাথে শাম থেকে বাগদাদে পালিয়ে যায়। তিনি ক্রুসেডারদের এমন সব ভয়ানক কর্মকাণ্ড ও অপরাধের বর্ণনা দেন যাতে কারো চোখ শুষ্ক থাকতে পারে। হৃদয় স্থির হতে পারে না। তারা জুমু’আর সালাত পড়ে মুসলিমদের হত্যা, নারী-শিশুদের উপর নির্যাতন ও সম্পদ লুটপাটের কথা স্মরণ করে আল্লাহর দরবারে দু’আ আর কান্নাকাটি করে সাহায্য চায়। এই পরিস্থিতিতেই তারা সেদিনের ইফতার করে।”

এই যুদ্ধের ফলে ক্রুসেডাররা শামে আস্তানা গেড়ে বসে। আলেক্সান্দ্রিয়া উপসাগর থেকে আশকেলন এবং ‘আকাবা উপসাগর থেকে আর-রুহা’র (বর্তমানে তুরস্কের উরুফা) [উরফা বর্তমান তুরস্কে অবস্থিত, যার অফিসিয়াল নাম সালনিউরফা। প্রাচীনকালে এর নাম ছিলো এড়েসা] উত্তর দিক পর্যন্ত উপকূলগুলোতে অসংখ্য ঘাঁটি গড়ে তোলে।

ক্রুসেডারদের বিজয়ের কারণ

ক্রুসেডারদের বিজয়ের সবচেয়ে বড় কারণ হলো জেরুজালেম ও এর আশপাশের এলাকার মুসলিমদের মধ্যকার হাজারো অন্তর্কলহ এবং মতপার্থক্য। জেরুজালেম হলো সেই ভূমি যেখান থেকে রাসূলুল্লাহকে স্ম মিরাজে নেওয়া হয়। এই ভূমিতে ক্রুসেডাররা নিজ যোগ্যতায় কখনো মুসলিমদের উপর চোখ তুলে তাকাতে পারেনি। মুসলিম উম্মাহ’র মধ্যকার বিভিন্ন ঝগড়া-বিবাদ লক্ষ করেই তারা এই দুর্বল জায়গায় আঘাত করে। এভাবেই সুযোগ বুঝে মুসলিম বিশ্বে হামলে পড়ে, ঘরবাড়ি ধ্বংস করে এবং সম্মানিত এক জাতিকে লাঞ্ছিত করে ছাড়ে।

এ কারণেই প্রথম ক্রুসেড এর বর্ণনা দিতে গিয়ে ইতিহাসবিদগণ সেসময় মুসলিম সমাজের অবস্থার বর্ণনা দিয়ে থাকেন। যেমনঃ-
১। ক্রুসেডাররা যখন জেরুসালেম অবরোধ করে রেখেছিলো, মুহাম্মাদ ইবনু মালিকশাহ ( মুহাম্মাদ ইবনে মালিক শাহ ১০৭২-১০৯২ সাল পর্যন্ত তুর্কি সেলজুক সাম্রাজ্যের সুলতান ছিলেন।) তাঁর সৎভাই বারকিয়ারুকের সাথে লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
২। শামের রাজারা একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত থাকা অবস্থায় ফ্র্যাংকরা অ্যাকরা (এর আরবী নাম ke, ইংরেজীতে acre, ako ইত্যাদি নামে পরিচিত হলেও সাধারণত এটা akko হিসেবে উচ্চারিত হয়। বর্তমান এটি ইসরায়েলে অবস্থিত।) অঞ্চল দখল করে নেয়।
৩। মুসলিম দেশগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতো। কিছু মুসলিম দেশ অপর মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ফ্র্যাংকদের সাহায্য চাইতো।

ইবনুল আসির সহ অনেক ইতিহাসবিদই এই কারণগুলো আলোচনা। করেছেন। এ থেকে বোঝা যায় মুসলিম উম্মাহ নিজেই নিজের পরাজয়ের জন্য দায়ী ছিলো। আল্লাহ তাদের উপর কোনো যুলুম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করেছে।

দ্বিতীয় ক্রুসেড – হাতিনে বিজয়ের পূর্বাভাস

আগেই বলা হয়েছে যে মুসলিম ঐক্যের অবক্ষয়ই ছিলো ক্রুসেডারদের জেরুজালেম দখলে সাফল্যের প্রধান কারণ। একটি বিপ্লবী ঐক্য গড়ে তুলতে পারলে ক্রুসেডারদেরকে পরাজিত করা তাই অসম্ভব হয়ে গিয়েছিলো। এই বিপ্লবের একটি আভাস পাওয়া যায় যখন ৫২১ হিজরিতে ‘ইমাদুদ্দীন যাঙ্কি মসুল থেকে মা’আররাত আন-নুমান (মা’আররাত আল নুমান সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে অবস্থিত।) পর্যন্ত বিস্তৃত একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলেন। ইমাদুদ্দীন অসংখ্যবার ক্রুসেডারদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এর মধ্যে অন্যতম এবং গুরুত্বপূর্ণ ছিলো আর-রাহা-তে ৫৩৯ হিজরিতে সংঘটিত সংঘর্ষ। যুদ্ধে পরাজিত হলে এই অঞ্চল থেকে ক্রুসেডারদের প্রভাব দুর্বল হয়ে যায়।

এইসব পরাজয়ের কারণে ক্রুসেডাররা আরো উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং দ্বিতীয়। ক্রুসেডের পরিকল্পনা করে। এই যুদ্ধে ফ্রান্সের রাজা পঞ্চম লুই এবং জার্মান সম্রাট তৃতীয় কনরাড অংশ নেন।

তাঁরা ‘ইমাদুদ্দীন মাহমুদকে[*] হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। তিনি তাঁর পিতা ইমাদুদ্দীন যাঙ্কির মৃত্যুর পর তাঁর রাজ্যের পশ্চিমাংশ শাসন করেন। তাঁকে প্রধান লক্ষ্যবস্ত বানানোর কারণ হলো তাঁকেই তারা ফ্র্যাংকদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করতো। ক্রুসেডাররা শামের দিকে অগ্রসর হয়ে অল্প সময়ের জন্য তা অবরোধ করে হাল ছেড়ে দেয়। ৫৪৩ হিজরিতে অবরোধ তুলে ফেলা হয়। এভাবেই দ্বিতীয় ক্রুসেডের সমাপ্তি ঘটে। ক্রুসেডারদের ব্যর্থতা মুসলিমদেরকে উজ্জীবিত করে তোলে যা পরবর্তীকালে হাত্তিনের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

[* ইমাদুদ্দীন যাঙ্কির বেশ কয়েকজন ছেলে ছিলো। তাদের মধ্যে বড় দুইজন ছিলেন সাইফুদ্দীন এবং নুরুদ্দীন মাহমুদ। এই দুই ভাই বাবার রেখে যাওয়া সাম্রাজ্যকে দুই ভাগে ভাগ করেন। সাইফুদ্দীন মসুলকে রাজধানী রেখে পূর্ব দিকের অংশ শাসন করেন এবং নুরুদ্দীন আলেপ্পোকে রাজধানী করে পশ্চিম দিকের দখল নেন। নুরুদ্দীনের শাসনকৃত অংশ ছিলো ক্রুসেডারদের ভূখণ্ডের কাছাকাছি। যে কারণে ক্রুসেডারদের সাথে নুরুদ্দীনের সংঘর্ষ
হওয়াটা অনুমিতই ছিলো।]

হাডুডু বা কাবাডি গ্রামীণ বাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা।

0

ঐতিহ্য ফেরাতে হাডুডু খেলা ফিরিয়ে আনা জরুরী।

প্রতিটি দেশের একটি জাতীয় খেলা থাকে। ইংরেজদের জাতীয় খেলা ক্রিকেট, আমেরিকানদের জাতীয় খেলা বেস বল। তেমনি হাডুডু আমাদের দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী খেলা। এটি শুধু বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী খেলাই নয়, এটি আমাদের দেশের জাতীয় খেলাও বটে। হালে কাবাডি হিসাবে খেলাটির নামকরণ হলেও গ্রামাঞ্চলে হাডুডু নামেই এটি পরিচিত সর্বমহলে।

হাডুডু বা কাবাডি কেবল আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী খেলাই নয় বরং পুরো উপমহাদেশেরই একটি জনপ্রিয় খেলা। বর্তমানে এই খেলাটিকে সাফ গেমসেও যোগ করা হয়েছে। ছোট ছেলে থেকে শুরু করে কিশোররা ও বড়রাও এই খেলা খেলতে পারে।হাডুডু আমাদের জাতীয় খেলা। গ্রামের খেলাগুলোর মধ্যে হা-ডু-ডু, সবচেয়ে জনপ্রিয়। এসব খেলা চলাকালে মানুষের ঢল নামতো।প্রায় বিলুপ্তির পথে জাতীয় এই খেলাকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসব মুখর পরিবেশ। নারী পুরুষ ও শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়সের লোক সম্মিলিত ভাবে এই খেলা উপভোগ করেন। কিন্তু এখন গ্রামের খোলা মাঠে এসব খেলা শুধুই স্মৃতি। দিন দিন এই খেলাটি হারিয়ে যাচ্ছে।

সভ্যতার ক্রমবিকাশ আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঘরে বাইরে ভিডিও গেমের দৌরাত্মে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐহিত্যবাহী খেলাধূলা। শৈশবে যেসব খেলে দিন কাবার করেছেন আজকের বৃদ্ধরা, তারাও এখন ভুলতে বসেছেন সেসব খেলার নাম। একসময় গ্রামের শিশু-কিশোররা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করত। বিকেলে খোলা মাঠে দলবেঁধে খেলাধুলা করত সবাই। শৈশবে দুরন্তপনায় মেতে থাকতো ছেলে-মেয়ের দল। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া ও কালের বিবর্তনে মহাকালের পাতা থেকে ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে এসব খেলাধূলার নাম।

আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে হাডুডু খেলাকে ধরে রাখতে হবে।গ্রামীণ খেলা আমাদের আদি সংস্কৃতির একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব খেলাধূলা এক সময় আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করতো। কিন্তু কালক্রমে এই খেলার কদর হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমানে গ্রামীণ খেলাগুলো বিলুপ্ত হতে হতে এর অস্তিত্বের শেষ সীমায় দাঁড়িয়েছে। খোদ অজপাড়াগাঁয়েও সবচেয়ে বেশি প্রচলিত হাডুডু বা কাবাডি খেলার প্রচলন নেই।

গ্রামবাংলার খেলাধূলার মধ্যে যেসব খেলা হারিয়ে গেছে তাদের মধ্যে হা-ডু-ডু, বা কাবাডি, খেলা অন্যতম। ঐতিহ্যবাহী হারিয়ে যাওয়া এসব খেলাধূলা এখন আর তেমন কোথাও চোখে পড়ে না। নতুন প্রজন্মের কাছে এগুলো এখন শুধুই গল্প। আবার নাম শুনে অনেকেই হাসে।‘শুধু হাডুডু নয়, হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার ঐহিত্যবাহী সকল খেলাই ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

এক সময় এ দেশের ছেলেমেয়েরা গ্রামীণ খেলাকে প্রধান খেলা হিসেবে জানতো। কিন্তু তার জায়গা দখল করেছে লুডো, কেরাম, ক্রিকেট, টিভি, কম্পিউটার। আমাদের আদি ক্রীড়া সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে অবশ্যই গ্রামীণ ক্রীড়া ফেডারেশন গঠন করা দরকার। এতে আগামী প্রজন্ম আমাদের এসব খেলাকে জানতে পারবে। ভুলে যাবে না আমাদের শত বছরের নিজস্ব ক্রীড়া ঐতিহ্য।

জনশ্রুতি রয়েছে, একসময় প্রতি বছর বর্ষায় উপজেলার পুটিজানা,কুশমাইল,বালিয়ান, দেওখোলা, ফুলবাড়ীয়া, বাক্তা, রাংগামাটিয়া, এনায়েতপুর, কালাদহ, রাধাকানাই, আছিম পাটুলী এবং ভবানীপুর ইউনিয়নের সর্বত্রই ব্যাপকভাবে বিনোদনের একটি বড় উৎসব ছিল এই হাডুডু খেলাকে ঘিরে। এ উপজেলায় ছিল বাঘা বাঘা সব হাডুডু খেলোয়াড়। তাদের নামডাক ছিল অন্য অঞ্চলেও। তারা এ উপজেলা থেকে আরেক জেলায় ভাড়ায় (খেপ) খেলতে যেতেন অহরহ। এ খেলাটি কেন্দ্র করে বসতো গ্রাম্য মেলাও। কিন্তু প্রায় এক দশক ধরে ফুলবাড়ীয়াসহ গ্রাম-গঞ্জে খেলাটি দেখা যাচ্ছিল না। কেননা ক্রিকেট ও ফুটবল দখল করে নিয়েছে এ জনপ্রিয় খেলাটির জায়গা। স্থানীয় স্কুলছাত্র জামিল হাডুডু প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি আগে কখনও এই খেলা দেখিনি। বাবা-মায়ের কাছে হা-ডু-ডু খেলার কথা শুনেছি। খেলাটি দেখে আমি খুবই আনন্দ পেয়েছি।

আজকের জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট ষোল শতকের দিকে বিলুপ্তির পথে চলে গিয়েছিল। তখন বিলেতের ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন ক্রিকেটকে বাঁচাতে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত হয় মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। এ ক্লাবটিই ক্রিকেটকে অপমৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছে। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে যেকোনো অখ্যাত খেলাও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।বিষেজ্ঞরা জানান, এমসিসির মতই গ্রামীণ খেলাকে বাঁচাতে এদেশের ধনাঢ্য ব্যক্তিরাই ভূমিকা পালন করতে পারেন। তাছাড়া সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগেও ফিরে আনা সম্ভব এসব খেলার হারানো ঐতিহ্য।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও গবেষক খোকা রহমান বলেন, ‘চর্চা ও তথাকথিত আধুনিকতার কারণে হারিয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী এসব খেলাধূলা। এজন্য প্রয়োজন সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ। তবেই ফিরে পাওয়া যাবে গ্রামীণ খেলাধূলার হারানো গৌরব।গ্রাম বাংলার আবহমান খেলা হাডুডু। শহুরে জীবনের ব্যস্ততায় এ খেলার রেশ না থাকলেও, গ্রামে কিন্তু এখনও চলে শারীরিক কসরতের এই খেলা। যাতে এখনও নিদারুণ আনন্দ উপভোগ করেন দর্শকরা।

তবে জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও নানা প্রতিবন্ধকতায় অনেকটাই কোণঠাসা এই খেলাটি। কিন্তু প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে,ময়মনসিংহে মুক্তাগাছায় আয়োজিত হাডুডু প্রতিযোগিতার আয়োজন অন্তত তাই প্রমাণ করে। বিগত ১০৪ বছর যাবৎ ময়মনসিংহে মুক্তাগাছায় আয়োজন করে যাচ্ছে হাডুডু’র এমন জমজমাট আসর।ঐতিহ্যবাহী এই খেলাটিকে স্ব-শরীরে উপভোগ করতে মাঠে হাজির হয়েছিল হাজার হাজার নারী ও পুরুষ। যাদের সকলেরই আকুতি ছিল বেশি-বেশি করে যেন আয়োজন করা হয় জনপ্রিয় এই খেলাটি।

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ফুটবল তারকা আমিনুল ইসলাম খেলাটি সম্পর্কে বলেন, ‘যখন ছোট ছিলাম তখন দেখেছি হাডুডু খেলার জনপ্রিয়তা কতটা ছিল। মানুষ এ খেলা দেখার জন্য পাগল ছিল। এ খেলাটি এক সময় মানুষের প্রাণের খেলা ছিল। এখনও এ খেলাটিকে কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার বিকল্প নেই। অন্যান্য খেলার পাশাপাশি প্রতিটি এলাকার ক্লাব সংগঠনকে এই খেলাটি বাধ্যতামূলক করা উচিত।’

খেলার নিয়মাবলী
অনেকেই হাডুডু খেলার নিয়ম পর্যন্ত জানে না! আমাদের প্রত্যেকের হাডুডু খেলার নিয়ম জানা উচিত। চলুন জেনে নিই এই খেলা সম্পর্কে।

খেলার নাম :হাডুডু বা কাবাডির উত্পত্তিস্থল ফরিদপুর, আবার কেউ কেউ বলেন ময়মনসিংহে কেউ কেউ বলেন বরিশাল।তবে বাংলাদেশের সর্বত্র এই খেলার প্রচলন আছে।

মাঠঃ মাঠের সাইজ :৪২ ফুট লম্বা ও ২৭ ফুট চওড়া। (বালকদের মাঠ লম্বায় ১২.৫০ মিটার চওড়ায় ১০ মিটার হয়)। এবং বালিকাদের কাবাডি খেলার মাঠ লম্বায় ১১ মিটার এবং চওড়ায় ৮ মিটার হয়। খেলার মাঠের ঠিক মাঝখানে একটি লাইন টানা থাকে যাকে মধ্যরেখা বা চড়াই লাইন বলে। এই মধ্য রেখার দুই দিকে দুই অর্ধে দুটি লাইন টানা হয় যাকে কোল লাইন বলে।মাঠকে দুই ভাগে ভাগ করা হয় প্রতিটি ভাগকে কোট বলা হয়। মৃত বা আউট খেলোয়াড়দের জন্য মাঠের দুই পাশে ১ মিটার দূরে দুটি লাইন থাকে যাকে লবি বলা হয়।

সদস্যঃ প্রতি দলে ১২ জন খেলোয়াড় অংশ নেয়। কিন্তু প্রতি দলের ৭ জন খেলোয়াড় একসাথে মাঠে নামে। বাকি ৫ জন অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে থাকে। খেলা চলাকালীন সর্বাধিক তিন জন খেলোয়াড় পরিব্রর্তন করা যাবে।

সময়ঃ মোট সময় :৪৫ মিনিট (২০ মিনিট + ৫মিনিট + ২০ মিনিট) মাঝের ৫ মিনিট বিরতি।

৫ মিনিট বিরতি সহ দুই অর্ধে পুরুষদের ২৫ মিনিট করে এবং মেয়েদের ২০ মিনিট করে খেলা হবে। খেলা শেষে যেই দল বেশী পয়েন্ট পাবে সাই দলই জয়ী হবে। দুদলের পয়েন্ট সমান হলে দুঅর্ধে আরও ৫ মিনিট করে খেলা হবে। এরপরেও যদি পয়েন্ট সমান থাকে তবে যে দল প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছিল সে দলই জয়ী হবে।

পয়েন্টঃ যদি কোন খেলোয়াড় মাঠের বাহিরে চলে যায় তাহলে সে আউট হবে। এভাবে একটি দলের সবাই আউট হলে বিপক্ষ দল একটি লোনা(অতিরিক্ত ২ পয়েন্ট) পাবে। মধ্যরেখা থেকে দম নিয়ে বিপক্ষ দলের কোন খেলোয়াড়কে(একাধিক হতে পারে)স্পর্শ করে এক নিঃশাসে নিরাপদে নিজেদের কোর্টে ফিরে আসতে পারলে, যাদের কে স্পর্শ করবে সে বা তারা কয় জনই আউট হবে। এভাবে যতজন আউট হবে তাদের প্রত্যেকের জন্য এক পয়েন্ট পাওয়া যাবে।

সতর্কতাঃ এক নিঃশাসে স্পষ্ট ভাবে পুণঃপুণঃ কাবাডি বলে ডাক দেওয়াকে “দম নেওয়া” বলে। এই দম মধ্যরেখা থেকে শুরু করতে হবে।বিপক্ষ কোর্টে একসাথে একাধিক আক্রমণকারী যেতে পারবে না। কোন আক্রমণকারী বিপক্ষ দলের কোর্টে দম হারালে এবং বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় তাকে স্পর্শ করতে পারলে সে আক্রমণকারী আউট বলে গণ্য হবে।

অন্যান্যঃ এই খেলার মজার একটা নিয়ম আছে। সেটা হলো ৮০ কেজি বেশি ওজনের কাউকে এই খেলায় নেওয়া হয় না। এই খেলা পরিচালনা ও বিচারকার্য করে থাকেন একজন রেফারি, দুইজন আম্পায়ার, একজন স্কোরার।

ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত – জিম্বাবুয়ে।

0
victoria falls ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত ইরাকক্স eracox

ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতজিম্বাবুয়ে

এই অপরূপ সুন্দর ঝরণাটি অবস্থিত জিম্বাবুয়ের বর্ডার ও জিম্বাজি নদীর কোলঘেঁষে। যদিও এই জলপ্রপাতটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কিংবা প্রশস্ত জলপ্রপাত নয় তবু এই উত্তেজনাপূর্ণ জলপ্রপাত ২ কিলোমিটার মাইল প্রায় দখল করে এবং ৩৫৫ ফুট উঁচু অর্থাৎ ১০৮ মিটার। প্রায় ২০ কিলমিটার দূর পর্যন্ত এটি রোমহর্ষক কুয়াশার সৃষ্টি করে যা কিনা ‘গুড়–ম ধোঁয়া’ নামে সেই অঞ্চলে পরিচিত।

একনজরে ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত

অবস্থানলিভিংস্টোন, জাম্বিয়া
ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত, জিম্বাবুয়ে
স্থানাঙ্ক১৭°৫৫′২৮″ দক্ষিণ ২৫°৫১′২৪″ পূর্ব
ধরনজলপ্রপাত
মোট উচ্চতা৩৫৫ ফু (১০৮ মি) (কেন্দ্রস্থলে)
ঝরার সংখ্যা
জলপ্রবাহজাম্বেজি নদী
গড়
প্রবাহের হার
১০৮৮ m³/s (৩৮,৪৩০ cu ft/s)
প্রাতিষ্ঠানিক নামMosi-oa-Tunya / Victoria Falls
ধরনপ্রাকৃতিক
মানকvii, viii
অন্তর্ভুক্তির তারিখ১৯৮৯ (১৩শ অধিবেশন)
রেফারেন্স নং509
রাষ্ট্রীয় সীমারেখাজাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে
অঞ্চলআফ্রিকা

 

নামকরন

এই স্থানের পরিদর্শক আগে জিম্বাবুয়ের বেশি হতো, তবে আজকাল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার পরিদর্শক এখানে বেড়াতে আসে। ট্রেন কিংবা বাস দিয়েও এই জলপ্রপাত দেখতে যাওয়া যায় এবং অনেক সস্তা।

স্থানীয় চিতোঙ্গা আদিবাসীরা একে মোজি-ওয়া-তুনিয়া নামে ডেকে থাকে। এর অর্থ হচ্ছে বজ্রের ধোঁয়া। জলপ্রপাতের আওয়াজ অত্যন্ত গর্জনশীল, তাই এরূপ নামকরণ। একজন স্কটিশ অনুসন্ধানকারীর নামের ব্যক্তি নামকরণ করেছেন।

ব্রিটিশ সম্রাজ্ঞী রাণী ভিক্টোরিয়াকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ১৬ নভেম্বর, ১৮৫৫ তারিখে স্কটিশ মিশনারি ও ব্রিটিশ অভিযাত্রী ডেভিড লিভিংস্টোন নিজ নামে পরিচিত লিভিংস্টোন দ্বীপপুঞ্জ থেকে জলপ্রপাতটি দেখে এর নামকরণ করেন।

২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ জলপ্রপাতের পুণরায় নামকরণ করেছে মোজি-ওয়া-তুনিয়া।

খাসি বা গরুর শাহী পাক্কি বিরিয়ানি

0

পাক্কি বিরিয়ানি – আপনার বাসায় নিজেই তৈরি করুন খুব সহজে গরু বা খাসির মাংশে জনপ্রিয় পাক্কি বিরিয়ানি। তাই আজ আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি পাক্কি বিরিয়ানি রেসিপি। সময় না নিয়ে চলুন শুরু করা যাক, আজকের এই রেসিপি টি sumi’s kitchen diaries পরিচালিত।

পাক্কি বিরিয়ানি এর উপকরণ :

০১। বিফ/খাসির মাংস ২ কেজি (বড় বড় পিস করা)
০২। দারুচিনি,এলাচ,তেজপাতা, লবঙ্গ ৪-৫ টি করে
০৩। আস্ত গোলমরিচ ৮-১০ টি
০৪। জয়ফল ২ টি
০৫। জয়ত্রি ১ পিস
০৬। আদা বাটা ২ টে চামচ
০৭। রসুন বাটা ২ টে চামচ
০৮। মরিচ গুঁড়া ১ টে চামচ
০৯। ধনে গুঁড়া ১ টে চামচ
১০। টক দই ১ কাপ
১১। পেঁয়াজ কুচি ১কাপ
১২। পেঁয়াজ বেরেস্তা ১কাপ
১৩। কাঁচা মরিচ ৭-৮ টি
১৪। তেল/ঘি- ১/২ কাপ
১৫। লবণ স্বাদমতো
১৬। চিনি ১/২ টে চামচ
১৭। ভাজা জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ
১৮। গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ
১৯। আলু ১/২ কেজি
২০। ফুড কালার সামান্য
২১। পোলাও এর জন্য লাগবে,
২২। কালিজিরা চাউল ১ কেজি
২৩। কুসুম গরম দুধ ১ কাপ
২৪। গরম পানি ৬+১/২ কাপ
২৫। আলুবোখারা ৭-৮ টি
২৬। গোলাপজল ১ টে চামচ
২৭। কেওড়া জল ১ টে চামচ
২৮। ঘি ২ টে চামচ

খাসি বা গরুর পাক্কি বিরিয়ানি প্রস্তত প্রণালী:

প্রথমে মাংস গুলো ধুয়ে ভালো করে পানি ঝরিয়ে নিয়ে তার সাথে আদা বাটা,রসুন বাটা,টক দই ,লবণ ,ধনে গুঁড়া ,মরিচ গুঁড়া দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিয়ে ৩০ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে । এবার চুলায় একটি প্যানে তেল গরম করে নিয়ে তাতে গরম মসলা গুলো দিয়ে হালকা একটু ভেজে পেঁয়াজ কুচি গুলো দিয়ে ভেজে নিতে হবে সোনালী রং আসা পর্যন্ত।তারপর মেরিনেট করে রাখা মাংসগুলো দিয়ে নেড়েচেড়ে কষিয়ে নিতে হবে।মাংস ভালো করে কষানো হয়ে গেলে তাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি অথবা দুধ দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে ।মাংস সিদ্ধ হয়ে আসলে কাঁচা মরিচ,পেঁয়াজ বেরেস্তা,ভাজা জিরা গুঁড়া ,গরম মসলা গুঁড়া ও সামান্য চিনি ছিটিয়ে দিয়ে ঢেকে রেখে দিতে হবে আরও কিছুক্ষণ।

এবার আলু গুলো কেটে ভাল করে ধুয়ে লবণ ও সামান্য একটু ফুড কালার দিয়ে মাখিয়ে ভেজে নিতে হবে। তবে সিদ্ধ করার কোন প্রয়োজন নেই,হালকা একটু ভেজে নিলেই হবে।
পোলাও রান্নার জন্য চালগুলো ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে।এবার একটি বড় প্যানে তেলদিয়ে গরম মসলা গুলো হালকা একটু ভেজে নিয়ে,পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ভেজে নিতে হবে।এবার পোলার চাল গুলি দিয়ে ভালো করে নেড়ে চেড়ে ভেজে নিয়ে পরিমাণমতো লবণ,পানি ও দুধ দিয়ে দিতে হবে।চাউল ফুটে উঠলে চুলা কমিয়ে ঢেকে রাখতে হবে ২০ মিনিটের জন্য।

পোলাও রান্না হয়ে এলে অর্ধেকটা পোলাও তুলে নিয়ে আলাদা একটি পাত্রে রেখে দিতে হবে। এবার হাড়ির বাকিটা পোলাও চারদিকে ছড়িয়ে নিয়ে তার উপর রান্না করে রাখা মাংস দিয়ে তার উপর বেরেস্তা,কাঁচা মরিচ ,আলু বোখারা ও ভেজে রাখা আলু গুলো সুন্দর করে বিছিয়ে দিয়ে তার উপরে তুলে রাখা পোলাও ছড়িয়ে দিয়ে তার উপর আবার পেঁয়াজ বেরেস্তা,কাঁচা মরিচ, আলু বোখারা, গোলাপজল, কেওড়া জল ও ঘি(চাইলে কেউ সামান্য ফুড কালার ব্যবহার করতে পারেন)দিয়ে ঢাকা দিয়ে ঢেকে দমে রেখে দিতে হবে ১০ মিনিটের জন্য।এসময় চুলার আঁচ একদম অল্প থাকবে।

ব্যাস তৈরি হয়ে গেল মজাদার শাহী খাসি/বিফ পাক্কি বিরিয়ানি।এবার আলতো হাতে পোলাও মাংস নেড়েচেড়ে মিশিয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন।