Home Blog Page 5

ওমর খৈয়াম – গিয়াস উদ্দিন আবুল ফতেহ ওমর ইবনে ইব্রাহীম নিশাপুরি।

0

ওমর খৈয়াম (১০৪৪-১১২৩ খ্রিঃ) ওমর খৈয়াম ১০৪৪ খ্রিষ্টাব্দে খোরাসানের রাজধানী নিশাপুর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম গিয়াস উদ্দিন আবুল ফতেহ ওমর ইবনে ইব্রাহীম আল-খৈয়াম নিশাপুরি। কিন্তু তিনি ওমর খৈয়াম নামেই সমগ্র অর্থ হচ্ছে তাবু নির্মাতা বা তাবু ব্যবসায়ী। সম্ভবত বংশের কেউ তাবু নির্মাণ করতে কিংবা তাবুর ব্যবসা করতেন। আর সেই থেকেই বংশের কিংবা পারিবারিক উপাধি হয়েছে খৈয়াম।

আসলে তিনিই ছিলেন খৈয়াম অর্থাৎ তাবু নির্মাতা। তিনি জ্ঞানের যে তাবু নির্মাণ করে গেছেন, আজও বিশ্বের অগণিত জ্ঞান পিপাসু মানুষ প্রবেশ করে জ্ঞানের সে তাবুর অভ্যন্তরে এবং আহরন করে জ্ঞান। ওমর খৈয়ামের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত জানা যায় না। এমন কি এ মনীষীর জন্ম তারিখ নিয়েও রয়েছে মতভেদ। পারস্য ঐতিহাসিকগণের মতে গজনীর সুলতান মাহমুদের মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে আনুমানিক ১০১৮ থেকে ১০৪৮ সালের মধ্যে কোন এক সময়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

ওমর খৈয়াম ছিলেন একজন বিশ্ব বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী, অংক শাস্ত্রবিদ, জ্ঞান অর্জন করার তেমন কোন আশা আকাঙ্খা তাঁর ছিল না। তিনি কেবল মাত্র আত্মসন্তুষ্টির জন্যে বিজ্ঞান চর্চার অবসর সময়ে মনের খেয়ালে এক ধরণের চতুষ্পদী কবিতা লিখতেন। তিনি নিজ মাতৃভূমি ইরানেও জীবিতাবস্থায় কবি হিসাবে পরিচিত ছিলেন না। অথচ মনের খেয়ালে তাঁর লিখিত কবিতাগুলো আজ সমগ্র বিশ্বে হয়েছে সমাদ্রিত এবং দখল করেছে সাহিত্য ও কবিতা জগতের শ্রেষ্ঠ সিংহাসন। ওমর খৈয়াম আজ সমগ্র বিশ্বের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। কিন্তু ইউরোপীয়রা অত্যন্ত কৌশলে এ মনীষীকে বিশ্ব বিখ্যাত একজন বিজ্ঞানীর পরিবর্তে কেবলমাত্র একজন কবি হিসাবে পৃথিবীর মানুষের সামনে পরিচিত করার চেষ্টা করেছেন। ওমর খৈয়ামের মৃত্যু প্রায় ৭৩৪ বছর পর ১৮৫৭ সালে এডোয়ার্ড ফিজারেল্ড খৈয়ামের ‘রুবাইয়াত’ নামক চতুষ্পদ কবিতাগুলোর ইংরেজী অনুবাদের দ্বারা সমগ্র ইউরোপ তাঁর রুয়াইয়াত ছড়িয়া দেয় এবং তিনি কবি হিসাবে পরিচয় লাভ করেন।

ওমর খৈয়াম ছোট বেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মেধামী ও বুদ্ধিমান। তাঁর স্মরণ শক্তি এত প্রখর ছিল যে, যে কোন দর্শন গ্রন্থ এবং কঠিন কঠিন কিতাব সমূহ মাত্র ৬/৭ বার পাঠ করেই তা মুখস্ত করে ফেলতেন। তাঁর মেধা ও প্রতিভার সামনে সক্রেটিস, এ্যারিষ্টটল, এবং ইউক্লিড এর প্রতিভাও ম্রিয়মান হয়ে যায়। ওমর খৈয়ামের শিক্ষকদের মধ্যে একজন ছিলেন তৎকালীন বিখ্যাত পন্ডিত ইমাম মোয়াফিক। মনীষী ওমর খৈয়ামের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা খুব ভাল ছিল না। আমীর আবু তাহির তাকে জ্ঞান চর্চার জন্যে কিছু অর্থ সাহায্য করেন এবং রাজ্যের সুলতান জালাল উদ্দিন মালিক শাহের প্রধান মন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ফলে তাঁর আর্থিক দূরাবস্থা সামান্য লাঘব হয়। রাষ্ট্রীয় সাহায্য পেয়ে ওমর খৈয়াম ভোগ বিলাসকে স্পর্শও করেননি। বরং রাষ্ট্রীয় সাহায্য তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান সাধনা ও গবেষণার কাজে সহায়তা করেছিল। কোন বই হাতে পেলেই তা তিনি পড়ে শেষ করে ফেলতেন।

জ্যোতিবিজ্ঞান, বীজ গণিত ও জ্যামিতি ছিল তাঁর প্রিয় বিষয়। এছাড়া দর্শন শাস্ত্রে ছিল তাঁর অসাধারণ ব্যুৎপত্তি। মানুষ হিসেবে ছিলেন তিনি খাঁটি মুসলমান ও আল্লাহ প্রেমিক।
এ জালালী বর্ষপঞ্জীতে ৩৭৭০ বৎসরে মাত্র ১ দিনের ভ্রান্তি ছিল। অপর দিকে গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জীতে ভ্রান্তি ছিল ৩৩৩০ বৎসরের ১ দিনের। জালালী অব্দ হিজরী ৪৭১ সালের ১০ রমজান থেকে শুরু হয়। এ মহান বিজ্ঞানী একটি নতুন গ্রহও আবিষ্কার করেছিলেন। ওমর খৈয়ামের সর্বাধিক অবদান এলজাবরা অর্থাৎ বীজ গণিত।

তিনিই সর্বপ্রথম এলজাবরার সমীকরণগুলোর শ্রেণী বিন্যাসের চেষ্টা করেন। জ্যামিতি সমাধানে বীজগণিত এবং বীজগণিত সমাধানে জ্যামিতি পদ্ধতি তাঁরই বিস্ময়কর আবিষ্কার। ভগ্নাংশীয় সমীকরণের উল্লেখ ও সমাধান করে ওমর খৈয়ালই সর্ব প্রথম বীজগণিত এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। বীজগণিত সম্পর্কীয় ফি আলজাবারে নামক গ্রন্থ তিনিই রচনা করে যান। বীজ গণিতের ক্ষেত্রে ‘বাইনোমিয়াল থিউরাম’ আবিস্কার করেন। এই ‘বাইনোমিয়াল থিউরাম’ এর আবিষ্কার কর্তা হিসাবে বৈজ্ঞিানিক নিউটন আজ পৃথিবীতে বিখ্যাত হয়ে আছেন। অথচ তারও শত শত বছর পূর্বে কবি হিসাবে পরিচিত বৈজ্ঞানিক ওমর খৈয়াম তা আবিষ্কার করে গেছেন। গণিত শাস্ত্রেও তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম।
গণিত জগতে এলালিটিক জিওমেট্রির কল্পনা তিনিই সর্বপ্রথম করেন।

সমকালীন আরেক মহান মনুষী ইমাম গাজ্জালী। পড়ুন বিস্তারিতঃ- 

পরে সপ্তদশ শতাব্দীতে জনৈক গণিতবিদ একে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয় মাত্র। এছাড়া পদার্থ বিজ্ঞানেও তাঁর অবদানের কোন কমতি নেই। ওমর খৈয়ামকে মেধা ও চিন্তা শক্তি এত গভীর ছিল যে, একদিন ইমাম গজ্জালী (রহঃ) ওমর খৈয়ামকে প্রশ্ন করেছিলেন, কোন গোলক যে অংশের সাহায্যে অক্ষের উপর ঘুরতে থাকে, গোলকের সমস্ত অংশ এক প্রকার হওয়া সত্ত্বেও ঐ অংশটি অন্যান্য অংশ থেকে কিভাবে আলাদা রূপে জানা সম্ভব?

এ প্রশ্নের জবাবে ওমর খৈয়াম তখনই অংকের ব্যাখ্যা শুরু করেন। দুপুর থেকে করে বিকেল পর্যন্ত ও তার ব্যাখ্যা শেষ হয়নি। তাঁর জবাবে ইমাম গাজ্জালী (রঃ) সন্তুষ্ট হয়ে বললেন, “সত্যের সন্ধান পেতে মিথ্যার যবনিকা অপসারিত হলো। ইতিপূর্বে এ বিষয়ে আমার ধারনা ছিল তা মিথ্যা।”

ওমর খৈয়াম ছিলেন একজন বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী। তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানেও বহু বহু রচনা করে যান। ওমর খৈয়াম যে এত বড় দার্শনিক, বিজ্ঞানী, অংক শাস্ত্রবিদ ও চিকিৎসাবিদ ছিলেন তা মুসলিম জাতির অনেকেই হয়তো আজও জানেন না। কেবল মাত্র একজন কবি
হিসাবেই তাঁকে সবাই জানেন। এ অসাধারণ ব্যক্তিটিকে তাঁর জীবিতাবস্থায় নিজ মাতৃভূমিরবলোকেরাও চিনত না কিংবা চিনার চেষ্টা করতো না।

আরও পড়ুনঃ- ইবনে রুশদ – মুসলিম বিশ্বের এক অমূল্য রত্ন।

ওমর খৈয়াম কখনো নিজকে জনগণের সামনে জাহির করার চেষ্টা করেননি। তাঁর মত বহু মুসলিম মনীষী নিজের ব্যক্তিত্বকে লুকিয়েবরেখে সারাটা জীবন মানুষের কল্যাণে জ্ঞান বিজ্ঞান ও শিল্প সাহিত্যে অবদান রেখে গেছেন।

তিনি বিভিন্ন বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন। কিন্তু তার অধিকাংশ গ্রন্থই সংরক্ষণের অভাবে আজ হারিয়ে গেছে। তাঁর গ্রন্থাবলীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রস্থ হচ্ছে –
(১) রুবাইয়অত (মরমী কবিতা)
(৩) নিজাম-উল-মূলক (রাজনীতি)
(৫) মুশফিলাত (গণিত শাস্ত্র)
(২) মিজান-উল-হিকাম (রসায়ন কবিতা)
(৪) আল জাবরা ওয়াল মুকাবিলা (বীজগণিত)
(৬) নাওয়াযিম আসকিনা (ঋতু পরিবর্তন বিষয়ক)
(৭) আল কাউল ওয়াল তাকলিক (মানুষের নৈতিক দায়িত্ব)
(৯) দার ইলমে কুল্লিয়াত
(৮) রিসালা মুকাবাহ
(১০) নওরোজ নামা প্রভৃতি।

বিশ্ব বিখ্যাত এ মনীষী ১১২৩ খ্রিষ্টাব্দে ৭৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। জানা যায়, মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর শিষ্যদের শেষ বারের মত বিশেষ উপদেশ দানের উদ্দেশ্যে আহ্বান করেন। এরপর তিনি ওজু করে এশার নামাজ আদায় করেন। এদিকে তিনি শিষ্যদের উপদেশ দানের কথা ভুলে যান। নামাজান্তে সেজদায় গিয়ে তিনি কাঁদতে থাকেন এবং জোরে জোরে বলতে থাকেন, হে আল্লাহ আমি কেবল মাত্র তোমাকে পাবার এবং তোমাকে সন্তুষ্ট করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। আমি চাই তোমাকে। হে আল্লাহ, আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তোমার দয়া ও করুণার গুণে আমাকে ক্ষমা করে দাও”। এরপর তিনি আর মাথা তোলেননি। সেজদা অবস্থায়ই তিনি চিরদিনের জন্য এ নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে যান আল্লাহ পাকের সান্নিধ্যে।

ফটোশপের তিন বিকল্প।

0

যাঁরা নিয়মিত অ্যাডোবি ফটোশপ দিয়ে ছবি সম্পাদনা করে থাকেন, তাঁদের ‘পিএসডি’ শব্দের সঙ্গে পরিচয় আছে। পিএসডি বা ফটোশপ ডকুমেন্ট হলো অ্যাডোবি ফটোশপের নিজস্ব ফাইল ফরম্যাট।

যাতে ফটোশপের মাধ্যমে সম্পাদিত একটি ছবির সম্পাদনার প্রতিটি ধাপের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ফলে সম্পাদিত একটি ছবি পরবর্তীকালে প্রয়োজন অনুযায়ী আবার সম্পাদনা করা সম্ভব হয়।

যেহেতু এটি অ্যাডোবি ফটোশপের নিজস্ব ফাইল ফরম্যাট, তাই পিএনজি, জেপেগ বা বিটম্যাপের মতো ফরম্যাটের ফাইলগুলো যেমন প্রায় সব ছবি সম্পাদনার অ্যাপলিকেশন দিয়ে খোলা যায়, পিএসডির ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হয় না। এদিকে অ্যাডোবি ফটোশপ ব্যবহারের জন্য সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হয়।

তবে বিনা মূল্যে পাওয়া যায় এমন কিছু অ্যাপ রয়েছে, যার মাধ্যমে পিএসডি ফাইল খোলা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টুকটাক সম্পাদনাও করা যায়। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, তৃতীয় পক্ষের এই অ্যাপগুলো দিয়ে অ্যাডোবি ফটোশপের মতো পরিপূর্ণ কাজ করা সম্ভব না।

জিআইএমপি

অ্যাপটির সাহায্যে খুব সহজেই পিএসডি ফরম্যাটের ফাইল চালু করা যায় এবং ফটোশপের মতো আলাদা লেয়ারে সম্পাদনা করাও সম্ভব।
তবে একটি সমস্যা রয়েছে, কিছু কিছু লেয়ার অ্যাপটির সাহায্যে দেখা বা সম্পাদনা করা যায় না। এ ছাড়া তৃতীয় পক্ষের কোনো প্লাগ-ইন চালু না করেই বেশ ভালো কাজ করে। উইন্ডোজ, ম্যাক, লিনাক্স—তিন প্ল্যাটফর্মেই অ্যাপটি বিনা মূল্যে পাওয়া যায়।
নামানোর ঠিকানা : https://goo.gl/rjKEbq

পেইন্ট ডট নেট

পেইন্ট ডট নেটের সঙ্গে উইন্ডোজ কমবেশি
ব্যবহারকারীরা পরিচিত। একটি প্রশ্ন জাগতে পারে, ফটোশপের মতো ভারী ছবি সম্পাদনার সফটওয়্যারের ফাইল ফরম্যাট কীভাবে এটি চালু করবে। এ জন্য তৃতীয় পক্ষের ‘পিএসডি প্লাগ-ইন’ ব্যবহার করতে হবে। প্লাগ-ইনটি একবার নামিয়ে নিলেই পিএসডি ফাইল চালু করতে আর কোনো সমস্যা হবে না।
নামানোর ঠিকানা : https://goo.gl/bxfE30

ফটোপিয়া অনলাইন এডিটর

এটি একটি ওয়েব অ্যাপ। জিআইএমপির মতো পিএসডি ফাইল চালু ও সম্পাদনার কাজ সহজেই করা যায়। ওয়েব অ্যাপ হলেও অন্য অ্যাপগুলোর মতোই কাজের বলা চলে।
নামানোর ঠিকানা : https://goo.gl/SVhn4X

মারিফুল হাসান, সূত্র : মেক ইউজ অব

ইমাম গাজ্জালী (রঃ) – আবু হামিদ মোহাম্মদ ইবনে মোহাম্মদ আল-গাজ্জালী।

0
ইমাম গাজ্জালী

আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন পথহারা মানুষদের সঠিক পথের সন্ধান দেয়ার জন্যে এবং পৃথিবীর
বুক থেকে সকল অশিক্ষা, কুশিক্ষা, অন্যায়, অসত্য, শোষণ, জুলুম, অবিচার, ব্যাভিচার, শিরক,
কুফর, কুসংস্কার এবং মানব রচিত মতবাদ মতাদর্শের মূলোৎপাটন করে আল্লাহর দেয়া জীবন ব্যবস্থা বা খিলাফত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে লক্ষাধিক নবী-রাসূল।

তাঁর পরে পৃথিবীতে আর কোন নবী বা রাসূলের আবির্ভাব ঘটবে না। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাধ্যমে আল্লাহ পাক নবুয়াতের দরজাকে বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে এ কথা অসত্য নয় যে, প্রত্যেক যুগেই পথহারা মানুষদের সঠিক পথের সন্ধান দেয়ার জন্যে ঐশী জ্ঞানে সমৃদ্ধ এক বা একাধিক মনীষীর
আবির্ভাব ঘটবে এ ধরাতে।

তাঁরা নবী কিংবা রাসূল হিসেবে আবির্ভূত হবেন না; কিংবা নতুন কোন মত বা মতাদর্শও প্রচার করবেন না। বরং তাঁরা বিশ্বনবী (সাঃ) এর নির্দেশিত পথে এবং তাঁরই আদর্শের দিকে আহবান করবেন মানব জাতিকে। তাঁদের চরিত্র ও স্বভাব হবে মার্জিত, আকর্ষণীয় ও অনুপম। তাঁরা দুনিয়াকে ভোগ বিলাসের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে মনে করবেন না।

তাঁদের চরিত্র, স্বভাবও সাধারণ জীবন যাত্রা দেখে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ ফিরে আসবে সত্য ন্যায়ের পথে। ইমাম গাজ্জালী (রঃ)) ছিলেন তাঁদেরই একজন।

ইমাম গাজ্জালী (রঃ) – আবু হামিদ মোহাম্মদ ইবনে মোহাম্মদ আল-গাজ্জালী।

ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর প্রকৃত না আবু হামেদ মোহাম্মদ গাজ্জালী। কিন্তু তিনি ইমাম গাজ্জাল নামেই খ্যাত।
গাজ্জাল শব্দের অর্থ হচ্ছে সূতা কাটা। এটা তাঁর বংশগত উপাধি। কারো মতে তাঁর পিতা মোহাম্মদ কিংবা পূর্ব পুরুষগণ সম্ভবত সূতার ব্যবসা করতেন। তাই উপাধি হয়েছে গাজ্জালী।

তাঁর পিতা ছিলেন দরিদ্র এবং শিশু বয়সেই তিনি তাঁর পিতাকে হারান। পিতার মৃত্যুতে তিনি নিদারুণ অসহায় অবস্থায় পড়েন কিন্তু সাহস হারাননি। জ্ঞান লাভের প্রতি ছিল তাঁর খুব আগ্রহ।

ইমাম গাজ্জালী’র শিক্ষা জীবন

তৎকালীন যুগের বিখ্যাত আলেম হযরত আহমদ ইবনে মুহাম্মদ বারকানী এবং হযরত আবু নসর ইসমাইলের নিকট তিনি কোরআন, হাদিস, ফিকাহ ও বিবিধ বিষয়ে অস্বাভাবিক জ্ঞান লাভ করেন।

কিন্তু এতে তিনি তৃপ্তিবোধ করলেন না। জ্ঞান অন্বেষণের জন্যে পাগলের ন্যায় ছুটে যান নিশাপুরের নিযামিয়া মাদ্রাসায়। তৎকালীন যুগে নিশাপুর ছিল ইসলামী জ্ঞান, বিজ্ঞান, দর্শন ও সাহিত্যে সমৃদ্ধও উন্নত। এখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সর্ব প্রথম ও পৃথিবীর বৃহৎ নিযামিয়া মাদ্রাসা।

সেখানে তিনি উক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আবদুল মালিক (রঃ) নিকট ইসলামী দর্শন, আইন বিবিধ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। আবদুল মালিক (রঃ) এর মৃত্যুর পর তিনি চলে আসেন বাগদাদে। এখানে এসে তিনি একটি মাদ্রাসায় অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং বিভিন্ন জটিল বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন।

দেশ দেশান্তরে ইমাম গাজ্জালী

জ্ঞান বিজ্ঞান ও দর্শনে তাঁর সুখ্যাতি আস্তে আস্তে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। অপরদিকে তিনি আল্লাহকে পাবার জন্যে এবং আল্লাহর সৃষ্টির রহস্যের সন্ধানে ধন-সম্পদ ও ঘর-বাড়ির মায়া মমতা ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন অজানা এক পথে। প্রায় দশটি বছর দরবেশের বেশে ঘুরে বেড়ান দেশ থেকে দেশান্তর।

আল্লাহর ইবাদত, ধ্যান মগ্ন, শিক্ষাদান জ্ঞান চর্চারমধ্য দিয়ে কাটিয়ে দেন দিন রাত। জেরুজালেম হয়ে চলে যান মদীনায়। বিশ্বনবীর রওজা মোবারক জিয়ারত শেষে চলে আসেন মক্কায়। হজ্জব্রত পালন করেন। এরপর চলে যান আলেকজান্দ্রিয়ায়। সেখানে কিছুদিন অবস্থান করে আবার ফিরে আসেন মাতৃভূমিতে।

আধ্যাত্মিক জ্ঞানে ইমাম গাজ্জলী

ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর আধ্যাত্মিক জ্ঞান ছিল অত্যন্ত গভীর। আল্লাহর স্বরূপ ও সৃষ্টির রহস্য তিনি অত্যন্ত নিবিড় ভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর মতে আত্মা ও সৃষ্টির রহস্য এবং আল্লাহর অস্তিত্ব বৈজ্ঞানিক যুক্তি তর্কে মীমাংসা করার বিষয় নয়; বরং এরূপ চেষ্টা করাও অন্যায়। আল্লাহর অস্তিত্ব ও সৃষ্টির রহস্য অনুভূতির বিষয়। পরম সত্য ও অনন্তরকে যুক্তি দিয়ে বুঝার কোন অবকাশ নেই।

তাঁর মতে যুক্তি দিয়ে আপেক্ষিকতা বুঝা যায় মাত্র। তিনি সকল প্রশ্নে মীমাংসা করেছেন কোরআন, হাদিস ও তারই ভিত্তিতে নিজের বিবেক বুদ্ধির সাহায্যে।

ধার্মিকতায় ইমাম গাজ্জালী

আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস ধর্মের প্রতি তাঁর আস্থা ছিল পর্বতের ন্যায় অটল ও সুদৃঢ়। ধর্ম ও দর্শনে তাঁর ছিল প্রভূত জ্ঞান। ধর্ম ও যুক্তির নিজ নিজ বলয় তিনি নির্ধারণ করেছেন।

তিনি বলেছেন, “আত্মা কখনো ধ্বংস হয় না কিন্তু দেহ ধ্বংস হয়। আত্মা মৃত্যুর পর জীবিত থাকে হৃদপিণ্ডের সাথে আত্মার কোন সম্পর্ক নেই হৃদপিণ্ড একটি মাংসপিণ্ড মাত্র, মৃত্যুর পরও দেহে এর অস্তিত্ব থাকে। কিন্তু আত্মা মৃত দেহে অবশিষ্ট থাকে না। মৃত্যুর পর আত্মার পরিপূর্ণ উৎকর্ষ ও মুক্তি সম্ভবপর হয়ে থাকে।”

তিনি ইসলামী জান, বিজ্ঞান, দর্শন ও সাহিত্যে ইসলামের পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছেন। তিনি ছিলেন ধর্ম, আদর্শ ও সুফিবাদের মূর্তিমান প্রতীক। তিনি অন্ধ বিশ্বাসের উপর যুক্তিকে প্রাধান্য দিতেন। কিন্তু যা চিরন্তন সত্য ও বাস্তব সেখানে তিনি যুক্তিকে প্রাধান্য দিতেন না বরং সেক্ষেত্রে ভক্তি ও অনুভূতিকেই প্রাধান্য দিতেন।

ইমাম গাজ্জালী রচিত গ্রন্থসমূহ-

(১) ইহিল-উল-উলমুদ দীন,
(২) কিমিয়াতে সাদাত-এ গ্রন্থটি ক্লড ফ্লিড The Alchemy of happiness নাম দিয়ে ইংরেজি ভাষার অনুবাদ করেন। এ গ্রন্থটি সৌভাগ্যের পরশ মণি’ নামে বাংলা ভাষায়ও অনূদিত ও বহুল প্রচারিত হয়ে আছে,
(৩) কিতাবুল মনফিদলিন আদ দালাল- এ গ্রন্থটি The liberation Fromerror নাম দিয়ে ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছে,
(৪) কিতাবুত তাকাফাতুল কালাসিফা এ গ্রন্থটি ক্লড ফিল্ড The Internal Contradiction of philosophy নাম দিয়ে ইংরেজিতে অনুবাদ করছেন,
(৫) মিশকাতুল আনোয়ার,
(৬) ইয়াকুত্তাবলিগ,
(৭) মনখুল
প্রভৃতি গ্রন্থ সমগ্র ইউরোপে সমাদ্রিত হয় এবং আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ মহামনীষী ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞান, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ইসলামের এক নব জাগরণ ঘটিয়েছিলেন।

ইমাম গাজ্জালী’র অমূল্য বাণী-

“মানুষের জ্ঞাতসারে যে কাজ করতে লজ্জাবোধ কর, গোপনে সেরূপ কাজ করতে চেষ্টা করো না।” -ইমাম গাজ্জালী (রঃ)।

“অপবিত্র কাপড় প্রস্রাব দ্বারা ধৌত করে পাক করার চেষ্টা, আর হারাম মাল দ্বারা সদকা করতঃ পূর্ণ অর্জন করার আশা করা একই পর্যায়ভুক্ত।” -ইমাম গাজ্জালী (রঃ)।

ই-কমার্স, এক নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশ। ই কমার্স নিয়ে বিস্তারিত।

0
ই-কমার্স

ই-কমার্স নিয়ে আজ আলোচনা করব। সময়ের সাথে সাথে মানুষের চাহিদার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে, তেমনি পরিবর্তান ঘটছে বাজার চাহিদারও। তাই বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালিত হবার কারণে ই-কমার্সকে ব্যবসা বাণিজ্যের অন্যতম আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এজন্যই ই-কমার্সকে বিশ্বগ্রামের অন্যতম সুফল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সূচনা কথাঃ

১৯৭৯ সালে ইংরেজ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তা মাইকেল অলড্রিচ প্রথম অনলাইনে শপিং-এর সফল ডেমো দেখান। ১৯৯০ সালে www এর জনক টিম বার্নাস লি প্রথম ওয়েব ব্রাউজারের সূচনা করেন। এর ফলে ইন্টারনেট জগতে বিপ্লব সূচিত হয়, অনলাইন শপিং নবউদ্যমে যাত্রা শুরু করে। ১৯৯৪ সালে জেফ বেজোস শুরু করেন ই-কমার্স সাইট আমাজান ডট কম। ১৯৯৬ সালে ইন্ডিয়াতে শুরু হয় প্রথম ইন্ডিয়ান ইন্ডিয়ামার্ট, যা ছিল একটি B2B কমার্স সাইট। ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে চীনের সাইট আলিবাবা গ্রুপ।

শ্রেণিবিভাগ
Electronic commerce-কে সংক্ষেপে বলা হয় ই-কমার্স (E-commerce)। ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই-কমার্স বা ই-বাণিজ্য একটি বাণিজ্য ক্ষেত্র, যেখানে ইলেকট্রনিক সিস্টেম (ইন্টারনেট বা অন্য কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক)-এর মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয়/বিক্রয় হয়ে থাকে। সাধারণত ই-কমার্স-এর কাজটি সম্পাদন করা হয় সবার জন্য উন্মুক্ত একটি নেটওয়ার্ক তথা ইন্টারনেটের মাধ্যমে। ই-কমার্সকে সাধারণত চার ভাগে ভাগ করা যায় : যথা— ১. ব্যবসা থেকে ভোক্তা (B2C), ২. ব্যবসা থেকে ব্যবসা (B2B), ৩. ভোক্তা থেকে ব্যবসা (C2B) ও ৪. ভোক্তা থেকে ভোক্তা (C2C)।

বাংলাদেশে ই কমার্সের ইতিহাস

বিশ শতকের শেষ ভাগে উন্নত দেশগুলোতে ডিজিটাল বিপ্লব শুরু হলেও একুশ শতকে এসে তা উন্নয়নশীল দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম ই-কমার্স শুরু হয় ২০০০ সালে, সাইটটির নাম মুন্সিব্জি ডট কম। ২০০৯ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধা শহর থেকে গ্রামেও বিস্তৃত হওয়ায় ই-কমার্সের সম্প্রসারণ হচ্ছে। সারা দেশে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টারে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রায় দশ হাজার উদ্যোক্তা রয়েছে। এদের কেউ কেউ এরই মধ্যে ই-কমার্সের  পরিচালনা শুরু করেছে।

কর্ম কৌশল – কম সময়ে বেশি কাজ।

সাম্প্রতিক অবস্থা

UNCTAD ১৩০টি দেশের ই-কমার্স খাতসমূহ নিয়ে B2C E-commerce Index প্রস্তুত করেছে। সেখানে । ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা একটি দেশের উক্ত খাতের অবস্থান নির্ণয়ের প্রধান সূচক হিসেবে ধরা হয়। kaymu.com.bd প্রকাশিত ‘A Report on e-Commerce Trends in Bangladesh’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে উক্ত খাত দ্রুতই উন্নতি করছে। kaymu-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, এই খাতে লেনদেন প্রতিবছর কমপক্ষে ১০% বৃদ্ধি পাবে।

সম্ভাবনা
ই-কমার্স বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন একটি নাম। ই-কমার্স তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে সরাসরি ম সম্পৃক্ত। ই-কমার্সের সুবিধা হলো এখানে পুঁজি লাগে কম। ইচ্ছাশক্তি, সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমই ই-কমার্স ব্যবসার সবচেয়ে বড় পুঁজি। সারা বিশ্বে অনলাইনে কেনাকাটা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশেও ইন্টারনেট ও মোবাইলের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় ই-কমার্স দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে অন্যান্য যে কোনো খাতের তুলনায় এ খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। করোনার এক বছরে এ খাতের ব্যবসায় ২০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের নতুন উদ্যোক্তারা এ খাতে আসছে। অন্যদিকে ই-কমার্সকে কেন্দ্র করে আলাদাভাবে গড়ে উঠেছে । সরবরাহ ও পরিশোধ ব্যবস্থা। সার্বিকভাবে ই-কমার্স হয়ে উঠছে দেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রার নতুন এক মাধ্যম। । দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ মানুষ ই-কমার্সে পণ্য কেনাকাটা করছে। এ খাতে ছোট বড় মিলিয়ে পাঁচ T লাখের মতো উদ্যোক্তা রয়েছে। পাঁচ বছর আগেও যা ছিল এক লাখের কম। দেশে ই-কমার্স খাতের বার্ষিক । আয় এখন ৮,০০০-১০,০০০ কোটি টাকা। পাঁচ বছর । আগেও দেড় হাজার কোটি টাকা ছিল।

কর্মসংস্থানে ই-কমার্স

ই-কমার্সের মাধ্যমে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৪০,০০০-৫০,০০০ অর্ডার সরবরাহ হতো। এখন প্রতিদিন দুই লাখের বেশি অর্ডার সরবরাহ হচ্ছে। আমাদের দেশে যদি দুই কোটি মানুষও ইন্টারনেটে পণ্য কেনে তাহলে বছরে ২৫,০০০-৩০,০০০ কোটি টাকার মতো ব্যবসা হবে। আগামী পাঁচ বছরেই তা সম্ভব। সেটি হলে এ খাতে কর্মসংস্থান ৫০ লাখে উন্নীত হয়ে যাবে। মোট জনসংখ্যা সাড়ে ১৬ কোটির ৬৫% মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। প্রতি বছর গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭% এবং বর্ধিষ্ণু নগরায়নে মধ্যবিত্ত শ্রেণির আয় বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের এ মধ্যবিত্ত শ্রেণিই ই-কমার্স কর্মকাণ্ডের মূল চালিকাশক্তি হবে।

প্রতিষ্ঠানসমূহ
বাংলাদেশে ২০১৫ সাল থেকে ব্যাপকভাবে অনলাইনে কেনাকাটা শুরু হয়। ২০২০ সালে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর ই-কমার্সই হয়ে ওঠে কেনাকাটার অন্যতম মাধ্যম। দেশে ই-কমার্সের বাজারে রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট Daraz, Akhoni এবং AjkerDeal। ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের অন্যতম সাইট Rokomari. com। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান Amazan.com ও ইউরোপের আরেকটি বড় প্রতিষ্ঠান QV বাংলাদেশের বাজারে স্বল্প পরিসরে শুরু কাজ করছে। চীনের আরেক বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান Tencent বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহী। ই-কমার্সের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় বিশ্বের বড় কোম্পানিগুলো যেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান। ১২ আগস্ট ২০২১ বিশ্বের জনপ্রিয় ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন প্রথমবারের মতো প্রায় ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের সংযোজন কর বা ভ্যাট দিয়েছে। মাসিক রিটার্ন হিসেবে সরকারি কোষাগারে এ অর্থ জমা দেয়।

সরকারি নির্দেশনা
৪ জুলাই ২০২১ ই-কমার্স পরিচালনা সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে করে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং সিস্টেম চালু করা হয়। এই নিয়মে এখন সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি দিতে হবে। ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.৩.২ অনুযায়ী ক্রেতা-বিক্রেতা একই শহরে অবস্থান করলে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পাঁচ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এক্ষেত্রে অনলাইনে পেমেন্টকে অনুমোদন দেয় ২০০৯ সালে। আর ২০১৩ সালে ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অনুমোদন দেয়।

সুবিধা
ই কমার্সের মাধ্যমে ক্রেতা ঘরে বসেই যে কোনো পছন্দের পণ্য ক্রয় করতে পারে। ফলে ক্রেতাকে কোথাও যাওয়ার পরিশ্রম করতে হয়। না। ই-কমার্সের প্রধান প্রধান সুবিধাগুলো হলো
১। ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পণ্য অর্ডার করা যায়।
২। অনলাইনের মাধ্যমেই মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাওয়া যায়।
৩। মূল্য পরিশোধের জন্য ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করা যায়।
৪। পণ্যের দ্রুত ডেলিভারি পাওয়া যায়।
৫। অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করা যায়।
৬। সহজেই গ্রাহকদের কাছে পণ্য সেবা পৌঁছানো যায়।
৭। বড় ধরনের কোনো অফিসের প্রয়োজন হয় না।

সমস্যা
১। দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের একটি প্রধান সমস্যা এরা জোয়ারে ভাসতে পছন্দ করে। যখন যার জোয়ার আসে তখন তার পিছনেই ছুটে। এর ফলে কিছু অসাধু লোক বিশ্বাসকে পুঁজি করে তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে।
২। সব শ্রেণিপেশার মানুষের আস্থা এখনো অর্জন করতে পারেনি ই-কমার্স । এর অন্যতম কারণ সাম্প্রতিক সময়ের গ্রাহক অভিযোগ। ক্রেতাদের পাশাপাশি কয়েকটি ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও আস্থা রাখতে পারছে না কোনো কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের উপর।
৩। ই-কমার্স নিয়ে সবার মধ্যে একটা ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। এ সুযোগটি নিয়ে হাতেগোনা কিছু প্রতিষ্ঠান লোকজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।শ
৪। ই-কমার্সের উদ্যোক্তাদের নিজস্ব পার্সেল সিস্টেম না থাকায়, পার্সেল কোম্পানির মালিকরা এটাকে সুযোগ হিসেবে নেয়। তথাপি, তাদের কর্মী, অফিস স্পেস ও গুদাম বাড়ায় না। ফলে আম ও লিচুর মতো মৌসুমি ফল প্যাকেটেই নষ্ট হয়ে যায়।
৫। নিরাপদ পরিশোধ ব্যবস্থা না থাকা গ্রাহক অসন্তুষ্টির অন্যতম কারণ। নিরাপদ পরিশোধ ব্যবস্থার জন্য একটি ‘এসক্রো সার্ভিস’ চালু করা হচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এসক্রো সার্ভিস হলো ক্রেতারা আগাম টাকা পরিশোধ করলেও পণ্য সরবরাহ না হওয়া পর্যন্ত ওই টাকা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা হবে না। যদিও বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠান পরিশোধে মধ্যস্থতা করে থাকে, তাদের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা চাল রয়েছে।

পরিশেষে
তথ্য প্রযুক্তির যুগে বিশ্বে ই-কমার্সের মাধ্যমেই সবকিছু হাতের নাগালে পাওয়া যায়। সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয় যেদিন আমাদের যেকোনো পণ্য ও ই-কমার্সের কল্যাণে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের ক্রেতাই ঘরে বসে অর্ডার দিতে পারবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই পণ্য পৌঁছে যাবে তার হাতে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের পণ্যের বিপণনে ই-কমার্সের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

আমাদের সাইট এ লিখা লিখি করতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগ ২০২১ – চাকরি নয়, সেবা। ৬৪টি জেলায়।

1

পুলিশে নিয়োগ ২০২১ এর মূলমন্ত্র হল- চাকরি নয়, সেবা। আপনি কি সৎ, সাহসী এবং দেশের জন্য যে কোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সক্ষম তাহলে আপনাকেই খুজছে বাংলাদেশ পুলিশ।

১। জেলাভিত্তিক শূন্য পদে পুলিশে নিয়োগ ২০২১

ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগের লক্ষ্যে জেলাভিত্তিক শূন্য পদের বিবরণ বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।

২. প্রার্থীর যোগ্যতা সমূহঃ

২.১ বয়স:

ক) বয়সসীমাঃ ১৮ হতে ২০ বছর

খ) বয়সসীমাঃ নির্ধারণের তারিখ যে সকল প্রার্থীর বয়স ০৭ অক্টোবর ২০২১ তারিখে বর্ণিত বয়সসীমার মধ্যে থাকবে তারা আবেদনের যোগ্য মর্মে বিবেচিত হবেন। তবে ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখে যারা | সর্বোচ্চ বয়সসীমায় পৌঁছেছেন তারাও আবেদনের যোগ্য মর্মে বিবেচিত হবেন। এ ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য কোটার জন্য বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি অনুসৃত হবে।

২.২ শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ এসএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ (কমপক্ষে জিপিএ ২.৫/সমমান); ২.৩ জাতীয়তা: বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক (পুরুষ ও নারী);

২.৪ বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত (তালাকপ্রাপ্ত/তালাকপ্রাপ্তা নয়); এবং

২.৫ শারীরিক যোগ্যতা
নারী ও পুরুষ প্রার্থীদের মধ্যে শারীরিক যোগ্যতার ভিন্নতা রয়েছে। নিছে চক আকারে দেয়া হল,

শারীরিক যোগ্যতা পুরুষ প্রার্থী নারী প্রার্থী
উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি ৫ ফুট ২ ইঞ্চি
মুক্তি কোঠার উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি ৫ ফুট ২ ইঞ্চি
ওজন উচ্চতা অনুযায়ি উচ্চতা অনুযায়ি
বুক স্বাভাবিক-৩২ ইঞ্চি, প্রসারণ-৩৪ ইঞ্চি প্রয়োজ্য নয়

৩. অনলাইনে আবেদনের নিয়মাবলি:

৩.১ প্রথম ধাপ:

ক. http://police.teletalk.com.bd-এ লগইন করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন ফরম সঠিকভাবে পূরণের লক্ষ্যে উক্ত লিংকে সহায়ক হিসাবে ভিডিও টিউটরিয়াল এবং ফরম পূরণের নির্দেশিকা দেয়া থাকবে। এছাড়া উক্ত লিংকের Help অপশন ব্যবহার করে ফরম পূরণের প্রয়োজনীয় সহায়তা নেয়া যাবে।
খ. আবেদনের সময় ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ সকাল ১০.০০ ঘটিকা হতে ০৭ অক্টোবর ২০২১ বিকাল ০৫.০০ ঘটিকা পর্যন্ত।

গ. আবেদন ফরম পূরণ করার অব্যবহিত পরে যোগ্য প্রার্থীগণ একটি User ID পাবেন। উক্ত User ID-তে আবেদন ফরম পূরণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যে কোনো টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল হতে ৩০ টাকা সার্ভিস চার্জ বাবদ (অফেরতযোগ্য) জমা করতে হবে।

ঘ. Online আবেদনপত্রে প্রার্থীর স্বাক্ষর (দৈর্ঘ্য ৩০০ x প্রস্থ ৮০ Pixel) ও রঙিন ছবি (দৈর্ঘ্য ৩০০ x প্রস্থ ৩০০ Pixel) স্ক্যান করে নির্ধারিত স্থানে Upload করতে হবে।

ঙ. Online আবেদনপত্রে পূরণকৃত তথ্য পরবর্তী সকল কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে বিধায় Online-এ আবেদনপত্র Submit করার পূর্বে পূরণকৃত সকল তথ্যের সঠিকতা সম্পর্কে প্রার্থীকে শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে; এবং চ. প্রার্থীকে Online-এ পূরণকৃত আবেদনপত্রের একটি রঙিন প্রিন্ট কপি পরীক্ষা সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে সহায়ক হিসাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

৩.২ দ্বিতীয় ধাপ:

User ID পাওয়ার পর কমপক্ষে ৩০ টাকা ব্যালেন্স রয়েছে এমন টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল হতে ২ টি SMS করতে হবে।

প্রথম SMS: TRC<space> User ID লিখে ১৬২২২ নম্বরে Send করতে হবে।

Example: TRC ABCDEF

Reply: Applicant’s Name TK (Service Charge 30/-) will be charged as service charge for the application of Trainee Recruit Constable examination. Your PIN is……..(10 digit). To pay fee type TRC<space>Yes<space>PIN and send to 16222.

দ্বিতীয় SMS: TRC<space> Yes<space> PIN Number লিখে ১৬২২২ নম্বরে Send করতে হবে।

Example: TRC YES 1234567890

Reply: Congrats! Applicant’s Name, payment completed successfully for the application for Trainee Recruit Constable examination. User ID is (xxxxxxxx) and Password is (xxxxxxxx).

৩.৩ Admit Card for Physical Endurance Test:

ক. Preliminary Screening-এর মাধ্যমে নির্বাচন পদ্ধতি সম্পন্ন করে বাছাইকৃত প্রার্থীদের আবেদনপত্রে উল্লিখিত মোবাইল নম্বরে SMS এর মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে অবহিত করা হবে। Online আবেদনপত্রে প্রার্থীর প্রদত্ত মোবাইল ফোনে পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় যোগাযোগ সম্পন্ন করা হবে বিধায় উক্ত নম্বরটি সার্বক্ষণিক সচল রাখা, SMS পড়া এবং প্রাপ্ত নির্দেশনা তৎক্ষণাৎ অনুসরণ করা বাঞ্চনীয়; এবং

খ. Preliminary Screening-এ বাছাইকৃত প্রার্থীদের SMS-এ প্রেরিত User ID এবং Password ব্যবহার করে http://police.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশকরত সিরিয়াল নম্বর, পদের নাম, ছবি, পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান/কেন্দ্রের নাম ইত্যাদি তথ্যসংবলিত Admit Card for Physical Endurance Test ডাউনলোড করে ০২ কপি প্রিন্ট করতে হবে।

৩.৪ হেল্পলাইন: শুধুমাত্র টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল ফোন থেকে প্রার্থীগণ নিম্নবর্ণিত SMS পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজ নিজ User ID এবং Password পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।

User ID জানা থাকলে TRC<space>Help<space>User<space>User ID & Send to 16222 Example: TRC Help User ABCDEF & Send to 16222

PIN Number জানা থাকলে TRC<space>Help<space>PIN<space>PIN No & Send to 16222

Example: TRC Help PIN 12345678 & Send to 16222

আবেদন ফরম পূরণের ক্ষেত্রে যে কোনো টেলিটক মোবাইল নম্বর হতে ১২১-এ কল করে প্রথমে ৮ অতঃপর ১-এ প্রেস করে এজেন্টের সহযোগিতা নেয়া যাবে অথবা ০১৫০০১২১১২১-এ সরাসরি কল করে অপারেটরের সহযোগিতা নেয়া যাবে।

৪. পুলিশে নিয়োগ ২০২১ এর নির্বাচন পদ্ধতি:

8.১ Preliminary Screening: অনলাইনে আবেদনকারী প্রার্থীদের মধ্যে হতে Preliminary Screening-এর মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের শারীরিক মাপ ও Physical Endurance Test-এর জন্য বাছাই করা হবে।

৪.২ শারীরিক মাপ ও Physical Endurance Test: Preliminary Screening-এ বাছাইকৃত প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখ, সময় ও স্থানে শারীরিক মাপ ও Physical Endurance Test (দৌড়, জাম্পিং, রোপ ক্লাইমিং, পুশ-আপ, ড্যাগিং ইত্যাদি) এ অংশগ্রহণ করতে হবে। YouTube-এ Bangladesh Police Official Channel, Bangladesh Police- Verified Facebook Page 4 Bangladesh Police Website http://www.police.gov.bd-এ Physical Endurance Test সংক্রান্ত “নতুন নিয়মে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষা” নামক একটি অনুশীলন ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীগণ ভিডিও দেখে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবেন।

৪.৩ লিখিত পরীক্ষা: শারীরিক মাপ ও Physical Endurance Test-এ উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ বিজ্ঞানের উপর ৪৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

৪.৪ মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা: লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখে ১৫ নম্বরের মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ।

৪.৫ প্রাথমিক নির্বাচন: প্রতি জেলায় নিয়োগযোগ্য প্রকৃত শূন্য পদে কোটার অনুকূলে সরকার কর্তৃক জারীকৃত বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি (সাধারণ, মুক্তিযোদ্ধা, আনসার ও ভিডিপি, এতিম, পোষ্য এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা) অনুসরণ করে লিখিত, মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হবে।

৪.৬ পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা: পুলিশে নিয়োগ ২০২১ এ প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থীরা পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করবে। পুলিশ ভেরিফিকেশনে সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হলে প্রশিক্ষণের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হবে। উল্লেখ্য, পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরমে কোনো তথ্য গোপন অথবা মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হলে চূড়ান্ত প্রশিক্ষণের জন্য মনোনয়ন প্রদান করা হবে না। এবং

৪.৭ চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্তকরণ: প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যোগদানের পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত পুনর্বাছাই কমিটি কর্তৃক শারীরিক যোগ্যতাসহ অন্যান্য তথ্যাদি যাচাইয়ের পর চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

৫. পুলিশে নিয়োগ ২০২১ এ প্রয়োজনীয় সনদসমূহের বিবরণ:

Preliminary Screening-এর মাধ্যমে বাছাইকৃত যোগ্য প্রার্থীদের শারীরিক মাপ ও Physical Endurance Test-এ অংশগ্রহণের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখ ও সময়ে নিজ জেলাস্থ পুলিশ লাইন্স (যে জেলার স্থায়ী বাসিন্দা) মাঠে নিম্নবর্ণিত কাগজপত্রাদিসহ উপস্থিত থাকতে হবে:

৫.১ Admit Card for Physical Endurance Test: Admit Card for Physical Endurance Test এর ডাউনলোডকৃত প্রিন্ট কপি (২ কপি)।
৫.২ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র: শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র/সাময়িক সনদপত্রের মূল কপি।
৫.৩ চারিত্রিক সনদপত্র: সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত চারিত্রিক সনদপত্রের মূল কপি।
৫.৪ নাগরিকত্ব সনদপত্র: জেলার স্থায়ী বাসিন্দা/জাতীয়তার প্রমাণস্বরূপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/সিটি কর্পোরেশনের মেয়র/পৌরসভার মেয়র/ওয়ার্ড কাউন্সিলর (যা প্রযোজ্য) এর নিকট হতে স্থায়ী নাগরিকত্বের সনদপত্রের মূল কপি।

৫.৫ অভিভাবকের সম্মতিপত্র: আইনানুগ অভিভাবক কর্তৃক প্রদত্ত সম্মতিপত্র।

৫.৬ জাতীয় পরিচয়পত্র: প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি (যদি প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকে তাহলে প্রার্থীর পিতা/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি)।

৫.৭ ছবি: সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত ৩ (তিন) কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

৫.৮ পরীক্ষার ফি: পরীক্ষার ফি (অফেরতযোগ্য) ১০০/- (একশত) টাকা ১-২২১১-০০০০-২০৩১” নম্বর কোডে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমাপূর্বক চালানের মূল কপি।

৫.৯ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রমাণক: মুক্তিযোদ্ধার নাম লাল মুক্তিবার্তায় থাকলে লাল মুক্তিবার্তার সত্যায়িত অনুলিপি / মুক্তিযোদ্ধার নাম ভারতীয় তালিকায় থাকলে ভারতীয় তালিকার সত্যায়িত অনুলিপি/মুক্তিযোদ্ধার নামে জারীকৃত গেজেটের মূল কপি।

৫.১০ মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রত্যয়নপত্র মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সন্তানদের ক্ষেত্রে ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট সম্পাদিত এফিডেভিট অথবা বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সাকসেশন সার্টিফিকেট এবং প্রার্থী যে মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র/কন্যার ঔরসজাত পুত্র/কন্যা এ মর্মে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/সিটি কর্পোরেশনের মেয়র/পৌরসভার মেয়র/ওয়ার্ড কাউন্সিলর (যা প্রযোজ্য) কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি।

৫.১১ পুলিশ পোষ্য কোটা এবং প্রমার্জন: কনস্টেবল হতে সর্বোচ্চ সাব-ইন্সপেক্টর/সার্জেন্ট/টিএসআই পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তার সন্তানগণের পুলিশ পোষ্য কোটার প্রাধিকার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে পিতা/মাতার নাম, পদবি (বিপি নম্বরসহ) উল্লেখপূর্বক কর্মরত জেলা/ইউনিট প্রধান কর্তৃক প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি (যদি পুলিশ পোষ্য কোটার কোনো প্রার্থীর পিতা/মাতা অবসর/মৃত্যুবরণ করে থাকেন, তা হলে উক্ত প্রার্থীর পিতা/মাতার সর্বশেষ কর্মস্থলের ইউনিট প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি)।

৫.১২ আনসার ও ভিডিপি কোটা: আনসার ও ভিডিপি কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৪২ (বিয়াল্লিশ) দিন মেয়াদি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সনদপত্রের মূল কপি।

৫.১৩ এতিম কোটা: এতিম কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সরকারি এতিমখানা ও সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত এতিমখানার প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র/প্রশংসাপত্র-এর মূল কপি (প্রত্যয়নপত্র/প্রশংসাপত্রে প্রার্থী এতিম মর্মে ঘোষণা থাকতে হবে এবং প্রার্থীর পূর্বকালীন স্থায়ী ঠিকানা ও তিমখানা নিবাসের নিবন্ধনকৃত ব্যক্তিগত নম্বর উল্লেখ থাকতে হবে)।

৫.১৪ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রমাণকস্বরূপ তাদের রাজা/ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রধান অথবা জেলা প্রশাসক/উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্রের মূল কপি; এবং

৫.১৫ চাকরিজীবী প্রার্থীদের অনুমতিপত্র: সরকারি/আধা-সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় চাকরিরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র।

৬. পুলিশে নিয়োগ ২০২১ এর প্রশিক্ষণ:

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত পুনর্বাছাই কমিটি কর্তৃক চূড়ান্ত বাছাইকালে যোগ্য বিবেচিত প্রার্থীগণকে নির্ধারিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসাবে ৬ (ছয়) মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে।

৭. প্রশিক্ষণকালীন সুযোগ সুবিধা:

৭.১ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) প্রশিক্ষণার্থী হিসাবে প্রশিক্ষণকালীন বিনা মূল্যে পোশাক সামগ্রীসহ থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা সুবিধা প্রাপ্য হবে। এবং

৭.২ প্রশিক্ষণকালীন সরকারি বিধি মোতাবেক প্রতি মাসে প্রশিক্ষণ ভাতা প্রাপ্য হবে।

৮. নিয়োগ ও চাকরির সুবিধাদি:

৮.১ সাফল্যের সাথে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী প্রার্থীদের ২০১৫ সনের জাতীয় বেতন স্কেলের ১৭তম গ্রেড ৯,০০০-২১,৮০০/- এবং বিধি মোতাবেক প্রাপ্য অন্যান্য বেতন-ভাতাদিসহ বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ প্রদান করা হবে।

৮.২ নিয়োগপ্রাপ্তদের যে কোনো জেলা/ইউনিটের শূন্য পদের বিপরীতে বদলি করা হলে তারা উক্ত জেলা/ইউনিটে কনস্টেবলের শূন্য পদে যোগদান করতে বাধ্য থাকবে।

৮.৩ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নির্বাচিত প্রার্থীর মৌলিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সমাপনান্তে জেলা/ইউনিটে যোগদানের তারিখ হতে সংশ্লিষ্ট জেলা/ইউনিট প্রধান কর্তৃক তার শিক্ষানবিশকাল ঘোষণা করা হবে। শিক্ষানবিশ ঘোষণার তারিখ হতে দুই বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট জেলা/ইউনিট প্রধান বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক তাকে কনস্টেবল পদে স্থায়ী করা হবে।

৮.৪ নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের শিক্ষানবিশকাল সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত অবিবাহিত থাকতে হবে।

৮.৫ নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীরা বিনা মূল্যে পোশাক সামগ্রী, ঝুঁকি ভাতা, চিকিৎসা সুবিধা এবং নিজ ও পরিবারের নির্ধারিত সংখ্যক সদস্যদের জন্য প্রাপ্যতা অনযায়ী পারিবারিক রেশন সামগ্রী স্বল্প মূল্যে প্রাপ্য হবে। এবং

৮.৬ নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য প্রচলিত নিয়মানুযায়ী উচ্চতর পদে পদোন্নতিসহ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

৯. পুলিশে নিয়োগ ২০২১ এর সাধারণ নির্দেশনাবলি:

৯.১ কর্তৃপক্ষ সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়োগযোগ্য পদের সংখ্যা হ্রাস/বৃদ্ধি করার অধিকার সংরক্ষণ করেন।

৯.২ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য বিষয়ে প্রার্থী কর্তৃক প্রদেয় তথ্যাদি সম্পর্কে তদন্তে কিংবা তদন্ত পরবর্তীকালে কোনো বিরূপ প্রতিবেদন পাওয়া গেলে উক্ত প্রার্থীকে প্রশিক্ষণ হতে অব্যাহতি/চাকরিচ্যুত/চাকরি হতে বরখাস্তকরণসহ তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৯.৩ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নির্বাচিত প্রার্থীর ক্ষেত্রে পিতা/মাতা/পিতামহ / পিতামহী/মাতামহ/মাতামহী এর অনুকূলে দাখিলকৃত প্রমাণকসমূহ যাচাইঅন্তে সঠিক পাওয়া না গেলে প্রশিক্ষণ হতে অব্যাহতি/চাকরিচ্যুত/চাকরি হতে বরখাস্তকরণসহ তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রার্থী কর্তৃক দাখিলকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে একবার জাল প্রমাণিত হলে তা পুনর্যাচাইয়ের কোনো সুযোগ থাকবে না।

৯.৪ চাকরিতে প্রবেশকালীন প্রার্থী কর্তৃক দাখিলকৃত কাগজপত্রাদি (বিভিন্ন সনদ/প্রত্যয়নপত্র) ব্যতিরেকে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্নের পরে ইস্যুকৃত বা নতুনভাবে অন্য কোনো কাগজপত্রাদির ভিত্তিতে কনস্টেবল পদে নিয়োগ প্রদানের কোনো সুযোগ নেই।

৯.৫ ত্রুটিপূর্ণ/অসম্পূর্ণ/বিলম্বে প্রাপ্ত/ভুল তথ্য কিংবা মিথ্যা তথ্যসংবলিত আবেদনপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত/নিয়োগকৃত/প্রশিক্ষণরত/চাকরিরত অর্থাৎ যে কোনো পর্যায়ে কোনো প্রার্থী কর্তৃক দাখিলকৃত তথ্য মিথ্যা/ভুল/প্রার্থীর কোনো প্রতারণা প্রমাণিত হলে তাকে নিয়োগের অযোগ্য/বহিষ্কার/চাকরিচ্যুত/বরখাস্তকরণসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৯.৬ কোনো প্রার্থী পুলিশ বাহিনী/অন্য কোনো নিয়মিত বাহিনী/যে কোনো সরকারি চাকরি হতে বহিষ্কৃত/চাকরিচ্যুত/বরখাস্ত হয়ে থাকলে আবেদনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

৯.৭ কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে কর্তৃপক্ষ যে কোনো প্রার্থীর নিয়োগ/আবেদনপত্র বাতিলের অধিকার সংরক্ষণ করেন। নিয়োগ সংক্রান্ত সকল বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এবং

৯.৮ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীদের কোনো প্রকার ভাতা প্রদান করা হবে না।

পুলিশে নিয়োগ ২০২১ এর জেলা ভিত্তিক সময়সূচিঃ

১০. শারীরিক মাপ ও Physical Endurance Test, লিখিত পরীক্ষা, মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি:

প্রার্থীদের নিম্নবর্ণিত তারিখ ও সময়ে স্ব-স্ব জেলার পুলিশ লাইন্স মাঠে উপস্থিত থাকতে হবে:

সবার জন্য শুভ কামনা। যে কোন তথ্য সহযোগীতার জন্য কমেন্ট করুন। বন্ধুদের জানাতে শেয়ার করুন।

পুলিশে নিয়োগ ২০২১ এর জেলা ভিত্তিক নিয়োগযোগ্য শূন্য পদের পরিশংখান।

শেয়ার ও কমেন্ট করতে পারেন কিছু জানার থাকলে।

অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’তে নিয়োগ ২০২১।

0
অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’তে নিয়োগ ২০২১
বিশেষ নির্দেশনা:

১. বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না।

এপ্লাই এর জন্য এখানে এ ক্লিক করুন।

পুরো সার্কোলার টি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনকারীর ধরন
ক্যাটাগরীপ্রার্থীর বিবরণ
সাধারণ (General)১২ ক্যাডেট কলেজ, এমসিএসকে, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ক্যাটাগরী ব্যতিত আবেদনকারীগণ সাধারণ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
ক্যাডেট কলেজ (Cadet College)শুধুমাত্র ১২ ক্যাডেট কলেজ এর আবেদনকারী প্রার্থীগণ ক্যাডেট কলেজ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
এমসিএসকে (MCSK) প্রার্থীশুধুমাত্র মিলিটারী কলেজিয়েট স্কুল, খুলনা (এমসিএসকে) এর আবেদনকারী প্রার্থীগণ এমসিএসকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
বিএনসিসি প্রার্থী (BNCC)বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) সদর দপ্তরের আওতাধীন ০৫টি রেজিমেন্টের আবেদনকারীগণ বিএনসিসি প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
সশস্ত্র বাহিনীর প্রার্থী (Sainik)সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত আবেদনকারী প্রার্থীগণ সশস্ত্র বাহিনী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
বয়স:

০১ জুলাই ২০২২ তারিখে ১৭-২১ বছর (এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়); সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত প্রার্থীদের জন্য ০১ জুলাই ২০২২ তারিখে ১৮-২৩ বছর।

অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’তে নিয়োগ ২০২১

শিক্ষাগত যোগ্যতা:

(১) জাতীয় মাধ্যম: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট/সমমান পরীক্ষায় যে কোন একটিতে জিপিএ ৫.০০ ও অন্যটিতে জিপিএ ৪.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ।
(২) ইংরেজী মাধ্যম: ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ও‌ লেভেলে ৬টি বিষয়ের মধ্যে ৩টিতে এ গ্রেড, ৩টিতে বি গ্রেড এবং এ লেভেলে ২ টি বিষয়েই ন্যুনতম বি গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ। অথবা, ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ও‌ লেভেলে ৬টি বিষয়ের মধ্যে ২টিতে এ গ্রেড, ৩টিতে বি গ্রেড ও ১টিতে সি গ্রেড এবং এ লেভেলে ২ টি বিষয়েই ১টিতে এ গ্রেড ও ১টিতে বি গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ।
(৩) সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত প্রার্থীদের জন্য‍: এইচএসসি ও এসএসসি উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যুনতম জিপিএ ৪.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ।
(৪) ২০২১ সালের নিয়মিত এইচএসসি/এ লেভেল পরীক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়া: বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নিয়মিত এইচএসসি/এ লেভেল পরীক্ষার্থীগণও আবেদন করতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে এসএসসি (SSC)-তে অবশ্যই জিপিএ-৫/ও লেভেল পরীক্ষায় ‌‌‌‌‌ ৬টি বিষয়ের মধ্যে ৩টিতে এ গ্রেড, ৩টিতে বি গ্রেড/সমমান ফলাফল থাকতে হবে। তবে, বিএমএ যোগদানের পূর্বে ফলাফল প্রকাশিত হতে হবে এবং ফলাফল ব্যতীত কোন প্রার্থী বিএমএ-তে যোগদান করতে পারবে না।

অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’তে নিয়োগ ২০২১

শারীরিক যোগ্যতা (ন্যূনতম)
শারীরিক যোগ্যতাপুরুষ প্রার্থীদের জন্যমহিলা প্রার্থীদের জন্য
উচ্চতা১.৬৩ মিটার (৫ ফুট ৪ ইঞ্চি)১.৫৭ মিটার (৫ ফুট ২ ইঞ্চি)
ওজন*৫৪ কিলোগ্রাম (১২০ পাউন্ড)৪৭ কিলোগ্রাম (১০৪ পাউন্ড)
বুকস্বাভাবিক-৩০ ইঞ্চি, প্রসারণ-৩২ ইঞ্চিস্বাভাবিক-২৮ ইঞ্চি, প্রসারণ-৩০ ইঞ্চি
*উচ্চতা ও বয়স অনুসারে সশস্ত্রবাহিনীর জন্য নির্ধারিত স্কেলের অতিরিক্ত ওজন হলে অযোগ্য বিবেচিত হবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’তে নিয়োগ প্রক্রিয়া।

0

সৈনিক

যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য সেনাবাহিনীতে নিয়োগ একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। প্রত্যেক পুরুষ ও মহিলা নাগরিক, জাতি, শ্রেণী বা ধর্ম নির্বিশেষে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের যোগ্য, যদি তিনি নির্ধারিত বয়স, শিক্ষাগত, শারীরিক এবং চিকিৎসা প্রয়োজন পূরণ করেন। সদর দপ্তর নিয়োগ ইউনিট (HQ RU)/শাখা রিক্রুটমেন্ট ইউনিট (BRU) এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দ্বারা বার্ষিক ভিত্তিতে (দুই ধাপে) নিয়োগ করা হয়।

যোগ্যতা

1. বয়স ।

Trade সাধারণ বাণিজ্য (পুরুষ ও মহিলা)

– 17 থেকে 20 বছর (হলফনামা গ্রহণযোগ্য নয়)

· প্রযুক্তিগত বাণিজ্য (পুরুষ)

– 17 থেকে 21 বছর (হলফনামা গ্রহণযোগ্য নয়)।

– 18 থেকে 21 বছর শুধুমাত্র চালকদের জন্য (হলফনামা গ্রহণযোগ্য নয়)।

2. শারীরিক মান (ন্যূনতম) ।

প্রয়োজনীয়তা

পুরুষ

মহিলা

উচ্চতা1.68 মিটার (5′-6 “)। উপজাতির জন্য 1.63 মিটার (5′-4 ”)1.60 মিটার (5′-3 “)। উপজাতির জন্য 1.56 মিটার (5′-1 “)
ওজন49.90 কেজি (110 পাউন্ড)47 কেজি (104 পাউন্ড)
বুকস্বাভাবিক 0.76 মিটার (30 ইঞ্চি)।

প্রসারিত 0.81 মিটার (32 ইঞ্চি)

স্বাভাবিক 0.71 মিটার (28 ইঞ্চি)।

প্রসারিত 0.76 মিটার (30 ইঞ্চি)

3. শিক্ষাগত যোগ্যতা ।

পুরুষ/মহিলা

বাণিজ্য

যোগ্যতা

জিপিএ

গ্রুপ

Rmks

পুরুষ

সাধারণ

এসএসসি বা সমমান

জিপিএ-3.0.০

সব গ্রুপ

কারিগরি বাণিজ্য

এসএসসি ভোকেশনাল বা ট্রেড কোর্সের সমতুল্য

জিপিএ-3.0.০

বিজ্ঞান

ড্রাইভার ট্রেড

এসএসসি বা সমমান

জিপিএ-3.0.০

সব গ্রুপ

প্রয়োজনীয় বৈধ বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা টিটিটিআই থেকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট।

মহিলা

সাধারণ

এসএসসি বা সমমান

জিপিএ-3.0.০

সব গ্রুপ

বিজ্ঞানের পটভূমির প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

5. বৈবাহিক অবস্থা। অবিবাহিত।

5. জাতীয়তা । জন্মসূত্রে বাংলাদেশী।

6. সাঁতার । সাঁতার জানতে হবে।

অযোগ্যতা

। সেনাবাহিনী/নৌবাহিনী/বিমান বাহিনী বা যেকোনো সরকারি চাকরি থেকে প্রত্যাহার/ছাড়পত্র।

কখন আবেদন করতে হবে

অর্ধবার্ষিক ভিত্তিতে জাতীয় দৈনিকের মাধ্যমে নিয়োগের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। জেলা অনুযায়ী শূন্যপদ বরাদ্দ করা হয়। সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের টেলিটক মোবাইলের এসএমএসের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে এবং তারপর পরীক্ষার তারিখ ও ভেন্যু সহ প্রবেশপত্র পেতে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। পরীক্ষার দিন নিয়োগের ভেনুতে নিম্নলিখিত নথি এবং উপকরণগুলি বহন করতে হবে:

  • সকল শিক্ষাগত সার্টিফিকেট এবং মার্কশিট (একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট)। যদি ফটোকপি হয় তাহলে যথাযথভাবে প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার কর্তৃক সত্যায়িত।
  • স্থায়ী ঠিকানা এবং জন্ম তারিখ সহ স্কুল প্রধানের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র।
  • চেয়ারম্যান ইউনিয়ন কাউন্সিল/চেয়ারম্যান পৌরশব/ওয়ার্ড কমিশনার কর্তৃক যথাযথভাবে সত্যায়িত পিতামাতার সম্মতি সনদ।
  • যেকোন সরকার অনুমোদিত কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রযুক্তিগত সার্টিফিকেট (কারিগরি প্রার্থীদের জন্য)।
  • 6 কপি (5 সেমি x 4 সেমি) এবং 2 কপি (2.5 সেমি x 2 সেমি) সাম্প্রতিক রঙিন ছবি প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার দ্বারা যথাযথভাবে সত্যায়িত।
  • সাঁতারের জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক।
  • লিখিত পরীক্ষার জন্য কলম, পেন্সিল, স্কেল এবং ক্লিপবোর্ড।

দ্রষ্টব্য : কর্মরত/অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মীদের সন্তানরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ নিয়োগের দিন সরাসরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে রিপোর্ট করতে পারে। তবে তারা শুধুমাত্র নিয়োগ করা হবে যদি তারা নির্ধারিত মান পূরণ করে।

বাছাই পদ্ধতি

 

  • প্রাথমিক স্ক্রিনিং । প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ের মধ্যে রয়েছে নথিপত্র পরীক্ষা করা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা পরীক্ষা।
  • লিখিত পরীক্ষা । প্রাথমিক পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় উপস্থিত হবেন। পরীক্ষায় সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান এবং আইকিউ পরীক্ষার প্রশ্ন থাকে।
  • চূড়ান্ত চিকিৎসা পরীক্ষা । লিখিত পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থীরা চূড়ান্ত মেডিকেল পরীক্ষায় উপস্থিত হবেন।
  • চূড়ান্ত নির্বাচন । নিয়োগকারী কর্মকর্তা চূড়ান্ত নির্বাচন করবেন।
  • প্রশিক্ষণ নিয়োগকারীরা তাদের অস্ত্র/পরিষেবার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন কেন্দ্রে 01 বছরের জন্য প্রশিক্ষণ নেবে। প্রশিক্ষণ শেষ হলে, নিয়োগপ্রাপ্তদের সেন্টারগুলিতে যোগদানের তারিখ থেকে “SAINIK” হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হবে।

অফিসার

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার অফিসার্স কোরের জন্য সঠিক মানের, শিক্ষাগত সম্ভাব্যতা এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিশ্রুতিশীল যুবক/মহিলাদের প্রয়োজন। সেনাবাহিনী হল চ্যালেঞ্জিং নেতৃত্বের সাথে সম্মান ও মর্যাদার পেশা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে একজন কর্মকর্তা হিসেবে আপনি একটি গৌরবময় traditionতিহ্যের উত্তরাধিকারী হবেন। তাই আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিন। আপনার নিম্নলিখিত বিকল্প আছে:

বিএমএ নিয়মিত কমিশন (দীর্ঘ কোর্স)

প্রয়োজনীয়তা

একজন কমিশনড অফিসারের জন্য আবেদন করার জন্য আপনাকে হতে হবে:

  • ১ –২১ বছর বয়সী ১ জানুয়ারি বা ১ জুলাই ভর্তি হয়েছে এবং যারা ইতিমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীতে চাকরি করছে তাদের জন্য ১-2-২২ বছর।
  • একজন বাংলাদেশী নাগরিক।
  • অবিবাহিত.
  • এসএসসি এবং এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় বিএমএ লং কোর্সের জন্য ন্যূনতম জিপিএ -৫.০ এবং ডিএসএসসি এবং বিএমএ স্পেশাল কোর্সের জন্য জিপিএ-3.5.৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া। ইংরেজি মাধ্যমের প্রার্থীদের জন্য, ‘O’ লেভেলে কমপক্ষে 04xA*/A গ্রেড এবং 06x বিষয়ের মধ্যে 02xB গ্রেড এবং ‘A’ লেভেলে কমপক্ষে 01xA গ্রেড এবং 02 বিষয়ের মধ্যে 01xB গ্রেড পেতে হবে।
  • একটি মানসম্মত শারীরিক যোগ্যতা যেমন বর্ণনা করা হয়েছে:
    • পুরুষ
      • উচ্চতা 1.63 মিটার / 5 ফুট 4 ইঞ্চি
      • ওজন 50 কেজি (110 পাউন্ড)
      • বুক 0.76 মিটার (30 ইঞ্চি) স্বাভাবিক, 0.81 মিটার (32 ইঞ্চি) প্রসারিত
    • মহিলা
      • উচ্চতা 1.60 মিটার / 5 ফুট 2 ইঞ্চি
      • ওজন 47 কেজি (104 পাউন্ড)
      • বুক 0.71 মিটার (28 ইঞ্চি) স্বাভাবিক, 0.76 মিটার (30 ইঞ্চি) প্রসারিত
সরাসরি শর্ট সার্ভিস কমিশন

সেনাবাহিনীর পেশাদার শাখা (আর্মি মেডিকেল কর্পস, আর্মি ডেন্টাল কর্পস, আর্মি এডুকেশন কর্পস – জজ অ্যাডভোকেট জেনারেলস শাখা, ইঞ্জিনিয়ার্স কর্পস, ইলেক্ট্রিকাল্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পস এবং আর্মি সিগন্যাল কর্পস) বেসামরিক ডিগ্রিপ্রাপ্ত নেতাদের সরাসরি শর্ট পাওয়ার উপায় প্রদান করে। তাদের কর্মজীবনের ক্ষেত্রে সার্ভিস কমিশন। বিশেষভাবে পরিকল্পিত কোর্সে সামরিক ইতিহাস, সেনা নেতৃত্ব, সামরিক রীতিনীতি এবং ক্যারিয়ার ভিত্তিক ক্লাসের নির্দেশনা রয়েছে।যারা সরাসরি কমিশন লাভ করে তারা তাদের কর্মজীবন শাখা দ্বারা নির্ধারিত পদ পাবে।

আপনার দক্ষতার ক্ষেত্রটি আরও একটু এক্সপ্লোর করুন এবং দেখুন সেনাবাহিনী কি অফার করছে:

আর্মি মেডিকেল কর্পস (এএমসি)

আর্মি মেডিকেল কর্পস (এএমসি) বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং সর্বাধিক উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি। আর্মি মেডিকেল কর্পসে কমিশনড অফিসাররা medicineষধের সর্বাধুনিক প্রান্তে আছেন এবং আমাদের দেশ ও সৈন্যদের সেবা করার সন্তুষ্টি অর্জন করেছেন।

আর্মি ডেন্টাল কর্পস (এডিসি)

আর্মি ডেন্টাল কর্পস (এডিসি) বাংলাদেশের আরেকটি উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। আর্মি ডেন্টাল কর্পসে কমিশনড অফিসার এবং উচ্চ যোগ্য সৈনিকরা আমাদের জাতি এবং আমাদের সৈন্যদের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি প্রদান করে।

আর্মি এডুকেশন কর্পস (জজ অ্যাডভোকেট জেনারেলের শাখা)

সেনা জজ অ্যাডভোকেট জেনারেলস (জেএজি) কর্পস বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মীদের জন্য একটি সুচারু বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

ইঞ্জিনিয়ারদের দল

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্পস ইঞ্জিনিয়াররা বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে বাড়িতে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত রয়েছে। ১ Army১ সাল থেকে কুয়েত পুনোরগোথন অপারেশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্পস ইঞ্জিনিয়ারিং অপারেশন খুব সফলভাবে কাজ করছে।

সিগন্যাল কর্পস

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সংকেত বাহিনী বাড়িতে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে উভয়ই বিভিন্ন যোগাযোগের কাজে নিয়োজিত।

বৈদ্যুতিক এবং যান্ত্রিক প্রকৌশলী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পস বাড়িতে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিভিন্ন মেরামত ও পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব পালন করছে।

আর্মি এডুকেশন কর্পস

সেনাবাহিনী শিক্ষা বাহিনী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মী এবং ক্যাডেটদের জন্য শিক্ষাগত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেভাবে টিকা নিবেন।

0

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সকল কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত সকল শিক্ষার্থী (১৮ বছরের উর্ধ্বের) নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিজ দায়িত্বে নিবন্ধিত হয়ে কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন নিতে পারবেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে সুরক্ষা ওয়েবসাইটের https://surokkha.gov.bd/ মাধ্যমে কোভিড-১৯ টিকার নিবন্ধন করে টিকা নিতে হবে।

যদিও এর আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সকল শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ এর টিকা প্রদানের লক্ষ্যে তালিকা সংগ্রহ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্যছক পুরণ করে সাবমিট করার জন্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়েছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এতে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থীর তালিকা পাওয়া গেছে।

কিন্তু সরকার যেহেতু ১৮ বছরের উর্দ্ধের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার ঘোষণা দেয় তাই সবাইকে নিজ দায়িত্বে ভ্যাক্সিন নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮ বছরের বেশি বয়সের ছাত্র-ছাত্রীদের সুরক্ষা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকার নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ১৮ বয়সের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীরা সুরক্ষা সিস্টেমের মাধ্যমে টিকার নিবন্ধন করে নিজ দায়িত্বে কোভিড-১৯ টিকা নিতে পারবে। সুরক্ষা ওয়েবসাইটে অনলাইনে নিবন্ধন কয়ার পর টিকার ১ম ও ২য় ডোজ নেয়ার জন্য নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুরক্ষা ওয়েবসাইট  শ্রেণি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী’ ক্যাটাগরির পরিবর্তে ‘১৮ বছর বা তদুর্ধ্ব ছাত্র- ছাত্রী’ ক্যাটাগরি নির্বাচন করে করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন হবে জাতীয় পরিচয় পত্র এনআইডি কার্ড, মোবাইল নম্বর এবং নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের নিবন্ধন করার জন্য প্রথমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকার নিবন্ধনের এই https://surokkha.gov.bd/ লিংকে প্রবেশ করুন। এরপর ওয়েবসাইটের ‘ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধন করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। একটি নিবন্ধন ফরম দেখতে পাবেন উক্ত নিবন্ধন ফর্মের শ্রেণী (ধরণ) নির্বাচন করুন বাটনে ক্লিক করে ১৮ বছর বা তদুর্ধ্ব সিলেক্ট করুন।

এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্ম তারিখ (জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী) এবং বক্সে প্রদর্শিত লেখাটি সঠিকভাবে লিখে “যাচাই করুন” বাটনে ক্লিক করুন। সঠিকভাবে এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ প্রবেশ করালে আবেদনকারী তার নাম দেখতে পাবে। এরপর আপনার মোবাইল নম্বর সতর্কতার সাথে এন্ট্রি দিয়ে “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করতে হবে।

পরবর্তী ধাপে বর্তমান ঠিকানা সঠিক ভাবে এন্ট্রি করে “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর আপনি যে কেন্দ্রে টিকা দিতে ইচ্ছুক সেই টিকা কেন্দ্র সঠিকভাবে সিলেক্ট করে “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করতে হবে।

পরবর্তী ধাপে আপনার মোবাইল নম্বরে একটি কোড পাঠানো হবে উক্ত কোড সঠিকভাবে এন্ট্রি দিয়ে যাচাই করতে হবে। যাচাই করার পরেই আপনার নিবন্ধন সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে।

অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন হলে তথ্য যাচাইপূর্বক পর্যায়ক্রমে টিকা প্রদানের তারিখ ও কেন্দ্রের নাম উল্লেখপূর্বক নিবন্ধনের সময় প্রদানকৃত মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে টিকা প্রদানের তারিখ জানানো হবে। মুঠোফোনে খুদেবার্তা প্রাপ্তি সাপেক্ষে টিকাকার্ড জাতীয় পরিচয়পত্র ও সম্মতিপত্রসহ নির্দিষ্ট তারিখে টিকাদান কেন্দ্রে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করবেন।

কোভিড-১৯ টিকার ১ম ও ২য় ডোজ নেয়ার জন্য নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট টিকাদান কেন্দ্রে টিকার কার্ড সাথে নিয়ে যেতে হবে। টিকা প্রদান শেষ হলেও ভবিষ্যৎ প্রয়োজনে কার্ডটি সংরক্ষণ করতে হবে।

আমলাতন্ত্র কী? আধুনিক রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা এবং সমালোচনা।

0
আমলাতন্ত্র

আমলাতন্ত্র কী? আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা কী? এবং এর সমালোচনা।

আমলাতন্ত্র একটি সার্বজনীন ধারণা। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের প্রত্যেকটি রাষ্ট্রই কম বেশি আমলা দ্বারা পরিচালিত। আধুনিক রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা বহুলাংশে আমলাদের উপরই নির্ভরশীল।

Bureaucracy” শব্দটি যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত সুপরিচিত একটি শব্দ। আমলাতন্ত্রের যেমনিভাবে ব্যাপক সুনাম রয়েছে তেমনিভাবে এর সমালোচনা রয়েছে অনেক। কখনো কখনো এটি তার নিয়ম পদ্ধতির বাইরে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। আর অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ।

আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ : আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো— ‘Bureaucracy‘। শব্দটি ফরাসী শব্দ ‘Bureau‘ ও গ্রীক শব্দ ‘Kratein‘ শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ হচ্ছে ‘Desk Government’ – তাই উৎপত্তিগত অর্থে আমলাতন্ত্র হলো দপ্তর সরকার বা ‘Desk Government.

আমলাতন্ত্র : আধুনিককালে যে কোনো প্রশাসনই আমলানির্ভর। আমলাতন্ত্রের সূত্রপাত হয়েছে সেনাবাহিনীতে। বর্তমানে এটি প্রশাসনের একটি অপরিহার্য সংগঠনে পরিণত হয়েছে। আমলাতন্ত্রের জনক যদিও ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয়, পরবর্তীতে বিভিন্ন দার্শনিক এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।

পারিভাষিক সংজ্ঞা : সাধারণত আমলাতন্ত্র বলতে আমলাদের কর্তৃত পরিচালিত শাসন ব্যবস্থাকে বুঝায় । সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য যে কর্তৃক ব্যবস্থা মানবশক্তি, কার্যালয় ও বিভিন্ন কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেন, তারই সমষ্টিকে আমলাতন্ত্র বলা হয়।

প্রামাণ্য সংজ্ঞা : বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে আমলাতন্ত্রের যে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন তা নিম্নে তুলে ধরা হলো :

অধ্যাপক ফাইনার এর মতে, The civil service is body of officials permanent paid and skilled. অর্থাৎ আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।

Paul H. Apleby এর ভাষায়, আমলাতন্ত্র বলতে অসংখ্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে ও জটিল শর্তে সুশৃঙ্খলভাবে পরস্পর একত্রিত হওয়াকে বুঝায়।

আধুনিক সরকার ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। গণতন্ত্রে আমলাতন্ত্র বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে। প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। তবে আমলাতন্ত্র যে সর্বদা নন্দিত তা কিন্তু নয়। আমলাতন্ত্রে কতিপয় ত্রুটি বিদ্যমান। বিরুদ্ধবাদীরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এর সমালোচনা করেছেন। যা আমলাতন্ত্রকে সীমিত করেছে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা :

গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্রের ভূমিকা ও কার্যাবলি নিম্নরূপ-:

১। নীতি নির্ধারণ : রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ আমলাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র নীতি নির্ধারণী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে আমলাগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২। আইন প্রণয়ন : আইন প্রণয়ন করা আমলাতন্ত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আমলারা আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আইন প্রণয়নের জন্য যে সকল কলাকৌশল, বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা প্রয়োজন তা অনেক সময় আইনসভার সদস্যগণের মাঝে পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে আমলারা সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের উপর আইন প্রণয়নের দায়িত্ব অর্পিত হয়। এক্ষেত্রে তাদের রচিত আইনকে Delegated Legalslation বলে ।

৩। বিচার : বর্তমান গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আমলারা বিচার সংক্রান্ত কাজ করে। বর্তমানে আমলারা কিছু কিছু বিরোধের সমাধান করে থাকে। তারা আদালতের পরিবর্তে নিজেরাই কিছু কিছু বিবাদ-বিসম্বাধের মীমাংসায় অংশ নেয়।

Alomond Dowel-এর ভাষায়, বিভাগীয় ন্যায়-বিচার ও বিভাগীয় ট্রাইব্যুনাল সম্প্রসারণের ফলে আমলাতন্ত্রে কিছু কিছু বিচার সংক্রান্ত কার্য সম্পাদিত হয়।

৪। সরকারি নীতির বাস্তবায়ন : আমলাতন্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো সরকারি নীতির বাস্তবায়ন। আমলারা শুধু আইন প্রণয়ন করে না, আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখে। আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে সরকারি নীতি ও বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়।

৫। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষা প্রশাসনিক : ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আমলাতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বদায়িত্ব। নিরবচ্ছিন্ন শাসনকার্য ছাড়া প্রশাসনিক গতিশীলতা আসে না। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তিত হয়। কিন্তু আমলাশক্তির কোনো পরিবর্তন ঘটে না। তারা প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।

৬। দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা: আমলাতন্ত্রের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা করা। গণতন্ত্রে আমলারা দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা করে থাকে। আমলাদের দৈনিক কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সামাজিক নিরাপত্তা, পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা, সংস্থাপন, কর ও জনকল্যাণ সংক্রান্ত কাজ। দৈনন্দিন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রশাসন গতিশীলতা লাভ করে।

৭। পরামর্শদান : আমলাতন্ত্র পরামর্শ সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি আমলাদের একটি উপদেষ্টামূলক কাজ। মন্ত্রীরা অনেক বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা রাখতে পারেন না। এক্ষেত্রে আমলাগণ তাদেরকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে থাকেন।

৮। সামাজিক পরিবর্তন : সামাজিক পরিবর্তন গণতন্ত্রের একটি বিশেষ দিক। গণতন্ত্র সদা পরিবর্তনশীল। সময়ের সাথে সাথে গণতন্ত্র সমুন্নত ও শক্তিশালী হয়। এক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তন বিশেষ ভূমিকা রাখে।

৯। স্বার্থের মূল্যায়ন : আমলাতন্ত্র বিভিন্ন প্রতিযোগিতাশীল মূল স্বার্থের মূল্যায়নে ভূমিকা রাখে। তারা বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে জনস্বার্থের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করে। সংশ্লিষ্ট বিষয় জনস্বার্থে কতটুকু সম্পৃক্ত তা আমলারা যাচাই করে। এক্ষেত্রে গোষ্ঠী স্বার্থের চেয়ে জনস্বার্থ বেশি প্রাধান্য পায়।

১০। তথ্য সরবরাহ : তথ্য সরবরাহে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমলারা বিভিন্ন বিষয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। জনসাধারণ, বিভিন্ন গোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সরকারের প্রয়োজন হয়। আমলারা সেসব ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে থাকে।

১১। ভারসাম্য রক্ষা : আমলাতন্ত্রের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ভারসাম্য রক্ষা করা। আমলারা পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে থাকে। এছাড়া গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র বিভিন্ন গোষ্ঠীর স্বার্থে সমন্বয় সাধন করে। যার মাধ্যমে প্রশাসনিক ভারসাম্য তৈরি হয়।

১২। রাজনৈতিক স্থায়িত্ব : আমলারা রাজনৈতিক স্থায়িত্বে ভূমিকা রাখে। রাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। বিশেষত অনুন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে এক্ষেত্রে আমলারা কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

১৩। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা : রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা আমলাতন্ত্রের একটি বিশেষ কাজ। আমলাতন্ত্র কখনো কখনো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে । এটি তাদের একটি আনুষ্ঠানিক কাজ ।

আমলাতন্ত্র এর সমালোচনা :

আমলাতন্ত্র সব সময় স্বচ্ছ তা কখনো নয়। আমলাতন্ত্রে নানা ত্রুটি বিদ্যমান। নিম্নে আমলাতন্ত্রের সমালোচনা তুলে ধরা হলো :

১। লালফিতার দৌরাত্ম্য :

আমলাতন্ত্রের অন্যতম ত্রুটি হচ্ছে লালফিতার দৌরাত্ম্য। লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে মূলত পূর্বের নীতিকে অনুসরণ বা ধারাবাহিকতা রক্ষা করা বুঝায়। তবে যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকালে পূর্বের নজির বা নীতিকে অনুসরণ একেবারে খারাপ নয়। কে. বি. স্মেলক এর মতে, যথাযথভাবে ব্যবহৃত লালফিতার আইনের সামনে সকল নাগরিকের সমানাধিকার প্রতীক হতে পারে। তবে পূর্ব নজিরকে হুবহু অনুসরণ করা ঠিক নয়। কারণ এর মাধ্যমে সততার উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং বিষয়টির ফয়সালা তার গুণাগুণের ভিত্তিতে হয় না। বরং এটি মান্ধাতা আমলের পুরনো নজির অনুসারে সম্পাদিত হয়।

২। ক্ষমতার লিপ্সা :

আমলাতন্ত্রের অন্যতম ত্রুটি হচ্ছে ক্ষমতার লিপ্সা। এটি আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ। আমলারা দায়িত্বে বসার পর থেকে তাদের ক্ষমতা, পদমর্যাদা, কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালান। তারা আইনসভা ও বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা গ্রহণে সচেষ্ট থাকেন। তারা ক্ষমতা হস্তান্তর নীতিতে খুব একটা আগ্রহী নয়, কারণ এর মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা হ্রাস পাবে। তাদের ক্ষমতার মোহ জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে।

৩। দায়িত্বহীনতা :

দায়িত্বহীনতা আমলাতন্ত্রের বিশেষ সমালোচনা। এটি আমলাতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অন্যতম ত্রুটি। আমলাগণ রাষ্ট্রের স্থায়ী কর্মচারী। যে কোনো কাজের জন্য সরাসরি জনগণের কাছে দায়ী থাকে না। কাজের জন্য জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে হয় মন্ত্রীগণকে। যার কারণে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা জনগণের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা জনগণের নিকট দায়বদ্ধ না থাকায় নিজেদের খেয়াল খুশিমত কাজ করতে কুণ্ঠাবোধ করে না।

৪। উদাসীনতা :

উদাসীনতা আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি সমালোচনা। আমলারা তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতার মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। তারা নিজেদেরকে একটি এলিট শ্রেণি বলে দাবি করেন। তারা নিজেদেরকে উচ্চ শিক্ষিত বলে দাবি করেন। তারা সময় সময় নিজেদের ইচ্ছামত নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রিত রাখতে চায়। যার কারণে অনেক সময় জনগণের স্বার্থের প্রতি উদাসীন থাকেন।

৫। বিভাগীকরণ :

আমলাতন্ত্রের বিশেষ ত্রুটি হচ্ছে বিভাগীকরণ। বিভাগীকরণ আমলাতান্ত্রিক সরকারের কাজকর্ম বিভাজিত করে কতিপয় পৃথক ও স্বতন্ত্র বিভাগ সৃষ্টি করে। E. N. Giadden বলেন, আমলারা তাদের সংগঠনের কর্মপরিধি ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে তোলার ব্যাপারে সর্বদা সচেতন। প্রত্যেক দফতর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এ সকল বিভাগীকরণের কারণে সরকারি কার্যক্রম বিভাগভিত্তিক হয়ে পড়ে। এর ফলে প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংগঠনের কর্মের প্রতি লক্ষ্য না রেখে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টায় থাকেন, যার ফলশ্রুতিতে কর্মচারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়িয়ে তোলেন ।

৬। নীতি নির্ধারণে হস্তক্ষেপ :

বর্তমানে আমলারা নির্বাহী ও আইন বিভাগের কাছ থেকে অনেক বেশি নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা ভোগ করেন। বর্তমানে সরকারের কার্যাবলি বৃদ্ধির সাথে সাথে রাজনীতি ও প্রশাসনের সম্পৃক্ততা বেড়েছে। আমলারা এ সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করছে। রাজনীতিবিদদের প্রশাসনিক অজ্ঞতার কারণে নীতিনির্ধারণে আমলারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৭। হৃদয়হীন আমলাতন্ত্র :

আমলারা একই পদ্ধতিতে | নি নিয়মমাফিক কাজ করতে করতে এমন একটি মানসিকতা গড়ে জ তোলে যে, তারা একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। তারা ব্য মানুষের মনমানসিকতাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে না। একটি মানুষ আ কি চায়, কিভাবে তাকে কোনো একটি কাজে সহযোগিতা করা যায়, সেদিকে না তাকিয়ে নিজেদের মত ও পথকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। যার কারণে আমলাদেরকে রোবটের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

৮। আমলাতন্ত্র’র দীর্ঘসূত্রিতা :

দীর্ঘসূত্রিতা আমলাতন্ত্রের আরেকটি বড় ত্রুটি। সব কিছু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে করা তাদের চিরাচরিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কোনো বিষয় যতই জরুরী হোক না কেন সমস্ত সিঁড়িপত্র স্তর ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কাজটি সম্পন্ন করে। ডব্লিউ বেজহাট তাঁর বিখ্যাত The English Constitution গ্রন্থে লিখেন, আমলাতন্ত্রের অপরিহার্য ত্রুটি এই যে, আমলারা ফলাফলের চেয়ে রুটিন মতো কাজ হলো কি-না তা নিয়ে মাথা ঘামাবে বেশি।

৯। আলাদা শ্রেণি :

আমলারা নিজেদেরকে অনেক সময় সমাজের আলাদা শ্রেণি হিসেবে মনে করে। তারা নিজেদের ব্যাপারে যা-তা কল্পনা করে। তারা মনে করে তাদের মানসম্মান সমাজের অন্যান্যদের চেয়ে অনেক উঁচু।

১০। আমলাতন্ত্র’র দুর্নীতি :

আমলাতন্ত্রের সমালোচনার অন্যতম বিষয়বস্তু হচ্ছে দুর্নীতি। এটি আমলাতন্ত্রের নেতিবাচক দিক। তারা অসদুপায় অবলম্বনের উদ্দেশ্যে বছরের পর বছর বিভিন্ন ফাইলবন্দি করে রাখে। কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য তারা কখনো কখনো উৎকোচ দাবি করে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের ক্ষেত্রে এ ত্রুটি বেশি দেখা যায় ।

১১। জনকল্যাণের পরিপন্থী :

জনকল্যাণের পরিপন্থী। আমলারা নিজেদেরকে জনগণ থেকে | আমলাতন্ত্র অনেকটা পৃথক করে রাখার চেষ্টা করে। জনকল্যাণ ও দ্রুত অর্থনৈতিক | উন্নয়নের বিষয়ে তারা তেমন চিন্তা করেন না। যার কারণে জনকল্যাণ ব্যাহত হয়।

পরিশেষে

বলা যায় যে, আমলারা আমলাতন্ত্র উন্মাসিকতা, আত্মশ্লাঘা বিধি-বিধান ও রুটিন কাজের স্থবিরতা, কাজ কর্মের মানবিক দিক উপেক্ষা, সংকীর্ণ গণ্ডিবদ্ধ মনোভাব, দৃষ্টিভঙ্গির রক্ষণশীলতা প্রভৃতি ত্রুটিগ্রস্ত। আর এসব আমলাতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। আমলাতন্ত্রের এ ত্রুটিসমূহ গণতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। এর থেকে মুক্তি পেতে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে।

ভেলপুরি – লোভনীয় স্বাদের ঢাকাই ভেলপুরি এবার আপনার বাসায়।

0
ভেলপুরি

ভেলপুরি সাধারণত ঢাকাই ভেলপুরি নামে পরিচিত। যার স্বাদের কথা না বললেই নয়। আজ আমরা আপনাদের মাঝে হাজির হলাম বেশ আলোচিত ঢাকাই ভেলপুরি’র রেসিপি নিয়ে। চলুন শুরু করা যাক …
রেসিপি বাই: sumi’s kitchen dairies

শহর কিংবা গ্রামে সব বাসাতেই বিকাল কিংবা সন্ধ্যার নাস্তাতে থাকতে পারে ভেলপুরি, উপভোগ করতে পারেন বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন সাবাই মিলে। আর কথা বাড়ালাম না,,

ভেলপুরি’র উপকরণ:

ময়দা-১+১/২ কাপ
সুজি -১/২ কাপ
তেল -২ টেবিল চামচ
লবন -১/২ চা চামচ
পানি-পরিমানমতো

পুর তৈরির জন্য যা যা লাগবে,
সিদ্ধ ডাবলি /কাবলি বুট-২ কাপ
ভেলপুরি মসলা -২চা চামচ
বিট লবন-১/২ চা চামচ
চিলি ফ্লেক্স-১ চা চামচ
কাঁচামরিচ কুচি ১চা চামচ
তেতুলের টক-পছন্দমতো
শসা,টমেটো,পেঁয়াজ,ধনেপাতা কুচি-পরিমাণমতো

ভেলপুরি প্রস্তুত প্রণালী:

প্রথমে একটি পাত্রে ময়দা,সুজি,লবন ও তেল নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে নরমাল তাপমাত্রার পানি অল্প অল্প করে দিয়ে শক্ত একটি ডো তৈরি করতে হবে। ডো ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রেস্টে রাখতে হবে ৩০-৪০ মিনিটের জন্য।

এবার ডো থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে নিয়ে পুরি আকারে বেলে নিতে হবে,তবে পুরি গুলো বেশি পাতলা হবে না রুটির মতো ভারী হবে এবং ফুসকার চেয়ে আকারে বড় হবে।সবগুলো পুরি বানানো হয়ে গেলে ডুবো তেলে ভেজে নিতে হবে।সময় নিয়ে ভাজতে হবে,তাহলে পুরি গুলো মুচমুচে হবে।

পড়ুনঃডালপুরি বানানোর রেসিপি। 

পড়ুনঃ- সিদ্ধ ডিম ও তার উপকারিতা।

এবার ভেলপুরির পুর তৈরির জন্য প্রথমে ডাবলি/কাবলি বুট ৬/৭ ঘন্টার জন্য পানিতে ভিজিয়ে রেখে ভালো করে ধুয়ে লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। সিদ্ধ বুটের সাথে তেতুলের টক বাদে বাকি সবগুলো উপকরণ মিশিয়ে নিলেই পুর রেডি।

এখন পুরির এক সাইডে আংগুল দিয়ে চেপে ফুটো করে নিয়ে এক টেবিল চামচ পরিমাণ পুর দিয়ে তারপর উপরে একটু শসা,টমেটো,ধনেপাতা কুঁচি,এক চিমটি ভেলপুরি মসলা আর স্বাদমতো তেতুলের টক দিয়ে দিন।পরিবেশন করুন ইফতারের টেবিলে মজাদার ভেলপুরি।বাসার সবাই পছন্দ করবে।

নোট: ভেলপুরি গুলো আগে থেকে বানিয়ে রাখলে পুরিটা নরম হয়ে যাবে,তাই বানিয়ে সাথে সাথে পরিবেশন করুন।

আপনিও আপনার লিখা রেসিপি পাঠাতে পারেন, কিংবা নিজেই আমাদের সাইটের কন্টিভিউটর হতে পারে। যোগাযোগ করতে কমেন্ট করুন, অথাব মেইল করুন আর ফেইসবুক ত আছেই চ্যাটিং এর জন্যে।