Thursday, 16-April, 2026
Home Blog Page 4

ভারতের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ না করার কারণ সমূহ।

0
ভারতের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ ইরাকক্স eracox
ভারতের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ না করার কারণ সমূহ।

ভারতের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনী হস্তক্ষেপ না ঘটার কারণসমূহ।
অথবা,
ভারতের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনী হস্তক্ষেপ না করার কারণগুলো।

শুরুর কথা:

দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ভারত একটি বৃহৎ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতে এরও রয়েছে একটি সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। বিভিন্ন উন্নত দেশে সামরিক বাহিনী হস্তক্ষেপ করেছে বারবার কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে ভারতই একমাত্র দেশ যেখানে সামরিক বাহিনী প্রবেশ করেনি।

→ ভারতের রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ না ঘটার কারণসমূহ : নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ না করার কারণ :

গণতন্ত্রের প্রতিপূর্ণ বিশ্বাসঃ-

ভারতের জনগ্ণের রয়েছে তার গণতন্ত্রের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও আস্থা। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ব্যতীত অন্য কোনো কিছু তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। যার ফলে সামরিক বাহিনী ভারতের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ পায়নি।

সুষ্ঠু নির্বাচন পদ্ধতি :

প্রায় দু’শ বছরের শাসন ও শোষণের পর ভারতের এ স্বাধীনতা অর্জন হওয়ার পরেই যথাসময়ে নির্বাচনগুলো যথাসময়ে অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ফলে একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পদ্ধতি ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ফলে একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পদ্ধতি গড়ে উঠেছে, ফলে সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় আসতে পারেনি।

সামরিক বাহিনীর ঐতিহ্য :

ভারতের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ না করার নূন্যতম কারণ হল  এটি যা ভারতের সেনাবাহিনী একটি ঐতিহ্যের দাবিদার। ব্রিটিশদের সময় থেকেই সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাছাড়াও সামরিক বাহিনীকে কখনো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নিযুক্ত করেনি। সামরিক বাহিনীর এ ঐতিহ্যবোধ তাদের ক্ষমতা দখলে অনুপ্রাণিত না করে; বরং বিরত রেখেছে।

বিশাল ভূখণ্ড :

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারতই বিশাল আয়তনবিশিষ্ট বিভিন্ন গোত্র, বর্ণ, ধর্ম এখানে বাস করে, ভারতকে “National state” না বলে ‘State Nation’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। এ রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ করা অসম্ভব। তাই ভারতের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ একেবারেই অসম্ভব।

সুযোগ্য নেতৃত্ব :

দক্ষ শাসক ও শাসননীতি যেকোনো রাষ্ট্রকে একটি যোগ্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে। ভারতেও দক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণেই কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলতা দেখা দেয়নি। গান্ধীজী, নেহেরু লাল, বাহাদুর শাস্ত্রী ও ইন্দিরা গান্ধীর যোগ্য নেতৃত্ব রয়েছে। সেজন্য সেখানে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের সুযোগ পায়নি।

জাতীয়তাবাদের অনুভূতি :

১ম বিশ্বযুদ্ধের পর গান্ধীজীর নেতৃত্বে ব্রিটিশ বিরোধী যে জাতীয়তাবাদের বীজ রোপণ করা হয়েছিল তা জনগণের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণ আন্দোলন এর রূপ নেয়। ফলে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা হস্তক্ষেপের সুযোগ পায়নি।

সংসদীয় ব্যবস্থার সফলতা :

১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রচলিত। স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই বিভিন্ন জনের হাতে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়েছে, যার ফলে সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় আসতে পারিনি।

সামরিক বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ :

ভারতের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ না করার কারণ হল ভারতের জনগণ ও সরকারের কাছে সেনাবাহিনী একটি অমূল্য সম্পদ এবং তাদেরকে কখনও অবহেলার চোখে দেখেনি। অর্থাৎ সেনাবাহিনী জনগণ ও সরকারের নিকট স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। যার ফলে সামরিক বাহিনী কখনোই সরকারের প্রতি ঘৃণা বা বিতৃষ্ণা ও ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেনি।

পরিশেষে:

উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, যেসব কারণে কোনো দেশে সামরিক বাহিনীর আগমন হয় ভারতে সেসব কারণগুলো অনুপস্থিত। এর ফলে সামরিক বাহিনী দেশের রাজনীতি নিয়ে ভাবার তেমন সুযোগ পায়নি। ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে কখনোই সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপ করবে না।

(আমাদের কে লেখা পাঠাতে পারেন আপনার। চাইলে আমাদের ফেসবুকে যুক্ত হতে পারেন।)

সিদ্ধ ডিম ও সিদ্ধ ডিমের উপকারিতা। কেন খাবেন সিদ্ধ ডিম।

0
সিদ্ধ ডিম ও তার উপকারিতা।

ডিম নিয়ে কথা না বললেই নয় কেননা ডিম নানান উপায়ে খাওয়া হয়ে থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি উপকারী হল ডিম সিদ্ধ করে খাওয়া। তাহলে আজ ডিম নিয়ে শুরু করা যাক।

সিদ্ধ ডিম কেন খাবেন?

পুষ্টিবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে সিদ্ধ ডিমের উপকারিতা তুলে ধরার চেষ্টা করব আপনাদের মাঝে।

ওজন কমায়:

সুসিদ্ধ ডিম চর্বিহীন প্রোটিনের খুব ভালো উৎস। এটা শরীরে বাড়তি ক্যালরি যোগ না করেই অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে। দুপুর বা রাতে খাবার খাওয়ার সময় দুটি করে সুসিদ্ধ ডিম এবং সাথে এক কাপ সবজি খান যা আপনাকে ২৭৪ ক্যালরির যোগান দিবে।

হাড় সুদৃঢ় করে:

অনেকেরই অজানা যে প্রসব পূর্ব বিকাশে অতি-সিদ্ধ ডিম, ভিটামিন ডি’য়ের পাশাপাশি বেশ ভালো কাজ করে। এটা শিশুর দাঁত, হাড় বৃদ্ধিতে কার্যকরী পাশাপাশি সাধারণ বৃদ্ধিতে বেশ সহায়তা করে থাকে।

বিপাক বৃদ্ধি সহায়তায়:

সিদ্ধডিম একটি উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খা্বার খাওয়া তাপীয় প্রভাবের কারণে বিপাক বাড়াতে সহায়তা করে। এর কারণ হল খাবার হজম করতে ও পুষ্টি প্রক্রিয়াকরণ করতে বেশি ক্যালরি ব্যয় হয়। সিদ্ধডিম খাওয়ায়, বেশি কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি খাওয়ার তুলনায় বেশি ক্যালরি খরচ করতে সাহায্য করে। যার ফলে বিপাক বৃদ্ধি পায়।

সিদ্ধ ডিম কোলিনের ভালো উৎস:

আমরা জানি মস্তিষ্ক, স্নায়ু ও হৃদযন্ত্র সচল রাখতে কোলিন সাহায্য করে। এটা মস্তিষ্কের মেম্ব্রেন ও পেশি সুগঠিত রাখতে সাহায্য সহায়তা করে, যা মস্তিষ্কের ঝিল্লি গঠন করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে এবং এটা স্নায়ু থেকে পেশিতে সংবেদন পৌঁছাতে সহায়তা করে থাকে।

চোখ, চুল ও নখের জন্য উপকারী:

সিদ্ধ ডিমের অনেক উপকারিতার মধ্যে চোখের উপকারী একটি। প্রতিদিন একটা করে সিদ্ধ ডিম খেলে ‘ম্যাকুলার’ ক্ষয় কমবে। কারণ সিদ্ধ ডিমে আছে লুটেইন ও জ্যাক্সেন্থিন।

আপনি জানেন কি, সিদ্ধ ডিম খাওয়া চোখের ছানি পরা বা হওয়ার ঝুঁকি কমায়। ডিমে উচ্চ মাত্রায় সালফার থাকায় তা ভিটামিন ডি’য়ের ভালো উৎস। যা চুল ও নখ ভালো রাখতেও সহায়তা করে।

পরিশেষে বলা যায় যে সিদ্ধডিম আমাদের নানান ভাবে উপকার করে থাকে।

আপনার যদি এমন সব লিখা থাকে বা লিখতে চান তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইল।  পাশাপাশি কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করুন আপনার বন্ধু-বান্ধব পরিবার-পরিজনের সাথে।

পড়া মনে রাখার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

0
পড়া মনে রাখার উপায়

পড়া মনে রাখার উপায় – টাইটেল দেখেই আশা করি বুঝতে পেরেছেন আমাদের আজকের টপিক কি। চলুন শুরু করা যাক কথা না বাড়িয়ে।

পড়া মনে রাখার উপায়ঃ

পড়া মনে থাকে না বা যা পড়ি সব ভুলে যাই এ সমস্যা ছাত্রছাত্রীদের কমবেশী সবার মধ্যেই আছে। অনেকে সঠিক নিয়মে না পড়ে বেশি পড়েও কয়েকদিন পর তা ভুলে যায়। আবার অনেকে পড়া মনে রাখার জন্য কিছু কৌশল ব্যবহার করে এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অবলীলায় মনে রাখতে সক্ষম হয়। সঠিক কৌশল প্রয়োগ করে না পড়লে পড়া ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। পড়া সহজে মনে রাখার কিছু কৌশল।

আগ্রহ তৈরি

আগ্রহ সহকারে পড়তে বসা। খেলা বা সিনেমা/মুভি দেখার সময় আপনি যেমন আগ্রহ ও জেতার আসা বা পুরো মুভিটা শেষ করার আগ্রহ নিয়ে বসেন তেমনি পড়ার সময়ও নিজের ভিতর থেকে আগ্রহ তৈরি করতে হবে। পড়া কঠিন, মনে থাকে না, বুঝিনা এসব পূর্বধারণা থেকে বেরিয়ে খালি মাথা নিয়ে বসতে হবে।

পড়াশুনা আমাদের সবার কাছে কমবেশি কঠিন বিষয়। আর এ কঠিন বিষয়টিকে যদি সহজ ও মনে রাখার উপযোগী করতে হয় তাহলে আগ্রহ থাকাটা অত্যন্ত জরুরী। কেননা যে কাজে কোন আগ্রহ থাকবে না সে কাজ কোন ভাবেই সঠিকভাবে সম্পাদন হবে না।

কনসেপ্ট ট্রি

পড়া মনে রাখার জন্য সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো কনসেপ্ট ট্রি। এ পদ্ধতিতে কোন একটি বিষয় শিখার আগে পুরো অধ্যায়টিকে সাতটি অংশে ভাগ করে প্রতিটি অংশের জন্য একটি লাইন করে সারমর্ম লিখতে হবে। তারপর খাতায় একটি গাছ একে সাতটি সারমর্মকে গাছের এক একটি পাতায় লিখে রাখতে হবে। তারপর পাতাগুলোতে প্রতিদিন চোখ বুলালেই আধ্যায়টি সম্পর্কে একটি পুর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যাবে। এটি একটি পরিক্ষিত বৈজ্ঞানিক ধারণা।

কী ওয়ার্ড

লেখা পড়ায় আপনাকে কী ওয়ার্ড বাচাই করতে হবে বা নিজে করে নিতে হবে। কেননা যে কোন বিষয়ের অত্যন্ত কঠিন বিষয়গুলো ছন্দের আকারে খুব সহজ উপায়ে মনে রাখা যায়।
যেমন: রংধনুর সাত রং মনে রাখার সহজ কৌশল হলো ‘বেনীআসহকলা’ শব্দটি মনে রাখা। সাতটি রংয়ের প্রথম আদ্যাক্ষর রয়েছে শব্দটিতে। তেমনি আবার ইংরেজী ‘লেফটেনেন্ট’((Lie,u,ten,ant) ) শব্দটির বানান মনে রাখতে ‘মিথ্যা তুমি দশটি পিপিলিকা’ মনে রাখলেই বানানটি হয়ে যাবে।

অল্প অল্প করে মনোযোগ দিয়ে পড়া

যদি পড়া মনে রাখতে হয় তাহলে তা বিভিন্ন অংশ বা সেগমেন্টে ভাগ করে পড়া বেশ উপকারী। যেমন: ৪৬৭৮৯০ এ সংখ্যাটি মনে রাখা যতটা সহজ তার চাইতে ৪৬৭ এবং ৮৯০ মনে রাখা আরও বেশী সহজ। আমরা পাঠ্য বইয়ের অনেক সংঙ্ঘা পড়তে ভয় পাই কিন্তু বড় সংঙ্ঘাকে কয়েক ভাগে ভাগ করে পড়লে মনে রাখা সহজ। কারণ আমাদের ব্রেন অনেক বড় বিষয়ের চেয়ে ছোট বিষয় বেশি মনে রাখতে পারে।

লিখে পড়ার অভ্যাস করতে হবে

পড়ার সাথে সাথে লিখলে আমাদের ব্রেনের অনেক বেশি উদ্দীপ্ত হয়। লেখার সাথে ব্রেনের যে অংশগুলো জড়িত তা তথ্যকে স্থায়ী মেমোরীতে রূপান্তর করতে সহায়তা করে। এছাড়া মানুষ কোন কিছু লিখতে চাইলে উক্ত বিষয়ের প্রতি মনোযোগ বেড়ে যায় যা স্থায়ী মেমোরি তৈরিতে সহায্য করে।

মার্কার ব্যবহার করা

অনেকেই আছে যারা পড়ার সময় মার্কার ব্যবহার করে, এটা খুব কার্যকর। কারণ যখন কোন কিছু মার্ক করা হয় তখন ঐ শব্দ বা বাক্যের উপর আগ্রহ ও আকর্ষণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি এর উপর ব্রেনের ভিজ্যুয়াল এফেক্ট বেড়ে যায়। ফলে মনে রাখতে সুবিধা হয়।

সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করা

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে সকাল দশটার আগে মানুষের ব্রেন ক্রিয়াশীল হয় না। এই সময়ের পর থেকে ধীরে ধীরে ব্রেনের ক্রিয়াশীলতা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বিকালের পরে ব্রেনের ক্রিয়াশীলতা বাড়ে। তাই সকালের পড়া থেকে বিকাল বা সন্ধ্যার পর পড়া অনেক বেশী কার্যকর।

পর্যাপ্ত ঘুম

আমাদের ব্রেন মূলত স্মৃতি তৈরির কাজ করে ঘুমের ভিতর। গবেষণায় দেখা গেছে সারাদিনের কাজ বা ঘটনাগুলো ঘুমের সময় মেমোরিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে যে কোন তথ্য মেমোরিতে রূপান্তরিত করতে চাইলে পড়াশোনার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে।

মুখস্থ বিদ্যাকে না বলা

কথায় আছে মুখস্থ বিদ্যা মানুষের চিন্তাশক্তিকে অকেজো করে দেয়। পড়াশোনার আনন্দও মাটি করে দেয়। কোন কিছু না বুঝে মুখস্থ করলে সেটা বেশিদিন স্মৃতিতে ধরে রাখা যায় না। কিন্তু তার মানে এই নয় সচেতনভাবে কোন কিছু মুখস্থ করা যাবে না। টুকরো তথ্য যেমন: সাল, তারিখ, বইয়ের নাম, ব্যাক্তির নাম, বিজ্ঞানের কোন সূত্র ইত্যাদি বুঝে মুখস্থ করতে হবে।

রিভাইজ

কোন এক গবেষণায় দেখা গেছে যে আমরা আজকে সারাদিন যত কিছু পড়ি শুনি জানি বা দেখি তা পাঁচ দিন পর চার ভাগের তিন ভাগই ভুলে যাই। এ ভুলে ঠেকানোর জন্য কিছু টিপস আছে যেমন: ৪৫ মিনিট পর ১৫ মিনিট ব্রেক এবং সেই ব্রেকে মনে মনে সে পড়াটা রিভাইজ দেয়া এবং কোথাও আটকে গেলে তা আবার দেখে নেয়া। আজকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পড়ে আগামীকাল ঘুমানোর আগে উক্ত পড়া রিভাইজ দেয়া। তারপর এক সপ্তাহ পর পুনরায় রিভাইজ দিলে দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

আজকের আলোচনা ছিল পড়া মনে রাখার উপায় সম্পর্কে।  আলোচনা থেকে নিশ্চয়ই আপনারা উপকৃত হবেন। আপনাদের মতামত আমাদের জানাতে ভুলবেন না। আপনাদেএ জন্যই আমাদের কমেন্ট বক্স।

লাচ্ছা সেমাইর লাড্ডু – তৈরি করুন, ফ্যামিলি নিয়ে পরিবেশন করুন।

0
লাচ্ছা সেমাইর লাড্ডু

লাচ্ছা সেমাইর লাড্ডু অত্যন্ত মজাদার একটি রেসিপি। আপনি নিজ হাতে নিজ বাসায় তৈরি করতে পারেন খুব সহজেই। রেসিপি sumi’s kitchen কর্তৃক।

কথায় আছে নিজ হাতের তৈরি রেসিপির তুলনাই হয় না। তাই আপনাদের জন্য আজকের এই লাড্ডু রেসিপি। চলুন সময় নষ্ট না করে শুরু করা যাক।

লাচ্ছা সেমাইর লাড্ডু তৈরির উপকরণ :

১। লাচ্ছা সেমাই ৩০০ গ্রাম
২। ঘি ২ টেবিল চামচ
৩। এলাচ ৩ টি
৪। দারুচিনি ৩ টুকরো
৫। গুঁড়ো দুধ ১/২ কাপ
৬। কনডেন্সড মিল্ক ১/২ কাপ
৭। নারকেল কোড়া ১/২ কাপ
৮। বাদাম ও কিসমিস কুচি ৩ টে চামচ(যদি দিতে চান)

লাচ্ছা সেমাইর লাড্ডু প্রস্তুত প্রণালি:

লাচ্ছা সেমাইর লাড্ডু তৈরির জন্য প্রথমে একটি প্যানে ঘি গরম করে তাতে দারুচিনি ও এলাচ দিয়ে ভেজে নিতে হবে।ভাজা হয়ে গেলে সেমাই দিয়ে অল্প আঁচে দশ মিনিটের মতো ভেজে নিতে হবে। তারপর গুঁড়ো দুধ ও নারকেল কোড়া মিশিয়ে আরেকটু নেড়ে চেড়ে কনডেন্স মিল্ক দিয়ে দিতে হবে। (সাথে বাদাম কুচি ও কিসমিস কুচি দিয়ে পারেন।)এবার ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে যখন আঠালো ভাব চলে আসবে তখন নামিয়ে নিতে হবে। এবার দারুচিনি ও এলাচ বেছে ফেলে দিয়ে,হাতের তালুতে একটু ঘি মেখে গোলাকৃতির করে লাড্ডুগুলো বানিয়ে নিতে হবে।সবগুলি লাড্ডু বানানো হয়ে গেলে সাজানোর জন্য উপরে কিছুটা গুঁড়ো দুধ দিতে পারেন।ব্যস তৈরি হয়ে গেল লাচ্ছা সেমাইয়ের লাড্ডু।

এমন আরও রেসিপি পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। আর আপনি যদি আপনার রেসিপি প্রকাশ করতে চান আমাদের সাইটে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন অথাবা আমাদের সাইটে সাইন আপ করুন।

অন্যান্য রেসিপি সমূহঃ

বাধাকপির পাকোড়া

চিতল মাছের কোফতা

শাহী পাক্কি বিরিয়ানি

ডাল পুরি রেসিপি

ভেলপুরি 

কর্ম কৌশল – কম সময়ে বেশি কাজ।

0
কর্ম কৌশল - কম সময়ে বেশি কাজ।
কর্ম কৌশল - কম সময়ে বেশি কাজ।

কর্ম কৌশল : কম সময়ে বেশি কাজ। টাইটেল দেখেই আশা করি বুঝতে পেরেছেন। চলুন শুরু করা যাক।

সময় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সময়ের অপব্যবহারে মানুষের জীবন অর্থহীন হয়ে যায়, আবার সময়ের পরিপূর্ণ ব্যবহারে কেউ হয়ে ওঠে সফল ও ঈর্ষণীয় সাফল্যের অধিকারী। সময়কে কাজে লাগানোর এমন কিছু কার্যকর কৌশল নিচে উল্লেখ করা হলো।

কাজের লক্ষ্য স্থির করা।

লক্ষ্য স্থির করে কাজ করলে দ্রুত বা নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করা যায়। এতে মনের সাথে কাজের যোগসূত্র রচিত হওয়ায় কাজ সুচারুরূপে করা যায়।

কাজের তালিকা তৈরি ও কঠোরভাবে মেনে চলা।

আগের রাতে পরবর্তী দিনের কাজের তালিকা তৈরি করতে হবে। সাথে আনুমানিক সময় নির্দিষ্ট করে রাখতে হবে। সে সাথে কাজের তালিকা কঠোরভাবে মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে।

একই ধরনের কাজগুলোকে শ্রেণিবদ্ধ করা।

একই ধরনের কাজগুলো একবারে করে ফেললে অনেক সময় বেঁচে যায়। আর এতে মনোযোগও অটুট থাকবে। তাই একই ধরনের কাজ গুলো তালিকায় সাজিয়ে নিতে হবে।

পূর্ব কাজের সূত্র ধরে কাজ করা।

অনেক সময় পূর্বের কাজের ধারাবাহিকতায় নতুন কোনো কাজ হাতে নিতে হয়। সেক্ষেত্রে ই-মেইল, প্রেজেন্টেশন, রিপোর্ট ইত্যাদি পূর্বের কাজের কিছু অংশ পুন:ব্যবহার করে অল্প সময়ে কাজ সেরে ফেলা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া।

দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আগে করে ফেলার চেষ্টা করতে হবে। এতে মানসিক তৃপ্তি বেড়ে যাবে, ফলে পরবর্তী কাজগুলোকে আরো বেশি গতিতে এগিয়ে যাবে।

কাজের দক্ষতা বাড়ানো।

কাজে দক্ষতা থাকলে অল্প সময়ে বেশি কাজ করা যায়। তাই নিয়মিত কাজগুলোতে অনুশীলনের মাধ্যমে দক্ষতা আনয়ণ করতে পারলে সময় বাঁচিয়ে অধিক কাজ করা যায়।

ই-কমার্স, এক নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশ। ই কমার্স নিয়ে বিস্তারিত।

এক সাথে একাধিক কাজ না করা।

এক সাথে একাধিক কাজ করলে কখনোই তা সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হয় না। এক্ষেত্রে কর্মদক্ষতাও কমে যায়। তাই উচিত একটি কাজ শেষ করার পর অপরটি শুরু করা।

সময়ানুবর্তিতা মেনে চলা।

কম সময়ে বেশি কাজ করতে হলে অবশ্যই সময় বেঁধে কাজ করতে হবে। কাজের জন্য বরাদ্দকৃত সময়েই তা শেষ করার চেষ্টা করতে হবে। আজকের কাজ আগামী দিনের জন্য ফেলে রাখা যাবে না।

কাজের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া।

কাজের ভুল নিয়ে চিন্তা করতে হবে, একই সাথে নিজেকে শুধরাতে হবে। এতে পরবর্তীতে একই ভুলে সময় নষ্ট হবে না।

মনোযোগ অটুট রাখা।

কাজ করার সময় মনোযোগ না থাকলে তা শেষ হতে সময় বেশি লাগে। প্রয়োজনে কাজ করার সময় মোবাইল ফোন বন্ধ বা Silent Mode এ রাখা যেতে পারে। একইভাবে বাসায় থেকে কাজ করার সময় পারিবারিক জীবন আলাদা রেখে কাজ করতে হবে।

সময় নষ্ট করে এমন কাজ পরিহার করা।

সময় নষ্ট করে এমন কাজ বা ক্ষেত্রগুলোকে খুঁজে বের করতে হবে। ফেস(ক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হলেও অনেক সময় তা সময় নষ্টেরও কারণ হয়। তাই এর পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া অকারণে ইন্টারনেট ঘাটাঘাটিও বাদ দিতে হবে।

প্রতিটি জিনিস যথাস্থানে রাখা।

কাগজপত্র, চাবি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস কাজ শেষে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। নইলে এগুলো খুঁজতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হবে এবং মনোযোগে বিঘ্ন ঘটবে।

কাজের ফাঁকে বিরতি নেয়া।

কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই ছোট ছোট বিরতি নেয়ার চেষ্টা করতে হবে। এতে মনোনিবেশ করার ক্ষমতা বাড়বে, শরীর ক্লান্তিহীন থাকবে এবং মস্তিষ্কও সক্রিয় থাকবে। ফলে কাজের গতি বাড়বে।

পরিশেষে

কথায় আছে সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়। সময়ের পরিকল্পিত ব্যবহারই কম সময়ে বেশি কাজ করার মূল মন্ত্র। আর এটি করতে পারলেই সাফল্যের স্বর্ণদুয়ারে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

স্মার্টফোনের কয়েকটি বিকল্প ব্যবহার জেনে নিন।

0

স্মার্টফোনের কয়েকটি বিকল্প ব্যবহার
মোবাইল ফোনের ব্যবহার বলতে আমরা অনেকেই মনে করি শুধুমাত্র কল, এসএমএস এর ব্যবহার।
কেই আবার স্মার্টফোনের ব্যবহার বলতে বুঝি ইন্টারনেট ব্যবহাও ও স্বাভাবিক ফোনের যাবতীয় সুবিধা ভোগ করাকে।
স্মার্টফোনের মাধ্যমে আরো অনেক সুবিধা ভোগ করা যায় তা আমরা অনেকেই জানি না। আপনাদের সুবিধার্থে স্মার্টফোনের কয়েকটি বিকল্প ব্যবহার এই আর্টিকেলে তুলে ধরা হবে ইনশাল্লাহ।
চলুন তাহলে শুরু করা যাক, আশা করি ভালো লাগবে আর উপকারে আসবে। ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

স্পাই ক্যামেরা :

বাসা বাড়ি কিংবা অফিসে নজরদারি করার জন্য সিসিটিভির ব্যবহার তো রয়েছেই। তবে একটি বাড়তি অ্যান্ড্রয়েড ফোন থাকলে আর সিসিটিভির প্রয়োজন নেই। ওই ফোনটিকেই ব্যবহার করা যাবে স্পাই ক্যামেরা হিসেবে। এর জন্য কেবল অ্যান্ড্রয়েড ফোনটিতে ইন্সটল করে নিতে হবে স্পাই ক্যামেরা নামের একটি অ্যাপ্লিকেশন। গুগল প্লে স্টোরে টাট্টু মোবাইলের তৈরি এই অ্যাপ্লিকেশনটি পাওয়া যাবে https://play.google.com/store/apps/details?id=com.ginfotech.spycamera ঠিকানায়।
ফোনের ডিসপ্লে বন্ধ থাকা অবস্থাতেও এটি ছবি ও ভিডিও ক্যাপচার করতে পারে। এতে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে দরকারি কমান্ড গুলো কাস্টমাইজ করার সুযোগ রয়েছে।

ভোল্টেজ পরিমাপক :

মোবাইলের ব্যাটারি রিচার্জ করতে তো হয় প্রতিদিনই। কিন্তু কোনো ফোনের ব্যাটারি রিচার্জের সময় কী পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে, সেই তথ্য কি আমরা জানি?
অনেকি জানি না। আমি জানতাম না। আর এই তথ্য জানার জন্য সরাসরি কোনো পদ্ধতি নেই অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে । তবে ‘অ্যাম্পিয়ার’ নামের একটি অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এই কাজটি সহজেই করা যায়। ব্রেইনট্র্যাপ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি এই অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যাটারি চার্জ হওয়ার সময়জুড়ে প্রদর্শন করবে বিদ্যুৎ প্রবাহের পরিমাণ এবং ভোল্টেজের পরিমাপ। আর ফোনটি চার্জারের সাথে সংযুক্ত না থাকার সময় এটি ফোনের ডিসচার্জের হার প্রদর্শন করবে।
অ্যান্ড্রয়েড ৪.০.৩ বার এর পরের যেকোনো সংস্করণের জন্য কাজ করবে এই অ্যাপ্লিকেশন । তবে সব ফোনে আবার এটি কাজ করে না।
গুগল প্লে-স্টোরে এই অ্যাপ্লিকেশনের লিংকে http://goo.gl/KLgxOw গেলে অবশ্য এই বিষয়ক তালিকা পূর্ণাঙ্গ পাওয়া যাবে।

পূর্ণাঙ্গ মিডিয়া প্লেয়ার:

অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে সাধারণভাবে টিভিতে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট স্ট্রিমিং করা যায়। বাড়তি সুবিধা উপভোগ করার জন্য টিভির সাথে অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে সংযুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ মিডিয়া প্লেয়ার হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।
এর জন্য থাকতে হবে এমএইচএল বা এইচডিএমআই আউটপুট, যা দিয়ে অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি যুক্ত হবে টিভির সাথে। আর প্রয়োজন হবে বিশেষায়িত সফটওয়্যারের। এই সফটওয়্যার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন ‘টিভিএমসি’ নামের টিভি অ্যাড-অন । গুগল প্লে স্টোরে নেই অ্যাপসটি। তাই www.tvaddons.ag/tvmc-android সাইট থেকে এই অ্যাপ্লিকেশনের এপিকে ফাইল ডাউনলোড করে নিয়ে পৃথকভাবে ইন্সটল করে নিতে হবে।
এটি ইন্সটল হয়ে গেলেই টিভিতে সংযুক্ত অ্যান্ড্রয়েড ফোনটিই পরিণত হবে একটি পূর্ণাঙ্গ মিডিয়া প্লেয়ারে।

ওমর খৈয়াম – গিয়াস উদ্দিন আবুল ফতেহ ওমর ইবনে ইব্রাহীম নিশাপুরি।

0

ওমর খৈয়াম (১০৪৪-১১২৩ খ্রিঃ) ওমর খৈয়াম ১০৪৪ খ্রিষ্টাব্দে খোরাসানের রাজধানী নিশাপুর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম গিয়াস উদ্দিন আবুল ফতেহ ওমর ইবনে ইব্রাহীম আল-খৈয়াম নিশাপুরি। কিন্তু তিনি ওমর খৈয়াম নামেই সমগ্র অর্থ হচ্ছে তাবু নির্মাতা বা তাবু ব্যবসায়ী। সম্ভবত বংশের কেউ তাবু নির্মাণ করতে কিংবা তাবুর ব্যবসা করতেন। আর সেই থেকেই বংশের কিংবা পারিবারিক উপাধি হয়েছে খৈয়াম।

আসলে তিনিই ছিলেন খৈয়াম অর্থাৎ তাবু নির্মাতা। তিনি জ্ঞানের যে তাবু নির্মাণ করে গেছেন, আজও বিশ্বের অগণিত জ্ঞান পিপাসু মানুষ প্রবেশ করে জ্ঞানের সে তাবুর অভ্যন্তরে এবং আহরন করে জ্ঞান। ওমর খৈয়ামের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত জানা যায় না। এমন কি এ মনীষীর জন্ম তারিখ নিয়েও রয়েছে মতভেদ। পারস্য ঐতিহাসিকগণের মতে গজনীর সুলতান মাহমুদের মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে আনুমানিক ১০১৮ থেকে ১০৪৮ সালের মধ্যে কোন এক সময়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

ওমর খৈয়াম ছিলেন একজন বিশ্ব বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী, অংক শাস্ত্রবিদ, জ্ঞান অর্জন করার তেমন কোন আশা আকাঙ্খা তাঁর ছিল না। তিনি কেবল মাত্র আত্মসন্তুষ্টির জন্যে বিজ্ঞান চর্চার অবসর সময়ে মনের খেয়ালে এক ধরণের চতুষ্পদী কবিতা লিখতেন। তিনি নিজ মাতৃভূমি ইরানেও জীবিতাবস্থায় কবি হিসাবে পরিচিত ছিলেন না। অথচ মনের খেয়ালে তাঁর লিখিত কবিতাগুলো আজ সমগ্র বিশ্বে হয়েছে সমাদ্রিত এবং দখল করেছে সাহিত্য ও কবিতা জগতের শ্রেষ্ঠ সিংহাসন। ওমর খৈয়াম আজ সমগ্র বিশ্বের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। কিন্তু ইউরোপীয়রা অত্যন্ত কৌশলে এ মনীষীকে বিশ্ব বিখ্যাত একজন বিজ্ঞানীর পরিবর্তে কেবলমাত্র একজন কবি হিসাবে পৃথিবীর মানুষের সামনে পরিচিত করার চেষ্টা করেছেন। ওমর খৈয়ামের মৃত্যু প্রায় ৭৩৪ বছর পর ১৮৫৭ সালে এডোয়ার্ড ফিজারেল্ড খৈয়ামের ‘রুবাইয়াত’ নামক চতুষ্পদ কবিতাগুলোর ইংরেজী অনুবাদের দ্বারা সমগ্র ইউরোপ তাঁর রুয়াইয়াত ছড়িয়া দেয় এবং তিনি কবি হিসাবে পরিচয় লাভ করেন।

ওমর খৈয়াম ছোট বেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মেধামী ও বুদ্ধিমান। তাঁর স্মরণ শক্তি এত প্রখর ছিল যে, যে কোন দর্শন গ্রন্থ এবং কঠিন কঠিন কিতাব সমূহ মাত্র ৬/৭ বার পাঠ করেই তা মুখস্ত করে ফেলতেন। তাঁর মেধা ও প্রতিভার সামনে সক্রেটিস, এ্যারিষ্টটল, এবং ইউক্লিড এর প্রতিভাও ম্রিয়মান হয়ে যায়। ওমর খৈয়ামের শিক্ষকদের মধ্যে একজন ছিলেন তৎকালীন বিখ্যাত পন্ডিত ইমাম মোয়াফিক। মনীষী ওমর খৈয়ামের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা খুব ভাল ছিল না। আমীর আবু তাহির তাকে জ্ঞান চর্চার জন্যে কিছু অর্থ সাহায্য করেন এবং রাজ্যের সুলতান জালাল উদ্দিন মালিক শাহের প্রধান মন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ফলে তাঁর আর্থিক দূরাবস্থা সামান্য লাঘব হয়। রাষ্ট্রীয় সাহায্য পেয়ে ওমর খৈয়াম ভোগ বিলাসকে স্পর্শও করেননি। বরং রাষ্ট্রীয় সাহায্য তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান সাধনা ও গবেষণার কাজে সহায়তা করেছিল। কোন বই হাতে পেলেই তা তিনি পড়ে শেষ করে ফেলতেন।

জ্যোতিবিজ্ঞান, বীজ গণিত ও জ্যামিতি ছিল তাঁর প্রিয় বিষয়। এছাড়া দর্শন শাস্ত্রে ছিল তাঁর অসাধারণ ব্যুৎপত্তি। মানুষ হিসেবে ছিলেন তিনি খাঁটি মুসলমান ও আল্লাহ প্রেমিক।
এ জালালী বর্ষপঞ্জীতে ৩৭৭০ বৎসরে মাত্র ১ দিনের ভ্রান্তি ছিল। অপর দিকে গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জীতে ভ্রান্তি ছিল ৩৩৩০ বৎসরের ১ দিনের। জালালী অব্দ হিজরী ৪৭১ সালের ১০ রমজান থেকে শুরু হয়। এ মহান বিজ্ঞানী একটি নতুন গ্রহও আবিষ্কার করেছিলেন। ওমর খৈয়ামের সর্বাধিক অবদান এলজাবরা অর্থাৎ বীজ গণিত।

তিনিই সর্বপ্রথম এলজাবরার সমীকরণগুলোর শ্রেণী বিন্যাসের চেষ্টা করেন। জ্যামিতি সমাধানে বীজগণিত এবং বীজগণিত সমাধানে জ্যামিতি পদ্ধতি তাঁরই বিস্ময়কর আবিষ্কার। ভগ্নাংশীয় সমীকরণের উল্লেখ ও সমাধান করে ওমর খৈয়ালই সর্ব প্রথম বীজগণিত এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। বীজগণিত সম্পর্কীয় ফি আলজাবারে নামক গ্রন্থ তিনিই রচনা করে যান। বীজ গণিতের ক্ষেত্রে ‘বাইনোমিয়াল থিউরাম’ আবিস্কার করেন। এই ‘বাইনোমিয়াল থিউরাম’ এর আবিষ্কার কর্তা হিসাবে বৈজ্ঞিানিক নিউটন আজ পৃথিবীতে বিখ্যাত হয়ে আছেন। অথচ তারও শত শত বছর পূর্বে কবি হিসাবে পরিচিত বৈজ্ঞানিক ওমর খৈয়াম তা আবিষ্কার করে গেছেন। গণিত শাস্ত্রেও তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম।
গণিত জগতে এলালিটিক জিওমেট্রির কল্পনা তিনিই সর্বপ্রথম করেন।

সমকালীন আরেক মহান মনুষী ইমাম গাজ্জালী। পড়ুন বিস্তারিতঃ- 

পরে সপ্তদশ শতাব্দীতে জনৈক গণিতবিদ একে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয় মাত্র। এছাড়া পদার্থ বিজ্ঞানেও তাঁর অবদানের কোন কমতি নেই। ওমর খৈয়ামকে মেধা ও চিন্তা শক্তি এত গভীর ছিল যে, একদিন ইমাম গজ্জালী (রহঃ) ওমর খৈয়ামকে প্রশ্ন করেছিলেন, কোন গোলক যে অংশের সাহায্যে অক্ষের উপর ঘুরতে থাকে, গোলকের সমস্ত অংশ এক প্রকার হওয়া সত্ত্বেও ঐ অংশটি অন্যান্য অংশ থেকে কিভাবে আলাদা রূপে জানা সম্ভব?

এ প্রশ্নের জবাবে ওমর খৈয়াম তখনই অংকের ব্যাখ্যা শুরু করেন। দুপুর থেকে করে বিকেল পর্যন্ত ও তার ব্যাখ্যা শেষ হয়নি। তাঁর জবাবে ইমাম গাজ্জালী (রঃ) সন্তুষ্ট হয়ে বললেন, “সত্যের সন্ধান পেতে মিথ্যার যবনিকা অপসারিত হলো। ইতিপূর্বে এ বিষয়ে আমার ধারনা ছিল তা মিথ্যা।”

ওমর খৈয়াম ছিলেন একজন বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী। তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানেও বহু বহু রচনা করে যান। ওমর খৈয়াম যে এত বড় দার্শনিক, বিজ্ঞানী, অংক শাস্ত্রবিদ ও চিকিৎসাবিদ ছিলেন তা মুসলিম জাতির অনেকেই হয়তো আজও জানেন না। কেবল মাত্র একজন কবি
হিসাবেই তাঁকে সবাই জানেন। এ অসাধারণ ব্যক্তিটিকে তাঁর জীবিতাবস্থায় নিজ মাতৃভূমিরবলোকেরাও চিনত না কিংবা চিনার চেষ্টা করতো না।

আরও পড়ুনঃ- ইবনে রুশদ – মুসলিম বিশ্বের এক অমূল্য রত্ন।

ওমর খৈয়াম কখনো নিজকে জনগণের সামনে জাহির করার চেষ্টা করেননি। তাঁর মত বহু মুসলিম মনীষী নিজের ব্যক্তিত্বকে লুকিয়েবরেখে সারাটা জীবন মানুষের কল্যাণে জ্ঞান বিজ্ঞান ও শিল্প সাহিত্যে অবদান রেখে গেছেন।

তিনি বিভিন্ন বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন। কিন্তু তার অধিকাংশ গ্রন্থই সংরক্ষণের অভাবে আজ হারিয়ে গেছে। তাঁর গ্রন্থাবলীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রস্থ হচ্ছে –
(১) রুবাইয়অত (মরমী কবিতা)
(৩) নিজাম-উল-মূলক (রাজনীতি)
(৫) মুশফিলাত (গণিত শাস্ত্র)
(২) মিজান-উল-হিকাম (রসায়ন কবিতা)
(৪) আল জাবরা ওয়াল মুকাবিলা (বীজগণিত)
(৬) নাওয়াযিম আসকিনা (ঋতু পরিবর্তন বিষয়ক)
(৭) আল কাউল ওয়াল তাকলিক (মানুষের নৈতিক দায়িত্ব)
(৯) দার ইলমে কুল্লিয়াত
(৮) রিসালা মুকাবাহ
(১০) নওরোজ নামা প্রভৃতি।

বিশ্ব বিখ্যাত এ মনীষী ১১২৩ খ্রিষ্টাব্দে ৭৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। জানা যায়, মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর শিষ্যদের শেষ বারের মত বিশেষ উপদেশ দানের উদ্দেশ্যে আহ্বান করেন। এরপর তিনি ওজু করে এশার নামাজ আদায় করেন। এদিকে তিনি শিষ্যদের উপদেশ দানের কথা ভুলে যান। নামাজান্তে সেজদায় গিয়ে তিনি কাঁদতে থাকেন এবং জোরে জোরে বলতে থাকেন, হে আল্লাহ আমি কেবল মাত্র তোমাকে পাবার এবং তোমাকে সন্তুষ্ট করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। আমি চাই তোমাকে। হে আল্লাহ, আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তোমার দয়া ও করুণার গুণে আমাকে ক্ষমা করে দাও”। এরপর তিনি আর মাথা তোলেননি। সেজদা অবস্থায়ই তিনি চিরদিনের জন্য এ নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে যান আল্লাহ পাকের সান্নিধ্যে।

ফটোশপের তিন বিকল্প।

0

যাঁরা নিয়মিত অ্যাডোবি ফটোশপ দিয়ে ছবি সম্পাদনা করে থাকেন, তাঁদের ‘পিএসডি’ শব্দের সঙ্গে পরিচয় আছে। পিএসডি বা ফটোশপ ডকুমেন্ট হলো অ্যাডোবি ফটোশপের নিজস্ব ফাইল ফরম্যাট।

যাতে ফটোশপের মাধ্যমে সম্পাদিত একটি ছবির সম্পাদনার প্রতিটি ধাপের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ফলে সম্পাদিত একটি ছবি পরবর্তীকালে প্রয়োজন অনুযায়ী আবার সম্পাদনা করা সম্ভব হয়।

যেহেতু এটি অ্যাডোবি ফটোশপের নিজস্ব ফাইল ফরম্যাট, তাই পিএনজি, জেপেগ বা বিটম্যাপের মতো ফরম্যাটের ফাইলগুলো যেমন প্রায় সব ছবি সম্পাদনার অ্যাপলিকেশন দিয়ে খোলা যায়, পিএসডির ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হয় না। এদিকে অ্যাডোবি ফটোশপ ব্যবহারের জন্য সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হয়।

তবে বিনা মূল্যে পাওয়া যায় এমন কিছু অ্যাপ রয়েছে, যার মাধ্যমে পিএসডি ফাইল খোলা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টুকটাক সম্পাদনাও করা যায়। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, তৃতীয় পক্ষের এই অ্যাপগুলো দিয়ে অ্যাডোবি ফটোশপের মতো পরিপূর্ণ কাজ করা সম্ভব না।

জিআইএমপি

অ্যাপটির সাহায্যে খুব সহজেই পিএসডি ফরম্যাটের ফাইল চালু করা যায় এবং ফটোশপের মতো আলাদা লেয়ারে সম্পাদনা করাও সম্ভব।
তবে একটি সমস্যা রয়েছে, কিছু কিছু লেয়ার অ্যাপটির সাহায্যে দেখা বা সম্পাদনা করা যায় না। এ ছাড়া তৃতীয় পক্ষের কোনো প্লাগ-ইন চালু না করেই বেশ ভালো কাজ করে। উইন্ডোজ, ম্যাক, লিনাক্স—তিন প্ল্যাটফর্মেই অ্যাপটি বিনা মূল্যে পাওয়া যায়।
নামানোর ঠিকানা : https://goo.gl/rjKEbq

পেইন্ট ডট নেট

পেইন্ট ডট নেটের সঙ্গে উইন্ডোজ কমবেশি
ব্যবহারকারীরা পরিচিত। একটি প্রশ্ন জাগতে পারে, ফটোশপের মতো ভারী ছবি সম্পাদনার সফটওয়্যারের ফাইল ফরম্যাট কীভাবে এটি চালু করবে। এ জন্য তৃতীয় পক্ষের ‘পিএসডি প্লাগ-ইন’ ব্যবহার করতে হবে। প্লাগ-ইনটি একবার নামিয়ে নিলেই পিএসডি ফাইল চালু করতে আর কোনো সমস্যা হবে না।
নামানোর ঠিকানা : https://goo.gl/bxfE30

ফটোপিয়া অনলাইন এডিটর

এটি একটি ওয়েব অ্যাপ। জিআইএমপির মতো পিএসডি ফাইল চালু ও সম্পাদনার কাজ সহজেই করা যায়। ওয়েব অ্যাপ হলেও অন্য অ্যাপগুলোর মতোই কাজের বলা চলে।
নামানোর ঠিকানা : https://goo.gl/SVhn4X

মারিফুল হাসান, সূত্র : মেক ইউজ অব

ইমাম গাজ্জালী (রঃ) – আবু হামিদ মোহাম্মদ ইবনে মোহাম্মদ আল-গাজ্জালী।

0
ইমাম গাজ্জালী

আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন পথহারা মানুষদের সঠিক পথের সন্ধান দেয়ার জন্যে এবং পৃথিবীর
বুক থেকে সকল অশিক্ষা, কুশিক্ষা, অন্যায়, অসত্য, শোষণ, জুলুম, অবিচার, ব্যাভিচার, শিরক,
কুফর, কুসংস্কার এবং মানব রচিত মতবাদ মতাদর্শের মূলোৎপাটন করে আল্লাহর দেয়া জীবন ব্যবস্থা বা খিলাফত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে লক্ষাধিক নবী-রাসূল।

তাঁর পরে পৃথিবীতে আর কোন নবী বা রাসূলের আবির্ভাব ঘটবে না। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাধ্যমে আল্লাহ পাক নবুয়াতের দরজাকে বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে এ কথা অসত্য নয় যে, প্রত্যেক যুগেই পথহারা মানুষদের সঠিক পথের সন্ধান দেয়ার জন্যে ঐশী জ্ঞানে সমৃদ্ধ এক বা একাধিক মনীষীর
আবির্ভাব ঘটবে এ ধরাতে।

তাঁরা নবী কিংবা রাসূল হিসেবে আবির্ভূত হবেন না; কিংবা নতুন কোন মত বা মতাদর্শও প্রচার করবেন না। বরং তাঁরা বিশ্বনবী (সাঃ) এর নির্দেশিত পথে এবং তাঁরই আদর্শের দিকে আহবান করবেন মানব জাতিকে। তাঁদের চরিত্র ও স্বভাব হবে মার্জিত, আকর্ষণীয় ও অনুপম। তাঁরা দুনিয়াকে ভোগ বিলাসের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে মনে করবেন না।

তাঁদের চরিত্র, স্বভাবও সাধারণ জীবন যাত্রা দেখে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ ফিরে আসবে সত্য ন্যায়ের পথে। ইমাম গাজ্জালী (রঃ)) ছিলেন তাঁদেরই একজন।

ইমাম গাজ্জালী (রঃ) – আবু হামিদ মোহাম্মদ ইবনে মোহাম্মদ আল-গাজ্জালী।

ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর প্রকৃত না আবু হামেদ মোহাম্মদ গাজ্জালী। কিন্তু তিনি ইমাম গাজ্জাল নামেই খ্যাত।
গাজ্জাল শব্দের অর্থ হচ্ছে সূতা কাটা। এটা তাঁর বংশগত উপাধি। কারো মতে তাঁর পিতা মোহাম্মদ কিংবা পূর্ব পুরুষগণ সম্ভবত সূতার ব্যবসা করতেন। তাই উপাধি হয়েছে গাজ্জালী।

তাঁর পিতা ছিলেন দরিদ্র এবং শিশু বয়সেই তিনি তাঁর পিতাকে হারান। পিতার মৃত্যুতে তিনি নিদারুণ অসহায় অবস্থায় পড়েন কিন্তু সাহস হারাননি। জ্ঞান লাভের প্রতি ছিল তাঁর খুব আগ্রহ।

ইমাম গাজ্জালী’র শিক্ষা জীবন

তৎকালীন যুগের বিখ্যাত আলেম হযরত আহমদ ইবনে মুহাম্মদ বারকানী এবং হযরত আবু নসর ইসমাইলের নিকট তিনি কোরআন, হাদিস, ফিকাহ ও বিবিধ বিষয়ে অস্বাভাবিক জ্ঞান লাভ করেন।

কিন্তু এতে তিনি তৃপ্তিবোধ করলেন না। জ্ঞান অন্বেষণের জন্যে পাগলের ন্যায় ছুটে যান নিশাপুরের নিযামিয়া মাদ্রাসায়। তৎকালীন যুগে নিশাপুর ছিল ইসলামী জ্ঞান, বিজ্ঞান, দর্শন ও সাহিত্যে সমৃদ্ধও উন্নত। এখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সর্ব প্রথম ও পৃথিবীর বৃহৎ নিযামিয়া মাদ্রাসা।

সেখানে তিনি উক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আবদুল মালিক (রঃ) নিকট ইসলামী দর্শন, আইন বিবিধ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। আবদুল মালিক (রঃ) এর মৃত্যুর পর তিনি চলে আসেন বাগদাদে। এখানে এসে তিনি একটি মাদ্রাসায় অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং বিভিন্ন জটিল বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন।

দেশ দেশান্তরে ইমাম গাজ্জালী

জ্ঞান বিজ্ঞান ও দর্শনে তাঁর সুখ্যাতি আস্তে আস্তে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। অপরদিকে তিনি আল্লাহকে পাবার জন্যে এবং আল্লাহর সৃষ্টির রহস্যের সন্ধানে ধন-সম্পদ ও ঘর-বাড়ির মায়া মমতা ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন অজানা এক পথে। প্রায় দশটি বছর দরবেশের বেশে ঘুরে বেড়ান দেশ থেকে দেশান্তর।

আল্লাহর ইবাদত, ধ্যান মগ্ন, শিক্ষাদান জ্ঞান চর্চারমধ্য দিয়ে কাটিয়ে দেন দিন রাত। জেরুজালেম হয়ে চলে যান মদীনায়। বিশ্বনবীর রওজা মোবারক জিয়ারত শেষে চলে আসেন মক্কায়। হজ্জব্রত পালন করেন। এরপর চলে যান আলেকজান্দ্রিয়ায়। সেখানে কিছুদিন অবস্থান করে আবার ফিরে আসেন মাতৃভূমিতে।

আধ্যাত্মিক জ্ঞানে ইমাম গাজ্জলী

ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর আধ্যাত্মিক জ্ঞান ছিল অত্যন্ত গভীর। আল্লাহর স্বরূপ ও সৃষ্টির রহস্য তিনি অত্যন্ত নিবিড় ভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর মতে আত্মা ও সৃষ্টির রহস্য এবং আল্লাহর অস্তিত্ব বৈজ্ঞানিক যুক্তি তর্কে মীমাংসা করার বিষয় নয়; বরং এরূপ চেষ্টা করাও অন্যায়। আল্লাহর অস্তিত্ব ও সৃষ্টির রহস্য অনুভূতির বিষয়। পরম সত্য ও অনন্তরকে যুক্তি দিয়ে বুঝার কোন অবকাশ নেই।

তাঁর মতে যুক্তি দিয়ে আপেক্ষিকতা বুঝা যায় মাত্র। তিনি সকল প্রশ্নে মীমাংসা করেছেন কোরআন, হাদিস ও তারই ভিত্তিতে নিজের বিবেক বুদ্ধির সাহায্যে।

ধার্মিকতায় ইমাম গাজ্জালী

আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস ধর্মের প্রতি তাঁর আস্থা ছিল পর্বতের ন্যায় অটল ও সুদৃঢ়। ধর্ম ও দর্শনে তাঁর ছিল প্রভূত জ্ঞান। ধর্ম ও যুক্তির নিজ নিজ বলয় তিনি নির্ধারণ করেছেন।

তিনি বলেছেন, “আত্মা কখনো ধ্বংস হয় না কিন্তু দেহ ধ্বংস হয়। আত্মা মৃত্যুর পর জীবিত থাকে হৃদপিণ্ডের সাথে আত্মার কোন সম্পর্ক নেই হৃদপিণ্ড একটি মাংসপিণ্ড মাত্র, মৃত্যুর পরও দেহে এর অস্তিত্ব থাকে। কিন্তু আত্মা মৃত দেহে অবশিষ্ট থাকে না। মৃত্যুর পর আত্মার পরিপূর্ণ উৎকর্ষ ও মুক্তি সম্ভবপর হয়ে থাকে।”

তিনি ইসলামী জান, বিজ্ঞান, দর্শন ও সাহিত্যে ইসলামের পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছেন। তিনি ছিলেন ধর্ম, আদর্শ ও সুফিবাদের মূর্তিমান প্রতীক। তিনি অন্ধ বিশ্বাসের উপর যুক্তিকে প্রাধান্য দিতেন। কিন্তু যা চিরন্তন সত্য ও বাস্তব সেখানে তিনি যুক্তিকে প্রাধান্য দিতেন না বরং সেক্ষেত্রে ভক্তি ও অনুভূতিকেই প্রাধান্য দিতেন।

ইমাম গাজ্জালী রচিত গ্রন্থসমূহ-

(১) ইহিল-উল-উলমুদ দীন,
(২) কিমিয়াতে সাদাত-এ গ্রন্থটি ক্লড ফ্লিড The Alchemy of happiness নাম দিয়ে ইংরেজি ভাষার অনুবাদ করেন। এ গ্রন্থটি সৌভাগ্যের পরশ মণি’ নামে বাংলা ভাষায়ও অনূদিত ও বহুল প্রচারিত হয়ে আছে,
(৩) কিতাবুল মনফিদলিন আদ দালাল- এ গ্রন্থটি The liberation Fromerror নাম দিয়ে ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছে,
(৪) কিতাবুত তাকাফাতুল কালাসিফা এ গ্রন্থটি ক্লড ফিল্ড The Internal Contradiction of philosophy নাম দিয়ে ইংরেজিতে অনুবাদ করছেন,
(৫) মিশকাতুল আনোয়ার,
(৬) ইয়াকুত্তাবলিগ,
(৭) মনখুল
প্রভৃতি গ্রন্থ সমগ্র ইউরোপে সমাদ্রিত হয় এবং আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ মহামনীষী ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞান, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ইসলামের এক নব জাগরণ ঘটিয়েছিলেন।

ইমাম গাজ্জালী’র অমূল্য বাণী-

“মানুষের জ্ঞাতসারে যে কাজ করতে লজ্জাবোধ কর, গোপনে সেরূপ কাজ করতে চেষ্টা করো না।” -ইমাম গাজ্জালী (রঃ)।

“অপবিত্র কাপড় প্রস্রাব দ্বারা ধৌত করে পাক করার চেষ্টা, আর হারাম মাল দ্বারা সদকা করতঃ পূর্ণ অর্জন করার আশা করা একই পর্যায়ভুক্ত।” -ইমাম গাজ্জালী (রঃ)।

ই-কমার্স, এক নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশ। ই কমার্স নিয়ে বিস্তারিত।

0
ই-কমার্স

ই-কমার্স নিয়ে আজ আলোচনা করব। সময়ের সাথে সাথে মানুষের চাহিদার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে, তেমনি পরিবর্তান ঘটছে বাজার চাহিদারও। তাই বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালিত হবার কারণে ই-কমার্সকে ব্যবসা বাণিজ্যের অন্যতম আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এজন্যই ই-কমার্সকে বিশ্বগ্রামের অন্যতম সুফল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সূচনা কথাঃ

১৯৭৯ সালে ইংরেজ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তা মাইকেল অলড্রিচ প্রথম অনলাইনে শপিং-এর সফল ডেমো দেখান। ১৯৯০ সালে www এর জনক টিম বার্নাস লি প্রথম ওয়েব ব্রাউজারের সূচনা করেন। এর ফলে ইন্টারনেট জগতে বিপ্লব সূচিত হয়, অনলাইন শপিং নবউদ্যমে যাত্রা শুরু করে। ১৯৯৪ সালে জেফ বেজোস শুরু করেন ই-কমার্স সাইট আমাজান ডট কম। ১৯৯৬ সালে ইন্ডিয়াতে শুরু হয় প্রথম ইন্ডিয়ান ইন্ডিয়ামার্ট, যা ছিল একটি B2B কমার্স সাইট। ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে চীনের সাইট আলিবাবা গ্রুপ।

শ্রেণিবিভাগ
Electronic commerce-কে সংক্ষেপে বলা হয় ই-কমার্স (E-commerce)। ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই-কমার্স বা ই-বাণিজ্য একটি বাণিজ্য ক্ষেত্র, যেখানে ইলেকট্রনিক সিস্টেম (ইন্টারনেট বা অন্য কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক)-এর মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয়/বিক্রয় হয়ে থাকে। সাধারণত ই-কমার্স-এর কাজটি সম্পাদন করা হয় সবার জন্য উন্মুক্ত একটি নেটওয়ার্ক তথা ইন্টারনেটের মাধ্যমে। ই-কমার্সকে সাধারণত চার ভাগে ভাগ করা যায় : যথা— ১. ব্যবসা থেকে ভোক্তা (B2C), ২. ব্যবসা থেকে ব্যবসা (B2B), ৩. ভোক্তা থেকে ব্যবসা (C2B) ও ৪. ভোক্তা থেকে ভোক্তা (C2C)।

বাংলাদেশে ই কমার্সের ইতিহাস

বিশ শতকের শেষ ভাগে উন্নত দেশগুলোতে ডিজিটাল বিপ্লব শুরু হলেও একুশ শতকে এসে তা উন্নয়নশীল দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম ই-কমার্স শুরু হয় ২০০০ সালে, সাইটটির নাম মুন্সিব্জি ডট কম। ২০০৯ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধা শহর থেকে গ্রামেও বিস্তৃত হওয়ায় ই-কমার্সের সম্প্রসারণ হচ্ছে। সারা দেশে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টারে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রায় দশ হাজার উদ্যোক্তা রয়েছে। এদের কেউ কেউ এরই মধ্যে ই-কমার্সের  পরিচালনা শুরু করেছে।

কর্ম কৌশল – কম সময়ে বেশি কাজ।

সাম্প্রতিক অবস্থা

UNCTAD ১৩০টি দেশের ই-কমার্স খাতসমূহ নিয়ে B2C E-commerce Index প্রস্তুত করেছে। সেখানে । ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা একটি দেশের উক্ত খাতের অবস্থান নির্ণয়ের প্রধান সূচক হিসেবে ধরা হয়। kaymu.com.bd প্রকাশিত ‘A Report on e-Commerce Trends in Bangladesh’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে উক্ত খাত দ্রুতই উন্নতি করছে। kaymu-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, এই খাতে লেনদেন প্রতিবছর কমপক্ষে ১০% বৃদ্ধি পাবে।

সম্ভাবনা
ই-কমার্স বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন একটি নাম। ই-কমার্স তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে সরাসরি ম সম্পৃক্ত। ই-কমার্সের সুবিধা হলো এখানে পুঁজি লাগে কম। ইচ্ছাশক্তি, সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমই ই-কমার্স ব্যবসার সবচেয়ে বড় পুঁজি। সারা বিশ্বে অনলাইনে কেনাকাটা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশেও ইন্টারনেট ও মোবাইলের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় ই-কমার্স দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে অন্যান্য যে কোনো খাতের তুলনায় এ খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। করোনার এক বছরে এ খাতের ব্যবসায় ২০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের নতুন উদ্যোক্তারা এ খাতে আসছে। অন্যদিকে ই-কমার্সকে কেন্দ্র করে আলাদাভাবে গড়ে উঠেছে । সরবরাহ ও পরিশোধ ব্যবস্থা। সার্বিকভাবে ই-কমার্স হয়ে উঠছে দেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রার নতুন এক মাধ্যম। । দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ মানুষ ই-কমার্সে পণ্য কেনাকাটা করছে। এ খাতে ছোট বড় মিলিয়ে পাঁচ T লাখের মতো উদ্যোক্তা রয়েছে। পাঁচ বছর আগেও যা ছিল এক লাখের কম। দেশে ই-কমার্স খাতের বার্ষিক । আয় এখন ৮,০০০-১০,০০০ কোটি টাকা। পাঁচ বছর । আগেও দেড় হাজার কোটি টাকা ছিল।

কর্মসংস্থানে ই-কমার্স

ই-কমার্সের মাধ্যমে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৪০,০০০-৫০,০০০ অর্ডার সরবরাহ হতো। এখন প্রতিদিন দুই লাখের বেশি অর্ডার সরবরাহ হচ্ছে। আমাদের দেশে যদি দুই কোটি মানুষও ইন্টারনেটে পণ্য কেনে তাহলে বছরে ২৫,০০০-৩০,০০০ কোটি টাকার মতো ব্যবসা হবে। আগামী পাঁচ বছরেই তা সম্ভব। সেটি হলে এ খাতে কর্মসংস্থান ৫০ লাখে উন্নীত হয়ে যাবে। মোট জনসংখ্যা সাড়ে ১৬ কোটির ৬৫% মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। প্রতি বছর গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭% এবং বর্ধিষ্ণু নগরায়নে মধ্যবিত্ত শ্রেণির আয় বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের এ মধ্যবিত্ত শ্রেণিই ই-কমার্স কর্মকাণ্ডের মূল চালিকাশক্তি হবে।

প্রতিষ্ঠানসমূহ
বাংলাদেশে ২০১৫ সাল থেকে ব্যাপকভাবে অনলাইনে কেনাকাটা শুরু হয়। ২০২০ সালে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর ই-কমার্সই হয়ে ওঠে কেনাকাটার অন্যতম মাধ্যম। দেশে ই-কমার্সের বাজারে রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট Daraz, Akhoni এবং AjkerDeal। ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের অন্যতম সাইট Rokomari. com। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান Amazan.com ও ইউরোপের আরেকটি বড় প্রতিষ্ঠান QV বাংলাদেশের বাজারে স্বল্প পরিসরে শুরু কাজ করছে। চীনের আরেক বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান Tencent বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহী। ই-কমার্সের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় বিশ্বের বড় কোম্পানিগুলো যেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান। ১২ আগস্ট ২০২১ বিশ্বের জনপ্রিয় ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন প্রথমবারের মতো প্রায় ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের সংযোজন কর বা ভ্যাট দিয়েছে। মাসিক রিটার্ন হিসেবে সরকারি কোষাগারে এ অর্থ জমা দেয়।

সরকারি নির্দেশনা
৪ জুলাই ২০২১ ই-কমার্স পরিচালনা সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে করে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং সিস্টেম চালু করা হয়। এই নিয়মে এখন সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি দিতে হবে। ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.৩.২ অনুযায়ী ক্রেতা-বিক্রেতা একই শহরে অবস্থান করলে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পাঁচ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এক্ষেত্রে অনলাইনে পেমেন্টকে অনুমোদন দেয় ২০০৯ সালে। আর ২০১৩ সালে ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অনুমোদন দেয়।

সুবিধা
ই কমার্সের মাধ্যমে ক্রেতা ঘরে বসেই যে কোনো পছন্দের পণ্য ক্রয় করতে পারে। ফলে ক্রেতাকে কোথাও যাওয়ার পরিশ্রম করতে হয়। না। ই-কমার্সের প্রধান প্রধান সুবিধাগুলো হলো
১। ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পণ্য অর্ডার করা যায়।
২। অনলাইনের মাধ্যমেই মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাওয়া যায়।
৩। মূল্য পরিশোধের জন্য ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করা যায়।
৪। পণ্যের দ্রুত ডেলিভারি পাওয়া যায়।
৫। অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করা যায়।
৬। সহজেই গ্রাহকদের কাছে পণ্য সেবা পৌঁছানো যায়।
৭। বড় ধরনের কোনো অফিসের প্রয়োজন হয় না।

সমস্যা
১। দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের একটি প্রধান সমস্যা এরা জোয়ারে ভাসতে পছন্দ করে। যখন যার জোয়ার আসে তখন তার পিছনেই ছুটে। এর ফলে কিছু অসাধু লোক বিশ্বাসকে পুঁজি করে তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে।
২। সব শ্রেণিপেশার মানুষের আস্থা এখনো অর্জন করতে পারেনি ই-কমার্স । এর অন্যতম কারণ সাম্প্রতিক সময়ের গ্রাহক অভিযোগ। ক্রেতাদের পাশাপাশি কয়েকটি ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও আস্থা রাখতে পারছে না কোনো কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের উপর।
৩। ই-কমার্স নিয়ে সবার মধ্যে একটা ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। এ সুযোগটি নিয়ে হাতেগোনা কিছু প্রতিষ্ঠান লোকজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।শ
৪। ই-কমার্সের উদ্যোক্তাদের নিজস্ব পার্সেল সিস্টেম না থাকায়, পার্সেল কোম্পানির মালিকরা এটাকে সুযোগ হিসেবে নেয়। তথাপি, তাদের কর্মী, অফিস স্পেস ও গুদাম বাড়ায় না। ফলে আম ও লিচুর মতো মৌসুমি ফল প্যাকেটেই নষ্ট হয়ে যায়।
৫। নিরাপদ পরিশোধ ব্যবস্থা না থাকা গ্রাহক অসন্তুষ্টির অন্যতম কারণ। নিরাপদ পরিশোধ ব্যবস্থার জন্য একটি ‘এসক্রো সার্ভিস’ চালু করা হচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এসক্রো সার্ভিস হলো ক্রেতারা আগাম টাকা পরিশোধ করলেও পণ্য সরবরাহ না হওয়া পর্যন্ত ওই টাকা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা হবে না। যদিও বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠান পরিশোধে মধ্যস্থতা করে থাকে, তাদের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা চাল রয়েছে।

পরিশেষে
তথ্য প্রযুক্তির যুগে বিশ্বে ই-কমার্সের মাধ্যমেই সবকিছু হাতের নাগালে পাওয়া যায়। সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয় যেদিন আমাদের যেকোনো পণ্য ও ই-কমার্সের কল্যাণে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের ক্রেতাই ঘরে বসে অর্ডার দিতে পারবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই পণ্য পৌঁছে যাবে তার হাতে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের পণ্যের বিপণনে ই-কমার্সের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

আমাদের সাইট এ লিখা লিখি করতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

error: Content is protected !!