Home Blog Page 5

বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগ ২০২১ – চাকরি নয়, সেবা। ৬৪টি জেলায়।

2

পুলিশে নিয়োগ ২০২১ এর মূলমন্ত্র হল- চাকরি নয়, সেবা। আপনি কি সৎ, সাহসী এবং দেশের জন্য যে কোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সক্ষম তাহলে আপনাকেই খুজছে বাংলাদেশ পুলিশ।

১। জেলাভিত্তিক শূন্য পদে পুলিশে নিয়োগ ২০২১

ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগের লক্ষ্যে জেলাভিত্তিক শূন্য পদের বিবরণ বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।

২. প্রার্থীর যোগ্যতা সমূহঃ

২.১ বয়স:

ক) বয়সসীমাঃ ১৮ হতে ২০ বছর

খ) বয়সসীমাঃ নির্ধারণের তারিখ যে সকল প্রার্থীর বয়স ০৭ অক্টোবর ২০২১ তারিখে বর্ণিত বয়সসীমার মধ্যে থাকবে তারা আবেদনের যোগ্য মর্মে বিবেচিত হবেন। তবে ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখে যারা | সর্বোচ্চ বয়সসীমায় পৌঁছেছেন তারাও আবেদনের যোগ্য মর্মে বিবেচিত হবেন। এ ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য কোটার জন্য বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি অনুসৃত হবে।

২.২ শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ এসএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ (কমপক্ষে জিপিএ ২.৫/সমমান); ২.৩ জাতীয়তা: বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক (পুরুষ ও নারী);

২.৪ বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত (তালাকপ্রাপ্ত/তালাকপ্রাপ্তা নয়); এবং

২.৫ শারীরিক যোগ্যতা
নারী ও পুরুষ প্রার্থীদের মধ্যে শারীরিক যোগ্যতার ভিন্নতা রয়েছে। নিছে চক আকারে দেয়া হল,

শারীরিক যোগ্যতা পুরুষ প্রার্থী নারী প্রার্থী
উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি ৫ ফুট ২ ইঞ্চি
মুক্তি কোঠার উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি ৫ ফুট ২ ইঞ্চি
ওজন উচ্চতা অনুযায়ি উচ্চতা অনুযায়ি
বুক স্বাভাবিক-৩২ ইঞ্চি, প্রসারণ-৩৪ ইঞ্চি প্রয়োজ্য নয়

৩. অনলাইনে আবেদনের নিয়মাবলি:

৩.১ প্রথম ধাপ:

ক. http://police.teletalk.com.bd-এ লগইন করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন ফরম সঠিকভাবে পূরণের লক্ষ্যে উক্ত লিংকে সহায়ক হিসাবে ভিডিও টিউটরিয়াল এবং ফরম পূরণের নির্দেশিকা দেয়া থাকবে। এছাড়া উক্ত লিংকের Help অপশন ব্যবহার করে ফরম পূরণের প্রয়োজনীয় সহায়তা নেয়া যাবে।
খ. আবেদনের সময় ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ সকাল ১০.০০ ঘটিকা হতে ০৭ অক্টোবর ২০২১ বিকাল ০৫.০০ ঘটিকা পর্যন্ত।

গ. আবেদন ফরম পূরণ করার অব্যবহিত পরে যোগ্য প্রার্থীগণ একটি User ID পাবেন। উক্ত User ID-তে আবেদন ফরম পূরণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যে কোনো টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল হতে ৩০ টাকা সার্ভিস চার্জ বাবদ (অফেরতযোগ্য) জমা করতে হবে।

ঘ. Online আবেদনপত্রে প্রার্থীর স্বাক্ষর (দৈর্ঘ্য ৩০০ x প্রস্থ ৮০ Pixel) ও রঙিন ছবি (দৈর্ঘ্য ৩০০ x প্রস্থ ৩০০ Pixel) স্ক্যান করে নির্ধারিত স্থানে Upload করতে হবে।

ঙ. Online আবেদনপত্রে পূরণকৃত তথ্য পরবর্তী সকল কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে বিধায় Online-এ আবেদনপত্র Submit করার পূর্বে পূরণকৃত সকল তথ্যের সঠিকতা সম্পর্কে প্রার্থীকে শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে; এবং চ. প্রার্থীকে Online-এ পূরণকৃত আবেদনপত্রের একটি রঙিন প্রিন্ট কপি পরীক্ষা সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে সহায়ক হিসাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

৩.২ দ্বিতীয় ধাপ:

User ID পাওয়ার পর কমপক্ষে ৩০ টাকা ব্যালেন্স রয়েছে এমন টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল হতে ২ টি SMS করতে হবে।

প্রথম SMS: TRC<space> User ID লিখে ১৬২২২ নম্বরে Send করতে হবে।

Example: TRC ABCDEF

Reply: Applicant’s Name TK (Service Charge 30/-) will be charged as service charge for the application of Trainee Recruit Constable examination. Your PIN is……..(10 digit). To pay fee type TRC<space>Yes<space>PIN and send to 16222.

দ্বিতীয় SMS: TRC<space> Yes<space> PIN Number লিখে ১৬২২২ নম্বরে Send করতে হবে।

Example: TRC YES 1234567890

Reply: Congrats! Applicant’s Name, payment completed successfully for the application for Trainee Recruit Constable examination. User ID is (xxxxxxxx) and Password is (xxxxxxxx).

৩.৩ Admit Card for Physical Endurance Test:

ক. Preliminary Screening-এর মাধ্যমে নির্বাচন পদ্ধতি সম্পন্ন করে বাছাইকৃত প্রার্থীদের আবেদনপত্রে উল্লিখিত মোবাইল নম্বরে SMS এর মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে অবহিত করা হবে। Online আবেদনপত্রে প্রার্থীর প্রদত্ত মোবাইল ফোনে পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় যোগাযোগ সম্পন্ন করা হবে বিধায় উক্ত নম্বরটি সার্বক্ষণিক সচল রাখা, SMS পড়া এবং প্রাপ্ত নির্দেশনা তৎক্ষণাৎ অনুসরণ করা বাঞ্চনীয়; এবং

খ. Preliminary Screening-এ বাছাইকৃত প্রার্থীদের SMS-এ প্রেরিত User ID এবং Password ব্যবহার করে http://police.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশকরত সিরিয়াল নম্বর, পদের নাম, ছবি, পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান/কেন্দ্রের নাম ইত্যাদি তথ্যসংবলিত Admit Card for Physical Endurance Test ডাউনলোড করে ০২ কপি প্রিন্ট করতে হবে।

৩.৪ হেল্পলাইন: শুধুমাত্র টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল ফোন থেকে প্রার্থীগণ নিম্নবর্ণিত SMS পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজ নিজ User ID এবং Password পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।

User ID জানা থাকলে TRC<space>Help<space>User<space>User ID & Send to 16222 Example: TRC Help User ABCDEF & Send to 16222

PIN Number জানা থাকলে TRC<space>Help<space>PIN<space>PIN No & Send to 16222

Example: TRC Help PIN 12345678 & Send to 16222

আবেদন ফরম পূরণের ক্ষেত্রে যে কোনো টেলিটক মোবাইল নম্বর হতে ১২১-এ কল করে প্রথমে ৮ অতঃপর ১-এ প্রেস করে এজেন্টের সহযোগিতা নেয়া যাবে অথবা ০১৫০০১২১১২১-এ সরাসরি কল করে অপারেটরের সহযোগিতা নেয়া যাবে।

৪. পুলিশে নিয়োগ ২০২১ এর নির্বাচন পদ্ধতি:

8.১ Preliminary Screening: অনলাইনে আবেদনকারী প্রার্থীদের মধ্যে হতে Preliminary Screening-এর মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের শারীরিক মাপ ও Physical Endurance Test-এর জন্য বাছাই করা হবে।

৪.২ শারীরিক মাপ ও Physical Endurance Test: Preliminary Screening-এ বাছাইকৃত প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখ, সময় ও স্থানে শারীরিক মাপ ও Physical Endurance Test (দৌড়, জাম্পিং, রোপ ক্লাইমিং, পুশ-আপ, ড্যাগিং ইত্যাদি) এ অংশগ্রহণ করতে হবে। YouTube-এ Bangladesh Police Official Channel, Bangladesh Police- Verified Facebook Page 4 Bangladesh Police Website http://www.police.gov.bd-এ Physical Endurance Test সংক্রান্ত “নতুন নিয়মে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষা” নামক একটি অনুশীলন ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীগণ ভিডিও দেখে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবেন।

৪.৩ লিখিত পরীক্ষা: শারীরিক মাপ ও Physical Endurance Test-এ উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ বিজ্ঞানের উপর ৪৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

৪.৪ মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা: লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখে ১৫ নম্বরের মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ।

৪.৫ প্রাথমিক নির্বাচন: প্রতি জেলায় নিয়োগযোগ্য প্রকৃত শূন্য পদে কোটার অনুকূলে সরকার কর্তৃক জারীকৃত বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি (সাধারণ, মুক্তিযোদ্ধা, আনসার ও ভিডিপি, এতিম, পোষ্য এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা) অনুসরণ করে লিখিত, মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হবে।

৪.৬ পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা: পুলিশে নিয়োগ ২০২১ এ প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থীরা পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করবে। পুলিশ ভেরিফিকেশনে সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হলে প্রশিক্ষণের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হবে। উল্লেখ্য, পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরমে কোনো তথ্য গোপন অথবা মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হলে চূড়ান্ত প্রশিক্ষণের জন্য মনোনয়ন প্রদান করা হবে না। এবং

৪.৭ চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্তকরণ: প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যোগদানের পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত পুনর্বাছাই কমিটি কর্তৃক শারীরিক যোগ্যতাসহ অন্যান্য তথ্যাদি যাচাইয়ের পর চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

৫. পুলিশে নিয়োগ ২০২১ এ প্রয়োজনীয় সনদসমূহের বিবরণ:

Preliminary Screening-এর মাধ্যমে বাছাইকৃত যোগ্য প্রার্থীদের শারীরিক মাপ ও Physical Endurance Test-এ অংশগ্রহণের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখ ও সময়ে নিজ জেলাস্থ পুলিশ লাইন্স (যে জেলার স্থায়ী বাসিন্দা) মাঠে নিম্নবর্ণিত কাগজপত্রাদিসহ উপস্থিত থাকতে হবে:

৫.১ Admit Card for Physical Endurance Test: Admit Card for Physical Endurance Test এর ডাউনলোডকৃত প্রিন্ট কপি (২ কপি)।
৫.২ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র: শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র/সাময়িক সনদপত্রের মূল কপি।
৫.৩ চারিত্রিক সনদপত্র: সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত চারিত্রিক সনদপত্রের মূল কপি।
৫.৪ নাগরিকত্ব সনদপত্র: জেলার স্থায়ী বাসিন্দা/জাতীয়তার প্রমাণস্বরূপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/সিটি কর্পোরেশনের মেয়র/পৌরসভার মেয়র/ওয়ার্ড কাউন্সিলর (যা প্রযোজ্য) এর নিকট হতে স্থায়ী নাগরিকত্বের সনদপত্রের মূল কপি।

৫.৫ অভিভাবকের সম্মতিপত্র: আইনানুগ অভিভাবক কর্তৃক প্রদত্ত সম্মতিপত্র।

৫.৬ জাতীয় পরিচয়পত্র: প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি (যদি প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকে তাহলে প্রার্থীর পিতা/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি)।

৫.৭ ছবি: সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত ৩ (তিন) কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

৫.৮ পরীক্ষার ফি: পরীক্ষার ফি (অফেরতযোগ্য) ১০০/- (একশত) টাকা ১-২২১১-০০০০-২০৩১” নম্বর কোডে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমাপূর্বক চালানের মূল কপি।

৫.৯ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রমাণক: মুক্তিযোদ্ধার নাম লাল মুক্তিবার্তায় থাকলে লাল মুক্তিবার্তার সত্যায়িত অনুলিপি / মুক্তিযোদ্ধার নাম ভারতীয় তালিকায় থাকলে ভারতীয় তালিকার সত্যায়িত অনুলিপি/মুক্তিযোদ্ধার নামে জারীকৃত গেজেটের মূল কপি।

৫.১০ মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রত্যয়নপত্র মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সন্তানদের ক্ষেত্রে ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট সম্পাদিত এফিডেভিট অথবা বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সাকসেশন সার্টিফিকেট এবং প্রার্থী যে মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র/কন্যার ঔরসজাত পুত্র/কন্যা এ মর্মে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/সিটি কর্পোরেশনের মেয়র/পৌরসভার মেয়র/ওয়ার্ড কাউন্সিলর (যা প্রযোজ্য) কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি।

৫.১১ পুলিশ পোষ্য কোটা এবং প্রমার্জন: কনস্টেবল হতে সর্বোচ্চ সাব-ইন্সপেক্টর/সার্জেন্ট/টিএসআই পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তার সন্তানগণের পুলিশ পোষ্য কোটার প্রাধিকার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে পিতা/মাতার নাম, পদবি (বিপি নম্বরসহ) উল্লেখপূর্বক কর্মরত জেলা/ইউনিট প্রধান কর্তৃক প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি (যদি পুলিশ পোষ্য কোটার কোনো প্রার্থীর পিতা/মাতা অবসর/মৃত্যুবরণ করে থাকেন, তা হলে উক্ত প্রার্থীর পিতা/মাতার সর্বশেষ কর্মস্থলের ইউনিট প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি)।

৫.১২ আনসার ও ভিডিপি কোটা: আনসার ও ভিডিপি কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৪২ (বিয়াল্লিশ) দিন মেয়াদি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সনদপত্রের মূল কপি।

৫.১৩ এতিম কোটা: এতিম কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সরকারি এতিমখানা ও সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত এতিমখানার প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র/প্রশংসাপত্র-এর মূল কপি (প্রত্যয়নপত্র/প্রশংসাপত্রে প্রার্থী এতিম মর্মে ঘোষণা থাকতে হবে এবং প্রার্থীর পূর্বকালীন স্থায়ী ঠিকানা ও তিমখানা নিবাসের নিবন্ধনকৃত ব্যক্তিগত নম্বর উল্লেখ থাকতে হবে)।

৫.১৪ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রমাণকস্বরূপ তাদের রাজা/ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রধান অথবা জেলা প্রশাসক/উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্রের মূল কপি; এবং

৫.১৫ চাকরিজীবী প্রার্থীদের অনুমতিপত্র: সরকারি/আধা-সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় চাকরিরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র।

৬. পুলিশে নিয়োগ ২০২১ এর প্রশিক্ষণ:

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত পুনর্বাছাই কমিটি কর্তৃক চূড়ান্ত বাছাইকালে যোগ্য বিবেচিত প্রার্থীগণকে নির্ধারিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসাবে ৬ (ছয়) মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে।

৭. প্রশিক্ষণকালীন সুযোগ সুবিধা:

৭.১ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) প্রশিক্ষণার্থী হিসাবে প্রশিক্ষণকালীন বিনা মূল্যে পোশাক সামগ্রীসহ থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা সুবিধা প্রাপ্য হবে। এবং

৭.২ প্রশিক্ষণকালীন সরকারি বিধি মোতাবেক প্রতি মাসে প্রশিক্ষণ ভাতা প্রাপ্য হবে।

৮. নিয়োগ ও চাকরির সুবিধাদি:

৮.১ সাফল্যের সাথে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী প্রার্থীদের ২০১৫ সনের জাতীয় বেতন স্কেলের ১৭তম গ্রেড ৯,০০০-২১,৮০০/- এবং বিধি মোতাবেক প্রাপ্য অন্যান্য বেতন-ভাতাদিসহ বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ প্রদান করা হবে।

৮.২ নিয়োগপ্রাপ্তদের যে কোনো জেলা/ইউনিটের শূন্য পদের বিপরীতে বদলি করা হলে তারা উক্ত জেলা/ইউনিটে কনস্টেবলের শূন্য পদে যোগদান করতে বাধ্য থাকবে।

৮.৩ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নির্বাচিত প্রার্থীর মৌলিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সমাপনান্তে জেলা/ইউনিটে যোগদানের তারিখ হতে সংশ্লিষ্ট জেলা/ইউনিট প্রধান কর্তৃক তার শিক্ষানবিশকাল ঘোষণা করা হবে। শিক্ষানবিশ ঘোষণার তারিখ হতে দুই বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট জেলা/ইউনিট প্রধান বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক তাকে কনস্টেবল পদে স্থায়ী করা হবে।

৮.৪ নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের শিক্ষানবিশকাল সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত অবিবাহিত থাকতে হবে।

৮.৫ নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীরা বিনা মূল্যে পোশাক সামগ্রী, ঝুঁকি ভাতা, চিকিৎসা সুবিধা এবং নিজ ও পরিবারের নির্ধারিত সংখ্যক সদস্যদের জন্য প্রাপ্যতা অনযায়ী পারিবারিক রেশন সামগ্রী স্বল্প মূল্যে প্রাপ্য হবে। এবং

৮.৬ নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য প্রচলিত নিয়মানুযায়ী উচ্চতর পদে পদোন্নতিসহ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

৯. পুলিশে নিয়োগ ২০২১ এর সাধারণ নির্দেশনাবলি:

৯.১ কর্তৃপক্ষ সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়োগযোগ্য পদের সংখ্যা হ্রাস/বৃদ্ধি করার অধিকার সংরক্ষণ করেন।

৯.২ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য বিষয়ে প্রার্থী কর্তৃক প্রদেয় তথ্যাদি সম্পর্কে তদন্তে কিংবা তদন্ত পরবর্তীকালে কোনো বিরূপ প্রতিবেদন পাওয়া গেলে উক্ত প্রার্থীকে প্রশিক্ষণ হতে অব্যাহতি/চাকরিচ্যুত/চাকরি হতে বরখাস্তকরণসহ তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৯.৩ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নির্বাচিত প্রার্থীর ক্ষেত্রে পিতা/মাতা/পিতামহ / পিতামহী/মাতামহ/মাতামহী এর অনুকূলে দাখিলকৃত প্রমাণকসমূহ যাচাইঅন্তে সঠিক পাওয়া না গেলে প্রশিক্ষণ হতে অব্যাহতি/চাকরিচ্যুত/চাকরি হতে বরখাস্তকরণসহ তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রার্থী কর্তৃক দাখিলকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে একবার জাল প্রমাণিত হলে তা পুনর্যাচাইয়ের কোনো সুযোগ থাকবে না।

৯.৪ চাকরিতে প্রবেশকালীন প্রার্থী কর্তৃক দাখিলকৃত কাগজপত্রাদি (বিভিন্ন সনদ/প্রত্যয়নপত্র) ব্যতিরেকে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্নের পরে ইস্যুকৃত বা নতুনভাবে অন্য কোনো কাগজপত্রাদির ভিত্তিতে কনস্টেবল পদে নিয়োগ প্রদানের কোনো সুযোগ নেই।

৯.৫ ত্রুটিপূর্ণ/অসম্পূর্ণ/বিলম্বে প্রাপ্ত/ভুল তথ্য কিংবা মিথ্যা তথ্যসংবলিত আবেদনপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত/নিয়োগকৃত/প্রশিক্ষণরত/চাকরিরত অর্থাৎ যে কোনো পর্যায়ে কোনো প্রার্থী কর্তৃক দাখিলকৃত তথ্য মিথ্যা/ভুল/প্রার্থীর কোনো প্রতারণা প্রমাণিত হলে তাকে নিয়োগের অযোগ্য/বহিষ্কার/চাকরিচ্যুত/বরখাস্তকরণসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৯.৬ কোনো প্রার্থী পুলিশ বাহিনী/অন্য কোনো নিয়মিত বাহিনী/যে কোনো সরকারি চাকরি হতে বহিষ্কৃত/চাকরিচ্যুত/বরখাস্ত হয়ে থাকলে আবেদনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

৯.৭ কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে কর্তৃপক্ষ যে কোনো প্রার্থীর নিয়োগ/আবেদনপত্র বাতিলের অধিকার সংরক্ষণ করেন। নিয়োগ সংক্রান্ত সকল বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এবং

৯.৮ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীদের কোনো প্রকার ভাতা প্রদান করা হবে না।

পুলিশে নিয়োগ ২০২১ এর জেলা ভিত্তিক সময়সূচিঃ

১০. শারীরিক মাপ ও Physical Endurance Test, লিখিত পরীক্ষা, মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি:

প্রার্থীদের নিম্নবর্ণিত তারিখ ও সময়ে স্ব-স্ব জেলার পুলিশ লাইন্স মাঠে উপস্থিত থাকতে হবে:

সবার জন্য শুভ কামনা। যে কোন তথ্য সহযোগীতার জন্য কমেন্ট করুন। বন্ধুদের জানাতে শেয়ার করুন।

পুলিশে নিয়োগ ২০২১ এর জেলা ভিত্তিক নিয়োগযোগ্য শূন্য পদের পরিশংখান।

শেয়ার ও কমেন্ট করতে পারেন কিছু জানার থাকলে।

অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’তে নিয়োগ ২০২১।

0
অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’তে নিয়োগ ২০২১
বিশেষ নির্দেশনা:

১. বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না।

এপ্লাই এর জন্য এখানে এ ক্লিক করুন।

পুরো সার্কোলার টি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনকারীর ধরন
ক্যাটাগরী প্রার্থীর বিবরণ
সাধারণ (General) ১২ ক্যাডেট কলেজ, এমসিএসকে, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ক্যাটাগরী ব্যতিত আবেদনকারীগণ সাধারণ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
ক্যাডেট কলেজ (Cadet College) শুধুমাত্র ১২ ক্যাডেট কলেজ এর আবেদনকারী প্রার্থীগণ ক্যাডেট কলেজ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
এমসিএসকে (MCSK) প্রার্থী শুধুমাত্র মিলিটারী কলেজিয়েট স্কুল, খুলনা (এমসিএসকে) এর আবেদনকারী প্রার্থীগণ এমসিএসকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
বিএনসিসি প্রার্থী (BNCC) বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) সদর দপ্তরের আওতাধীন ০৫টি রেজিমেন্টের আবেদনকারীগণ বিএনসিসি প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
সশস্ত্র বাহিনীর প্রার্থী (Sainik) সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত আবেদনকারী প্রার্থীগণ সশস্ত্র বাহিনী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
বয়স:

০১ জুলাই ২০২২ তারিখে ১৭-২১ বছর (এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়); সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত প্রার্থীদের জন্য ০১ জুলাই ২০২২ তারিখে ১৮-২৩ বছর।

অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’তে নিয়োগ ২০২১

শিক্ষাগত যোগ্যতা:

(১) জাতীয় মাধ্যম: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট/সমমান পরীক্ষায় যে কোন একটিতে জিপিএ ৫.০০ ও অন্যটিতে জিপিএ ৪.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ।
(২) ইংরেজী মাধ্যম: ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ও‌ লেভেলে ৬টি বিষয়ের মধ্যে ৩টিতে এ গ্রেড, ৩টিতে বি গ্রেড এবং এ লেভেলে ২ টি বিষয়েই ন্যুনতম বি গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ। অথবা, ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ও‌ লেভেলে ৬টি বিষয়ের মধ্যে ২টিতে এ গ্রেড, ৩টিতে বি গ্রেড ও ১টিতে সি গ্রেড এবং এ লেভেলে ২ টি বিষয়েই ১টিতে এ গ্রেড ও ১টিতে বি গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ।
(৩) সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত প্রার্থীদের জন্য‍: এইচএসসি ও এসএসসি উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যুনতম জিপিএ ৪.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ।
(৪) ২০২১ সালের নিয়মিত এইচএসসি/এ লেভেল পরীক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়া: বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নিয়মিত এইচএসসি/এ লেভেল পরীক্ষার্থীগণও আবেদন করতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে এসএসসি (SSC)-তে অবশ্যই জিপিএ-৫/ও লেভেল পরীক্ষায় ‌‌‌‌‌ ৬টি বিষয়ের মধ্যে ৩টিতে এ গ্রেড, ৩টিতে বি গ্রেড/সমমান ফলাফল থাকতে হবে। তবে, বিএমএ যোগদানের পূর্বে ফলাফল প্রকাশিত হতে হবে এবং ফলাফল ব্যতীত কোন প্রার্থী বিএমএ-তে যোগদান করতে পারবে না।

অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’তে নিয়োগ ২০২১

শারীরিক যোগ্যতা (ন্যূনতম)
শারীরিক যোগ্যতা পুরুষ প্রার্থীদের জন্য মহিলা প্রার্থীদের জন্য
উচ্চতা ১.৬৩ মিটার (৫ ফুট ৪ ইঞ্চি) ১.৫৭ মিটার (৫ ফুট ২ ইঞ্চি)
ওজন* ৫৪ কিলোগ্রাম (১২০ পাউন্ড) ৪৭ কিলোগ্রাম (১০৪ পাউন্ড)
বুক স্বাভাবিক-৩০ ইঞ্চি, প্রসারণ-৩২ ইঞ্চি স্বাভাবিক-২৮ ইঞ্চি, প্রসারণ-৩০ ইঞ্চি
*উচ্চতা ও বয়স অনুসারে সশস্ত্রবাহিনীর জন্য নির্ধারিত স্কেলের অতিরিক্ত ওজন হলে অযোগ্য বিবেচিত হবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’তে নিয়োগ প্রক্রিয়া।

0

সৈনিক

যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য সেনাবাহিনীতে নিয়োগ একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। প্রত্যেক পুরুষ ও মহিলা নাগরিক, জাতি, শ্রেণী বা ধর্ম নির্বিশেষে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের যোগ্য, যদি তিনি নির্ধারিত বয়স, শিক্ষাগত, শারীরিক এবং চিকিৎসা প্রয়োজন পূরণ করেন। সদর দপ্তর নিয়োগ ইউনিট (HQ RU)/শাখা রিক্রুটমেন্ট ইউনিট (BRU) এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দ্বারা বার্ষিক ভিত্তিতে (দুই ধাপে) নিয়োগ করা হয়।

যোগ্যতা

1. বয়স ।

Trade সাধারণ বাণিজ্য (পুরুষ ও মহিলা)

– 17 থেকে 20 বছর (হলফনামা গ্রহণযোগ্য নয়)

· প্রযুক্তিগত বাণিজ্য (পুরুষ)

– 17 থেকে 21 বছর (হলফনামা গ্রহণযোগ্য নয়)।

– 18 থেকে 21 বছর শুধুমাত্র চালকদের জন্য (হলফনামা গ্রহণযোগ্য নয়)।

2. শারীরিক মান (ন্যূনতম) ।

প্রয়োজনীয়তা

পুরুষ

মহিলা

উচ্চতা 1.68 মিটার (5′-6 “)। উপজাতির জন্য 1.63 মিটার (5′-4 ”) 1.60 মিটার (5′-3 “)। উপজাতির জন্য 1.56 মিটার (5′-1 “)
ওজন 49.90 কেজি (110 পাউন্ড) 47 কেজি (104 পাউন্ড)
বুক স্বাভাবিক 0.76 মিটার (30 ইঞ্চি)।

প্রসারিত 0.81 মিটার (32 ইঞ্চি)

স্বাভাবিক 0.71 মিটার (28 ইঞ্চি)।

প্রসারিত 0.76 মিটার (30 ইঞ্চি)

3. শিক্ষাগত যোগ্যতা ।

পুরুষ/মহিলা

বাণিজ্য

যোগ্যতা

জিপিএ

গ্রুপ

Rmks

পুরুষ

সাধারণ

এসএসসি বা সমমান

জিপিএ-3.0.০

সব গ্রুপ

কারিগরি বাণিজ্য

এসএসসি ভোকেশনাল বা ট্রেড কোর্সের সমতুল্য

জিপিএ-3.0.০

বিজ্ঞান

ড্রাইভার ট্রেড

এসএসসি বা সমমান

জিপিএ-3.0.০

সব গ্রুপ

প্রয়োজনীয় বৈধ বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা টিটিটিআই থেকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট।

মহিলা

সাধারণ

এসএসসি বা সমমান

জিপিএ-3.0.০

সব গ্রুপ

বিজ্ঞানের পটভূমির প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

5. বৈবাহিক অবস্থা। অবিবাহিত।

5. জাতীয়তা । জন্মসূত্রে বাংলাদেশী।

6. সাঁতার । সাঁতার জানতে হবে।

অযোগ্যতা

। সেনাবাহিনী/নৌবাহিনী/বিমান বাহিনী বা যেকোনো সরকারি চাকরি থেকে প্রত্যাহার/ছাড়পত্র।

কখন আবেদন করতে হবে

অর্ধবার্ষিক ভিত্তিতে জাতীয় দৈনিকের মাধ্যমে নিয়োগের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। জেলা অনুযায়ী শূন্যপদ বরাদ্দ করা হয়। সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের টেলিটক মোবাইলের এসএমএসের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে এবং তারপর পরীক্ষার তারিখ ও ভেন্যু সহ প্রবেশপত্র পেতে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। পরীক্ষার দিন নিয়োগের ভেনুতে নিম্নলিখিত নথি এবং উপকরণগুলি বহন করতে হবে:

  • সকল শিক্ষাগত সার্টিফিকেট এবং মার্কশিট (একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট)। যদি ফটোকপি হয় তাহলে যথাযথভাবে প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার কর্তৃক সত্যায়িত।
  • স্থায়ী ঠিকানা এবং জন্ম তারিখ সহ স্কুল প্রধানের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র।
  • চেয়ারম্যান ইউনিয়ন কাউন্সিল/চেয়ারম্যান পৌরশব/ওয়ার্ড কমিশনার কর্তৃক যথাযথভাবে সত্যায়িত পিতামাতার সম্মতি সনদ।
  • যেকোন সরকার অনুমোদিত কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রযুক্তিগত সার্টিফিকেট (কারিগরি প্রার্থীদের জন্য)।
  • 6 কপি (5 সেমি x 4 সেমি) এবং 2 কপি (2.5 সেমি x 2 সেমি) সাম্প্রতিক রঙিন ছবি প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার দ্বারা যথাযথভাবে সত্যায়িত।
  • সাঁতারের জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক।
  • লিখিত পরীক্ষার জন্য কলম, পেন্সিল, স্কেল এবং ক্লিপবোর্ড।

দ্রষ্টব্য : কর্মরত/অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মীদের সন্তানরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ নিয়োগের দিন সরাসরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে রিপোর্ট করতে পারে। তবে তারা শুধুমাত্র নিয়োগ করা হবে যদি তারা নির্ধারিত মান পূরণ করে।

বাছাই পদ্ধতি

 

  • প্রাথমিক স্ক্রিনিং । প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ের মধ্যে রয়েছে নথিপত্র পরীক্ষা করা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা পরীক্ষা।
  • লিখিত পরীক্ষা । প্রাথমিক পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় উপস্থিত হবেন। পরীক্ষায় সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান এবং আইকিউ পরীক্ষার প্রশ্ন থাকে।
  • চূড়ান্ত চিকিৎসা পরীক্ষা । লিখিত পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থীরা চূড়ান্ত মেডিকেল পরীক্ষায় উপস্থিত হবেন।
  • চূড়ান্ত নির্বাচন । নিয়োগকারী কর্মকর্তা চূড়ান্ত নির্বাচন করবেন।
  • প্রশিক্ষণ নিয়োগকারীরা তাদের অস্ত্র/পরিষেবার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন কেন্দ্রে 01 বছরের জন্য প্রশিক্ষণ নেবে। প্রশিক্ষণ শেষ হলে, নিয়োগপ্রাপ্তদের সেন্টারগুলিতে যোগদানের তারিখ থেকে “SAINIK” হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হবে।

অফিসার

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার অফিসার্স কোরের জন্য সঠিক মানের, শিক্ষাগত সম্ভাব্যতা এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিশ্রুতিশীল যুবক/মহিলাদের প্রয়োজন। সেনাবাহিনী হল চ্যালেঞ্জিং নেতৃত্বের সাথে সম্মান ও মর্যাদার পেশা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে একজন কর্মকর্তা হিসেবে আপনি একটি গৌরবময় traditionতিহ্যের উত্তরাধিকারী হবেন। তাই আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিন। আপনার নিম্নলিখিত বিকল্প আছে:

বিএমএ নিয়মিত কমিশন (দীর্ঘ কোর্স)

প্রয়োজনীয়তা

একজন কমিশনড অফিসারের জন্য আবেদন করার জন্য আপনাকে হতে হবে:

  • ১ –২১ বছর বয়সী ১ জানুয়ারি বা ১ জুলাই ভর্তি হয়েছে এবং যারা ইতিমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীতে চাকরি করছে তাদের জন্য ১-2-২২ বছর।
  • একজন বাংলাদেশী নাগরিক।
  • অবিবাহিত.
  • এসএসসি এবং এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় বিএমএ লং কোর্সের জন্য ন্যূনতম জিপিএ -৫.০ এবং ডিএসএসসি এবং বিএমএ স্পেশাল কোর্সের জন্য জিপিএ-3.5.৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া। ইংরেজি মাধ্যমের প্রার্থীদের জন্য, ‘O’ লেভেলে কমপক্ষে 04xA*/A গ্রেড এবং 06x বিষয়ের মধ্যে 02xB গ্রেড এবং ‘A’ লেভেলে কমপক্ষে 01xA গ্রেড এবং 02 বিষয়ের মধ্যে 01xB গ্রেড পেতে হবে।
  • একটি মানসম্মত শারীরিক যোগ্যতা যেমন বর্ণনা করা হয়েছে:
    • পুরুষ
      • উচ্চতা 1.63 মিটার / 5 ফুট 4 ইঞ্চি
      • ওজন 50 কেজি (110 পাউন্ড)
      • বুক 0.76 মিটার (30 ইঞ্চি) স্বাভাবিক, 0.81 মিটার (32 ইঞ্চি) প্রসারিত
    • মহিলা
      • উচ্চতা 1.60 মিটার / 5 ফুট 2 ইঞ্চি
      • ওজন 47 কেজি (104 পাউন্ড)
      • বুক 0.71 মিটার (28 ইঞ্চি) স্বাভাবিক, 0.76 মিটার (30 ইঞ্চি) প্রসারিত
সরাসরি শর্ট সার্ভিস কমিশন

সেনাবাহিনীর পেশাদার শাখা (আর্মি মেডিকেল কর্পস, আর্মি ডেন্টাল কর্পস, আর্মি এডুকেশন কর্পস – জজ অ্যাডভোকেট জেনারেলস শাখা, ইঞ্জিনিয়ার্স কর্পস, ইলেক্ট্রিকাল্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পস এবং আর্মি সিগন্যাল কর্পস) বেসামরিক ডিগ্রিপ্রাপ্ত নেতাদের সরাসরি শর্ট পাওয়ার উপায় প্রদান করে। তাদের কর্মজীবনের ক্ষেত্রে সার্ভিস কমিশন। বিশেষভাবে পরিকল্পিত কোর্সে সামরিক ইতিহাস, সেনা নেতৃত্ব, সামরিক রীতিনীতি এবং ক্যারিয়ার ভিত্তিক ক্লাসের নির্দেশনা রয়েছে।যারা সরাসরি কমিশন লাভ করে তারা তাদের কর্মজীবন শাখা দ্বারা নির্ধারিত পদ পাবে।

আপনার দক্ষতার ক্ষেত্রটি আরও একটু এক্সপ্লোর করুন এবং দেখুন সেনাবাহিনী কি অফার করছে:

আর্মি মেডিকেল কর্পস (এএমসি)

আর্মি মেডিকেল কর্পস (এএমসি) বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং সর্বাধিক উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি। আর্মি মেডিকেল কর্পসে কমিশনড অফিসাররা medicineষধের সর্বাধুনিক প্রান্তে আছেন এবং আমাদের দেশ ও সৈন্যদের সেবা করার সন্তুষ্টি অর্জন করেছেন।

আর্মি ডেন্টাল কর্পস (এডিসি)

আর্মি ডেন্টাল কর্পস (এডিসি) বাংলাদেশের আরেকটি উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। আর্মি ডেন্টাল কর্পসে কমিশনড অফিসার এবং উচ্চ যোগ্য সৈনিকরা আমাদের জাতি এবং আমাদের সৈন্যদের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি প্রদান করে।

আর্মি এডুকেশন কর্পস (জজ অ্যাডভোকেট জেনারেলের শাখা)

সেনা জজ অ্যাডভোকেট জেনারেলস (জেএজি) কর্পস বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মীদের জন্য একটি সুচারু বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

ইঞ্জিনিয়ারদের দল

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্পস ইঞ্জিনিয়াররা বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে বাড়িতে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত রয়েছে। ১ Army১ সাল থেকে কুয়েত পুনোরগোথন অপারেশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্পস ইঞ্জিনিয়ারিং অপারেশন খুব সফলভাবে কাজ করছে।

সিগন্যাল কর্পস

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সংকেত বাহিনী বাড়িতে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে উভয়ই বিভিন্ন যোগাযোগের কাজে নিয়োজিত।

বৈদ্যুতিক এবং যান্ত্রিক প্রকৌশলী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পস বাড়িতে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিভিন্ন মেরামত ও পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব পালন করছে।

আর্মি এডুকেশন কর্পস

সেনাবাহিনী শিক্ষা বাহিনী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মী এবং ক্যাডেটদের জন্য শিক্ষাগত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেভাবে টিকা নিবেন।

0

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সকল কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত সকল শিক্ষার্থী (১৮ বছরের উর্ধ্বের) নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিজ দায়িত্বে নিবন্ধিত হয়ে কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন নিতে পারবেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে সুরক্ষা ওয়েবসাইটের https://surokkha.gov.bd/ মাধ্যমে কোভিড-১৯ টিকার নিবন্ধন করে টিকা নিতে হবে।

যদিও এর আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সকল শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ এর টিকা প্রদানের লক্ষ্যে তালিকা সংগ্রহ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্যছক পুরণ করে সাবমিট করার জন্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়েছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এতে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থীর তালিকা পাওয়া গেছে।

কিন্তু সরকার যেহেতু ১৮ বছরের উর্দ্ধের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার ঘোষণা দেয় তাই সবাইকে নিজ দায়িত্বে ভ্যাক্সিন নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮ বছরের বেশি বয়সের ছাত্র-ছাত্রীদের সুরক্ষা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকার নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ১৮ বয়সের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীরা সুরক্ষা সিস্টেমের মাধ্যমে টিকার নিবন্ধন করে নিজ দায়িত্বে কোভিড-১৯ টিকা নিতে পারবে। সুরক্ষা ওয়েবসাইটে অনলাইনে নিবন্ধন কয়ার পর টিকার ১ম ও ২য় ডোজ নেয়ার জন্য নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুরক্ষা ওয়েবসাইট  শ্রেণি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী’ ক্যাটাগরির পরিবর্তে ‘১৮ বছর বা তদুর্ধ্ব ছাত্র- ছাত্রী’ ক্যাটাগরি নির্বাচন করে করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন হবে জাতীয় পরিচয় পত্র এনআইডি কার্ড, মোবাইল নম্বর এবং নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের নিবন্ধন করার জন্য প্রথমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকার নিবন্ধনের এই https://surokkha.gov.bd/ লিংকে প্রবেশ করুন। এরপর ওয়েবসাইটের ‘ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধন করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। একটি নিবন্ধন ফরম দেখতে পাবেন উক্ত নিবন্ধন ফর্মের শ্রেণী (ধরণ) নির্বাচন করুন বাটনে ক্লিক করে ১৮ বছর বা তদুর্ধ্ব সিলেক্ট করুন।

এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্ম তারিখ (জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী) এবং বক্সে প্রদর্শিত লেখাটি সঠিকভাবে লিখে “যাচাই করুন” বাটনে ক্লিক করুন। সঠিকভাবে এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ প্রবেশ করালে আবেদনকারী তার নাম দেখতে পাবে। এরপর আপনার মোবাইল নম্বর সতর্কতার সাথে এন্ট্রি দিয়ে “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করতে হবে।

পরবর্তী ধাপে বর্তমান ঠিকানা সঠিক ভাবে এন্ট্রি করে “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর আপনি যে কেন্দ্রে টিকা দিতে ইচ্ছুক সেই টিকা কেন্দ্র সঠিকভাবে সিলেক্ট করে “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করতে হবে।

পরবর্তী ধাপে আপনার মোবাইল নম্বরে একটি কোড পাঠানো হবে উক্ত কোড সঠিকভাবে এন্ট্রি দিয়ে যাচাই করতে হবে। যাচাই করার পরেই আপনার নিবন্ধন সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে।

অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন হলে তথ্য যাচাইপূর্বক পর্যায়ক্রমে টিকা প্রদানের তারিখ ও কেন্দ্রের নাম উল্লেখপূর্বক নিবন্ধনের সময় প্রদানকৃত মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে টিকা প্রদানের তারিখ জানানো হবে। মুঠোফোনে খুদেবার্তা প্রাপ্তি সাপেক্ষে টিকাকার্ড জাতীয় পরিচয়পত্র ও সম্মতিপত্রসহ নির্দিষ্ট তারিখে টিকাদান কেন্দ্রে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করবেন।

কোভিড-১৯ টিকার ১ম ও ২য় ডোজ নেয়ার জন্য নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট টিকাদান কেন্দ্রে টিকার কার্ড সাথে নিয়ে যেতে হবে। টিকা প্রদান শেষ হলেও ভবিষ্যৎ প্রয়োজনে কার্ডটি সংরক্ষণ করতে হবে।

আমলাতন্ত্র কী? আধুনিক রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা এবং সমালোচনা।

0

আমলাতন্ত্র কী? আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা কী? এবং এর সমালোচনা।

আমলাতন্ত্র একটি সার্বজনীন ধারণা। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের প্রত্যেকটি রাষ্ট্রই কম বেশি আমলা দ্বারা পরিচালিত। আধুনিক রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা বহুলাংশে আমলাদের উপরই নির্ভরশীল।

Bureaucracy” শব্দটি যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত সুপরিচিত একটি শব্দ। আমলাতন্ত্রের যেমনিভাবে ব্যাপক সুনাম রয়েছে তেমনিভাবে এর সমালোচনা রয়েছে অনেক। কখনো কখনো এটি তার নিয়ম পদ্ধতির বাইরে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। আর অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ।

আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ : আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো— ‘Bureaucracy‘। শব্দটি ফরাসী শব্দ ‘Bureau‘ ও গ্রীক শব্দ ‘Kratein‘ শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ হচ্ছে ‘Desk Government’ – তাই উৎপত্তিগত অর্থে আমলাতন্ত্র হলো দপ্তর সরকার বা ‘Desk Government.

আমলাতন্ত্র : আধুনিককালে যে কোনো প্রশাসনই আমলানির্ভর। আমলাতন্ত্রের সূত্রপাত হয়েছে সেনাবাহিনীতে। বর্তমানে এটি প্রশাসনের একটি অপরিহার্য সংগঠনে পরিণত হয়েছে। আমলাতন্ত্রের জনক যদিও ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয়, পরবর্তীতে বিভিন্ন দার্শনিক এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।

পারিভাষিক সংজ্ঞা : সাধারণত আমলাতন্ত্র বলতে আমলাদের কর্তৃত পরিচালিত শাসন ব্যবস্থাকে বুঝায় । সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য যে কর্তৃক ব্যবস্থা মানবশক্তি, কার্যালয় ও বিভিন্ন কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেন, তারই সমষ্টিকে আমলাতন্ত্র বলা হয়।

প্রামাণ্য সংজ্ঞা : বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে আমলাতন্ত্রের যে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন তা নিম্নে তুলে ধরা হলো :

অধ্যাপক ফাইনার এর মতে, The civil service is body of officials permanent paid and skilled. অর্থাৎ আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।

Paul H. Apleby এর ভাষায়, আমলাতন্ত্র বলতে অসংখ্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে ও জটিল শর্তে সুশৃঙ্খলভাবে পরস্পর একত্রিত হওয়াকে বুঝায়।

আধুনিক সরকার ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। গণতন্ত্রে আমলাতন্ত্র বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে। প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। তবে আমলাতন্ত্র যে সর্বদা নন্দিত তা কিন্তু নয়। আমলাতন্ত্রে কতিপয় ত্রুটি বিদ্যমান। বিরুদ্ধবাদীরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এর সমালোচনা করেছেন। যা আমলাতন্ত্রকে সীমিত করেছে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা :

গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্রের ভূমিকা ও কার্যাবলি নিম্নরূপ-:

১। নীতি নির্ধারণ : রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ আমলাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র নীতি নির্ধারণী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে আমলাগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২। আইন প্রণয়ন : আইন প্রণয়ন করা আমলাতন্ত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আমলারা আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আইন প্রণয়নের জন্য যে সকল কলাকৌশল, বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা প্রয়োজন তা অনেক সময় আইনসভার সদস্যগণের মাঝে পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে আমলারা সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের উপর আইন প্রণয়নের দায়িত্ব অর্পিত হয়। এক্ষেত্রে তাদের রচিত আইনকে Delegated Legalslation বলে ।

৩। বিচার : বর্তমান গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আমলারা বিচার সংক্রান্ত কাজ করে। বর্তমানে আমলারা কিছু কিছু বিরোধের সমাধান করে থাকে। তারা আদালতের পরিবর্তে নিজেরাই কিছু কিছু বিবাদ-বিসম্বাধের মীমাংসায় অংশ নেয়।

Alomond Dowel-এর ভাষায়, বিভাগীয় ন্যায়-বিচার ও বিভাগীয় ট্রাইব্যুনাল সম্প্রসারণের ফলে আমলাতন্ত্রে কিছু কিছু বিচার সংক্রান্ত কার্য সম্পাদিত হয়।

৪। সরকারি নীতির বাস্তবায়ন : আমলাতন্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো সরকারি নীতির বাস্তবায়ন। আমলারা শুধু আইন প্রণয়ন করে না, আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখে। আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে সরকারি নীতি ও বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়।

৫। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষা প্রশাসনিক : ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আমলাতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বদায়িত্ব। নিরবচ্ছিন্ন শাসনকার্য ছাড়া প্রশাসনিক গতিশীলতা আসে না। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তিত হয়। কিন্তু আমলাশক্তির কোনো পরিবর্তন ঘটে না। তারা প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।

৬। দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা: আমলাতন্ত্রের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা করা। গণতন্ত্রে আমলারা দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা করে থাকে। আমলাদের দৈনিক কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সামাজিক নিরাপত্তা, পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা, সংস্থাপন, কর ও জনকল্যাণ সংক্রান্ত কাজ। দৈনন্দিন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রশাসন গতিশীলতা লাভ করে।

৭। পরামর্শদান : আমলাতন্ত্র পরামর্শ সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি আমলাদের একটি উপদেষ্টামূলক কাজ। মন্ত্রীরা অনেক বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা রাখতে পারেন না। এক্ষেত্রে আমলাগণ তাদেরকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে থাকেন।

৮। সামাজিক পরিবর্তন : সামাজিক পরিবর্তন গণতন্ত্রের একটি বিশেষ দিক। গণতন্ত্র সদা পরিবর্তনশীল। সময়ের সাথে সাথে গণতন্ত্র সমুন্নত ও শক্তিশালী হয়। এক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তন বিশেষ ভূমিকা রাখে।

৯। স্বার্থের মূল্যায়ন : আমলাতন্ত্র বিভিন্ন প্রতিযোগিতাশীল মূল স্বার্থের মূল্যায়নে ভূমিকা রাখে। তারা বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে জনস্বার্থের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করে। সংশ্লিষ্ট বিষয় জনস্বার্থে কতটুকু সম্পৃক্ত তা আমলারা যাচাই করে। এক্ষেত্রে গোষ্ঠী স্বার্থের চেয়ে জনস্বার্থ বেশি প্রাধান্য পায়।

১০। তথ্য সরবরাহ : তথ্য সরবরাহে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমলারা বিভিন্ন বিষয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। জনসাধারণ, বিভিন্ন গোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সরকারের প্রয়োজন হয়। আমলারা সেসব ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে থাকে।

১১। ভারসাম্য রক্ষা : আমলাতন্ত্রের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ভারসাম্য রক্ষা করা। আমলারা পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে থাকে। এছাড়া গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র বিভিন্ন গোষ্ঠীর স্বার্থে সমন্বয় সাধন করে। যার মাধ্যমে প্রশাসনিক ভারসাম্য তৈরি হয়।

১২। রাজনৈতিক স্থায়িত্ব : আমলারা রাজনৈতিক স্থায়িত্বে ভূমিকা রাখে। রাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। বিশেষত অনুন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে এক্ষেত্রে আমলারা কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

১৩। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা : রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা আমলাতন্ত্রের একটি বিশেষ কাজ। আমলাতন্ত্র কখনো কখনো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে । এটি তাদের একটি আনুষ্ঠানিক কাজ ।

আমলাতন্ত্র এর সমালোচনা :

আমলাতন্ত্র সব সময় স্বচ্ছ তা কখনো নয়। আমলাতন্ত্রে নানা ত্রুটি বিদ্যমান। নিম্নে আমলাতন্ত্রের সমালোচনা তুলে ধরা হলো :

১। লালফিতার দৌরাত্ম্য :

আমলাতন্ত্রের অন্যতম ত্রুটি হচ্ছে লালফিতার দৌরাত্ম্য। লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে মূলত পূর্বের নীতিকে অনুসরণ বা ধারাবাহিকতা রক্ষা করা বুঝায়। তবে যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকালে পূর্বের নজির বা নীতিকে অনুসরণ একেবারে খারাপ নয়। কে. বি. স্মেলক এর মতে, যথাযথভাবে ব্যবহৃত লালফিতার আইনের সামনে সকল নাগরিকের সমানাধিকার প্রতীক হতে পারে। তবে পূর্ব নজিরকে হুবহু অনুসরণ করা ঠিক নয়। কারণ এর মাধ্যমে সততার উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং বিষয়টির ফয়সালা তার গুণাগুণের ভিত্তিতে হয় না। বরং এটি মান্ধাতা আমলের পুরনো নজির অনুসারে সম্পাদিত হয়।

২। ক্ষমতার লিপ্সা :

আমলাতন্ত্রের অন্যতম ত্রুটি হচ্ছে ক্ষমতার লিপ্সা। এটি আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ। আমলারা দায়িত্বে বসার পর থেকে তাদের ক্ষমতা, পদমর্যাদা, কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালান। তারা আইনসভা ও বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা গ্রহণে সচেষ্ট থাকেন। তারা ক্ষমতা হস্তান্তর নীতিতে খুব একটা আগ্রহী নয়, কারণ এর মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা হ্রাস পাবে। তাদের ক্ষমতার মোহ জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে।

৩। দায়িত্বহীনতা :

দায়িত্বহীনতা আমলাতন্ত্রের বিশেষ সমালোচনা। এটি আমলাতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অন্যতম ত্রুটি। আমলাগণ রাষ্ট্রের স্থায়ী কর্মচারী। যে কোনো কাজের জন্য সরাসরি জনগণের কাছে দায়ী থাকে না। কাজের জন্য জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে হয় মন্ত্রীগণকে। যার কারণে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা জনগণের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা জনগণের নিকট দায়বদ্ধ না থাকায় নিজেদের খেয়াল খুশিমত কাজ করতে কুণ্ঠাবোধ করে না।

৪। উদাসীনতা :

উদাসীনতা আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি সমালোচনা। আমলারা তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতার মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। তারা নিজেদেরকে একটি এলিট শ্রেণি বলে দাবি করেন। তারা নিজেদেরকে উচ্চ শিক্ষিত বলে দাবি করেন। তারা সময় সময় নিজেদের ইচ্ছামত নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রিত রাখতে চায়। যার কারণে অনেক সময় জনগণের স্বার্থের প্রতি উদাসীন থাকেন।

৫। বিভাগীকরণ :

আমলাতন্ত্রের বিশেষ ত্রুটি হচ্ছে বিভাগীকরণ। বিভাগীকরণ আমলাতান্ত্রিক সরকারের কাজকর্ম বিভাজিত করে কতিপয় পৃথক ও স্বতন্ত্র বিভাগ সৃষ্টি করে। E. N. Giadden বলেন, আমলারা তাদের সংগঠনের কর্মপরিধি ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে তোলার ব্যাপারে সর্বদা সচেতন। প্রত্যেক দফতর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এ সকল বিভাগীকরণের কারণে সরকারি কার্যক্রম বিভাগভিত্তিক হয়ে পড়ে। এর ফলে প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংগঠনের কর্মের প্রতি লক্ষ্য না রেখে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টায় থাকেন, যার ফলশ্রুতিতে কর্মচারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়িয়ে তোলেন ।

৬। নীতি নির্ধারণে হস্তক্ষেপ :

বর্তমানে আমলারা নির্বাহী ও আইন বিভাগের কাছ থেকে অনেক বেশি নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা ভোগ করেন। বর্তমানে সরকারের কার্যাবলি বৃদ্ধির সাথে সাথে রাজনীতি ও প্রশাসনের সম্পৃক্ততা বেড়েছে। আমলারা এ সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করছে। রাজনীতিবিদদের প্রশাসনিক অজ্ঞতার কারণে নীতিনির্ধারণে আমলারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৭। হৃদয়হীন আমলাতন্ত্র :

আমলারা একই পদ্ধতিতে | নি নিয়মমাফিক কাজ করতে করতে এমন একটি মানসিকতা গড়ে জ তোলে যে, তারা একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। তারা ব্য মানুষের মনমানসিকতাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে না। একটি মানুষ আ কি চায়, কিভাবে তাকে কোনো একটি কাজে সহযোগিতা করা যায়, সেদিকে না তাকিয়ে নিজেদের মত ও পথকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। যার কারণে আমলাদেরকে রোবটের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

৮। আমলাতন্ত্র’র দীর্ঘসূত্রিতা :

দীর্ঘসূত্রিতা আমলাতন্ত্রের আরেকটি বড় ত্রুটি। সব কিছু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে করা তাদের চিরাচরিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কোনো বিষয় যতই জরুরী হোক না কেন সমস্ত সিঁড়িপত্র স্তর ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কাজটি সম্পন্ন করে। ডব্লিউ বেজহাট তাঁর বিখ্যাত The English Constitution গ্রন্থে লিখেন, আমলাতন্ত্রের অপরিহার্য ত্রুটি এই যে, আমলারা ফলাফলের চেয়ে রুটিন মতো কাজ হলো কি-না তা নিয়ে মাথা ঘামাবে বেশি।

৯। আলাদা শ্রেণি :

আমলারা নিজেদেরকে অনেক সময় সমাজের আলাদা শ্রেণি হিসেবে মনে করে। তারা নিজেদের ব্যাপারে যা-তা কল্পনা করে। তারা মনে করে তাদের মানসম্মান সমাজের অন্যান্যদের চেয়ে অনেক উঁচু।

১০। আমলাতন্ত্র’র দুর্নীতি :

আমলাতন্ত্রের সমালোচনার অন্যতম বিষয়বস্তু হচ্ছে দুর্নীতি। এটি আমলাতন্ত্রের নেতিবাচক দিক। তারা অসদুপায় অবলম্বনের উদ্দেশ্যে বছরের পর বছর বিভিন্ন ফাইলবন্দি করে রাখে। কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য তারা কখনো কখনো উৎকোচ দাবি করে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের ক্ষেত্রে এ ত্রুটি বেশি দেখা যায় ।

১১। জনকল্যাণের পরিপন্থী :

জনকল্যাণের পরিপন্থী। আমলারা নিজেদেরকে জনগণ থেকে | আমলাতন্ত্র অনেকটা পৃথক করে রাখার চেষ্টা করে। জনকল্যাণ ও দ্রুত অর্থনৈতিক | উন্নয়নের বিষয়ে তারা তেমন চিন্তা করেন না। যার কারণে জনকল্যাণ ব্যাহত হয়।

পরিশেষে

বলা যায় যে, আমলারা আমলাতন্ত্র উন্মাসিকতা, আত্মশ্লাঘা বিধি-বিধান ও রুটিন কাজের স্থবিরতা, কাজ কর্মের মানবিক দিক উপেক্ষা, সংকীর্ণ গণ্ডিবদ্ধ মনোভাব, দৃষ্টিভঙ্গির রক্ষণশীলতা প্রভৃতি ত্রুটিগ্রস্ত। আর এসব আমলাতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। আমলাতন্ত্রের এ ত্রুটিসমূহ গণতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। এর থেকে মুক্তি পেতে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে।

ভেলপুরি – লোভনীয় স্বাদের ঢাকাই ভেলপুরি এবার আপনার বাসায়।

0

ভেলপুরি সাধারণত ঢাকাই ভেলপুরি নামে পরিচিত। যার স্বাদের কথা না বললেই নয়। আজ আমরা আপনাদের মাঝে হাজির হলাম বেশ আলোচিত ঢাকাই ভেলপুরি’র রেসিপি নিয়ে। চলুন শুরু করা যাক …
রেসিপি বাই: sumi’s kitchen dairies

শহর কিংবা গ্রামে সব বাসাতেই বিকাল কিংবা সন্ধ্যার নাস্তাতে থাকতে পারে ভেলপুরি, উপভোগ করতে পারেন বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন সাবাই মিলে। আর কথা বাড়ালাম না,,

ভেলপুরি’র উপকরণ:

ময়দা-১+১/২ কাপ
সুজি -১/২ কাপ
তেল -২ টেবিল চামচ
লবন -১/২ চা চামচ
পানি-পরিমানমতো

পুর তৈরির জন্য যা যা লাগবে,
সিদ্ধ ডাবলি /কাবলি বুট-২ কাপ
ভেলপুরি মসলা -২চা চামচ
বিট লবন-১/২ চা চামচ
চিলি ফ্লেক্স-১ চা চামচ
কাঁচামরিচ কুচি ১চা চামচ
তেতুলের টক-পছন্দমতো
শসা,টমেটো,পেঁয়াজ,ধনেপাতা কুচি-পরিমাণমতো

ভেলপুরি প্রস্তুত প্রণালী:

প্রথমে একটি পাত্রে ময়দা,সুজি,লবন ও তেল নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে নরমাল তাপমাত্রার পানি অল্প অল্প করে দিয়ে শক্ত একটি ডো তৈরি করতে হবে। ডো ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রেস্টে রাখতে হবে ৩০-৪০ মিনিটের জন্য।

এবার ডো থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে নিয়ে পুরি আকারে বেলে নিতে হবে,তবে পুরি গুলো বেশি পাতলা হবে না রুটির মতো ভারী হবে এবং ফুসকার চেয়ে আকারে বড় হবে।সবগুলো পুরি বানানো হয়ে গেলে ডুবো তেলে ভেজে নিতে হবে।সময় নিয়ে ভাজতে হবে,তাহলে পুরি গুলো মুচমুচে হবে।

পড়ুনঃডালপুরি বানানোর রেসিপি। 

পড়ুনঃ- সিদ্ধ ডিম ও তার উপকারিতা।

এবার ভেলপুরির পুর তৈরির জন্য প্রথমে ডাবলি/কাবলি বুট ৬/৭ ঘন্টার জন্য পানিতে ভিজিয়ে রেখে ভালো করে ধুয়ে লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। সিদ্ধ বুটের সাথে তেতুলের টক বাদে বাকি সবগুলো উপকরণ মিশিয়ে নিলেই পুর রেডি।

এখন পুরির এক সাইডে আংগুল দিয়ে চেপে ফুটো করে নিয়ে এক টেবিল চামচ পরিমাণ পুর দিয়ে তারপর উপরে একটু শসা,টমেটো,ধনেপাতা কুঁচি,এক চিমটি ভেলপুরি মসলা আর স্বাদমতো তেতুলের টক দিয়ে দিন।পরিবেশন করুন ইফতারের টেবিলে মজাদার ভেলপুরি।বাসার সবাই পছন্দ করবে।

নোট: ভেলপুরি গুলো আগে থেকে বানিয়ে রাখলে পুরিটা নরম হয়ে যাবে,তাই বানিয়ে সাথে সাথে পরিবেশন করুন।

আপনিও আপনার লিখা রেসিপি পাঠাতে পারেন, কিংবা নিজেই আমাদের সাইটের কন্টিভিউটর হতে পারে। যোগাযোগ করতে কমেন্ট করুন, অথাব মেইল করুন আর ফেইসবুক ত আছেই চ্যাটিং এর জন্যে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা বিশ্ব মুড়ল – বিশ্ব রাজনীতিতে একক প্রধান্যের কারণ।

0

বিশ্ব মুড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আবির্ভাব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। এ সময় কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি সোভিয়েত ইউনিয়ন পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। উভয় পরাশক্তির আত্মপ্রকাশের ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দ্বিমেরু প্রবণতা এবং স্নায়ুযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিশ্ব রাজনীতিতে উভয় রাষ্ট্রের অপ্রতিহত ক্ষমতার কবলে তাদেরকে বিশ্বের পরাশক্তি বলা হয়।

পামার ও পারকিন্স তাঁদের ‘International Relatio’ গ্রন্থে বলেন, “The term super power is one which has come into rather general use in the post world war Period.”

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের একক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে ।

■ নিম্নে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর একক প্রাধান্যের কারণসমূহ আলোচনা করা হলো :

১। সমাজতন্ত্রের পতন :

১৯১৭ সালের বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্ম হয়। পরবর্তীতে উত্তর পশ্চিম ও পূর্ব ইউরোপের অনেকগুলো রাষ্ট্রে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৯ সালে চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সফলতা লাভ করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পুরোধা, পথ প্রদর্শক ও আলোকবর্তিকা। তাকে ঘিরে সমগ্র পৃথিবীর সমাজতান্ত্রিক নীতি, কর্মসূচি ও নির্দেশনা জারি করতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সমাজতান্ত্রিক শিবিরের নেতৃত্ব দান করতো সোভিয়েত ইউনিয়ন।

কিন্তু ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতন্ত্রের পতনের সাথে সাথে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সমাজতন্ত্রের পতন ঘটে। ফলে পুঁজিবাদী শিবিরের একমাত্র ধারক, বাহক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী একক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়।

২। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙন :

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরাশক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন আত্মপ্রকাশ করে। সুদীর্ঘ ৫০ বছরে দুই পরাশক্তির মধ্যে চলে স্নায়ুযুদ্ধ। এটি এমন একটি পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করে যেখানে যুদ্ধ না হলেও যুদ্ধের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি চলে। চলাকালে উভয় দেশ উভয় দেশকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতো। উভয় দেশ অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও মারণাস্ত্র উৎপাদনে সমকক্ষ ছিল।

কিন্তু ১৯৯৮ ১৯৮৯ সালে সোবিয়েত ইউনিয়নের সামরিক বাহিনীর সংখ্যা হ্রাস, সামরিক কর হ্রাস, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া, গর্বাচেভের নীতি ইত্যাদি কারণে স্নায়ুযুদ্ধ দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে ভাঙন ও সমাজতন্ত্রের পতন ঘটে। ফলশ্রুতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়।

৩। শক্তিশালী সামরিক বাহিনী :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর বৃহত্তম দক্ষ সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেছে। তার সামরিক শক্তির সাথে অপর কোনো রাষ্ট্রের তুলনা করা যায় না। সে দেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী চৌকষ, দক্ষ এবং অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। সামরিক শক্তির ভয় দেখিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য রাষ্ট্রের উপর নিজেদের অধিকার বিস্তার করে চলেছে।

গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক ও আফগানিস্তানে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেছে। তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক কর্তৃত্বের ফলে, হাইতি, পানামা, লিবিয়া, কেনিয়া, ডোমিনিকান, রিপাবলিকে সামরিক আগ্রাসন চালায়। সামরিক শক্তি এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর যেকোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে থাকে।

পড়ুনঃ- একক শক্তি মার্কিন।

৪। ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থান তাকে বিশ্বের অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছে। ভৌগোলিক আয়তনে পৃথিবীর তৃতীয় স্থান অধিকার করলেও ক্ষমতার মাপকাঠিতে দেশটি সবার শীর্ষে। দেশটির পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর এবং পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত থাকায় তার অবস্থান অত্যন্ত নিরাপদ। চারদিকে সাগর বেষ্টিত থাকায় বহিঃশক্তির দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে বিশাল সমতল ভূখণ্ড, বিপুল জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক সম্পদ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। ভৌগোলিক অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় শক্তি ও প্রভাব প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের বয়ে কানাডা, মেক্সিকো ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো উদ্বিগ্ন  থাকে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে আক্রমণের জন্য তার দেশের নৌপথ ও আকাশপথ সারাক্ষণ উন্মুক্ত রয়েছে ।

৫। পারমাণবিক শক্তির অধিকারী :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীতে সর্বপ্রথম পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হয় ১৯৪৫ সালেই ১৬ জুলাই পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটায়। ১৯৪৫ সালের ৬ ও ৯ আগস্ট জাপানের হিরোসিমানাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়ন ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন প্রভৃতি দেশ পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তারা টপকাতে পারেনি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও নিজ দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি এখনো পরিত্যাগ করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র যতদিন পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস না করবে ততদিন পর্যন্ত সারাদেশ, পৃথিবীতে তার একচ্ছত্র প্রাধান্য বজায় থাকবে।

৬। আর্থিক সামর্থ্য :

পৃথিবীর অপরাপর রাষ্ট্র থেকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর্থিক সামর্থ্যই তাকে পরাশক্তি হিসেবে প্রাধান্য বজায় রাখতে সহায়তা করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সামর্থ্য আছে বলেই যে রাষ্ট্র সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী। দেশের ভূখণ্ড জুড়ে রয়েছে অফুরন্ত প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ। দক্ষ জনশক্তির সাহায্যে যুক্তরাষ্ট্র সম্পদ আহরণ ও তার সুষ্ঠু ব্যবহার করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিদেশে রপ্তানি করে থাকে। এদেশের জাতীয় ও জীবনযাত্রার মান খুবই উন্নতমানের।

অপরিসীম সম্পদের অধিকারী থাকার কারণে দেশটি প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় করে থাকে। পৃথিবীর সব দেশ সামরিক খাতে যে অর্থব্যয় করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই ব্যয়ের ৭০ শতাংশ ব্যয় করে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশ লোকের নিরাপত্তার জন্য দেশটি শতাংশ অর্থ ব্যয় করে থাকে। তার রয়েছে আর্থিক স্বচ্ছলতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা। তার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক, সামরিক, রাজনৈতিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

৭। পুঁজিবাদ ও গণতন্ত্রের প্রসার :

স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে বিশ্ব রাজনীতি দুটি শিবিরে দুটি মতাদর্শে বিভক্ত ছিল। এর একদিকে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পুঁজিবাদ ও গণতান্ত্রিক মতাদর্শ এবং অপরদিকে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ুযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল পুঁজিবাদী বিশ্বকে সুসংহত ও সংরক্ষণ করা এবং গণতন্ত্রের প্রসার ঘটানো এ সময়কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল প্ল্যান ছিল পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র । এখনো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার অজুহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর বিভিন্ন স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নগ্ন হস্তক্ষেপ করে চলছে। দেশটির একক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠায় এটি এক অনন্য কৌশল।

৮। বিশ্বায়ন ও মুক্তবাজার অর্থনীতি

বিশ্বায়ন ও মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারণা প্রসারের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রতিহত প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বায়নের প্রভাবে সমগ্র পৃথিবী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। মুক্তবাজার অর্থনীতি দেশটির অর্থনৈতিক স্বার্থকে সমুন্নত রেখেছে এ ধরনের ব্যবস্থায় বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মুক্তবাজার অর্থনীতির বদৌলতে দেশটি পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে তার রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। বিশ্বব্যাপী খনিজ বৃদ্ধির ক্ষেতে দেশটির সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বব্যাপী খনিজ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের বিরোধ রয়েছে। তথাপি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কলাকৌশল প্রয়োগ করে তার একমাত্র আধিপত্য বহাল রাখছে ।

৯। সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর বহু রাষ্ট্রে সাহায্যের সাথে যুক্তরাষ্ট্র নানা প্রকার শর্ত আরোপ করে। সাহায্য গ্রহণ দেশকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সাহায্য গ্রহণ ও ব্যয় করতে হয়। তৃতীয় বিশ্বের বহু রাষ্ট্র সাহায্য গ্রহণ করার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতি ও আদর্শের প্রতি অনুগত থাকে।

অনেক রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য-সহযোগিতা বন্ধের ভয়ে সে রাষ্ট্রের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না। বিভিন্ন আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে দেশটি সারা পৃথিবীর উপর একক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেছে।

১০। তথ্যপ্রযুক্তি ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশটি বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর উপর প্রভাব বিস্তার করেছে।

ইরাক, কুয়েত যুদ্ধের সময় ইরাকের বিরুদ্ধে এবং আফগানিস্তানের তালেবানদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাষ্ট্র তথ্য সন্ত্রাস চালায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আবিষ্কৃত তথ্য প্রযুক্তি বিভিন্ন অপ্রতিহত আধিপত্যের কারণে দেশটি সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে CNN, BBC, ABC, TMEVOA প্রভৃতি নিউজ মিডিয়াগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে ।

১১। জোট গঠন :

১৯৪৮ সালে জার্মানির সমস্যা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোবিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল পশ্চিমা রাষ্ট্রসমূহের সমন্বয়ে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (NATO) গঠন করে। এ চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম ইউরোপে কমিউনিস্ট প্রভাব প্রতিরোধ করা।

১৯৯১ সালে সোবিয়েত ইউনিয়ন‘এর পতন ঘটে এর নেতৃত্বে গঠিত WARSAW প্যাক্ট বিলুপ্ত হলেও NATO এখনো টিকে আছে। পরবর্তীকালে রাশিয়াসহ আরো কয়েকটি রাষ্ট্র NATO-তে যোগদান করে। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব প্রতিপত্তি বৃদ্ধিতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া দেশটি সিয়াটো (SEATO), সেন্টো (CENTO), ন্যাফটা (NAFTA) ইত্যাদি জোটের অন্যতম অংশীদার।

১২. আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ নিয়ন্ত্রণ :

১৯৪৪ সালের জুলাই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারে ব্রিটেন উডসে সম্মেলনে দুটি সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যথা : IBRD এবং IMF এই সংস্থাগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থে গঠিত হলেও মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণমূলক উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া WTO, NAFTA, FPEC প্রভৃতি সংস্থাগুলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুদ্র দেশগুলোর জাতীয় অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করে।

পরিশেষে বলা যায়

যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার অন্যতম কারণ হলো বিশ শতাব্দীর শেষ দশকে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর পতন। এর ফলশ্রুতিতে একমাত্র পুঁজিবাদী শক্তির ধারক ও বাহক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় অর্জিত হয়।

তবে বর্তমান বিশ্বের রাজনীতিতে বহুমেরুকরণের প্রবণতা শুরু হয়েছে বলে এ কথা বলা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্ম হয়েছে। চীন, জাপান, জার্মানি দিন দিন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে। এমনকি বিশ্ব মুড়ল আজ তালেবানদের হাতে মার খেয়ে আফগান ছেড়েছে।

পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ু যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে।

0

স্নায়ু যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একক পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  উন্নীত হয় যার ফলে এর ভূমিকা নতুন করে আলোচিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ বিশ্বরাজনীতিতে একমাত্র পরাশক্তি। আজ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছেন। কেননা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি চেষ্টা, বসনিয়া সংকটের সমাধান, উত্তর আয়ারল্যান্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সর্বশেষে আফগানিস্তানের তালেবান সমস্যার সমাধানে মার্কিনীদের ভূমিকাকে সমানের দিকে নিয়ে এসেছে। এর ফলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি সমালোচিত কম হয়নি। তার পরেও বিশ্বরাজনীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা রয়েছে।

স্নায়ু যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একক পরাশক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা :

১। সামরিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ :

সামরিক শক্তিই হচ্ছে Power Politics-এর মূল নিয়ামক। সামরিক শক্তির ভয় দেখিয়ে অন্য রাষ্ট্রের উপর নিজের এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও শান্তি প্রক্রিয়ার নামে মার্কিনীরা ইরাকে সামরিক শক্তির প্রয়োগ করেছে। পানামা, হাইতি, কিউবায় সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন চালিয়েছে।

১৯৯৪ সালে হাইতিতে জেনারেল সেড্রাস কর্তৃক নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জ্যা বার্ট্রান্ড অ্যারিস্টাইড ক্ষমতা চ্যুত হলে মার্কিন – যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ২০ হাজার সৈন্য ও যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়েছিল। সেখানে সেড্রাসকে সরিয়ে অ্যারিস্টাইডকে ক্ষমতায় পূর্ণবহাল করেছিল। হাইতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা মার্কিন সামরিক শক্তির প্রাধান্যের কারণে সম্ভব হয়েছিল।

ন্যাটো (NATO) গঠন :

১৯৪৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যানের ডকট্রিন (Dotrine) এর আলোকে NATO গঠিত হয়। NATO গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রিস, তুরস্কসহ পশ্চিম ইউরোপে কম্যুনিস্ট প্রভাব রোধ করা। ৯০ এর দশকে USSR এর পতন হলেও NATO এর অস্তিত্ব বহাল আছে এবং ন্যাটোতে রাশিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ন্যাটোর সম্প্রসারণ রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত এ জোটকে আরো শক্তিশালী করেছে। সে সাথে একক পরাশক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর তাই যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, আঞ্চলিক আগ্রাসন, জাতিসংঘ সংঘাত নিরসনের নামে যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

যেমন : বসনিয়া হারজেগোভিনায় শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র NATO’য় ২০ হাজার সৈন্য পাঠিয়েছিল। এটা পরাশক্তি হিসেবে মার্কিন বৈদেশিক নীতির বিশেষ দিক ছিল।

পড়ুনঃ- বিশ্ব মুড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

অস্ত্র ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ :

উন্নয়নশীল বিশ্বে অস্ত্র বিক্রি করে বৃহৎ শক্তিগুলো সেখানে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ আদায় করে নেয় ৷ বৃহৎ শক্তিগুলোর পররাষ্ট্রনীতিতে অস্ত্র সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অর্থাৎ গ্রহীতা দেশকে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয় এবং এ নির্ভরশীলতাকেই বৃহৎ শক্তিগুলো তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন রাষ্ট্রে অস্ত্র সরবরাহ তথা ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। “THe Economist” পত্রিকার মতে, বিশ্বের অস্ত্র বাজারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি অস্ত্র সরবরাহ করে। ১৯৯০-৯৪ সময়কালে এর পরিমাণ ছিল মোট সরবরাহের ৪৬ ভাগ ।

মুদ্রা রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে :

বর্তমান এককেন্দ্রিক ↑ বিশ্বব্যবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে তৃতীয় বিশ্বের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করছে। কেননা নয়া বিশ্ব ব্যবস্থায় উন্নয়নশীল বিশ্ব তথা প্রান্তিক রাষ্ট্রসমূহের জাতীয় অর্থনীতি নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেকাংশেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুকম্পার উপর নির্ভরশীল। তাই ক্ষুদ্র ও দুর্বল রাষ্ট্রগুলো মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশ মোতাবেক বৈদেশিক নীতিনির্ধারণ করছে।

মিডিয়া ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ :

মিডিয়া ও প্রযুক্তির একচ্ছত্র আধিপত্যের বদৌলতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের স্বর্ণযুগের চেয়েও অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে । BBC, CNN, টাইম ও VOA প্রভৃতি নিউজ মিডিয়াগুলো  প্রতিনিয়তই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে কাজ করছে।

অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ :

বর্তমান নয়া বিশ্বব্যবস্থা কেন্দ্রে (Centre) অবস্থান করছে মার্কিন ক্ষুদ্র ও দুর্বল রাষ্ট্রগুলো। যদিও বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান এলিট ক্লাবের নিয়ন্ত্রণাধীন। তথাপি উন্নয়নশীল বিশ্বের অর্থনীতি ব্যবসা-বাণিজ্য পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র’র উপর দারুণভাবে নির্ভরশীল।

 কূটনৈতিক শক্তি প্রয়োগ :

জাতীয় স্বার্থরক্ষা ও রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে কূটনীতির ভূমিকা অনস্বীকার্য। কূটনীতির মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি কার্যকর হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করেছে এবং পরাশক্তি হিসেবে USA এর ভূমিকা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য তার বৈদেশিক নীতিতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে।

(ক) রাশিয়ার সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখায়;

(খ) জাপানের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং অঘোষিত ট্রেড ওয়ার এড়ানো;

(গ) ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একটি রাজনৈতিক সমাধানে আসা, ও

(ঘ) মার্কিনীরা উল্লিখিত ক্ষেত্রে অনেকাংশেই সফল হয়েছে।

সে কারণে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া, হাইতিতে গণতন্ত্র রক্ষায়, হেবরণ থেকে সৈন্য প্রত্যাহারে, ডেটন শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত করার বিরুদ্ধে এবং আফগানিস্তানের তালেবানদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি প্রয়োগ করে তথ্য সন্ত্রাস চালিয়েছে এবং চালাচ্ছে।

 আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের নিয়ন্ত্রণ :

বিশ্বব্যাপী একটি মুক্ত বাজার প্রতিষ্ঠা ও বাণিজ্য উদারীকরণের জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৪ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারে ব্রেড উডস এ একটি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনটি সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

তিনটি সংস্থা হচ্ছে- IBRD, IMF, WTO এ সংস্থাগুলো উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থে প্রতিষ্ঠিত হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়। ক্ষুদ্র ও দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ব্যবসায়, অর্থনীতি, বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংস্থা গুলোকে ব্যবহার করে থাকে।

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট নয়া বিশ্বব্যবস্থায় সকল দেশের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে। যেমন—

(ক) পরাশক্তি হিসেবে টিকে থাকার জন্য USA বিশ্বব্যাপী
পুলিশি তৎপরতার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়।

(খ) মার্কিন বিরোধী তৎপরতাকে নির্মূল করার জন্য তাদের স্বার্থ পরিপন্থি মতবাদকে মৌলবাদ এবং গণতন্ত্র মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করে।

(গ) বিশ্বে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক স্থাপনা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে প্রাধান্য বিস্তার করেছে।

 সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রে মার্কিন প্রভাব :

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপীয় উপনিবেশবাদী শক্তিসমূহ তাদের অধিকৃত দেশগুলোকে একে একে স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয়। এ শক্তিগুলো তখন ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়েছিল। ফলে সদ্য স্বাধীন দেশগুলোতে প্রভাব
বিস্তারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আসে। এসব রাষ্ট্র ঔপনিবেশিক শাসন থেকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা লাভ করলেও অর্থনৈতিক সহায়তা লাভের জন্য মার্কিন নির্ভর হয়ে পড়ে।

কোনো কোনো স্বাধীন দেশ সামরিক দিক থেকে পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র’র ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। যা ঔপনিবেশিকতারই নামান্তর মাত্র। উদাহরণস্বরূপ- দক্ষিণ কোরিয়া, কুয়েত প্রভৃতি দেশ সামরিক বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল।

আবার কোনো কোনো দেশ আশ্রিত রাষ্ট্র হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অর্থনৈতিক ও সামরিক সাহায্য পেয়ে থাকে। যেমন— ইসরাইল, দক্ষিণ কোরিয়া, হায়দার আল আবাদির, ইরাক, নুরী আল মালিকি ও আবদুল ফাত্তাহ সিসির মিশর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি সাহায্য পেয়ে থাকে।

 জাতিসংঘে কর্তৃত্ব :

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে স্থায়ী শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সোভিয়েন ইউনিয়ন, চীন ও গ্রেট ব্রিটেন অনেক আলাপ-আলোচনার পর জাতিসংঘ গঠন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে ১৯৪৫ সালের এপ্রিল হতে জুন মাসে ৪৬টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং জাতিসংঘ গঠনের পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপায়িত করা হয় ।

পরবর্তীকালে আরো ৫টি দেশের প্রতিনিধিকে এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গ নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সোবিয়েত ইউনিয়ন, গ্রেট ব্রিটেন, চীন ও ফ্রান্সকে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পঞ্চম বৃহৎশক্তি হিসেবে ‘ভেটো’ দেবার অধিকার দান করা হয়েছিল।

জাতিসংঘের পরবর্ত ইতিহাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নামক পরাশক্তির শক্তিমত্তার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। পশ্চিমা শক্তিগুলো বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব খাটাচ্ছে।

সম্পদের প্রাচুর্য:

পৃথিবীর সর্বাধিক বৈচিত্র্য ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে যে দেশটির অবস্থান সর্বাগ্রে উচ্চারিত হয় সে দেশটিই পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। জমি উর্বর ও খনিজ সমৃদ্ধ। সীসা, তামা, দস্তা, বক্সাইট, ফসফেট, সোনা, রূপা, পারদ, ইউরেনিয়াম, লৌহ, অ্যালুমিনিয়াম, গন্ধজ, জিপসাম, চুনাপাথর, কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্রাস প্রাচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যে রাজ্যে।

দেশের প্রায় ৩০ স্থান বনাচ্ছন্ন যা ভালো জাতের কাঠে ভরা। যুক্তরাষ্ট্র ভারী শিল্প, মাঝারি শিল্প, সব শিল্পেরই কাচামালই সমৃদ্ধ। সেজন্য ডেট্রয়েট, শিকাগো প্রভৃতি অঞ্চল ভারী শিল্পের কেন্দ্র রূপে গড়ে উঠেছে। আবার টেসাস, কেনসাস প্রভৃতি রাজ্য কৃষি সম্পদে সমৃদ্ধ, মাইলের পর মাইল উর্বর কৃষি জমিতে গম, যব, তুলা ও ভুট্টা চাষ হচ্ছে। দেশটিতে এতো অধিক গম উৎপাদিত হয় যে, দেশজ চাহিদা মিটিয়ে প্রচুর গম তৃতীয় বিশ্বে রপ্তানি ও সাহায্য বা দান হিসেবে দেয়া হয়।

পরিশেষে বলা যায় যে,

স্নায়ুযুদ্ধোত্তর বিশ্বব্যবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এক কথায় পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বলতে গেলে বিষয়টা USA-এর একক কৌশল। আর বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে সেমি পাওয়ারগুলো ও যে Power Politics প্রয়োগ করছে না তা কিন্তু সঠিক নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, চীন, ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ অন্যান্য সাব সিস্টেম Sub-system গুলোও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ক্ষমতা প্রয়োগ করছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দলোনে ছয় দফা কর্মসূচি। 

0

ভূমিকা : বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচির ভূমিকা অনন্য ও অসাধারণ। এই কর্মসূচিভিত্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদ পূর্ণতা লাভ করে। ৬ দফা ছিল তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যবিত্ত শ্রেণির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। ছয় দফাতে পাকিস্তানকে ভাঙতে চাওয়া হয়নি, চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করতে।

ছয় দফা : তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান নিম্নলিখিত দাবিগুলো উত্থাপন করেন।

(১ম দফা)
শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি :

পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেশন বা যুক্তরাষ্ট্র। এর ভিত্তি হবে লাহোর প্রস্তাব। পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান এ উভয় অঞ্চলকে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদেশসমূহে পূর্ণ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে। সরকার হবে সংসদীয় পদ্ধতির। প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত আইনসভা হবে সার্বভৌম।

(২য় দফা)
কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা :

যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি। অবশিষ্ট সকল বিষয় অঙ্গরাজ্যসমূহের হাতে থাকবে।

(৩য় দফা)
মুদ্রা ও অর্থ ব্যবস্থা :

এ দফায় দেশের মুদ্রা ব্যবস্থা সম্পর্কে দুটি বিকল্প প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

১.স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থা :
দেশের দু অঞ্চলের জন্য সহজে বিনিময় যোগ্য দুটি মুদ্রা চালু থাকবে। এ ব্যবস্থায় মুদ্রার লেনদেন হিসাব রাখার জন্য দু অঞ্চলে দুটি স্বতন্ত্র স্টেট ব্যাংক থাকবে এবং মুদ্রা ও ব্যাংক পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে আঞ্চলিক সরকারের হাতে।

২.একই মুদ্রা ব্যবস্থা :
দু অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে। তবে শাসনতন্ত্রে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে এক অঞ্চল থেকে মুদ্রা ও মূলধন অন্য অঞ্চলে পাচার হতে না পারে। এ ব্যবস্থায় পাকিস্তানে একটি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থাকবে এবং দুঅঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক রিজার্ভ ব্যাংক থাকবে।

(৪র্থ দফা)
রাজস্ব, কর, ও শুল্ক বিষয়ক ক্ষমতা :

সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা থাকবে আঞ্চলিক সরকারের হাতে। আঞ্চলিক সরকারের আদায়কৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ সংগে সংগে ফেডারেল তহবিলে জমা হবে। শাসনতন্ত্রে এ ব্যাপারে রিজার্ভ ব্যাংকসমূহের বিধান থাকবে।

(৫ম দফা)
বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য :

বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রদেশগুলোর হাতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতা থাকবে। বৈদেশিক বাণিজ্য ও সাহায্যের ব্যাপারে প্রদেশগুলো যুক্তিযুক্ত হাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মিটাবে।

৬ষ্ঠ দফা :

প্রতিরক্ষা আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে প্রদেশগুলোকে নিজস্ব কর্তৃত্বের অধীনে আধা সামরিক বাহিনী বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠন ও পরিচালনা করার ক্ষমতা দেওয়া হবে ১৯৬৬ সালের ১৩ মার্চ আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয় দফা কর্মসূচি অনুমোদন করা হয়।

ছয় দফা আন্দোলনের গুরুত্ব/তাৎপর্য :

বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা দাবি পরবর্তীতে ছয় দফা আন্দোলনে পরিণত হয়। এ আন্দোলনের গুরুত্ব/তাৎপর্য নিম্নে আলোচনা করা হলো :

স্বাধিকার আন্দোলন :

ছয় দফা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলন। এ আন্দোলনের উপর ভিত্তি করেই জনগণ স্বাধিকার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বাঙালির স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ তৎকালীন :

সরকারের নিষেধাজ্ঞা ও ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বাংলার জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছয় দফার সপক্ষে মিছিল, সভা ও শোভাযাত্রা করে। ইতিপূর্বে এদেশের কোনো আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এত লোক অংশগ্রহণ করেনি এবং এত প্রাণহানিও ঘটেনি।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ সুদৃঢ় হয় :

ছয় দফা আন্দোলনের ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদ সুদৃঢ় হয় এবং ছাত্র, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সংগ্রামী ঐক্য আরও জোরদার হয়। সুতরাং বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটাতে ছয় দফা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।

স্বৈরাচারী শাসকের পতন :

ছয় দফা ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের দাবি। স্বৈরাচারী ও গণবিরোধী শাসকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এ কর্মসূচি নিরাশার আঁধারে নিক্ষিপ্ত বাঙালি জাতিকে যুগিয়েছে শক্তি, যুগিয়েছে প্রেরণা।

বাঙালির মুক্তিসনদ:

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, নির্যাতন ও অবিচারের বিরুদ্ধে ছয় দফা ছিল বাঙালির মুক্তিসনদ। এ প্রসঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্য উল্লেখ করা যায়। তিনি বলেছেন যে, ছয় দফা বাংলার কৃষক, শ্রমিক, মজুর, মধ্যবিত্ত তথা গোটা বাঙালির মুক্তিসনদ এবং বাংলার স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার নিশ্চিত পদক্ষেপ। অতএব, বাঙালির মুক্তিসনদ হিসেবে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের ক্ষেত্রে :

ছয় দফা কর্মসূচি | ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের এ কর্মসূচির উপর ভিত্তি করেই ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঊনসত্তরের গণআন্দোলন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখে।.

সত্তর-এর নির্বাচনে জয়লাভ :

১৯৭০ সালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন ছয় দফা কর্মসূচিকে আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনি মেনিফেস্টো হিসেবে দাঁড় করায়। আর এ ছয় দফার ভিত্তিতেই গণরায় লাভ করে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

পরিশেষে:

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ইংল্যান্ডের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ম্যাগনাকার্টা যেমন উজ্জ্বল, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ছয় দফা তেমনই উজ্জ্বল। ছয় দফাভিত্তিক আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়েই বাঙালি জাতি স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছিল।

সেলজুক বেগ – সেলজুক রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা অগুজ তুর্কী সেনাপতি।

0

সেলজুক বেগ (سلجوق ﺑﯿﮓ; Saljūq beg; এছাড়াও রোমান হরফে লেখা Seldjuk, Seldjuq, Seljuq; আধুনিক তুর্কী: Selçuk; মৃত্যু c. 1038) তিনি ছিলেন একটি Oghuz তুর্কীয় সেনাপতি, এবং সেলজুক রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।

সেলজুক বেগের জন্ম ও বংশ।

সেলজুক বেগের জন্ম তারিখ জানা যায়নি তবে তিনি ছিলেন তাকাক এর সন্তান যার উপাধী ছিল তৈমুর ইয়ালিগ যার অর্থ “লোহার ধনুক”(সূত্র-উইকিপিডিয়া)। তিনি তার কর্মদক্ষতা আর সাহসীকতার জন্যই এমন উপাধি লাভ করেছিলেন। ওঘুজ সংস্কৃতিতে তীর এবং ধনুককে সার্বভৌমত্বের লক্ষণ হিসাবে বিবেচনা করা হতো। আর তাই  সেলজুক বেগের পিতার ডাকনাম বিবেচনা করে বুঝা যায় তিনি কোনও সাধারণ সৈনিক ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন একজন সেনাকমান্ডার বা সেনাবাহিনীর প্রধান। তিনি ছিলেন ওর্গুজ কাইনিক গোত্রের গুত্রপতি। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, তাকাক একজন শক্তিশালী রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন এবং ওঘুজ ইয়াবগু রাজ্যে প্রচুর শক্তি ও প্রভাবের অধিকারী ছিলেন ধারনা করা হয় যে ৯২৪ সালের দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন৷

সেলজুক বেগের জেন্ডে স্থানান্তর

পিতা তাকাকের মৃত্যুর পর সেলজুক বেগ ক্ষমতার মসনদে আসীন হন। সেলজুক বেগ ছিলেন অন্যান্য গোত্রপতি থেকে একটু ভিন্ন। অসীম সাহসিকতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে ঐ অঞ্চলে বসবাসরত অন্যান্য গোত্রের লোকেরাও তাকে অনেক সম্মান করতো৷ কোনো এক অজানা কারণে সেলজুক বেগের সাথে ওঘুজ ইয়াবগুদের সম্পর্কের একটি টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়।

আরোও পড়ুনঃ- সুলতান আল্প আরসালান – মালাজগ্রিট যুদ্ধের মহানয়ক।

তখন পরিস্থিতি আরো অবনতি হলে ৯৮৫ সালে সেলজুক গোত্র আরল এবং ক্যাস্পিয়ান সমুদ্রের মাঝামাঝি বিশাল আয়তনের এলাকায় টুকুজা-ওগুজের কয়েকটি গোত্রের সঙ্গমৈত্রি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান দক্ষিণ-মধ্য কাজাখস্তানের নিম্নতর আমু-দরিয়ার ( জ্যাকসেটস ) ডানদিকের তীরে তারা তাবু স্থাপন করে যা জেন্ডের অভিমুখে। এটা কিজেল অড়ডার কাছাকাছি।

ধারনা করা হয় যে এই হিজরতের সময় সেলজুক বেগের সাথে ১০০ জন ঘোড়সওয়ার, ১৫০০ উট এবং ৫০,০০০ ভেড়া ছিল? প্রতিটি ঘোড়সওয়ার যদি একটি পরিবারের সমতুল্য হন, সেলজুকরা যারা জেন্ডে চলে এসেছিলেন তারা সম্ভবত প্রায় ৫০০-৭০০ জন লোকের একটি ছোট যাযাবর সম্প্রদায় ছিলেন।

সেলজুকদের ইসলাম গ্রহণ

বর্তমান দক্ষিণ-মধ্য কাজাখস্তানের নিম্নতর আমু-দরিয়ার (জ্যাকসেটস) ডানদিকের তীরে তারা তাবু স্থাপন করে যা জেন্ডের অভিমুখে পড়ে। এটা কিজেল অড়ডার কাছাকাছি। সেলজুক বেগের গোত্রের নতুন অঞ্চলে স্থানান্তরিত হওয়া আগেও তারা মুসলিম ছিলো না৷ তখন তারা ইহুদী বা নেস্টেরিয়ান খ্রিস্টধর্মের অনুসারী ছিলো বলে ধারণা করা হয়।

দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত জেন্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জাঁকজমকপূর্ণ সীমান্তবর্তী শহর রুপে পরিগনিত হতো৷ সেখানের চারণভূমিগুলোতে বিভিন্ন যাযাবর গোত্র বসবাস করতে দেখা যেত। শহরটিতে তখনকার সময়ের মুসলিম বনিক এবং ধর্মপ্রচারকদের আনাগোনা ছিলো। আর সেই সুবাদেই সেলজুকরা জেন্ডে এসে ইসলামকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেন। এটি ঘটেছিল ৯৮৫ সালে। (সুত্র- উইকিপিডিয়া)

মালিক আল গাজি উপাধিতে সেলজুক বেগ

ইসলাম গ্রহণের পরে সেলজুক বেগ ওঘুজ ইয়াবগু কর্তৃক বার্ষিক কর আদায়ের জন্য জেন্ডে প্রেরিত কর্মকর্তাদের কর প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছিলেন, “মুসলমানরা কাফেরদের কখনো কর নিবে না”।
এর ফলে অমুসলিম তুর্কীদের সাথে সেলজুক বেগ যুদ্ধে জরিয়ে পরেন। তিনি ইসলামে প্রবেশ করার পর বীরত্বের সাথে অমুসলিম তুর্কীদের সাথে লড়াই করে যান। তার বীরত্বের জন্য তাকে মালিক আল গাজি উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

সেলজুক বেগ’র সন্তান ও নামকরন

সেলজুক বেগের মোট চারজন পুত্রসন্তান ছিল। তার চার পুত্রের নাম – মিকাইল বেগ (মিকাইল বেগ পরবির্তীতে তিনি গুত্রপতি হয়েছিলেন), ইস্রাইল (আরসালান), মুসা (মূসা) এবং ইউনুস (ইউনুস)। এই নামগুলো খাজার ইহুদী বা নেস্টেরিয়ান খ্রিস্টধর্মের পূর্বের পরিচিত ব্যক্তিদের নাম থেকে নেওয়া হয়।

এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি ঘটেছিল। আর সেটি হচ্ছে সেলজুকের বড় ছেলে মিকালের মৃত্যু। মিকাইলের দুই সন্তান ছিল৷ তুঘরিল বেগ ও চাগরি বেগ। তারাই পরবর্তীতে সেলজুক সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করছিলেন৷ এই ঘটনার পরে, মিকালের স্ত্রী (তুঘ্রিল এবং ছাগরীর মা) সেলজুকের অন্য ছেলে ইউসুফকে বিয়ে করেছিলেন।

পুরাতন তুর্কি ঐতিহ্য অনুসারে মিকাইলে ইবনে সেলজুকের দুই পুত্র তুগরুল এবং চাঘরি তাদের দাদা সেলজুক বেগের কাছেই লালিত-পালিত হতে থাকে।

সেলজুক বেগ’র রাজনৈতিক মতাদর্শঃ

কিছু সূত্রে জানা যায়, সেলজুক সেনাবাহিনীতে একজন সাধারণ সেনানায়ক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং আস্তে আস্তে নিজের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দেখাতে সক্ষম হন। জেন্ড এবং এর আশেপাশের যুদ্ধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতা অর্জনকারী সেলজুক ধীরে ধীরে ট্রান্সসক্সানিয়া’র রাজনৈতিক ইভেন্টে প্রবেশ করতে শুরু করেছিলেন।

এ সময় কারা-খানিদের শাসক হাসান বিন সুলায়মান বুঘরা খান সামানি সাম্রাজ্যের শহর বুখারা দখল করেছিলেন। সামানি সাম্রাজ্য তখন সেলজুক বেগ কে বুঘরা খানের বিরুদ্ধে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে পরে, সেলজুক বেগ তার ছেলে আরসলানকে (ইস্রাইল)কে ট্রান্সস্যাকিয়ানাতে প্রেরণ করেছিলেন সামানীদের সাহায্য করার জন্য।

পুত্র আরসলানের হাতে ক্ষ্মমতা হস্তান্তর

যেহেতু সেলজুক ধীরে ধীরে বুড়ো হয়ে যাচ্ছিল, প্রশাসন এখন তিনি তাঁর বড় ছেলে আরসলান (ইস্রাইল) এর হাতে তুলে দেন। এরই মধ্যে সামানা রাজ্য, যা তার ক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছিল। কারা-খানিদদের দ্বারা বারবার আক্রমণ এর শিকার হয়েছিল এবং প্রতিবারই সেলজুকরা তাদের সাহায্য করেছিল। এভাবে সেলজুক বেগের সন্তান আরসলানকে তিনি সামরিক দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ দিয়েছিলেন।

ফিরিক, আবির আল সিমকার এবং বেক-টাজিনের অভ্যন্তরীণ অশান্তির দ্বারা যখন সামানি রাজ্যের ভীত কাঁপছিল তখনই কারা-খানিদরা যারা ট্রান্সসোকিয়ানাতে প্রবেশ করেছিলেন এবং দ্বিতীয়বার (৯৯৯) বোখারা দখল করেছিলেন, চুড়ান্ত আক্রমণ করে বসেন।

আরসলানের অধীনে সেলজুকস সামানী রাজবংশের সর্বশেষ সদস্য (১০০৩) আবুब्र্রাহিম শসমা’ল আল মুনতাসিরকে (১০০০-১০০৫) সামরিক সহায়তা দিয়েছিলেন। যদিও সেল্টুয়াকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সমর্থন পেয়ে ইলিগ খান নসরের নেতৃত্বে আল মুনতাসির কারা-খানিদ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কিছুটা সাফল্য অর্জন করেছিলেন, তবে তিনি সামানি রাজ্যের পতন রোধ করতে পারেননি।

এই ঘটনার পরে, পুরো ট্রান্সস্যাক্সিয়ানা কারা-খানিদ প্রশাসনের অধীনে আসে। পরে সেলজুকরা কারা-খানিদ সাম্রাজ্যের আনুগত্য স্বীকার করে।

সেলজুক বেগ’র মৃত্যুঃ

সেলজুক বেগ প্রায় আশি বছর বয়সে জাণ্ডে মারা যান ১০৩৯ খ্রিস্টাব্দে। তাঁর মৃত্যুর পরে, তাঁর তিন বেঁচে থাকা পুত্রের মধ্যে আরসলান ইসরাল পুরাতন ওঘুজ ঐতিহ্য অনুযায়ী পূর্ণ প্রশাসনিক দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিকে, মিকাইলের ছেলেরা তুগরুল বা তুঘরিল এবং চাঘরি ১৪-১৫ বছর বয়সে প্রশাসনে “বেগ” হিসাবে স্থান লাভ করেন। যদিও আরসলান ইয়াবগু পরিবারের প্রধান ছিলেন, তবুও সেলজুকের ছেলেরা এবং নাতি নাতনিরা তুর্কিমান বেগস এবং তাদের সাথে যুক্ত অন্যান্য বাহিনীকে পুরানো ওঘুজ ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আধা-সংযুক্ত পদ্ধতিতে শাসন করেছিলেন।

পরিশেষে…

সেলজুক সাম্রাজ্যের ইতিহাসে অকুতোভয় বীর সেনানী সেলজুক বেগের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে এবং থাকবে। তার বীরত্ব আর রাজনৈতিক দুরদর্শিতার কারণে ক্ষুদ্র যাযাবর গোত্রটি একসময় পৃথিবীর প্রায় অর্ধেকের পরিমান নিজেদের শাসনের আয়ত্তে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল।

error: Content is protected !!
Exit mobile version