Thursday, 16-April, 2026
Home Blog Page 6

ঔষধি গাছ তুলশী পাতার নানা রকম ঔষধি গুনাগুন।

0
তুলশী পাতা

তুলসী একটি ঔষধি গাছের নাম। সবুজ রঙের গুল্মজাতীয় একটি উপকারী উদ্ভিদ এটি। সর্দি, কাশি, কৃমি ও বায়ুনাশক এবং মূত্রকর, হজমকারক ও এন্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয় তুলসী পাতা। বিশেষ করে কফের প্রাধান্যে যেসব রোগ সৃষ্টি হয়, সে ক্ষেত্রে তুলসী বেশ ফলদায়ক। জেনে নেওয়া যাক, তুলসী পাতার নানা গুণ।

সর্দি-কাশির মহাষৌধ: শিশুদের সর্দি-কাশির জন্য তুলসী পাতা মহাষৌধ হলেও যেকোনো বয়সের মানুষই এ থেকে উপকার পেয়ে থাকে। শিশুর সর্দি-কাশি থাকলে শিশুকে আদা চা চামচ মধু এবং তুলসী পাতার রস খাওয়ালে কাশি কিছুটা কমবে।

মাথা ব্যাথা: মাথা ব্যাথা ও শরীর ব্যাথা কমাতে তুলসী খুবই উপকারী। এর বিশেষ উপাদান মাংশপেশীর খিচুনী রোধ করতে সহায়তা করে।

বয়স রোধ করা: তুলসী পাতার ভিটামিন সি, ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ও এসেন্সিয়াল অয়েলগুলো চমৎকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের হিসেবে কাজ করে; যা বয়সজনিত সমস্যা কমায়। তুলসী পাতাকে যৌবন ধরে রাখার টনিকও মনে করেন কেউ কেউ।

রোগ নিরাময় ক্ষমতা: তুলসীকে নার্ভের টনিক বলা হয় এবং এটা স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য বেশ উপকারী। এটি শ্বাসনালী থেকে শ্লেষ্মাঘটিত সমস্যা দূর করে। তুলসী পাতা পাকস্থলীর ও কিডনীর স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

পোকার কামড়: তুলসী পাতা হলো প্রোফাইল্যাক্টিভ যা, পোকামাকড় কামড় দিলে উপসম করতে সক্ষম। পোকার কামড়ে আক্রান্ত স্থানে তুলসী পাতার তাজা রস লাগিয়ে রাখলেকামড়ের ব্যথা ও জ্বলা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যায়।

ত্বকের সমস্যা: তুলসী পাতার রস ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। তুলসী পাতা বেটে সারা মুখে লাগিয়ে রাখলে ত্বক সুন্দর ও মসৃণ হয়। এছাড়াও তিল তেলের মধ্যে তুলসী পাতা ফেলে হালকা গরম করে ত্বকে লাগালে ত্বকের যেকোনো সমস্যায় বেশ উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া ত্বকের কোনো অংশ পুড়ে গেলে তুলসীর রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগালে জ্বালা কমবে এবং সেখানে কোনো দাগ থাকবে না ৷

মানসিক চাপ: তুলসীর ভিটামিন সি ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে। এই উপাদানগুলো নার্ভকে শান্ত করে। এছাড়াও তুলসী পাতার রস শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

নিয়মিত তুলসী পাতার রস খেলে রোগ-বালাই থাকবে অনেক দূরে। তাই সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন অন্তত একটি করে তুলসী পাতা খান। আর নিয়মিত তুলসী পাতা পেতে ঘরের বারান্দা একটু আলো বাতাস আসলে সেখানে কিংবা বাড়ির উঠোনে একটি তুলসী গাছ লাগিয়ে দিতে পারেন।

খালিদ বিন ওয়ালিদ ও তার সংক্ষিপ্ত জীবনী – অপরাজেয় সমর নায়ক।

0
খালিদ বিন ওয়ালিদ

খালিদ বিন ওয়ালিদ এর নামের ক্যালিগ্রাফিক উপস্থাপনা

geni.com
খালিদ বিন ওয়ালিদের নামের ক্যালিগ্রাফিক উপস্থাপনা (সোর্স – geni.com)

হজরত আবু সুলায়মান খালিদ ইবনে আল ওয়ালিদ ইবনে আল মুঘিরাহ (রা.) ছোট-বড় প্রায় শখানেক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেও আজীবন অপরাজিত থাকায়

ইতিহাসবিদেরা খালিদ বিন ওয়ালিদকে সমর ইতিহাসের অন্যতম সেরা সেনাপতি বলে অনেক আগেই মেনে নিয়েছেন। তাছাড়া অপেক্ষাকৃত ছোট

সেনাদল নিয়েও অপ্রতিরোধ্য সব ক্যাভালরি রণকৌশলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের বিশাল সব শত্রুবাহিনীকে বারবার পরাস্ত করে তিনি সর্বকালের সেরা ক্যাভালরি জেনারেল হিসেবেও স্বীকৃত।

বাইজান্টাইন রোমান শাসনামলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৬২৯ সালে বাইজান্টাইন সম্রাট হেরাক্লিয়াসকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি

লিখলেন। মহানবী (সা.)-র সেই দাওয়াতের চিঠি বহনকারী দূত লেভান্টের মুতা গ্রামের কাছাকাছি পৌঁছালে ঘাসানিদ আরবেরা তাকে হত্যা করে।

দূত হত্যা সব সময়ই অগ্রহণযোগ্য। অতএব মহানবী (সা.) মুতাবাসী বাইজান্টাইনদের বিরদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হলেন।

সম্রাট হেরাক্লিয়াসের আমলের বাইজান্টাইন মুদ্রা
সম্রাট হেরাক্লিয়াসের আমলের বাইজান্টাইন মুদ্রা

যায়িদ বিন হারিযাহর নেতৃত্বে তিন হাজার সৈন্য নিয়ে মুসলমান বাহিনী মুতা অভিযানে রওনা দিয়েছে জেনে সম্রাট হেরাক্লিয়াস দশ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মুসলমানদের বির“দ্ধে এগিয়ে এলেন।

শুরু হলো অসম এক যুদ্ধ। এই যুদ্ধে খালিদ যুদ্ধ করতে করতে ইতিমধ্যে নয়টি তরবারি ভেঙে ফেলে দশমটি নিয়ে লড়ছিলেন। কিন্তু সংখ্যায় বাইজান্টাইনরা অনেক

বেশি হওয়ায় মুসলমানেরা কোনোমতেই তাদের সঙ্গে আর কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না।

যুদ্ধ করতে করতে যায়িদ বিন হারিযাহ শহিদ হলে জাফর বিন আবু তালিব মুসলমান সেনাপতির দায়িত্ব নিলেন। যুদ্ধ করতে করতে তিনিও শহিদ হলে আব্দুলাহ বিন রাওয়াহা কমান্ড নিজের কাঁধে তুলে নেন। কিন্তু

তিনিও শাহাদতবরণ করার পর যুদ্ধরত মুসলমান যোদ্ধারা খালিদের হাতে সেনাপতিত্ব সঁপে দেন।

দায়িত্ব পাওয়ার পর খালিদ সুকৌশলে মুসলমান বাহিনীকে বাইজান্টাইনদের থাবা থেকে সরিয়ে আনেন। তিনি অত্যড় প্রজ্ঞার সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা করে নিশ্চিত পরাজয় থেকে মুসলমান বাহিনীকে রক্ষা করেন এবং

তাদের নিরাপদে মদিনায় ফিরিয়ে আনেন। খালিদের এই কৃতিত্বের কথা শোনার পর মহানবী (সা.) বললেন, “অবশেষে একজন ‘সাইফুল-াহ যুদ্ধের হাল ধরেছে।”

সেই থেকে খালিদের নাম হয়ে গেল ‘সাইফুল-হি আলমাসলুল।

খালিদ বিন ওয়ালিদের জন্মঃ

আবু সুলায়মান খালিদ ইবনে আল ওয়ালিদ ইবনে আল মুঘিরাহ ৫৯২ সালে মক্কার কুরাইশ বংশের বনু মাখজুম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ওয়ালিদ ইবনে আল মুঘিরাহ ছিলেন বনু মাখজুম গোত্রের প্রধান। খালিদরা ছিলেন পাঁচ ভাই আর দুই বোন। জন্মের পরপরই আরব প্রথা অনুযায়ী তাকে এক বেদুইন দুধ-মায়ের কোলে তুলে দেওয়া হয়। এরপর পাঁচ কি ছয় বছর বয়সে তিনি মক্কায় ফিরে আসেন।

খালিদের শৈশবঃ

শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন বলিষ্ঠ গড়নের আর অসম্ভব ডানপিটে। ঐতিহ্যগতভাবেই কোরাইশদের সেরা যোদ্ধা আর কমান্ডাররা সবাই ছিলেন বনু মাখজুম গোত্রের। তাই ছেলেবেলা থেকেই তিনি ঘোড়ায় চড়া ও তরবারি, তির, বর্শা আর বল্লম চালানো শিখতে শুরু করেন। যদিও বল্লমই ছিল তার প্রিয় অস্ত্র; কিন্তু অন্য সব অস্ত্রেই তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। এ ছাড়া তিনি ছিলেন তৎকালীন আরবের সেরা কুস্তিগিরদের একজন এবং একবার মল্লযুদ্ধে উমর বিন খাত্তাবকে আছড়ে ফেলে তার পা ভেঙে দিয়েছিলেন।

মক্কা মদিনার কোন্দলঃ খালিদের বাবা আল ওয়ালিদ ছিলেন ইসলামের ঘোর বিরোধী। মহানবী (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর থেকে মক্কাবিজয়ের আগ পর্যন্ত মক্কার কুরাইশদের সঙ্গে মদিনাবাসীর যুদ্ধ লেগেই ছিল। বদরের যুদ্ধ ছিল মক্কাবাসীর সঙ্গে মদিনাবাসীর প্রথম যুদ্ধ।

কিন্তু খালিদ এই যুদ্ধের সময় তাদের ব্যবসায়িক কাফেলার সঙ্গে সিরিয়ায় ছিলেন। বদরের যুদ্ধে খালিদের ভাই ওয়ালিদ বিন ওয়ালিদ মুসলমানদের হাতে বন্দি হন। যুদ্ধশেষে খালিদ তার বড় ভাই হাশাম বিন ওয়ালিদকে নিয়ে মদিনা যান মুক্তিপণ দিয়ে ওয়ালিদকে ছাড়িয়ে আনতে। চার হাজার দিরহাম মুক্তিপণ দিয়ে তিনি ওয়ালিদকে ছাড়িয়ে আনেন। কিন্তু ফেরার পথে ওয়ালিদ পালিয়ে মদিনায় ফিরে যান এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

উহুদের যুদ্ধ
উহুদের যুদ্ধ

খালিদের ইসলাম গ্রহণ- এরপর খালিদ উহুদ এবং খন্দকের যুদ্ধে কোরাইশদের হয়ে মুসলমানদের বির“দ্ধে লড়েন। ৬২৮ সালে হুদাইবিয়ার সন্ধির মাধ্যমে ১০ বছরের জন্য মক্কা আর মদিনাবাসীর ভেতর শান্তি নেমে আসে। এরই মধ্যে ওয়ালিদ মদিনা থেকে চিঠির মাধ্যমে খালিদকে বারবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য দাওয়াত দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে খালিদ মদিনা গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধাড় নেন এবং তার এ সিদ্ধারে পরিপ্রেক্ষিতে তার বাল্যবন্ধু ইকিরিমাহ এবং কোরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান ক্ষিপ্তভাবে তাকে বিরত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ৩১ মে ৬২৯ সালে খালিদ মদিনা গমন করেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তিনি একজন যোদ্ধা হিসেবে মহানবী (সা.) র প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেন।

মূর্তি ধ্বংসঃ  তখন প্রায় আরবজুড়েই নানান দেবদেবীর মূর্তি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। আর প্রাচীন আরববাসী এসব দেবদেবীর মূর্তি পূজা করত। মক্কার কাছেই ছিল আল উজ্জার মূর্তি ও মন্দির। আল উজ্জাকে গ্রিক পৌরাণিক দেবী আফ্রোদিতি র আরব্য সংস্করণ বলা যেতে পারে। কোরাইশরা একে নিরাপত্তার দেবী হিসেবে পূজা করত। মক্কা বিজয়ের পর মহানবী (সা.) মক্কা এবং অন্যান্য আরব এলাকা থেকে মূর্তি অপসারণ শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৬৩০ সালের রমজান মাসে তার নির্দেশে খালিদ আল উজ্জার মূর্তি ধ্বংস করতে নাখলাহ যান।

মূর্তি ধ্বংস করে ফিরে আসার পর মহানবী (সা.) জানতে চাইলেন মূর্তি ধ্বংসের সময় খালিদ অস্বাভাবিক কিছু দেখেছেন কি না।

উত্তরে খালিদ যখন ‘না’ বললেন,

তখন মহানবী (সা.) বললেন যে খালিদ যে মূর্তিটি ভেঙে এসেছে তা আল উজ্জার আসল মূর্তি না।

লজ্জিত খালিদ পুনরায় নাখলাহ গিয়ে আসল আল উজ্জার মূর্তি খুঁজে বের করেন।

ইথিওপিয়ান নগ্ন সেবাদাসীর ফাদঃ- খালিদের আসার সংবাদ পেয়ে মন্দিরের প্রধান পুরোহিত আল উজ্জার মূর্তির গলায় একটি তরবারি ঝুলিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান। খালিদ আল উজ্জার মূর্তি ভাঙা শুর করতে যেতেই নগ্ন এক সেবাদাসী অপ্রকৃতিস্থের মতো খালিদের পথরোধ করে দাঁড়ায় এবং ইথিওপিয়ান সেই সুন্দরী তাকে প্রলুব্ধ করতে চেষ্টা করে। কিন্তু খালিদ নির্দ্বিধায় এক কোপে সেই নারীকে হত্যা করে আল উজ্জার মূর্তি ধ্বংস করে ফিরে আসেন।

খালিদ কর্তৃক বনু জাধিমাহ গোত্রে ইসলামের দাওয়াত। এরপর খালিদ যান বনু জাধিমাহ গোত্রের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে। কিন্তু তারা ইসলাম কবুল করতে সম্মত না হওয়ায় তিনি তাদের বন্দি করে নির্যাতন করতে শুরু করেন। ঘটনা শুনে মহানবী (সা.) খালিদের উপর অত্যন্ড্রু রুষ্ট হন এবং খালিদকে ভর্ৎসনা করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করেন।

যুদ্ধে গমন  পরে খালিদ বাইজান্টাইনদের বির“দ্ধে মুতার যুদ্ধে গমন করেন এবং যুদ্ধের মধ্যেই সেনাপতিত্ব পেয়ে সফলভাবে অভিযান পরিচালনার জন্য মহানবী (সা.)-র কাছ থেকে ‘সাইফুল-াহ’’ উপাধি লাভ করেন। পরের বছর ৬৩০ সালে কুরাইশদের বিরদ্ধে মক্কাবিজয় অভিযানে খালিদ চার মুসলমান বাহিনীর একটির সেনাপতি হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

সে বছরেই তিনি বেদুইনদের বির“দ্ধে হুনাইনের যুদ্ধে এবং তাইফ অবরোধ অভিযানে অংশ নেন। এরপর তিনি বাইজান্টাইনদের আগ্রাসন ঠেকাতে মহানবী (সা.)-র নেতৃত্বে তাবুক অভিযানে অংশ নেন। কিন্তু মুসলমান বাহিনী তাবুক পৌঁছানোর আগেই বাইজান্টাইনরা তাবুক ত্যাগ করে ফিরে যাওয়ায় মহানবী (সা.) খালিদকে চার শত সৈন্যসহ দুমা অভিযানে পাঠান।

দুমাতুল জান্দালের রাজকুমার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তার ইহুদি আর খ্রিষ্টান প্রজাদের নিয়ে ইসলামের দাওয়াত কবুল করেছিলেন। ৬৩১ সালের এপ্রিল মাসে খালিদ দুমাতুল জান্দালে পুনরায় অভিযান চালান এবং এবার সর্পদেবতা ওয়াদের মূর্তি ধ্বংস করেন।

এরপর ৬৩১ সালে তিনি মহানবী (সা.)-এর বিদায় হজে যোগ দেন এবং কথিত আছে যে হজের সময় তিনি মহানবী (সা.)-র কিছু চুল সংগ্রহ করেছিলেন; যা তাকে যুদ্ধে অপরাজেয় করেছিল। কথিত আছে যে খালিদ মহানবী (সা.)-র সেই চুল একটি লাল টুপিতে সেলাই করিয়ে নিয়েছিলেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সব সময় ওই টুপি মাথায় দিয়ে যুদ্ধ করতেন।

রিদ্দাহ যুদ্ধ ও খালিদ বিন ওয়ালিদ

৬৩২ সালে মহানবী (সা.)-র মৃত্যুর পর অনেক শক্তিশালী আরব গোত্র মুসলমান খেলাফত শাসনের বির“দ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে শুর“ করে। ফলে শুর“ হয় রিদ্দাহ যুদ্ধ। এই যুদ্ধে খলিফা আবু বকর খালিদকে সেনাপতি নিয়োগ করলে তিনি মধ্য-আরবে অভিযান পরিচালনা শুরু করেন। বুজাখা আর ঘামরার যুদ্ধে তিনি স্বঘোষিত নবী তুলেইহার বাহিনীকে পরাস্ভ করেন।

পরে তুলেইহা স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আবু বকরের কাছে ক্ষমাভিক্ষা চাইলে আবু বকর তাকে ক্ষমা করে দেন। আরও পরে সাসানিদদের বির“দ্ধে বিখ্যাত নিহাওয়ান্দের যুদ্ধে তুলেইহা শাহাদতবরণ করেন।

এরপর খালিদ নাক্রা এবং জাফারের যুদ্ধে বনু সালিম গোত্রের নেত্রী সালমার সেনাবাহিনীকে পরাস্ত্র করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সালমাকে হত্যা করেন। এ যুদ্ধের পর মদিনার আশপাশের অন্যান্য গোত্র খেলাফতের বশ্যতা স্বীকার করে নিলেও মালিক বিন আবু নুয়ারাহ-এর বনু ইয়ারবু গোত্র মুসলমান হয়েও খেলাফতকে অস্বীকার করল।

রিদ্ধার যুদ্ধ
রিদ্দাহ যুদ্ধ।

মালিক সরাসরি খালিদের সঙ্গে কোনো যুদ্ধে না জড়িয়ে আরেক স্বঘোষিত নবী সাজ্জাহর সঙ্গে হাত মেলান। কিন্তু খালিদ দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হন। খালিদ রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মালিককে হত্যা করেন এবং তার স্ত্রী লায়লাকে বিয়ে করেন।

উমর বিন খাত্তাব খালিদের এমন আচরণের ঘোর বিরোধিতা করেন এবং অনেকেই মনে করেন খালিদ-উমরের মনোমালিন্যের অনেক কারণের ভেতর এ ঘটনাটি অন্যতম। পরে ৬৩২ সালের ডিসেম্বরে ইয়ামামার যুদ্ধে আরেক স্বঘোষিত নবী মুসাইলিমাহর বাহিনীকে পরাস্ত্র করার মধ্য দিয়ে রিদ্দাহ যুদ্ধের পরিসমাপ্তি হয়।

খালিদ বিন ওয়ালিদ এর পার্সিয়ান অভিযান

রিদ্দাহ যুদ্ধের পর খলিফা আবু বকর খেলাফতকে সুসংহত আর সম্প্রসারিত করতে বাইজান্টাইন আর পার্সিয়ানদের বির“দ্ধে অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধাড় নেন। ফলে আঠার হাজার সৈন্য নিয়ে খালিদ পার্সিয়ান অভিযান শুরু করেন। সেখানে তিনি সালাসিল, ইউফ্রেতিস, ওয়ালাজা আর উল্লাইসের যুদ্ধে জয়ী হয়ে ৬৩৩ সালের মে মাসের ভেতর পার্সিয়ানদের হাত থেকে লোয়ার মেসোপটেমিয়া দখল করে নেন। এরপর তিনি আনবার শহর অবরোধ করেন এবং জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ নাগাদ আইন আল তামর পর্যন্ত দখল করে নেন।

এ পর্যায়ে দুমাতুল জান্দালে বিদ্রোহীরা আয়াজ বিন ঘানামের ছোট্ট মুসলমান বাহিনীকে ঘিরে ফেলেছে জেনে দুমাতুল জান্দালে ছুটে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। সেখান থেকে তিনি পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা গমন করেন এবং ফেরার পথে বিশাল এক পার্সিয়ান বাহিনী জড়ো হওয়ার সংবাদ পেলেন। বিশাল এই সেনাবাহিনী চারটি গ্যারিসনে (সেনাছাউনি, সেনানিবাস অথবা দুর্গ) জড়ো হয়েছিল। খালিদ মুজাইয়াহ, সানিঈ ও জুমাইলের পৃথক যুদ্ধে এই বাহিনীকে একে একে পর্যুদস্ত করেন।

পার্সিয়ান রাজধানী দখল পরিকল্পনা৷ এবার খালিদ পার্সিয়ান রাজধানী দখলের পরিকল্পনা করলেন। কিন্তু পার্সিয়ান রাজধানী দখলের আগে ফিরাজ আর কাদেশিয়াহর গ্যারিসন দখল করা জরুরি। অতএব ৬৩৩ সালের ডিসেম্বরে ফিরাজের যুদ্ধে তিনি ফিরাজ শহর দখল করে এবার কাদেশিয়াহর পথে রওনা দেন। পথিমধ্যেই তিনি বাইজান্টাইনদের বির“দ্ধে সিরিয়ান রণাঙ্গনের কমান্ডার হিসেবে যোগদানের নির্দেশ পান এবং পার্সিয়ান রণাঙ্গন ত্যাগ করে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

খালিদ বিন ওয়ালিদ
খালিদ বিন ওয়ালিদ এর পারস্যের অভিযান।

সিরিয়ান রণাঙ্গন ও আজনাদাইন যুদ্ধ  ৬৩৪ সালের জুন নাগাদ খালিদ সিরিয়ান রণাঙ্গনে যোগ দেন। পথে কারাতাইন আর হাওয়ারিনের যুদ্ধে দুটো বাইজান্টাইন মরুদুর্গ দখল করেন। এরপর তিনি বসরার দিকে এগোতে থাকেন, যেখানে আবু উবায়দার মুসলমান বাহিনী বসরা অবরোধ করে আছেন। ৬৩৪ সালের মধ্য জুলাইয়ে বসরার পতনের মধ্য দিয়ে ঘাসানিদ বংশের পতন ঘটে। ৩০ জুলাই খালিদ আজনাদাইনের যুদ্ধে বাইজান্টাইনদের পরাজিত করেন এবং লেভান্টজুড়ে বাইজান্টাইন আধিপত্যকে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

দামেস্ক অভিযান এবার খালিদ দামেস্ক দখলের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হলে দামেস্কের গভর্নর থমাস তাকে প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসেন। থমাসের প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দিয়ে ৬৩৪ সালের ২০ আগস্ট খালিদের মুসলমান বাহিনী দামেস্ক অবরোধ করে এবং ৩০ দিনের মাথায় দামেস্ক দখল করে নেয়।

সিরিয়ার রণাঙ্গন থেকে অপসারণ দামেস্ক অবরোধ চলাকালেই খলিফা আবু বকর মারা যান এবং উমর বিন খাত্তাব খলিফা হিসেবে দায়িত্ব নেন। খলিফা হয়েই উমর খালিদকে সিরিয়ার রণাঙ্গন থেকে অপসারণ করে আবু উবায়দাকে সেনাপতি মনোনীত করেন। আবু উবায় উত্তর সিরিয়া থেকে মধ্য-সিরিয়া মুসলমানদের দখলে আসার পর উত্তর সিরিয়ার সঙ্গে প্যালেস্টাইনের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেল। আবু উবায়দা তার সেনাবাহিনীকে চার ভাগে ভাগ করে চারদিকে অভিযান চালাতে শুর“ করলেন।

হেরাক্লিয়াস এর বাইজান্টাইন বাহিনী

মুসলমানদের এমন অগ্রাভিযান অব্যাহত থাকলে দ্রুতই একসময় তারা গোটা বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়া জেনে সম্রাট হেরাক্লিয়াস বিশাল বাইজান্টাইন বাহিনী জড়ো করে মুসলমান সেনাবাহিনীকে আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হলেন।

ইয়ারমুক যুদ্ধ‘র ক্যাভালরি কমান্ডার ও উপদেষ্টা খালিদ

 আবু উবায়দা খালিদকে তার ক্যাভালরি কমান্ডার এবং প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিলেন। খালিদের পরামর্শে ৬৩৬ সালের ২০ আগস্ট ইয়ারমুক প্রান্তরে মুসলমান বাহিনী বাইজান্টাইন বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করে।

খালিদ বিন ওয়ালিদ
সিরিয়ার অভিযানে খালিদ বিন ওয়ালিদ।

জেরুজালেমে অবরোধ৷  ইয়ারমুখে বাইজান্টাইনদের পরাস্ত্র করার পর মুসলমান বাহিনী লেভান্টে বাইজান্টাইনদের শেষ শক্ত ঘাঁটি জেরুজালেম অবরোধ করে। দীর্ঘ চার মাস অবরোধের পর ৬৩৭ সালের এপ্রিলে খলিফা উমরের উপস্থিতিতে জেরুজালেম আত্মসমর্পণ করে। জেরুজালেম পতনের পর আবু উবায়দা আর খালিদ উত্তর সিরিয়া অভিযানে নামলেন। পথে হাজিরের যুদ্ধে বাইজান্টাইনদের পরাড় করে ৬৩৭ সালের অক্টোবরের ভেতর আলেপ্পো পর্যন্ত দখলে নিয়ে নেন।

আয়রন ব্রিজের যুদ্ধ ও এন্টিওখ দখল 

এরপর আয়রন ব্রিজের যুদ্ধে বাইজান্টাইনদের ফের পরাজিত করে তারা বাইজান্টাইন রাজধানী এন্টিওখ অবরোধ করেন এবং ৩০ অক্টোবর এন্টিওখের পতন হয়।

এরপর খালিদ আরও উত্তরে এগোতে থাকেন। তিনি সফল অভিযানের মাধ্যমে জাজিরা, এডেসা, আমিদা, মালাটিয়া, আর্মেনিয়া আর মধ্য আনাতলিয়া পর্যন্ত দখল করে নেন।

এমতাবস্থায় খলিফা উমর মুসলমান বাহিনীদের অগ্রাভিযান বন্ধ করে ইতিমধ্যে দখল করা এলাকায় প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা জোরদারে মনোযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে আনাতলিয়া আর আর্মেনিয়া অভিযানের মাধ্যমে খালিদের বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনের সমাপ্তি ঘটে ।

খালিদ বিন ওয়ালিদ
ইউরোপের দিকে ধাবমান খালিদ বিন ওয়ালিদ।

এলকোহলে গোসলের দায়ে খলিফা উমরের নিকট লিখিত জবাবদিহি।

এমেসা থাকাকালে একবার খালিদ এক বিশেষ পানীয় দ্বারা গোসল করেন যাতে অ্যালকোহল মেশানো ছিল। গুপ্তচরের মাধ্যমে খলিফা উমর বিষয়টি জানতে পারেন এবং খালিদের কাছে এ ঘটনার লিখিত ব্যাখ্যা চান। ইসলামে অ্যালকোহল পানে নিষেধাজ্ঞা আছে কিন্তু গোসলের ব্যাপারে কিছু বলা নেই মর্মে ব্যাখ্যা দেন খালিদ; এবং খলিফা উমর তা মেনে নেন।

অপব্যয়িতার জন্য সেনাবাহিনী হতে বরখাস্ত

আবার ৬৩৮ সালে মারাস দখলের পর বিখ্যাত কবি আসওয়াস খালিদের গুণকীর্তন করে এক কবিতা লিখে খালিদের মন জয় করে নেন। খুশি হয়ে খালিদ তাকে ১০ হাজার দিরহাম উপহার দেন।

খলিফা উমর এ ঘটনা জানতে পেরে আবু উবায়দাকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কারণ খালিদ যদি সরকারি কোষাগার থেকে এই অর্থ দিয়ে থাকেন, তবে তা ছিল খেয়ানত। আর যদি নিজ সম্পদ থেকে তা দিয়ে থাকেন তা হলে তিনি অপব্যয়ী। কিন্তু আবু উবায়দা নিজেই খালিদের ভীষণ ভক্ত ছিলেন। তাই তিনি এই অপ্রিয় কাজটি করতে অপারগতা প্রকাশ করলে অবশেষে বিলাল ইবনে রিবাহ খালিদকে এমেসা ডেকে পাঠান এবং ঐ অর্থের উৎস জানতে চান। খালিদ ঐ অর্থ তার নিজের বলে দাবি করলে অমিতব্যয়িতার অভিযোগে খলিফা উমরের নির্দেশে তাকে মুসলমান সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করেন।

মদিনা গমন

বরখাস্ত হওয়ার পর খালিদ তার মোবাইল গার্ডের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মদিনা ফিরে যান এবং খলিফা উমরের দরবারে হাজির হয়ে খলিফা উমরের এমন সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চান। খালিদের বির“দ্ধে খলিফা উমর তার অবস্থান এভাবে ব্যাখ্যা করলেন যে মুসলমানেরা ভাবতে শুরু করেছে যে খালিদকে ছাড়া মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধে জেতা অসম্ভব, যা অগ্রহণযোগ্য।

খালিদ বিন ওয়ালিদ এর অবসর জীবনযাপন

খালিদ খলিফা উমরের এই আশঙ্কাকে মেনে নিলেন এবং এমেসা ফিরে গিয়ে অবসর জীবনযাপন শুরু করলেন। ৬৪২ সালের হজ শেষে খলিফা উমর অসমাপ্ত পার্সিয়ান অভিযান পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা করেন এবং খালিদকে সে-অভিযানের সেনাপতি হিসেবে পুনর্নিয়োগের কথা চিন্তা করেন। কিন্তু মদিনা পৌঁছাতেই তিনি জানতে পারলেন যে খালিদ বিন ওয়ালিদ আর নেই।

মহানয়কের পরলোকগমন।

খালিদ যুদ্ধক্ষেত্রে শাহাদতবরণের জন্য উদগ্রীব ছিলেন। তিনি বলতেন, “আমি এত উদ্গ্রীব হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে শাহাদতবরণ করতে চেয়েছি যে আমার শরীরে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে কোনো আঁচড় বা ক্ষতের দাগ নেই। অথচ আজ আমি একটা বৃদ্ধ উটের মতো বিছানায় শুয়ে মরতে বসেছি।” উত্তরে খালিদের স্ত্রী বলতেন, “আপনি আল্লাহর তরবারি, আর আল্লাহর তরবারি কি কখনো যুদ্ধক্ষেত্রে ভাঙতে পারে? আপনার নিয়তি শহিদ হওয়ার নয়, আপনার নিয়তি অপরাজেয় হয়ে মরবার।”

 

খালিদ বিন ওয়ালিদ
খালিদ বিন ওয়ালিদ মসজিদ, সিরিয়া।

খলিফা উমর কারো মৃত্যুর পর সেই মৃতের জন্য বিলাপ করা পছন্দ করতেন না এবং এ ব্যাপারে তিনি কড়া নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছিলেন। কিন্তু খালিদের মৃত্যুর পর বনু মখজুমের নারীরা যখন মাটিতে গড়াগড়ি করে বুক চাপড়ে বিলাপ করছিলেন, তখন উমর তাদের বাধা দিতে মানা করলেন। কারণ তিনি নিজেও জানতেন যে মানবসভ্যতার ইতিহাসে দ্বিতীয় কোনো খালিদ হয়তো আর কখনোই জন্মাবে না, তাই তাদের এই বিলাপ আর আহাজারি অনর্থক নয়।

আরও জানতে পিডিএফ বই টি পড়ুন।

সুলতান আল্প আরসালান – সেলজুক রাজবংশের তৃতীয় সুলতান।

0
সুলতান আল্প আরসালান - সেলজুক বংশের তৃতীয় সুলতান।
সুলতান আল্প আরসালান যার আসল নাম মুহাম্মদ বেগ বিন দাউদ চাঘরাই, তিনি সেলজুক রাজবংশের তৃতীয় সুলতান এবং সেলজুক বেগ‘র প্রপৌত্র। তার সময় থেকেই সেলজুক বংশ রাজবংশ হিসেবে প্রতিষ্টা লাভ করে। তার সামরিক দক্ষতা, বীরত্ব এবং লড়াইয়ে পারদর্শিতার জন্য তিনি আল্প আরসালান উপাধি লাভ করেন। তুর্কি ও তুর্কমেন ভাষায় এর অর্থ “বীর সিংহ”।
পিতা চাঘরাই বেগের মৃত্যুর(১০৫৯ খ্রিষ্টাব্দ) পর তিনি খোরাসানের শাসক হন। তার চাচা তুঘরিল বেগের মৃত্যুর পর আল্প আরসালানের ভাই সুলাইমান তুঘরিল বেগ এর উত্তরাধিকারী হন। আরসালান ও আরেক চাচা কুতালমিশের মধ্যে এই উত্তরাধিকার নিয়ে লড়াই হয়। আল্প আরসালান কুতালমিশকে পরাজিত করেন এবং ১০৬৪ সালের ২৭ এপ্রিল মহান সেলজুক রাজবংশের সুলতান হন এবং আমুদরিয়া থেকে টাইগ্রিস পর্যন্ত পারস্যের একচ্ছত্র সম্রাট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
আল্প আরসালান তার উজির নিজামুল মুলকের সাহচর্যে রাজ্যপরিচালনা করতেন। নিযামুল মুলক মুসলিম ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। আল্প আরসালান তার সন্তান প্রথম মালিক শাহকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেন। কাপাডোকিয়ার রাজধানী কায়সারিয়া মাযাকা দখল করার উদ্দেশ্যে তার বাহিনী ইউফ্রেটিস পার হয়ে শহর আক্রমণ করে। সুলতান স্বয়ং বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। এরপর তিনি আর্মেনিয়া ও জর্জিয়ার দিকে অগ্রসর হন এবং ১০৬৪ সালে এই দুই অঞ্চল জয় করেন।
১০৬৮ সালে সিরিয়া যাত্রাকালে আল্প আরসালান বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে আক্রমণ করেন। সম্রাট ৪র্থ রোমানোস ডিয়োজেনেস আক্রমণকারীদের সাথে কিলিকিয়াতে সাক্ষাত করেন। এই দুই বাহিনীর মধ্যে তিনটি মারাত্মক লড়াই সংঘটিত হয়। প্রথম দুইটি সম্রাট নিজে পরিচালনা করেন এবং তৃতীয়টি মানুয়েল কমনেনুস কর্তৃক পরিচালিত হয়। ১০৭০ সাল নাগাদ সেলজুকরা পরাজিত হয় এবং ইউফ্রেটিসের তীরবর্তী অঞ্চলে ফিরে আসে।
১০৭১ সালে রোমানোস আনুমানিক ৩০০০০ সৈন্যের বাহিনী নিয়ে পুনরায় আরসালানের বিরুদ্ধে অগ্রসর হন। তার বাহিনীতে কুমান তুর্কি, ফ্রাঙ্ক ও নর্মানরাও ছিল। এই বাহিনী উরসেল দা বেইউলের নেতৃত্বে আর্মেনিয়ার দিকে অগ্রসর হয়।
ভন লেকের উত্তর দিকের মুরাট নদীর তীরবর্তী মানযিকার্টে আল্প আরসালান ও রোমানোসের বাহিনী মুখোমুখি হয়। সুলতান আল্প আরসালান সন্ধির প্রস্তাব করলেও সম্রাট রোমানোস তা প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে দুই বাহিনীর মধ্যে লড়াই শুরু হয়। এই যুদ্ধ ইতিহাসে মানযিকার্টের যুদ্ধ বলে পরিচিত। বাইজেন্টাইন বাহিনীর কুমান সৈনিকরা, যারা মূলত ভাড়াটে সৈন্য ছিল, তৎক্ষণাৎ দলত্যাগ করে সেলজুক তুর্কিদের পক্ষে যোগ দেয়। কুমানদের দলত্যাগের ঘটনায় প্ররোচিত হয়ে ফ্রাঙ্ক ও নর্মানরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে।[৩] ফলে বাইজেন্টাইনরা যুদ্ধে সম্পূর্ণরূপে পর্যুদস্ত হয়।
সম্রাট রোমানোসকে বন্দী অবস্থায় আল্প আরসালানের সামনে আনা হয়। আল্প আরসালান তার সাথে সদয় আচরণ করেন। নিম্নোক্ত আলাপ তাদের মধ্যে হয়েছিল বলে কথিত আছে[৪] : আল্প আরসালান: যদি আমাকে আপনার সামনে বন্দী হিসেবে আনা হত তবে আপনি কী করতেন? রোমানোস: হয়ত আমি আপনাকে হত্যা করতাম অথবা কন্সটান্টিনোপলের রাস্তায় প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতাম। আল্প আরসালান: আমার শাস্তি এর চেয়েও কঠিন। আমি আপনাকে ক্ষমা করেলাম এবং আপনি মুক্ত।
আল্প আরসালানের এই বিজয় নিকট এশিয়ায় সেলজুক তুর্কি ও সুন্নি মুসলিমদের জন্য লাভজনক হয়ে উঠে। যদিও পরবর্তী চার শতাব্দী পর্যন্ত বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য টিকে ছিল এবং ক্রুসেডারদের কারণে মুসলিমরা ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়, মানযিকার্টের যুদ্ধ আনাতোলিয়ায় তুর্কিদের অগ্রযাত্রার পক্ষে সহায়ক হয়ে উঠে। এডওয়ার্ড গিবনসহ অধিকাংশ ইতিহাসবেত্তার মতে মানযিকার্টের পরাজয় হল পূর্বাঞ্চলীয় রোমান সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা। বাইযান্টাইনদের কাছ থেকে আনাতোলিয়া অধিকারের ঘটনা ক্রুসেডের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।
আল্প আরসালানের কর্তৃত্ব সামরিক ক্ষেত্রে সীমিত ছিল। রাষ্ট্রীয় অন্যান্য কাজ তার উজির নিযামুল মুলক নিয়ন্ত্রণ করতেন। নিযামুল মুলক বিভিন্ন প্রশাসনিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তার প্রতিষ্ঠিত সামরিক জায়গীর প্রথা যাযাবর তুর্কিদের পারসিক, তুর্কি ও সেলজুক অঞ্চলের অন্যান্য সংস্কৃতির সম্পদের দিকে টেনে আনতে সমর্থ হয় এবং আল্প আরসালানকে একটি বিশাল বাহিনীর ভরণপোষণে সমর্থ করে তোলে।
সুলাইমান ইবনে কুতালমিশ ছিলেন আরসালানের ক্ষমতার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বীর পুত্র। তাকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশের শাসক নিযুক্ত করা হয় এবং আনাতোলিয়ায় বিজয় সম্পন্ন করার ভার অর্পণ করা হয়। এই কাজে তাকে নিযুক্ত করার কারণ হিসেবে আল্প আরসালান ও কুতালমিশের মধ্যকার যুদ্ধে সম্পর্কে ইবনে আল আসিরের বক্তব্য থেকে ধারণা করা যায়। তিনি লিখেছেন যে আল্প আরসালান কুতালমিশের মৃত্যুর জন্য কেঁদেছিলেন এবং আত্মীয় হারানোর কারণে গভীরভাবে শোকাহত ছিলেন।
মানযিকার্টের যুদ্ধের পর আল্প আরসালান পশ্চিম এশিয়ার অধিকাংশ অধিকার করেন। এরপর তিনি তার পূর্বপুরুষদের অঞ্চল তুর্কিস্তান অধিকার করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। এক শক্তিশালী সেনাবাহিনী নিয়ে তিনি আমু দরিয়ার দিকে যাত্রা করেন। নদী পার হওয়ার আগে কিছু দুর্গ দখল করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তৎমধ্যে একটি বেশ কয়েকদিন ধরে ইউসুফ আল-হারেযমি প্রতিরোধ করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মসমর্পণে বাধ্য হন এবং সুলতানের সামনে তাকে আনা হয়। সুলতান তাকে মৃত্যুদন্ড দেন।
ইউসুফ তৎক্ষণাৎ তার ছুরি বের করে সুলতানের উপর হামলা চালান। এর চার দিন পর ১০৭২ সালের ২৫ নভেম্ব আরসালান মৃত্যু বরণ করেন। মার্ভে তার পিতা চাঘরাই বেগের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। তার সমাধিতে লেখা রয়েছে: “যারা সুলতান আল্প আরসালান বেগ’র আকাশসম জাকজমক দেখেছ, দেখ, তিনি এখন কালো মাটির নিচে শায়িত…”

চিতল মাছের কোফতা কারি – তৈরি করুন নিজ হাতে নিজ বাসায়।

0
চিতল মাছের কোফতা কআরি

চিতল মাছের কোফতা কারি, তৈরি করুন নিজ হাতে নিজ বাসায়, উপভোগ করুন ফ্যামিলি নিয়ে।
রেসিপি বাই:sumi’s kitchen diaries

চিতল মাছের কোফতা কারির উপকরণ :
চিতল মাছের কিমা-৬০০-৭০০ গ্রাম
পেঁয়াজ কুচি-১/২ কাপ
কাঁচামরিচ কুচি ৬-৭ টি
আদা-রসুন বাটা ১ চা-চামচ
ময়দা/চালের গুঁড়া ২-৩ টেবিল চামচ
হলুদ গুঁড়া ১/২ চা-চামচ
ধনে গুঁড়া ১/২ চা-চামচ
জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ
আলু-১টি (সিদ্ধ করে নেয়া )
ধনেপাতা কুচি-পছন্দ অনুযায়ী
লবণ-স্বাদমতো
তেল-ভাজার জন্য

গ্রেভি তৈরীর জন্য লাগছে,
পেঁয়াজ বেরেস্তা ১/২ কাপ
পেঁয়াজ বাটা ১/২ কাপ
আদা বাটা ১/২ চা চামচ
রসুন বাটা ১/২ চা চামচ
মরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ
হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ
ধনে গুঁড়া ১/২ চা চামচ
জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ
ধনেপাতা কুচি ১/২ চা চামচ
কাঁচা মরিচ ১/২ চা চামচ
ভাজা জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ
টমেটো কুচি ১ টি
লবণ স্বাদমতো
তেল ১/২ কাপ

চিতল মাছের কোফতা প্রস্তুত প্রণালী:

প্রথমে মাছের কিমা সাথে সবগুলি উপকরণ খুব ভালো করে মেখে নিয়ে হাতের সাহায্যে গোল গোল আকৃতি করে কোফতা গুলো বানিয়ে নিতে হবে। সবগুলা কোফতা তৈরি হয়ে গেলে ডুবো তেলে ভেজে নিতে হবে।
এখন চুলায় একটি প্যান বসিয়ে তাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল দিয়ে পেঁয়াজ বাটা,আদা বাটা,রসুন বাটা দিয়ে হালকা করে ভেজে নিতে হবে।এ সময় চুল আঁচ একদম কম থাকবে।তারপর সামান্য একটু পানি দিয়ে একে একে সবগুলো গুঁড়া মসলা দিয়ে আবারও ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে।
মসলা কষানো হয়ে গেলে তাতে আগে থেকে ভেজে রাখা কোফতা ও টমেটো কুচি মিশিয়ে নিতে হবে। সামান্য একটু পানি দিয়ে,ঢেকে রান্না করতে হবে ৫-৬ মিনিটের জন্য।
এবার কোফতার উপর পেঁয়াজ বেরেস্তা,কাঁচা মরিচ ও টালা জিরার গুঁড়ো দিয়ে ঢেকে রেখে দিতে হবে আরও দুই মিনিটের জন্য।সবশেষে ধনেপাতা কুচি ছিটিয়ে দিয়ে তুলে নিন।ব্যাস তৈরি হয়ে গেল ভীষণ মজাদার চিতল মাছের কোপ্তা কারি।এই রেসিপিটি ভাত,খিচুড়ি অথবা পোলাও এর সাথে পরিবেশন করতে পারেন।

Math for kids – Privacy Policy

0

Privacy Policy
Eracox built the Math Games For Kids app as a Free app. This SERVICE is provided by Eracox at no cost and is intended for use as is.

This page is used to inform visitors regarding our policies with the collection, use, and disclosure of Personal Information if anyone decided to use our Service.

If you choose to use our Service, then you agree to the collection and use of information in relation to this policy. The Personal Information that we collect is used for providing and improving the Service. We will not use or share your information with anyone except as described in this Privacy Policy.

The terms used in this Privacy Policy have the same meanings as in our Terms and Conditions, which is accessible at Math Games For Kids unless otherwise defined in this Privacy Policy.

Information Collection and Use

For a better experience, while using our Service, we may require you to provide us with certain personally identifiable information. The information that we request will be retained by us and used as described in this privacy policy.

The app does use third party services that may collect information used to identify you.

Link to privacy policy of third party service providers used by the app

Google Play Services
AdMob
Log Data

We want to inform you that whenever you use our Service, in a case of an error in the app we collect data and information (through third party products) on your phone called Log Data. This Log Data may include information such as your device Internet Protocol (“IP”) address, device name, operating system version, the configuration of the app when utilizing our Service, the time and date of your use of the Service, and other statistics.

Cookies

Cookies are files with a small amount of data that are commonly used as anonymous unique identifiers. These are sent to your browser from the websites that you visit and are stored on your device’s internal memory.

This Service does not use these “cookies” explicitly. However, the app may use third party code and libraries that use “cookies” to collect information and improve their services. You have the option to either accept or refuse these cookies and know when a cookie is being sent to your device. If you choose to refuse our cookies, you may not be able to use some portions of this Service.

Service Providers

We may employ third-party companies and individuals due to the following reasons:

To facilitate our Service;
To provide the Service on our behalf;
To perform Service-related services; or
To assist us in analyzing how our Service is used.
We want to inform users of this Service that these third parties have access to your Personal Information. The reason is to perform the tasks assigned to them on our behalf. However, they are obligated not to disclose or use the information for any other purpose.

Security

We value your trust in providing us your Personal Information, thus we are striving to use commercially acceptable means of protecting it. But remember that no method of transmission over the internet, or method of electronic storage is 100% secure and reliable, and we cannot guarantee its absolute security.

Links to Other Sites

This Service may contain links to other sites. If you click on a third-party link, you will be directed to that site. Note that these external sites are not operated by us. Therefore, we strongly advise you to review the Privacy Policy of these websites. We have no control over and assume no responsibility for the content, privacy policies, or practices of any third-party sites or services.

Children’s Privacy

These Services do not address anyone under the age of 13. We do not knowingly collect personally identifiable information from children under 13 years of age. In the case we discover that a child under 13 has provided us with personal information, we immediately delete this from our servers. If you are a parent or guardian and you are aware that your child has provided us with personal information, please contact us so that we will be able to do necessary actions.

Changes to This Privacy Policy

We may update our Privacy Policy from time to time. Thus, you are advised to review this page periodically for any changes. We will notify you of any changes by posting the new Privacy Policy on this page.

This policy is effective as of 2021-08-16

Contact Us

If you have any questions or suggestions about our Privacy Policy, do not hesitate to contact us at [email protected].

This privacy policy page was created at privacypolicytemplate.net and modified/generated by App Privacy Policy Generator

শেষ বিকেলের মেয়ে – জহির রায়হান রচিত উপন্যাস।

0

শেষ বিকেলের মেয়ে – জহির রায়হান

শুরুলগ্ন
“শেষ বিকেলের মেয়ে ” উপন্যাস টি পড়ার আগে মনে করেছিলাম নিদিষ্ট একজন মেয়েকে নিয়ে সাজানো এই বইটি।কিন্তু বইটি পড়তে গিয়ে দেখলাম আমার ধারনা টা পুরাপুরি ভুল।শেষ বিকেলের মেয়ে মানে এখানে সেই মেয়েকে বুঝিয়েছে লেখক যে, সারাজীবন অনেক মেয়ে জীবনে আসে, আবার চলেও যায়। শেষ অব্দি যে থাকে তাকেই শেষ বিকেলের মেয়ে বলে আখ্যায়িত করেছেন।

বইয়ের নামকরণ
শেষ বিকেলের মেয়ে নাম টা দেখলেই কোন একটা মেয়ের চরিত্র মানসপটে ভেসে উঠে। মনে হয় একটি মেয়ে কে নিয়ে লেখা।কিন্তু লেখক এই বইটিতে কয়েকটি মেয়ের চরিত্র উপস্থাপন করেছেন।আর বুঝিয়েছেন জীবনের শেষ অব্দি যে থাকবে সেই শেষ বিকেলের মেয়ে। বইটি পড়ার আগে আর পরে নাম নিয়ে দুরকম ধারনা জন্মে পাঠক-পাঠিকাদের মনে।

বইয়ের মূলভাব
লেখক জহির রায়হান শেষ বিকেলের মেয়ে উপন্যাস টিতে প্রধান চরিত্রে কাসেদ কে তুলে ধরেছেন।এই উপন্যাসটি পুরোটা জুড়ে রয়েছে কাসেদের জীবন কাহিনি। তার ভালবাসা,কর্মজীবন,পরিবার জীবন বা মন ভালো খারাপের কাহিনি।

বইয়ের সারসংক্ষেপ
বইয়ের প্রধান চরিত্র কাসেদ।সে একজন নিম্নমানের কেরানি।তার পরিবারে তার অসুস্থ মা এবং খালাতো বোন আছে নাম তার নাহার।নাহার ছোট কালে মা কে হারানোর পর থেকে কাসেদ দের সাথে থাকে।উপন্যাস টির শুরুতে বৃষ্টি মুখর দৃশ্য দিয়ে শুরু করে লেখক।এক আকাশ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কাসেদ বাসায় ফিরে।বাসায় এসে কিছু টা মায়ের বকুনি খাই।তার নিজের ছাতা কোথায় জিজ্ঞেস করলে জানান দেয় তার অফিসের অন্য কেরানি নিয়ে গেছেন।এই দেওয়া নিয়ে ও অনেক্ষণ মায়ের বকা শুনে রুমে যায় কাসেদ।বাসায় এসে জানতে পারে জাহানারা এসেছিল তার খুজে।জাহানারা হচ্ছে কাসেদের অব্যক্ত ভালবাসা।কাসেদ মনে করে জাহানারাও তাকে ভালবাসে।কাসেদ পরে জাহানারার সাথে দেখা করতে গেলে সেখানে মিলে জাহানার কাজিন শিউলির সাথে। শিউলি একজন স্মার্ট, শিক্ষিত,ম্যাচিউর মেয়ে।তার একটাই কথা সে সকল কে বন্ধু ভাবে মিশে কিন্তু পরে সবাই ওকে বউ করতে চাই।শিউলি কাসেদ জাহানারা তিনজনের বন্ধুত্ব বা প্রেম ভালোই চলছিলো এর মাঝে উপস্থিত হলো সালমা নামে এক মেয়ে।সালমা ছোট কাল থেকেই কাসেদ কে ভালবাসতো।কিন্তু কথা হচ্ছে সালমার সাথে যতবারি কাসেদের দেখা হতো বা কথা হতো প্রতিবারে দুজনের ঝগড়া হতো।সালমা এখন বিবাহিত, তার একটা মেয়ে ও আছে। মেয়ের নাম নাকি লিখেছে পলি।কিন্তু সালমা কাসেদের পছন্দের নাম বিপাশা বলে ডাকে।কাসেদের জীবনে এই কজন মেয়ে ছাড়া ও আরো ও একজন মেয়ের আবাস আসলো।যখন কেরানি মকবুল মিয়ার বাড়ীতে ছাতার জন্য কাসেদ গেলো তখন সে একটা মেয়েকে পিছন থেকে দেখে।তার লম্বা চুলে কাসেদ কেমন আকৃষ্ট হয়ে গেছিলো কবির ভাষায় কৃষ্ণবর্ণ মেয়ে।তাকেও নিয়ে ও কাসেদের মনে কিছু হতো।কিন্তু এই হওয়া টা বেশিদিন টিকলোনা।তার অফিসের বড় বস সেই কৃষ্ণবর্ণ মেয়েটিকে বিয়ে করে নিলো।কাসেদোর মনে সব থেকে বেশী জাহানারার জন্য ভালবাসা ছিল।সে বারবার নিজের ভালবাসা জানাতে চেয়েছে কিন্তু পরে জানলো জাহানারার সাথে তার সেতার মাস্টার এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক চলতেছে। এই দুঃখে কাসেদ শিউলিকে বলে ফেললো বিয়ে করতে শিউলি ও তাকে রিজেক্ট করলো।এরি মাঝে একদিন সালমা ও এসেছিলো সব ছেড়ে কাসেদের হাত ধরতে কিন্তু কাসেদ মানা করে দেয়।হঠাৎ করে কাসেদের মা ইহকাল ত্যাগ করলেন।তিনি তার মেয়ে নাহারের ঠিক হওয়া বিয়ে টা ও দেখে যেতে পারেন নি।কাসেদের মায়ের মৃত্যুর পর ওর খালু নাহার কে নিয়ে যায়। কাসেদ একা হয়ে যায়। শেষ বিকেলে জানালার দিকে তাকিয়ে যখন ভাবনাতে মত্ত ছিলো তখনি দরজায় করাঘাত হলো।

আচ্ছা কে এলো??

জাহানারা নয়তো? কাসেদের ভালবাসা বুঝতে পেরে ফিরে আসলো।
নাকি শিউলি?? সে ও কাসেদের ভালবাসা ফিল করে ফিরো আসলো।
নাকি সালমা,হাজার রিজেক্ট হওয়ার পর ও কাসেদ কে সে চাই।

নাকি অন্য কেউ।

কে এসেছে শেষ বিকেলের মেয়ে হয়ে জানতে হলে পড়তে হবে এই উপন্যাস টি।

বইটি পড়ে আমার অনুভূতি
উপন্যাস টি পড়ে আমার কষ্ট লাগলো কাসেদের জন্য। নিজের ভালবাসা এভাবে প্রকাশ করার আগে হারিয়ে ফেলা সত্যি যন্ত্রণা দায়ক।সালমার জন্য ও মন টা খারাপ হয়ে গেলো।যাকে ভালবাসে তাকে তো পেলো না আবার পাওয়া স্বামী টাও মনের মতো না।সব থেকে বেশী আকৃষ্ট করেছে নাহার মেয়েটি।সারা উপন্যাস টি তে দুএকটা কথা বলা উল্লেখ রয়েছে এত কম কথা বলা মেয়ে থাকতে পারে নাহার কে না দেখলে জানা হতো না।মেয়েটি সারাক্ষণ সংসারের কাজ নিয়ে থাকে।কারো ভালো মন্দতে নেই সে এই নাহার মেয়োটি আমাকে সব থেকে বেশী আপ্লূত করেছে।সব শেষে বলবো কাসেদ কে আমার কেমন লুচ্চা ধরনের ছেলে মনে হলো।একসাথে এতজন মেয়ের জন্য ফিল আসে কেমনে।জাহানারা,শিউলি, কৃষ্ণবর্ণ মেয়ে কয়জনের জন্য মন থেকে প্রেমের ফিল হয়? তাই আমার মতে কাসেদ একটা লুচু ছেলে।আবার ভালোও।

শেষান্তে
শেষ বিকেলের মেয়ে উপন্যাস টি একটা রোমান্টিক উপন্যাস। এই উপন্যাস টি পড়ে আমার অনুভূতি অনেক টা ভালো লেগেছে।নাহার এর চুপ স্বভাব। তার কাজ কর্ম,এবং কাসাদের মায়েট আল্লাহ ভীতি, আল্লাহর ইবাদাতে নিজেকে মশগুল রাখা এই বিষয় টা আমার সব থেকে বেশী ভালো লেগেছে।মোট কথা সব কিছু মন কাড়ানোর মতো বই টি।

বই পরিচিতি
বইঃশেষ বিকেলের মেয়ে
লেখকঃজহির রায়হান
ধরণঃউপন্যাস
প্রকাশনীঃঅনুপম প্রকাশনী
পৃষ্ঠাঃ৮০
মূল্যঃ১২০ টাকা

বুক রিভিউ – ফায়েজা সুলতানা পিউ।

চোখের বালি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – একটি সামাজিক উপন্যাস।

0

রবীন্দ্রনাথের সব বইগুলো চমৎকার। চোখের বালি ও ঠিক তেমনি, অসাধারণ ও চমৎকার

চলুন শুরু করা যাক চোখের বালি নিয়ে…..চোখের বালি রবী ঠাকুরের লেখা একটি অন্যতম উপন্যাস। গল্পের নায়ক মহেন্দ্র ও তার মা রাজলক্ষীর কথোপকথনের মধ্যে দিয়েই এই গল্পের সূচনা হয়েছে।

স্বামীহারা রাজলক্ষীর একমাত্র আদরের ছেলে মহেন্দ্র। সমাজের নিয়ম অনুযায়ী তাকে ও বিয়ের জন্য তার মা আকুতি পোষণ করেন।কিন্তু মহেন্দ্র বিয়েতে প্রথমে অমত করে।কারণ,বিয়ে করলে তার মায়ের সুখ কমে যাবে।তাদের মা-ছেলের সম্পর্কে পাটল ধরতে পারে।এইসব, চিন্তা করে অমত প্রকাশ করে।

পরবর্তীতে বন্ধু বিহারীর বিয়ের জন্য পাএী দেখতে গেলে পাএীকে অর্থাৎ, আশাকে দেখে তার পছন্দ হয়ে যায়,এবং আশাকে বিয়ে করার কথা বন্ধুকে জানায়।বিহারী ও এতে কোন বাধা দেয়না।আশার সাথে মহেন্দ্রের বিয়ে হয়ে যায়।

বিয়ের পর থেকেই পুএবধূ আশার উপর ক্রব্ধ হয়ে ওঠেন রাজলক্ষী।এর প্রধান কারণ,আশাকে কাছে পেয়ে মহেন্দ্র তার মা এবং অন্য সবাইকে এক প্রকার ভুলে যেতে বসেছে।বেশিরভাগ সময়ই তারা দুজন একসাথে কাটায়।এরই মধ্যে একদিন বিনোদিনী মহেন্দ্রদের বাসায় এসে উপস্থিত।

বিনোদিনীকে সহজ সরল একটু বোকা ধরণের মেয়ে আশা আপন করে নেয়।মহেন্দ্রের বন্ধু বিহারীর প্রতি বিনোদিনীর দুর্বলতা প্রথম দিকেই অনুমান করা যায়।কিন্তু,তার প্রতি বিহারীর কোনো আকর্ষণ প্রকাশ পায়না।এতে বিনোদিনী রাগে,অভিমানে আশার প্রতি হিংসা আরো বাড়তে থাকে।আশা বিনোদিনীকে যতটা আপন ভেবেছে বিনোদিনী কিন্তু, ততটা ভাবেনি।আশার বিশ্বাসটাই একদিন তার জীবনে কাল হয়ে দাড়ায়।

স্বামীকে সে নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস করে।বিনোদিনীকে বোনের চেয়ে বেশি ভালোবাসে।কিন্ত, তারা সেই বিশ্বাস আর ভালোবাসার দাম দেয়নি।তাকে দুজনে মিলে ঠকিয়েছে।বিনোদিনী আশার সরলতাকে কাজে লাগিয়ে মহেন্দ্রকে তার প্রতি আকৃষ্ট করতে ব্যাকুল হয়ে পড়ে।পরবর্তীতে সে সফল ও হয়।মহেন্দ্র ও বিনোদিনীর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে।এরপরই শুরু হয় আশার করুণ জীবন।তার জীবনের সেই অধ্যায় গুলো সবারই হৃদয়ে দাগ কাটবে।এভাবেই একটি এিভূজ প্রেমের সমীকরণ ক্রমশই ভয়ংকর আকার ধারণ করে।

ব্যক্তিগত মতামতঃ-

এই বইয়ের মাধ্যমে খুব সহজেই বুঝা যায় যে,কাছের মানুষ ইচ্ছা করলে একটা সংসার গড়ে ও দিতে পারে আবার ভাংতে ও পারে।মানুষকে বিশ্বাস করা ভালো কিন্তু, এমনভাবে অন্ধ বিশ্বাস না করাই ভালো। যে অন্ধ বিশ্বাস সংসার জীবনের সবকিছু তোলপাড় করে দেয়।

বুক রিভিউ
চোখের বালি
লেখকঃরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রিভিউ লেখিকাঃ জামিলুন মুনতাহা

বরফ গলা নদী – একটি জহির রায়হান রচিত উপন্যাস।

0

বরফ গলা নদী
লেখক: জহির রায়হান
জনরা: সামাজিক উপন্যাস
প্রকাশক: অনুপম প্রকাশনী
প্রথম প্রকাশ: ১৯৬৯ সাল
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬
মুদ্রিত মূল্য: ১২০ টাকা

আজকে রিভিউ করছি বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক এবং গল্প রচয়িতা জহির রায়হানের বিখ্যাত উপন্যাস, “বরফ গলা নদী”। বইটি রিভিউ করার পূর্বে কাহিনীর প্লট একটু বর্ণনা করে নিচ্ছি।

মরিয়ম নিম্ন-মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে। পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করে টিউশনি করে। তার পরিবারে আছে বাবা হাসমত আলী, অফিসের সামান্য কেরানীর চাকরি করেন; মা সালেহা বিবি; বড় ভাই মাহমুদ, একজন সাংবাদিক; ছোট ভাইবোন খোকন আর দুলু। বিশাল এই পরিবারের ব্যয়ভার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় তাদের সবাইকে।

মরিয়ম টিউশনি পড়ায় সেলিনাকে। সেলিনার পরিবার বেশ ধনী। সেলিনার বড় বোনের দেবর মনসুর মরিয়মকে পছন্দ করে। মরিয়ম বিষয়টা বুঝতে পারলেও কখনো কোনো আগ্রহ প্রকাশ করে না।এর কারণ জাহেদ। জাহেদের কারণে মরিয়মের মনের মধ্যে বিতৃষ্ণা জন্মে গেছে পুরুষ জাতির উপরে। যদিও তার মায়ের খুব ইচ্ছা, মনসুরের সাথে তার বিয়ে যাতে হয়।

অন্যদিকে মাহমুদ ধনী জাতিকে দুই চোখে দেখতে পারে না। এর কারণ অবশ্য পরিবারের দারিদ্রতা। সে শিক্ষিত, তারপরেও মনের মতো চাকরি পাচ্ছে না। পরিবারের বন্ধনও তার কাছে আলাদা কোনো অর্থবহন করে না।
মরিয়ম, মনসুর, মাহমুদ, সেলিনা, এদের সবাইকে নিয়েই সুন্দর উপন্যাস, “বরফ গলা নদী”।

আমার অনুভূতি:
মরিয়মের পরিবারের মতো নিম্ন- মধ্যবিত্ত পরিবার আমাদের আশেপাশেই আছে। তাদের জীবনটা কীভাবে কাটে, এই বইটা পড়ে সেটা খুব ভালোমতো বোঝা যায়। তাছাড়া সেই সময়ে মানুষের জীবনযাপন কেমন ছিল, সেটা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

বইটা পড়ার পর মনে হয়েছিল, এমন গল্প আমার কত পরিচিত। এতো সাধারণ, সহজ, সরল, বাস্তব কাহিনী যে কাহিনীর ভেতরে ডুবে যেতে সময় লাগে না। আর চরিত্রের রূপায়ণ ছিল অসাধারণ। চরিত্রগুলোকে মনে হয়েছে অনেক দিনের চেনা।

কিন্তু বইটা শেষ করার পরে আমার মনে কিছু প্রশ্ন থেকে গিয়েছে।  বই খুঁজেও মনের মতো উত্তর আমি পাইনি। এটা হয়তো পাঠক হিসেবে আমার অপারগতা। কাহিনীর এই অংশটুকু উল্লেখ করছি না। নতুন পাঠক যারা আছেন, তাদের জন্য স্পয়লার হয়ে যেতে পারে।

শেষ কথা:
জহির রায়হানের অন্যসব বইয়ের মতো “বরফ গলা নদী” বইটিও নিজের বৈশিষ্ট্যে অনন্য। একটা মধ্যবিত্ত পরি।

 

পড়াশোনা ভালো করার টিপস।

0

পড়াশোনায় দ্রুত Improve করার ১০টি সিক্রেট টিপস! আজ আমরা কি নিয়ে হাজির হলাম তা টাইটেল দেখেই বুঝতে পারছে, তাহলে সময় না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক।

পড়াশোনা ভালো করার টিপস।

১। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হবে। ফলে অন্যদের চেয়ে বেশি সময় পাওয়া যাবে পড়াশোনার জন্য।

২। প্রতিদিন নতুন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনি অন্যদের থেকে দিন দিন এগিয়ে যাবেন।

৩। আগামীকাল কী পড়বেন তা আগের দিন পরিকল্পনা করে নোট করে রাখুন এবং পরের দিন সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী পড়ুন। পড়া ভাগ ভাগ করে পড়লে পড়তে ভালো লাগে, একঘেয়েমি আসে না।
(নোট টির নাম দিতে পারেন “স্টাডি প্ল্যান”)

৪। প্রতি সপ্তাহ ও মাসে কোন কোন বিষয় বা বই শেষ করবেন তা পরিকল্পনা করে নোট করে রাখুন। এতে করে খুব দ্রুত যে কোনো বই বা বিষয় শেষ করতে পারবেন।

৫। কঠিন বিষয়গুলো প্রতিদিন পড়ুন এবং লিখে হালকা শব্দ করে পড়ার চেষ্টা করুন। এতে করে কঠিন বিষয়গুলো খুব সহজে ভাল ভাবে শেখা হবে এমনকি বেশি দিন মনে থাকবে আপনার।

৬। যে কোনো বিষয়ে সম্পূর্ণ কন্সেপ্ট নিয়ে পড়ুন। নিজ থেকে না বুঝলে অন্যের সাহায্য নিতে পারেন। না বুঝেই কোনো কিছু মুখস্থ করবেন না বোকার মত এবং পড়ার সময় পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ার চেষ্টা করুন সর্বদা।

৭। মোবাইল, ফেইসবুক, মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম, হোটসএপ, ইউটিউব, টেলিগ্রাম, ইমো এসবে সময় ব্যয় কম করুন। যার ফলে আপনার পড়ায় বেশি সময় দিতে পারবেন।

৮। অযথা আড্ডা বাজি, হই হুল্লোড় বা ঘুরাফেরা করা থেকে বিরত থাকুন। এতে করে আপনার মাথায় খারাপ ও অনর্থক এবং বাজে চিন্তা আসবে না যার ফলে আপনি পড়াশুনায় ভালো ভাবে মনোনিবেশ করতে পারবেন।

৯। প্রতিদিন আপনার নিজস্ব স্বপ্নটাকে সকাল, বিকাল, রাতে ঘুমানোর আগে স্মরণ করুন। দরকার হলে স্বপ্নটিকে পড়ার টেবিলে উপর লিখে রাখতে পারেন। যেমন- ” আমি এ প্লাস পাব”, “আমি ভাল পুলিশ অফিসার হবো”। এতে করে বেশি বেশি পড়তে উৎসাহ পাবেন।

১০। আজই নেতিবাচক চিন্তাচেতনার মানুষদের পরিহার করুন এবং যতটুকু পারেন ইতিবাচক মানুষদের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করুন। যার ফলে আপনার ভিতরে ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা পাবেন।

পরিশেষে
কখনো-ই হতাশ হবেন না। খারাপ সময়ে ধৈর্য দরে লক্ষ্য ঠিক রেখে পরিশ্রম করে যান এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। ইনশাআল্লাহ, ভালো ফল পাবেন।

ইরাকক্সের পক্ষ থেকে সকল সৎ-পরিশ্রমীর জন্য শুভকামনা এবং ভালবাসা রইল। আপনার মতামত আমাদের কে জানাতে পারেন কমেন্ট করে। ভাল লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

error: Content is protected !!