Home Blog Page 2

ক্রুসেড সিরিজ বাংলা (সকল পর্ব এক সাথে) – মহাবীর সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবী।

0

ক্রুসেড সিরিজ টি মহাবীর সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবী কে নিয়ে নির্মিত এক যুগান্ত কারি সিরিজ । আমাদের দেশের এস এ টিভি কর্তৃক বাংলা ডাবেড হয়। যা নিচে ক্রম অনুযায়ী সাজানো হল। সিরিজ টি দুই সিজনে বিভক্ত নিচে সকল পর্ব একসাথে দেওয়া হল।

ক্রুসেড সিরিজ সিজন ১

বিশ্ব ইতিহাসে ক্রুসেড বলতে পবিত্র ভূমি অর্থাৎ জেরুজালেম এবং কন্সটান্টিনোপল এর অধিকার নেয়ার জন্য ১০৯৫ – ১২৯১ সাল পর্যন্ত মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইউরোপের খ্রিস্টানদের সম্মিলিত শক্তির পরিচালিত যুদ্ধগুলোকে বোঝায়। প্রথম ক্রুসেডের সূত্রপাত হয় পোপ দ্বিতীয় উর্বানের মাধ্যমে। ক্রুসেডারদের সঙ্গে মুসলমানদের যুদ্ধকে বলা যেতে পারে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে সবচাইতে বড় ধরনের যুদ্ধ। কেউ কেউ এটিকে ধর্মের লেবাস পরিয়ে দিতে চাইলেও ক্রুসেডারদের মূল উদ্দেশ্য ছিল পার্থিব। এটি ছিল একধরনের অর্থনৈতিক আগ্রাসন, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছে। মুসলিম বিশ্বের একজন অকুতোভয় বীরসেনানী সালাউদ্দিন আইয়ুবি ১১৮৭ সালের ২ অক্টোবর শুক্রবার, জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করেন। তিনি আরব ও ইসলামকে একই পতাকাতলে নিয়ে আসেন এবং কোনরূপ রক্তপাত ছাড়াই বাহল মোকাদ্দাস জয় করেন।
ইতিহাসে ক্রুসেডের নায়ক হচ্ছেন। মহাবীর সালাউদ্দিন আইয়ুবি। যিনি পাশ্চাত্যে সালাদিন নামে পরিচিত।

ক্রুসেড সিরিজের প্রথম সিজনে দেখানো হয়েছে সুলতান সালাহ উদ্দিন এর বেড়ে উঠার গল্প। চলুন দেরি না করে শুরু করি দেখা।

ক্রুসেড পর্ব ১

ক্রুসেড পর্ব ০২

ক্রুসেড পর্ব ০৩

ক্রুসেড পর্ব ০৪

ক্রুসেড পর্ব ০৫

ক্রুসেড পর্ব ০৬

ক্রুসেড পর্ব ০৭

ক্রুসেড পর্ব ০৮

ক্রুসেড পর্ব ০৯

ক্রুসেড পর্ব ১০

ক্রুসেড পর্ব ১১

ক্রুসেড পর্ব ১২

ক্রুসেড পর্ব ১৩

ক্রুসেড পর্ব ১৪

ক্রুসেড পর্ব ১৫

ক্রুসেড পর্ব ১৬

ক্রুসেড পর্ব ১৭

ক্রুসেড পর্ব ১৮

ক্রুসেড পর্ব ১৯

ক্রুসেড পর্ব ২০

ক্রুসেড পর্ব ২১

ক্রুসেড পর্ব ২২

ক্রুসেড পর্ব ২৩

ক্রুসেড পর্ব ২৪

ক্রুসেড পর্ব ২৫

ক্রুসেড পর্ব ২৬

ক্রুসেড পর্ব ২৭

ক্রুসেড পর্ব ২৮

ক্রুসেড পর্ব ২৯

ক্রুসেড পর্ব ৩০

ক্রুসেড পর্ব ৩১

ক্রুসেড পর্ব ৩২

ক্রুসেড পর্ব ৩৩

ক্রুসেড পর্ব ৩৪

ক্রুসেড পর্ব ৩৫

ক্রুসেড পর্ব ৩৬

ক্রুসেড পর্ব ৩৭

ক্রুসেড পর্ব ৩৮

ক্রুসেড পর্ব ৩৯

ক্রুসেড পর্ব ৪০

ক্রুসেড পর্ব ৪১

ক্রুসেড পর্ব ৪২

ক্রুসেড পর্ব ৪৩

ক্রুসেড (সিজন 2) মহাবীর গাজী সালাউদ্দিন

এই সিজনে সিরিজটির নাম মহাবীর গাজী সালাউদ্দিন নামে পরিচালিত হয়।

ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে সাথে থাকার জন্য।

আমাদের কে আপনার মূলবান মতামত জানান।

পাট শাক – পাট শাকের উপকারিতা ও তার পুষ্টিগুণ, চলুন জেনে নেই।

0

পাট শাক পুষ্টিগুণে ভরা যা অনেকের কাছেই প্রিয় একটি খাবার। যেমন, আমার-ই খুব প্রিয়। পাটশাক খেতে যেমন সুস্বাদু আর তেমনই সহজলভ্য। সাধারণত পাটশাক ভেজে নিয়ে গরম ভাতের সাথে খাওয়া হয়। এটি শাক হিসেবে শুধু মুখরোচকই নয় পাটের পাতায় রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ।

পাট শাকে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন সি, ই, কে, বি- ৬ এবং নিয়াসিন রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাটশাকে ক্যালরি থাকে ৭৩। এতে আমিষ থাকে ৩.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৯৮ মিলিগ্রাম, লোহা ১১ মিলিগ্রাম ও ক্যারোটিন ৬৪০০ (আইইউ)। তাছাড়া পাট শাকে রয়েছে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যারোটিন এবং খাদ্যআঁশ। এসব পুষ্টি উপাদান রোগবালাই থেকে আমাদেরকে দূরে রাখে।

সম্মানিত পাঠক জেনে নিন এবার পাট শাকের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ সম্পর্কে।

মুখের রুচি বাড়ায়

তেতো স্বাদের পাটশাক খাওয়ার রুচি বাড়ায়। মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনে ও মেদ বৃদ্ধির আশঙ্কা কমায়। পাটশাকের তেতো স্বাদ মুখে লালা ক্ষরণ করে শ্বেতসারকে ভাঙতে সাহায্য করে। এতে হজমের সুবিধা হয় ফলে খাবারের রুচি বাড়ে।

নিদ্রাহীনতা দূর করে

পাটশাকে থাকা ম্যাগনেশিয়াম উপাদান শরীরে প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদন করে যা স্নায়ুতন্ত্র শান্ত রাখে এবং নিরবচ্ছিন্ন নিদ্রা নিশ্চিত করে। তাই ভাল ঘুমের জন্য পাট শাক খেতে পারেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

পাট শাকের ভিটামিন এ, ই এবং সি শরীরের রোগ পতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে থাকা ভিটামিন সি ও ক্যারোটিন মুখের ঘা দূর করতে সাহায্য করে। তাছাড়া ভিটামিন-সি রক্তের শ্বেত কনিকা বৃদ্ধি করে এবং ভিটামিন-এ, ভিটামিন ই চোখ, হৃদপিণ্ডসহ অন্যান্য অঙ্গের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

হাড়ের বৃদ্ধি সাধন করে

পাটশাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম আছে যা হাড় ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ করে। তাছাড়া এতে থাকা আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান হাড় গঠন ও ক্ষয়পূরণ করে এবং হাড়ভঙ্গুরতা রোধ করে।

উচ্চ রক্তচাপ দূর করে

পাটশাকে বিদ্যমান উচ্চ মাত্রার পটাশিয়াম রক্তসঞ্চালন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা দূর হয়। এছাড়া পাটশাক রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত খেলে হার্ট অ্যাটাক এবং ষ্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়।

আয়রণের ভাল উৎস

পাটশাকে প্রচুর পরিমান আয়রন থাকে যা রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে সহায়তা করে। পাটশাকে থাকা আয়রন দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং কর্মদক্ষতাও বৃদ্ধি করে।

হজম শক্তি বড়ায়

পাটশাকে থাকা খাদ্যআঁশ হজম প্রক্রিয়াকে দারুণভাবে ত্বরান্বিত করে আমাদের হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

বাতের ব্যথা দূর করে

আপনি জানলে অবাক হবে যে পাট শাক বাতের ব্যথায় বেশ উপকারী। পাট শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে। ভিটামিন-ই গেঁটেবাত, আর্থরাইটস এবং প্রদাহ জনিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এই সকল রোগের জন্য পাট শাক একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ্য।

পরিশেষে বলব এরকম আরও পোস্ট পেতে আমাদের পাশেই থাকে চোখ রাখুন আমাদের ফেইসবুক পেইজ এবং ফেইসবুক গ্রুপে। সময় নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

রাজনৈতিক তত্ত্ব কি? রাজনৈতিক তত্ত্বের বিষয়বস্তু সমূহের আলোচনা।

0

রাজনৈতিক তত্ত্ব কী? অথবা, রাজনৈতিক তত্ত্ব বলতে কী বুঝ?

ভূমিকাঃ রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাস বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ সর্বদাই নিজেদের ভাবধারাকে একটি তাত্ত্বিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণের জন্য তত্ত্ব গঠন অপরিহার্য কারণ সকল বৈজ্ঞানিক জ্ঞানই হলো তত্ত্বগত। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে রাজনৈতিক তত্ত্বের উপরই মূলত একটি রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।

রাজনৈতিক তত্ত্বের সংজ্ঞা

অতীতে রাজনৈতিক তত্ত্ব বলতে প্লেটো, অ্যারিস্টটল, রুশো, মিল প্রমুখ চিন্তাবিদদের জাঁকজমকপূর্ণ দার্শনিকদের লালিত তত্ত্বকেই বোঝায়। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক তত্ত্বের সংজ্ঞা পরিবর্তিত হয়েছে। মূলত রাজনৈতিক তত্ত্বের সংজ্ঞায় আমরা বলতে পারি যে, রাজনীতি সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট তত্ত্ব যেকোনো রাজনৈতিক ঘটনা গবেষণা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে তাকে রাজনৈতিক তত্ত্ব বলে।

প্রামাণ্য সংজ্ঞাঃ নিম্নে রাজনৈতিক তত্ত্বের কয়েকটি প্রামাণ্য

সংজ্ঞা প্রদান করা হলো :

ফ্রান্সিক কোকার (Francis Coker)-এর মতে, “যখন সরকার তার সংগঠন এবং কার্যকে সাময়িক ফলাফল অর্জনের নিমিত্ত কেবলমাত্র বর্ণনা, ভুলনা ও বিচারের তথ্যরূপে গ্রহণ না করে মানুষের নিরন্তন প্রয়োজন, আকাঙ্ক্ষা ও মতামতের মূল্যায়নের তথ্য হিসেবে পরিগণিত হয়, তখন রাজনৈতিক তত্ত্বের উদ্ভব ঘটে।

কার্ল জি. হেলে (Carl J. Hempel) বলেন, “রাজনৈতিক তত্ত্ব বিভিন্ন বিষয়ে এক নিয়মিত বা সমরূপ নমুনা সম্পর্কে ধারণা দান করে।

জে. এ. বিল এবং আর. এল. হার্ডসেড (J.A. Bill and R.L.. Hardgrave) বলেছেন, “Theory is a set of systematically related generalizations suggesting new observations for empirical testing.” সাধারণ তত্ত্ব বলতে বোঝায় বাস্ত বক্ষেত্রে পরীক্ষার জন্য পর্যবেক্ষণমূলক এক সাধারণ সূত্রে যা অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরস্পরের সাথে সংশ্লিষ্ট।

পরিশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক তত্ত্বকে প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। জে. রোলাল্ড পেনক রাজনৈতিক তত্ত্বকে পাঁচটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। যথা : নৈতিক, কাল্পনিক, সমাজতান্ত্রিক, আইনগত এবং রাজনৈতিক। কালের বিবর্তনধারায় রাজনৈতিক তত্ত্ব একটি শক্ত কাঠামোর উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যায় ফলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি বিজ্ঞানের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

রাজনৈতিক তত্ত্বের বিষয়বস্তু

ভূমিকা : রাজনৈতিক তত্ত্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি আলোচ্য বিষয়) গ্রাজনৈতিক তত্ত্ব রাষ্ট্রব্যবস্থায় এবং রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপের এক বিশেষ ধরনের চিন্তাভাবনা) রাজনীতি প্রধান আলোচ্য বিষয়সমূহ রাজনৈতিক তত্ত্বের অংশ। রাজনৈতিক তত্ত্ব কতকগুলো রাজনৈতিক বিষয়কে একত্রিত করে থাকে? রাজনৈতিক বিষয়বস্তুর গুরুত্ব সাধারণত রাজনৈতিক তত্ত্বেরই অন্তর্ভুক্ত।

→ রাজনৈতিক তত্ত্বের বিষয়বস্তু বিষয়বস্তুসমূহ আলোচনা করা হলো

রাজনৈতিক তত্ত্বের ব্যবহারিক দিক:

বাস্তব জীবনের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও কাঠামো গড়ে তোলার চিন্তাভাবনাকে রাজনৈতিক ব্যবহারিক তত্ত্ব বলা হয়। যেমন- বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ন ও রাজনৈতিক নেতাদের চিন্তাভাবনা) ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বিভিন্ন রাজত্ব ও শাসনব্যবস্থার অন্তর্গত এ ধরনের ব্যবহারিক চিন্তা- ভাবনার উদাহরণ পাওয়া যায়) ব্রোষ্ট্রের শক্তি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠার মাধ্যমে রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার প্রকাশ পায়। ব্যবহারিক চিন্তাভাবনা রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার একটি দিকমাত্র।

রাজনৈতিক তত্ত্বের তাত্ত্বিক দিক :

রাজনৈতিক তত্ত্বের বিষয়বস্তু তত্ত্বগত দিক থেকে ব্যবহারক দিক থেকে অনেক আলাদা। রাজনৈতিক তত্ত্বের বিষয়বস্তুর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো তত্ত্বগত দিক। এটিকে অনেক সময় কেতাবি বা গ্রন্থগত রাষ্ট্রতত্ত্ব বলা হয়।(রাজনৈতিক তত্ত্বের রাজনৈতিক দিক বলতে এই কেতাবী রাষ্ট্রচিন্তাকে বোঝায়। এরা রাজনৈতিক কাঠামোর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাভাবনা করে থাকে।)

রাষ্ট্রদর্শন সম্পর্কে আলোচনা

রাজনৈতিক তত্ত্বের অন্যতম আরেকটি বিষয়বস্তু হলো রাষ্ট্রদর্শন সম্পর্কে আলোচনা। এক্ষেত্রে একটি রাষ্ট্রের উৎপত্তি, গঠন, পরিবর্তন, কার্যাবলি, রাষ্ট্রের সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক, নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য, সার্বভৌমত্ব প্রভৃতি তত্ত্বগত আলোচনার মধ্যে অন্তর্গত থাকে। অর্থাৎ বলা যায়, রাষ্ট্রদর্শনের আলোচনা ও ভাবভিত্তিক।

রাজনৈতিক মূল্যবোধের আলোচনা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ একটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো রাষ্ট্রে বসবাসরত জনগণ যেসব রাজনৈতিক আইনকানুন, আচার-আচরণ মেনে চলে তাকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলা হয়। রাজনৈতিক মূল্যবোধের সাথে সরকার ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক মূল্যবোধের ফলে জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে। রাজনৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে রাজনীতিতে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়।

উপসংহার:

পরিশেষে বলা যায় যে, বর্তমান জীবনধারা অভিজ্ঞতার ধারা মানুষের রাষ্ট্রসম্পর্কিত চিন্তাভাবনা প্রভাবিত করে। রাজনৈতিক তত্ত্বের মাধ্যমে মানুষ তার অভিজ্ঞতাকে বাস্তবে রূপায়িত করতে পারে। তাই অধিকাংশ রাজনৈতিক তত্ত্বই হয় মানুষের কোনো কর্তৃত্ব মেনে চলা বা পরিবর্তনের আশায় উচ্চ কর্তৃত্বের সমালোচনা সম্পর্কিত।

পড়া মনে রাখার উপায়, ৫টি সহজ কৌশল।

0

পড়ার জন্য সঠিক সময় নির্বাচন করা :

অনেকেরই ধারণা সারাদিন-সারারাত পড়লেই পড়া বৈশি মনে থাকে। এটা নিতান্তই ভুল ধারণা, কারণ সবসময়ই আমাদের ব্রেইন একইভাবে কাজ করতে পারে না। কিন্তু গবেষণা করে দেখা গেছে বিকালের পর আমাদের ব্রেইনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই বিকালের পরে অর্থাৎ সন্ধ্যায় বা রাতে পড়া বেশি কার্যকর হয়।

পড়ার জন্য সঠিক সময় নির্বাচন করাঃ

অনেকেরই ধারণা সারাদিন-সারারাত পড়লেই পড়া বৈশি মনে থাকে। এটা নিতান্তই ভুল ধারণা, কারণ সবসময়ই আমাদের ব্রেইন একইভাবে কাজ করতে পারে না। কিন্তু গবেষণা করে দেখা গেছে বিকালের পর আমাদের ব্রেইনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই বিকালের পরে অর্থাৎ সন্ধ্যায় বা রাতে পড়া বেশি কার্যকর হয়।

নির্দিষ্ট পরিমাণে ঘুমানোঃ

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রেইন যেকোনো ইনফরমেশন বা তথ্যকে মেমোরি বা স্মৃতিতে পরিণত করে ঘুমানোর সময়। তাই পড়ালেখা মনে রাখার জন্য পড়ালেখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুমানো জরুরি। সাধারণত একজন সুস্থ ব্যক্তির কমপক্ষে প্রত্যহ ৬-৮ ঘণ্টার মতো ঘুমানো উচিত। এর থেকে কম ঘুমালে পড়া মনে রাখার ক্ষমতা কমে যায়।

পড়তে বসার পূর্বে ১০ মিনিট হাঁটাঃ

পড়ার টেবিলে বসার পূর্বে ১০ মিনিট হাঁটলে বা হালকা ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এতে পড়া মনে রাখতে বেশ সুবিধা হয়। ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে পড়ার পূর্বে ১০ মিনিট হাঁটলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা প্রায় ১০ শতাংশ পরিমাণ বেড়ে যায়। তাহলে একটু হাঁটার পরেই শুরু হোক পড়ালেখা।

পড়ার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণঃ

যে বিষয়টি পড়বে তার প্রতি মনোযোগ হওয়াটা অতীব জরুরি। এতে পড়া সহজেই মনে থাকবে। পড়ার সময় মোবাইল ফোনটি বন্ধ রেখে অথবা সাইলেন্ট করে পড়তে হবে। তা না হলে পড়ার মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। পড়ার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ অনুভব করলে তা সহজেই মস্তিষ্কে মেমোরি বা স্মৃতিতে রূপান্তরিত হয়ে যায় এবং স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী হয়।

বেশি বেশি পড়া ও অনুশীলন করাঃ

আমাদের ব্রেইন ক্ষণস্থায়ী স্মৃতিগুলোকে তখনই দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে পরিণত করে, যখন তা বারবার ইনপুট দেয়া হয়। বারবার ইনপুট দেয়ার ফলে ব্রেইনের স্মৃতি গঠনের স্থানে গাঠনিক পরিবর্তন হয় যা দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি তৈরিতে সাহায্য করে। তাই বেশি বেশি পড়া ও অনুশীলন করা, পড়া মনে রাখার অন্যতম উপায়।

কর্ম কৌশল – সফলভাবে টিমওয়ার্কের কৌশল।

0

কৰ্ম কৌশল – সফলভাবে টিমওয়ার্কের কৌশল
একসাথে দলগত হয়ে কাজ করলে অনেক সমস্যার সমাধান দ্রুত বের করা যায়। এছাড়াও তৈরি, হয় নানা ধরনের নতুন ভাবনা। যে কাজগুলো করলে তৈরি হবে কার্যকর ও কর্মদক্ষ একটি টিম বা দল। সে বিষয়ে কিছু কার্যকর কৌশল নিচে উল্লেখ করা হলো।

লক্ষ্য ঠিক করে কাজ বন্টন করা

সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য ঠিক করে টিম মেম্বারদের কাজ বন্টন করুন। এর মাধ্যমেই দ্রুত ও নির্ভুলভাবে কাজ সম্পন্ন করে সফলতার দিকে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

সময়ের মূল্য দেওয়া

নিজেরসহ অন্যদের সময়ের দিকে খেয়াল রেখে কাজ করুন। এতে পুরো টিমের আউটপুট বেশি হবে। সবসময় চেষ্টা করুন কম সময়ে বেশি আউটপুট দিতে।

সুসম্পর্ক বজায় রাখা

টিম মেম্বাররা পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হলে সকলের মাঝে সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে। যা সুচারুভাবে কার্য সম্পাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা

দলের একজনের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকলে সবার মধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই মেম্বারদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে পারলে কাজে গতি আসবে।

একাত্মবোধ গড়ে তোলা

যেকোনো কাজে যখন সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকে, তখন কাজটা সহজ হয়ে যায় এবং ভালো ফলাফলও পাওয়া যায়। তাই দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে একাত্মবোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

সবার সাথে সমান আচরণ করা

একজন যোগ্য ও ভালো টিম মেম্বার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে প্রশ্রয় না দিয়ে কাজের দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু বিচার করেন। তাই কাজের স্বার্থে সবাইকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।

কাজে উদ্যম, সৃজনশীলতা ও নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা

বিভিন্ন ধরনের আইডিয়া যখন একসাথে হয়ে নতুন কিছু তৈরি হয়। তখনই কাজে উদ্যমতা আসৈ। কাজের প্রতি স্পৃহা বাড়ে। এভাবে একসাথে কাজ করলে সৃজনশীলতার পরিবেশ তৈরি হয়।

নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করা

যোগ্য টিম মেম্বার হিসেবে নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করতে হবে নিজের সামর্থ্য ও মেধার পুরোটা দিয়ে কাজ করার পর প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

অন্যের কাজে সাহায্য করা

নিজের কাজের পাশাপাশি প্রয়োজনে অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতাও থাকতে হবে। যাতে কাজ আরও দ্রুত ও ভালো হয়। এখানে নিজেকে ব্যক্তি না ভেবে একটি ইউনিটের অংশ ভাবা ।

ভুল স্বীকারের মানসিকতা থাকা

যোগ্য টিম মেম্বার হতে হলে অবশ্যই ভুলকে স্বীকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। ভুল স্বীকার করে তা শোধরানোর চেষ্টা করতে হবে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা

কোনো কাজ করতে হলে সেখানে নানা সমস্যা আসতে পারে। সেগুলো মেনে নিয়েই কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে ঝুঁকি নেবার মানসিকতা থাকতে হবে।

টিমের সমস্যা ও দ্বন্দ্বের সমাধান করা

সদস্যদের মাঝে দ্বন্দ্ব বা মতের অমিল অস্বাভাবিক নয়, তবে তা দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে হবে। দলীয়ভাবে সকল সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে হবে নিজেদেরকেই।

সবার পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া

টিমের অন্য মেম্বারদের কাজ সম্পর্কে আইডিয়া ও পরামর্শ নিতে হবে এবং তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। টিমে বিভিন্ন মনের মানুষ থাকায় তাদের ফিডব্যাক কাজকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

পরিশেষে বলা যায়

যেকোনো কাজে সাফল্যের জন্য ভালো টিমওয়ার্কের কোনো বিকল্প নেই। এভাবে টিমওয়ার্ক সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখার পাশাপাশি, ভালো একজন টিম মেম্বার হতে পারলেই সাফল্য হাতের মুঠোয় চলে আসবে।

আন্তর্জাতিকতাবাদ – আন্তর্জাতিকতাবাদ কি বিশ্বসভ্যতার জন্য আশীর্বাদ না হুমকিস্বরূপ!!

0

আন্তর্জাতিকতাবাদ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। জাতীয়তাবাদের বৃহত্তম রূপই হচ্ছে আন্তর্জাতিকতাবাদ। আন্তর্জাতিকতাবাদের অনুপ্রেরণায় পৃথিবীর অনেক দেশই পৃথক জাতীয়তাবাদী আশা-আকাঙ্ক্ষা ছেড়ে আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্ববোধে আবদ্ধ হয়ে আছে ।

আন্তর্জাতিকতাবাদের সংজ্ঞা

আন্তর্জাতিকতাবাদ হচ্ছে জাতীয়তাবাদের আন্তর্জাতিক রূপ। আন্তর্জাতিকতাবাদ বলতে এমন এক ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে বিশ্বের সকল জনগণ একাত্ম ও মিলনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে উঠে সকল জাতিকে একতার বন্ধনে আবদ্ধ করে।

প্রামাণ্য সংজ্ঞা

বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ বিভিন্নভাবে আন্তর্জাতিকতাবাদের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। নিম্নে কিছু উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞা তুলে ধরা হলো :

বার্ট্রান্ড রাসেল বলেন, “আন্তর্জাতিকতাবাদ হচ্ছে এমন একটি মানসিক পরিস্থিতি যেখানে জাতির সীমানা প্রায় এক না হলে সীমানা এক প্রকৃত আন্তর্জাতিকতা গড়ে ওঠে না।”

গোল্ডস্মিথ বলেন, “আন্তর্জাতিকতাবাদ এমন এক অনুভূতি যে, একজন ব্যক্তি শুধু একটি রাষ্ট্রের সদস্য নয়, কিন্তু বিশ্বের একজন নাগরিক।” (Internationalism is the feeling that the individual is not only a member of his state but a citizen of the world.)

Dictionary of social Science এর ভাষায়, “আন্তর্জাতিকতাবাদ হলো এমন একটি মানসিক অনুভূতি ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধের চেতনা যা মানব জাতির মধ্যে ঐক্য ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করে ।

ড. এ. কে. মহাপাত্র বলেন, “আন্তর্জাতিকতাবাদ হলো সাম্য ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এক প্রীতিপূর্ণ বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠা। বৃহৎ, ক্ষুদ্র, সবল, দুর্বল নির্বিশেষে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা।”

উপসংহার

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, আন্তর্জাতিকতাবাদ বিশ্বভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি এবং সকল জাতি রাষ্ট্রের মধ্যে ঐক্যের মিলবন্ধন সৃষ্টি করে। জাতীয়তাকে নির্দিষ্ট গণ্ডীর বাইরে রেখে বৃহত্তর এক জাতি-গোষ্ঠী তৈরি করে।

আন্তর্জাতিকতাবাদ কি বিশ্বসভ্যতার জন্য আশীর্বাদ না হুমকিস্বরূপ!! বিস্তারিত আলোচনা

ভূমিকা

আন্তর্জাতিকতাবাদ হলো বিশ্বের সকল মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধের অন্যতম ধারক ও বাহক। এটি মানুষের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সহ অবস্থানের কথা বর্ণনা করে। সকল মানুষ একক সমাজের অন্তর্ভুক্ত ও পরস্পর পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীল হয়। আধুনিক বিশ্বের প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে এই নির্ভরশীলতা ও সহযোগিতা আরো বেড়ে গেছে। সকল জাতিরাষ্ট্রগুলো অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকে। একবিংশ শতাব্দীতে আন্তর্জাতিকতাবাদ বিশ্বের জনগণের মধ্যে আরো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন মানুষে মানুষে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যদিকে নানান সংকট ও সমস্যা ঘনীভূত হচ্ছে। আন্তর্জাতিকতাবাদ সভ্যতার জন্য বিশ্বের মানুষের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ নিম্নে এ সংক্রান্ত আলোচনা করা হলো

আন্তর্জাতিকতাবাদ কি সভ্যতার জন্য আশীর্বাদ না হুমকিস্বরূপ!!!

ব্যাখ্যা :

আন্তর্জাতিকতাবাদ বিশ্বের মানুষের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। আন্তর্জাতিকতাবাদের ধারণা থেকে জাতিসংঘসহ আরো অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংঘ গড়ে উঠেছে। যেসব সংঘ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আন্তর্জাতিকতাবাশ সভ্যতার যেসব দিক উন্নয়নে অবদান রাখে তা নিম্নে সবিস্তারে আলোচনা করা হলো :

সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ

আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে বিশ্বের দেশগুলো তাদের সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ করছে। এক্ষেত্রে UNESCO গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কারণ UNESCO বিশ্ব সংস্কৃতি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কাজ করে থাকে। সেই সাথে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জিনিসগুলো সংরক্ষণের জন্য দেশগুলোকে সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকে।

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা

আন্তর্জাতিকবাদের কারণে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর মানবাধিকার এর সনদ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিশ্বের দারিদ্র্য, নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মানবাধিকার চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া Human Rights Watch, Amnesty International ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে থাকে।

আরও পড়ুনঃ- আইন ও আইনের উৎস সমূহ।

তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তির উন্নয়ন

আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তির উত্তরোত্তর উন্নয়ন ঘটছে। ফলে বৈশ্বিক যোগাযোগ সহজ হয়েছে। কম্পিউটার, মোবাইল, ইন্টারনেট প্রভৃতির উন্নয়নের ফলে সভ্যতাসমূহের বিকাশ দ্রুত হচ্ছে। পাশাপাশি এসবের নেতিবাচক অবদানও লক্ষণীয়।

সাংস্কৃতিক আদান প্রদান

আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এক দেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, অন্য দেশের মানুষ উপভোগ করতে পারছে। দেশীয় ভাষা, খাদ্যাভ্যাস এর সাথে বৈদেশিক ভাষা খাদ্যাভ্যাসের মিলন ঘটেছে। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিশ্ব পাচ্ছে এক নতুন মাত্রা।

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা

আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে সংঘাতময় বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নানা সময় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা পরিলক্ষিত করে এর থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে ১৯১৯ সালে জাতিপুঞ্জ এবং ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা আন্তর্জাতিকতাবাদের অন্যতম নিদর্শন। বর্তমান জাতিসংঘ, ইরাকযুদ্ধ, বসনিয়া সংকট, ভারত পাকিস্তান যুদ্ধবন্ধসহ নানা ক্ষেত্রে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। যদিও ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে তেমন কোনো অগ্রগতি সাধন করতে পারে নাই। তাই বলা যায়, আন্তর্জাতিকতাবাদ মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।

আন্তর্জাতিক আইন ও আদালত প্রতিষ্ঠা

আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে বিভিন্ন চুক্তির দ্বারা আন্তর্জাতিক আইন ও আদালতের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি অন্যতম যা পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া সমুদ্র আইন, আন্তর্জাতিক নদী আইন, মানবাধিকার আইন, UNHCR আইন প্রভৃতি অন্যতম। এসব চুক্তির মধ্যে আন্তর্জাতিক আদালত প্রতিষ্ঠা অন্যতম। এই আদালতে অনেক যুদ্ধাপরাধী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীর বিচার সম্পন্ন হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ দমন

একবিংশ শতাব্দীতে সন্ত্রাসবাদ এর উত্থান একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। মধ্যপ্রাচ্যে I.S-এর উত্থান, প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলা, লন্ডন এ হামলা, ইসলামাবাদের বোমা হামলা, কাবুল এ বোমা হামলা, বাংলাদেশের হলি আর্টিজানে হামলা প্রভৃতি ঘটনাগুলো সন্ত্রাসবাদের উত্থানের ইঙ্গিত বহন করে। এই সন্ত্রাস মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায় একাত্মতা প্রকাশ করেছে এবং তা মোকাবিলা করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বাংলাদেশ সরকার সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। ১৯১৫ সালে WTO চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যের প্রসার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চুক্তির আওতায় উন্নত দেশগুলো বেশি সুবিধা ভোগ করলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনেক সুযোগ-সুবিধা ছাড়া দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিকতাবাদের উদাহরণস্বরূপ WTO-এর অবদান অনস্বীকার্য ।

সামাজিক উন্নয়ন

আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে সামাজিক উন্নয়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতিসংঘের UNDP প্রতিষ্ঠান বিশ্বে দেশগুলোর উন্নয়নের তদারকি করে থাকে। সমাজের মানুষের শিক্ষা, | স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন প্রভৃতি সুযোগ-সুবিধার তদারকি করে অনগ্রসর দেশগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা করে থাকে। ফলে বিশ্বের দেশগুলে সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নত হচ্ছে। বেড়ে যাচ্ছে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।

শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন

আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে UNICEF। বিশ্বের দেশগুলোর প্রদর চাঁদার কারণে প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন দেশে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে থাকে। তাছাড়া শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, নারী ও শিশু পাচার রোধকরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে অবদান রাখে। আন্তর্জাতিকতাবাদ অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে অবদান রাখার পাশাপাশি শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অবদান রাখে।

মাদক পাচার ও চোরাচালান রোধ

আন্তর্জাতিকতাবাদ মাদক পাচার ও চোরাচালান রোধে সহযোগিতা করে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের চুক্তির আওতাধীন দেশগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। তাছাড়া বিভিন্ন দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় এসব অবৈধ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

আন্তর্জাতিকতাবাদ ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখে। আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে দেশগুলো অর্থনৈতিক দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশগুলোর মধ্যে মূলধন বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক দেশ অর্থনৈতিক চুক্তির আওতায় শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করছে। ফলে আমদানি রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক দেশ দক্ষ মানব সম্পদ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে এসব সম্ভবপর হয়েছে।

পরিশেষ

পরিশেষে আমরা বলতে পারি, আন্তর্জাতিকতাবাদ বিশ্বের মানুষের জন্য হুমকিস্বরূপ নয়, বরং আশীর্বাদস্বরূপ । কেননা, আন্তর্জাতিকতাবাদের কারণে মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে উত্তরোত্তর উন্নয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে আন্তর্জাতিকতাবাদের সমালোচনা করে এটাকে হুমকিস্বরূপ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিছু সমালোচনা থাকলেও সার্বিক দিক | আশীর্বাদস্বরূপ কেননা ভ্রাতৃত্বের জয়গান গেয়ে আন্তর্জাতিকতাবাদের থেকে আন্তর্জাতিকতাবাদ বিশ্বের জন্য নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলে আন্তর্জাতিকতাবাদের শেষ।

মুক্তবাজার অর্থনীতি ও তার ধারণা।

0

মুক্তবাজার অর্থনীতি কি? অথবা, মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারণা দাও।

ভূমিকা

বর্তমান অর্থনৈতিক বিশ্বব্যবস্থায় মুক্তবাজার অর্থনীতি একটি আলোচিত বিষয়। মুক্তবাজার অর্থনীতি শুধু আয় অর্থনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা রাজনৈতিক বিষয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতি উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উন্নত দেশগুলো মুক্তবাজার অর্থনীতির দোহাই দিয়ে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর বাজার দখল করে স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

মুক্তবাজার অর্থনীতি

মুক্তবাজার অর্থনীতি হলো এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্যের অবাধ বিচার এবং পণ্যের অবাধ বিচরণ এবং পণ্যের ও অর্থের ও অথের আদান-প্রদান। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সমাজের বণ্টন ও উৎপাদন সম্পর্কিত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয় দামের ভিত্তিতে যা মূলত নির্ধারিত ভোক্তা শ্রমিক এবং উৎপাদনের উপকরণসমূহের স্বত্ত্বাধিকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত মিলনের ফলে।

মুক্তবাজার অর্থনীতি সম্পর্কে বলা যায় যে, “A free market economy is an economy in which the allocation for resources is determided only by their supply and the demand of them. This is mainly a theoritical concept as every country, even capitalist ones, places some restrictions on the ownership and exchange of commodities.” Source :(http://economics.about.com/es/economicsglossary/9/freemarkete.htm)

McGrow Hill Dictionary of Modern Economics এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, “মুক্তবাজার অর্থনীতি হলো অর্থনৈতিক সংগঠনের এমন এক অবস্থা, যেখানে সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিতে কী কী দ্রব্য ও সেবা কী পদ্ধতিতে কার ভোগের জন্য উৎপাদিত হবে, সেসব প্রশ্নের মীমাংসার ভার বাজারে সরবরাহ ও চাহিদা শক্তির উপর ছেড়ে দেওয়া হয়।’

উপসংহার

উপরিউক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, মুক্তবাজার অর্থনীতি হলো সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে চাহিদা ও যোগানের উপর একটি পণ্যের দাম নির্ধারিত হবে এবং ক্রেতারা পণ্য কিনে ভোগ করবে।

এইচএসসি পরীক্ষার পর ক্যারিয়ার ভাবনা। এক নতুন জীবনযাত্রার সূচনা।

2

এইচএসসি’র পর ক্যারিয়ার ভাবনা।
উচ্চ মাধ্যমিক (HSC) পরীক্ষা মানে জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার হওয়া। এইচএসসি পরীক্ষার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগ পর্যন্ত এ মাস তিন চারেকের অবসরটুকুর ব্যাপ্তি অল্প হলেও এর মূল্য অনেক বেশি। নিজের জীবনের উন্নয়নে কিংবা কর্মজীবন, সামাজিক জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে এই সময়টুকুই হতে পারে জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। না জানা বিষয়কে জানতে, অল্প জানা বিষয়ে নিজের দখলদারিত্ব আরও পাকাপোক্ত করতে এই অবসরে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কোর্স করতে পারেন।

শুদ্ধ উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গি

শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলতে জানা মানুষ সবার নজর কাড়ে। সেই সাথে আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গি আপনাকে এনে দিতে পারে আলাদা গুরুত্ব। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান এসব বিষয়ে শর্ট কোর্স করিয়ে থাকে। নিজেকে সমৃদ্ধ করতে এই কোর্স করে ফেলতে পারেন।

সংবাদ উপস্থাপনা

সারাদেশের মানুষ এক নামে আপনাকে চিনবে, সেইসাথে হবে ভালো রোজগার— এমনটা চাইলে করে ফেলতে পারেন সংবাদ উপস্থাপনার কোর্স। সংবাদ উপস্থাপনা পেশা হিসেবেও চমৎকার । যেকোনো পেশায় থেকেও পার্ট টাইম পেশা হিসেবে সংবাদ উপস্থাপক হওয়া যায়। অনেক শিক্ষার্থী, ব্যাংকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, সরকারি চাকরজীবী পার্টটাইম পেশা হিসেবে সংবাদ উপস্থাপনা করেন।

টিভি রিপোর্টার

আমাদের দেশে টিভি চ্যানেলে কাজের ক্ষেত্র দিনদিন বাড়ছে। ব্যক্তির আগ্রহ, যোগ্যতা আর সৃজনশীলতা থাকলে সহজেই এগুলোতে স্থান করে নেওয়া সম্ভব। সাংবাদিকতা বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা না করেও যে-কেউ ভালো প্রশিক্ষণ নিয়ে এখানে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন এইচএসসি পরীক্ষার পর।

রেডিও জকি

বর্তমানে তারুণ্যের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠেছেন রেডিও জকিরা । অনেক বন্ধুর সাথে যেমন একদিন দেখা বা কথা না হলে খারাপ লাগে, তেমনি পছন্দের কোনো রেডিও জকির অনুষ্ঠান একদিন না শুনলেও মনটা খুঁতখুঁত করে অনেকেরই। এমন জনপ্রিয় একজন রেডিও জকি হয়ে তাই গড়ে তুলতে পারেন আপনার ক্যারিয়ারও। রেডিও জকি হবার একটা ছোট্ট কোর্স বা ওয়ার্কশপ এ ব্যাপারে অনেক কাজে আসবে।

কম্পিউটার কোর্স

কম্পিউটার বর্তমান জীবনে কী পরিমাণ অপরিহার্য জিনিসে রূপান্তরিত হয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই একটা ভালো কম্পিউটার কোর্স করে নিতে পারেন এই সময়ে। কেননা এইচএসসি পরীক্ষার পর অবসর থাকা উচিত নয়।

ভিডিও এডিটিং

যত দিন যাচ্ছে ভিডিও কনটেন্টের প্রসার তত বাড়ছে। সেইসাথে বাড়ছে ভিডিও এডিটর পেশার চাহিদা। ভিডিও এডিটিংয়ের কোর্স করে তা শিখে নিয়ে খুব সহজেই রোজগার করা সম্ভব। পড়াশোনার পাশাপাশি আয়ের এটি একটি ভালো মাধ্যম।

কনটেন্ট রাইটিং

অনলাইন বিজনেস যেভাবে বাড়ছে তাতে ভালো কনটেন্ট লিখতে জানলে কনটেন্ট রাইটার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। আবার পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম কাজ হিসেবেও কনটেন্ট রাইটিং করা সম্ভব। তাই এ বিষয়ে একটা কোর্স হতে পারে সুদূরপ্রসারী সুফলের কারণ ।

ডিজিটাল মার্কেটিং

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মানুষ নির্ভরশীল হয়ে উঠছে অনলাইনের প্রতি । সেই সাথে বাড়ছে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের চাহিদা। তাই এ বিষয়ে একটা কোর্স হতে পারে ভবিষ্যৎ পেশার জন্য উপকারী । আর নিজে ব্যবসা করার ইচ্ছে থাকলে এ বিষয়ে জানা আবশ্যক।

কুকিং কোর্স/শেফ কোর্স

আন্তর্জাতিক মানের পেশাগুলোর মধ্যে একটি হলো শেফ। এদিকে ভবিষ্যৎ গড়ার ইচ্ছে থাকলে বা হোটেল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়তে চাইলে শেফ কোর্স বা কুকিং কোর্স করে ফেলতে পারেন। ঘরে খাবার বানিয়ে অনেকেই ব্যবসা করেন। সেক্ষেত্রেও এ কোর্স কাজে দেবে।

উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ

উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করার ইচ্ছে থাকলে এই সময়ে গ্রহণ করতে পারেন উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ। এসব প্রশিক্ষণে ব্যবসার শুরু থেকে ব্যবসা চালানো, মূলধন নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। বিশেষ করে অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে এসব কোর্স দারুণ কাজে দেবে।

হোটেল ম্যানেজমেন্ট

এখনকার পাঁচতারা হোটেল মানেই যেন একটা ছোটখাটো শহর। এসব হোটেল চালাতে গেলে প্রয়োজন পেশাদার কর্মী। কারণ একটি আধুনিক পাঁচতারা হোটেলে বেশকিছু বিভাগ থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, হাউস কিপিং, পাবলিক রিলেশন, মার্কেটিং, ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট, হোটেলের ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজমেন্টসহ সব জায়গায় হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্স করা লোকের কদর বেশি থাকে। তাই ভবিষ্যতের প্রয়োজনে হোটেল ম্যানেজমেন্টের কোর্স করতে পারেন।

ফ্যাশন ডিজাইনিং

ফ্যাশন সচেতন মানুষমাত্রই নিজেকে অন্যের চেয়ে আলাদাভাবে তুলে ধরতে ভালোবাসেন। পোশাক ও অনুষঙ্গে আগ্রহ থাকলে করে ফেলতে পারেন ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের কোনো শর্ট কোর্স। সেক্ষেত্রে নিজের পোশাক তো বটেই অন্যের কাছ থেকেও কাস্টমাইজ পোশাকের অর্ডার নিয়ে রোজগার করতে পারবেন। পোশাক নিয়ে ব্যবসা করার ইচ্ছা থাকলেও এ কোর্স অনেক কাজে দেবে। এছাড়া চাকরির ক্ষেত্রেও ফ্যাশন ডিজাইনের রয়েছে অনেক সুযোগ। ফ্যাশন ডিজাইনারদের জন্য গার্মেন্টস, বায়িং হাউজ, বুটিক হাউজ ইত্যাদিতে চাকরি করার সুযোগ রয়েছে।

ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং

অভ্যন্তরীণ গৃহসজ্জার প্রতি দিনে দিনে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। নিজেরা বাড়ি না সাজিয়ে অনেকেই প্রফেশনাল ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের শরণাপন্ন হন। এছাড়া অফিস সাজানো বা প্ল্যানিং তো আছেই। তাই করে ফেলতে পারেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনিংয়ের কোর্স। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি পার্ট টাইম কাজ হিসেবে সহজেই এখান থেকে রোজগার করা যায় । চাইলে এ পেশাতেই ভবিষ্যৎ গড়তে পারেন।

সুইং-কাটিং

ঘরে বসে রোজগারের জন্য সেলাইয়ের কাজ একটি ভালো মাধ্যম। পড়াশোনার পাশাপাশি যেমন এ কাজ করা যায়, তেমনি পেশা হিসেবে নেওয়া যায়। কাজ পাবার জন্য বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। প্রতিবেশীরা বা এলাকার মানুষজনই সাধারণত পোশাক তৈরির অর্ডার দিয়ে থাকে। আবার পোশাক নিয়ে অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে চাইলে কাটিং-সুইংয়ের কোর্স করা থাকলে বেশ কাজে আসে। এক্ষেত্রে পোশাক তৈরি করে যেমন বিক্রি করতে পারবেন, তেমনি গ্রাহকের চাহিদামাফিক পোশাক তৈরি করে ডেলিভারিও করতে পারবেন।

স্ক্রিন প্রিন্ট

প্রচার ও প্রচারণার এই যুগে স্ক্রিন প্রিন্টে কাজের ক্ষেত্র দিন দিন বাড়ছে। স্ক্রিন প্রিন্টের কোর্স করে নিয়ে যুক্ত হওয়া যায় এই কাজে । টি-শার্ট, মগ, ব্যানার ইত্যাদিতে স্ক্রিন প্রিন্টের কাজ শুরু করা যায় খুব কম মূলধন দিয়েই। স্ক্রিন প্রিন্টকে মূল পেশা হিসেবে যেমন নিতে পারেন, তেমনি পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম কাজ হিসেবেও নিতে পারেন।

হস্তশিল্প

হাতে তৈরি জিনিসের সমাদর যুগ যুগ ধরেই রয়েছে। আড়ং বা সোর্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো হস্তশিল্পের জন্যই বিশ্বজুড়ে সুনাম অর্জন করেছে। এইচএসসি’র পর এই অবসরে করতে পারেন হস্তশিল্প তৈরি করার কোর্স। বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশনের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসব কোর্স করিয়ে থাকে। অনেক শিল্পী ব্যক্তিগতভাবেও হস্তশিল্প তৈরি করা শিখিয়ে থাকেন। সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের এটি একটি ভালো মাধ্যম। এতে নিজে ব্যবসা করার যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনি কোনো হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মী হিসেবে কাজ করার সুযোগও রয়েছে।

টাইডাই ও বাটিক

কাপড়ে রঞ্জনশিল্প খুবই প্রাচীন একটি কাজ। সুদূর অতীত থেকেই মানুষ হাতে কাপড়ে রঙ করে আসছে নানান পদ্ধতিতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো টাইডাই বা বন্ধনরঞ্জন এবং বাটিক । টাইডাই পদ্ধতিতে কাপড় বেঁধে রঙে চুবিয়ে পুরো কাপড় রঙ করা হয়। এতে বাঁধা জায়গাগুলোতে নকশা তৈরি হয়। আর বাটিক পদ্ধতিতে কাপড় প্রিন্ট করতে ব্যবহার করা হয় মোম। এই দুটি পদ্ধতিই বেশ সহজে শেখা সম্ভব এবং খুব কম ব্যয়ে বেশি লাভ করা সম্ভব। বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশন নিয়মিত কোর্স করায় এ দুটি বিষয়ে। আবার ইউটিউবের ভিডিও দেখেও শিখে নিতে পারেন সহজে। কাঁচামাল ও উপাদানও বেশ সহজলভ্য। টাইডাই ও বাটিক হতে পারে আপনার রোজগারের অন্যতম মাধ্যম।

প্রচ্ছদ ও অলংকরণ

যারা ছবি আঁকতে পছন্দ করেন বা চারুকলায় পড়ার কথা ভাবছেন তাদের জন্য এটা হতে পারে দারুণ পেশা। এতে আঁকার অনুশীলন যেমন হবে, তেমনি হবে রোজগারও । বিভিন্ন প্রকাশনীতে কাজ করতে পারেন প্রচ্ছদ শিল্পী হিসেবে। কার্টুন আঁকতে পারেন পত্র-পত্রিকার জন্যও । খুব ভালো ছবি আঁকতে জানলে পোর্ট্রেট এঁকে বা গৃহসজ্জার জন্য ছবি এঁকে বিক্রি করেও আয় করা যায়।

এইচএসসি পরীক্ষার পর ক্যারিয়ার

এছাড়াও শিখতে পারেন সূচিশিল্প ও এমব্রয়ডারি। একসময় সুঁই-সুতোর কাজ নারীদের একচেটিয়া ভাবা হতো, কিন্তু ব্যাপারটা আসলে তা নয়। সূচিশিল্প নারী-পুরুষ যে কেউ মেশিন এমব্রয়ডারি শিখে নিলে খুব কম বিনিয়োগে ব্যবসা শুরু করে বাড়িতে বসেই আয় করা সম্ভব।

এইচএসসি পরীক্ষার পর অনেক সময় পাওয়া যায়, তাই অবসরে না থেকে ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনা শুরু করাই উত্তম।

ইবনে রুশদ – মুসলিম বিশ্বের অমূল্য রত্ন বিখ্যাত এক মুসলিম দার্শনিক।

1
ইবনে রুশদ - একজন বিখ্যাত মুসলিম দার্শনিক যিনি একাধারে চিকিৎসক, যুক্তিবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, গণিতবিদ এবং জ্যোতিবিদ।

ইবনে রুশদ – যিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত মুসলিম দার্শনিক এবং তার পাশাপাশি তিনি একাধারে যুক্তিবিদ্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গনিত, জ্যোতিবিদ্যা এবং রাষ্ট্রতত্ত্বে অবদান রাখেন। এমন কি তিনি কুরআন, হাদিস, ফিকহ,  কালাম প্রভৃতি বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।

জন্ম ও পরিচয়

ইবনে রুশদের পূর্ণ নাম আবুল ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন আহমাদ ইবনে রুশদ। প্যাটিন ভাষায় তিনি অ্যাভেররোজ নামে খ্যাতি লাভ করেছেন। (১১২৬ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম সভ্যতার ইউরোপীয় কেন্দ্র (কর্ডোভায় একটি বিখ্যাত কাজি, পরিবারে তার জন্ম হয়। তার পিতা ও পিতামহ উভয়েই কর্ডোতার কাজি পদে সমাসীন ছিলেন। তার পিতামহ আল-মুরাবীদ সুলতানের আমলে সারা আদালুসের কাজি উল ফুযযা বা প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষা জীবন

ইবনে রুশদ শৈশবেই শিক্ষার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন। পারিবারিকভাবে তিনি ছিলেন গভীর শিক্ষানুরাগী একটি পরিবারের সদস্য। সে কারণে পরিবার থেকেই তার শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী হন। তার অধ্যয়নের নেশা এতোই প্রবল ছিল যে, সত্তর বছর বয়সেও তিনি যোগ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। সে যুগের কোনো বিশিষ্ট গ্রন্থকারের গ্রন্থ তাঁর অপঠিত ছিল না। তিনি কুরআন, হাদীস, ফিকহ, কালাম, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, তত্ত্ব প্রভৃতি বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনে রুশদ:

অন্যান্য প্রথম শ্রেণির দার্শনিক ও ধর্মতত্ত্ববিদের মতো ইবনে রুশদও চিকিৎসা জগতে যথেষ্ট সুনামের অধিকারী। বিশেষত দার্শনিক-চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনে সিনা তার আদর্শ ছিলেন। ইবনে রুশদ চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ে বেশ কিছু প্রণিধানযোগ্য গ্রন্থ রচনা করেন। ‘কুল্লিয়াত ফিত তিব’ তাঁর অমর রচনাবলির অন্যতম। এতে তিনি রোগ, রোগের সাধারণ লক্ষণ, রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সম্ভাব্য বিভিন্ন ঔষধ সম্পর্কে পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও তথ্যসম্বলিত আলোচনা করেন। তিনি ভেষজ সম্পর্কে মোট ১৮ খানা বই লেখেন।

আইন বিজ্ঞানী ইবনে রুশদ

চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতো আইন বিজ্ঞানেও ইবনে রুশদের অসামান্য প্রতিভার চূড়ান্ত বিকাশ পরিলক্ষিত হয়। পিতামহ ও পিতার পথ ধরে তিনিও এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১১৬৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সেভিলের এবং ১১৭১ খ্রিস্টাব্দে কর্ডোভার কাজি পদে নিয়োজিত হন। এ সময়ে একজন কৌশলী ও বিজ্ঞ আইনবিদ হিসেবে তাকে এতো অধিক ব্যস্ত থাকতে হয় যে, তার জ্ঞান সাধনার ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ- ইমাম গাজ্জালী

রাজকীয় হেকিম ইবনে রুশদ:

১১৬২ খ্রিষ্টাব্দে ইবনে রুশদ মুয়াহীদ খলীফা আবু ইয়াকুব ইউসুফের আমন্ত্রণে মারাকেশ গমন করেন। সেখানে খলীফা তাকে রাজকীয় হেকিম এবং উজিরের পদ দিয়ে সম্মানিত করেন। এ সময় দার্শনিক-ধর্মতত্ত্ববিদ ইবনে তুফায়েলের বন্ধুত্ব খলিফার দরবারে তাকে পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। খলিফা আবু ইয়াকুরের মৃত্যুর পর আল-মানসুর খলীফা পদে অধিষ্ঠিত হন। ফলে তার সম্মান ও গ্রহণযোগ্য আরো বহুগুণ বেড়ে যায়।

ষড়যন্ত্রের কবলে ইবনে রুশদ

খলীফার দরবারে ইবনে রুশদের উচ্চ মর্যাদা ও বিশেষ সম্মান লাভ আমীর মহলে তাকে বিশেষ ঈর্ষার পাত্রে পরিণত করে। তিনি তাদের সকলের হিংসা, শত্রুতা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হন। দেশের ফকিহ ও আলিম সমাজ তার সুখ্যাতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করতে আরম্ভ করে। তারা ছড়াতে থাকে যে, ইবনে রুশন ইসলামে বিশ্বাস করে না এবং কুরআন মাজীদকে আল্লাহর কালাম মনে করে না। এ প্রচারণার ফলে দেশের আলিম সমাজ ও গোড়াপন্থী ধর্মতত্ত্ববিদগণ তাকে মুনাফিক সাব্যস্ত করে এবং তার ওপর ভীষণভাবে ক্ষেপে যায়। তাদের চাপে, প্রভাবে ও ক্রমাগত দাবির মুখে খলীফা শেষ পর্যন্ত ইবনে রুশদকে মারাকেশ ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ করতে বাধ্য হন। ফলে তিনি মারাকেশ ছেড়ে চলে যান। কিন্তু কিছুদিন পরেই খলীফা প্রকৃত সত্য অবহিত হন এবং তার সামনে ষড়যন্ত্রকারীদের কুটচাল স্পষ্ট হয়ে যায়। ফলে তিনি ইবনে রুশদকে আবারো দরবারে ফিরিয়ে আনেন এবং ষড়যন্ত্রকারীদের উচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য আগের চেয়েও বেশি সম্মান ও ক্ষমতা দান করেন।

পরলোক গমন

ক্রমাগত পরিশ্রম, অব্যাহত জ্ঞানসাধনা, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা ইবনে রুশদকে শারীরিকভাবে দুর্বল করে দেয়। তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে এবং ১১৯৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ৭২ বছর বয়সে তিনি পরলোক গমন করেন। মারাকেশে রাজকীয় সম্মানে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।

আইন কি ও আইনের উৎস সমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

1

আইনের উৎস সমূহ এবং আইন কি এই নিয়ে আজকের আলোচনা। ইনশাল্লাহ আমরা বিস্তারিত জানতে পারব। চলুন শুরু করা যাক।

আইনের সংজ্ঞা (Definition of Law)

‘আইন’ শব্দটি ফরাসি শব্দ। ইংরেজিতে আইনকে বলা হয় Law. যার উৎপত্তি টিউটনিক ‘ল্যাগ’ (Lag) শব্দ থেকে। lag শব্দের অর্থ ‘স্থির বা অপরিবর্তনীয় ও সমভাবে প্রযোজ্য। সুতরাং শাব্দিক অর্থে আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট নিয়মাবলির সমষ্টিকে বুঝায়।

এক কথায় বলা যায়, সমাজবদ্ধ মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী যে কতগুলো নিয়মকানুন যা সকলের জন্যেই সমভাবে প্রয়োগ করা হয় তাকেই আইন বলে।

আইন ও আইনের উৎস (Law & Source of Law)

সার্বভৌম শক্তির অনুমোদনকেই আইনের একমাত্র উৎস হিসেবে অভিহিত করা হয়। কেননা, রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রথা বা রীতিনীতি বা ধর্মীয় অনুশাসন আইনে পরিণত হয় না। কিন্তু তা সত্ত্বেও আইনের প্রকৃতি পর্যালোচনা করলে আইনের নিম্নোক্ত উৎসসমূহ লক্ষ্য করা যায়।

প্রথা (Custom) :

প্রথাই আইনের প্রাচীনতম উৎস। আচার-ব্যবহার বহুদিন ধরে প্রবর্তিত থাকলে প্রথায় পরিণত হয়। প্রাচীনকালে আইন সাধারণত প্রথামূলকই ছিল। তৎকালীন সমাজে প্রথার সাহায্যে দ্বন্দ্ব-মীমাংসার ব্যবস্থা করা হতো। কবে এবং কিভাবে প্রথার উদ্ভব ঘটেছিল তা অবশ্য সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায় নি। তবে এটি নিশ্চিত যে ধর্মের ভয়েই হোক বা অপরকে অনুকরণ করেই হোক বা উপযোগিতার জন্যেই হোক তখন লোকে অধিকাংশ প্রথাকে মান্য করে চলতো। রাজনৈতিক অর্থে প্রথাকে আইন বলে গণ্য করা না গেলেও বর্তমানে প্রথা যে প্রবর্তিত আইনসমূহের অন্যতম প্রধান উৎস সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

ধর্ম (Religion) :

মানুষের ওপর ধর্মের প্রভাব অপরিসীম। প্রাচীনকাল থেকেই সমাজে প্রথার পেছনে ধর্মীয় অনুমোদন ছিল। ন্যায়-অন্যায়, পাপ-পুণ্য ইত্যাদি মূল্যবোধ ধর্ম চিহ্নিত করেছে বলে প্রাচীন ও সভ্যযুগে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতিনীতি প্রভাব বিস্তার করে। সে কালে ধর্মীয় বিধানই রাষ্ট্রীয় আইন হিসেবে বিবেচিত হতো। বর্তমান যুগেও ধর্মীয় রীতিনীতিকে আইনরূপে গ্রহণ করে রাষ্ট্রীয় আইন প্রবর্তন করা হয়। বাংলাদেশে হিন্দু ও মুসলমানদের পারিবারিক আইন তাদের স্ব-স্ব ধর্মকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। তাই বলা যায়, ধর্ম আইনের আরেকটি অন্যতম উৎস।

বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা (Scientific Discussion) :

আইনবিদদের বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা বা তাদের আইন বিষয়ক গ্রন্থাবলিও আইনের উৎস হিসেবে কাজ করে। অইনবিদনের আইন সংক্রান্ত মূল্যায়ন, আলোচনা, আইনের ব্যাখ্যা ইত্যাদি থেকে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় আইনের সন্ধান লাভ করে। বৃটেনের আইন ব্যবস্থায় কোক, ব্লাক স্টোন, আমেরিকার কেল্ট প্রমুখ আইনবিদদের অনেক অভিমতই আইনের মর্যাদা লাভ করেছে। ইসলামি আইনের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম গাজ্জালী, ইবনে রুশদ, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহম্মদ বিন হাম্বল (রাঃ) প্রমুখ ইসলামি চিন্তাবিদদের মূল্যবান আলোচনা ও অভিমত গুরুত্বসহকারে আইনের উৎস হিসেবে দেখা হয়।

বিচার বিভাগীয় রায় (Judicial Decision):

বিচারকালে বিচারক যদি প্রচলিত আইনের মাধ্যমে আদালতে উত্থাপিত মামলার নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হন তখন তিনি স্বীয় বুদ্ধি এবং মেধার সাহায্যে প্রচলিত আইনের সাথে সঙ্গতি বিধান করে আইনের একটা নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে মামলার রায় প্রদান করেন। বিচারকের এ নতুন ব্যাখ্যা অনুরূপ কোনো মামলার ক্ষেত্রে যখন অন্য বিচারকরা গ্রহণ করেন তখন তা আইনে পরিণত হয়ে যায়। তাই দেখা যায়, বিচারকের রায়ও আইনের একটি উৎস। এজন্যে গেটেল বলেন, “আইন প্রণেতা হিসেবে রাষ্ট্রের উদ্ভব হয় নি, উদ্ভব হয়েছিল প্রথার ব্যাখ্যাকর্তা ও প্রয়োগকারী হিসেবে।

ন্যায় বিচার (Justice):

বিচারকগণের দায়িত্ব ন্যায় বিচার সম্পাদন করা। কিন্তু দেশে প্রচলিত আইনের সাহায্যে এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। এসব ক্ষেত্রে বিচারপতিগণ ব্যক্তিগত ন্যায়-নীতির ধারণার ভিত্তিতে বিরোধের মীমাংসা করেন। আইনের সুস্পষ্ট নির্দেশের অনুপস্থিতিতে ন্যায় বিচার আইনের অসম্পূর্ণতা দূর করতে সাহায্য করে থাকে। হেনরি মেইন Equity-র সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, “anybody of rules existing by the side of the original civil law, founded on distinct principles and claiming incidentally to supersede the civil law in virtue of a superior sanctity inhernet in those principles.”

আইন প্রণয়ন (Legislation) :

বর্তমান যুগে আইন হলো আইনের সর্বপ্রধান উৎস। গিলঞ্জি (Gilchrist) বলেছেন, “It is chief source of law and is tending to supplant the other sources. দেশের আইনসভা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে জনমত অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করে। জনকল্যাণমূলক তত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট রাষ্ট্রে সরকারের কর্মক্ষেত্রের পরিধি যথেষ্ট প্রসারিত হয়েছে। এ বিপুল দায়িত্ব সম্পাদনের জন্যে প্রয়োজন হয় অসংখ্য আইনের। আইনপরিবস এসব আইন সৃষ্টি করে।

নির্বাহী ঘোষণা ও ডিক্তি (Executive Order and Decree)

বর্তমান যুগে নানা কারণে আইনসভা তার কর্তৃত্বকে শাসন বিভাগের মাধ্যমেও পরিচালনা করে। এ অবস্থায় শাসন বিভাগের জারিকৃত ঘোষণা ও আদেশ আইনে পরিণত হয়। তাই শাসনিক আইনের উৎস নির্বাহী ঘোষণা ও ডিকি।

বৈদেশিক চুক্তি (Foreign Treaty)

সাধারণত বৈদেশিক চুক্তিগুলো শাসন বিভাগের যারা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। প্রায় দেশেই বৈদেশিক চুক্তি ঘোষিত হওয়ার পর তা আইনসভায় গৃহীত হয়ে আইনে পরিণত হয়। অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বৈদেশিক চুক্তি ঘোষিত হওয়ার আগেই আইনসভার অনুমোদন লাভ করতে হয়।

সংবিধান (Constitution):

সংবিধান আইনের সবচেয়ে বড় উৎস। সংবিধান আইনের বিশেষ দলিল। আইনসভা ও অন্যান্য সরকারি বিভাগের ক্ষমতা সীমিত ও তাদের কার্যরীতি প্রতিষ্ঠার জন্যে সংবিধান রচনা করা হয়। সংবিধানে জনগণের অধিকারসমূহ লিপিবন্ধ থাকে। সংবিধানে বিভিন্ন ধরনের বিধান আইনসভা ও সরকারের পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। সংবিধান পরিপন্থী কোনো আদেশ-নির্দেশ আইনে পরিণত হতে পারে না। তাই সংবিধান মূলত আইন তৈরির প্রধান উৎস।

আন্তর্জাতিক আইন (International Law) :

বর্তমানে আইনের উৎস হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনকেও ধরা হয়ে থাকে। কারণ আন্তর্জাতিক আইন সুসভ্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে পারস্পরিক সম্বন্ধ নির্ধারণ করে এবং রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে পারস্পরিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। টি. জে পরে (T. J. Lawrence) বলেছেন, “আন্তর্জাতিক আইন বলতে সেসব বিধিবিধানকে বুঝায় যা সাধারণভাবে সুসভ্য রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে।”

জনমত (Public Opinion):

জনমত আইনের একট অত্যাধুনিক উৎস। আধুনিক বিশ্বে জনমতের ভিত্তিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণীত হয়ে থাকে। বর্তমানে আইনসভা জনমতকে উপেক্ষা করে কোন আইন প্রণয়ন করতে পারে না। আবার আইনসভা কখনও কখনও আইন প্রণয়নের পূর্বে জনমত যাচাই করে আইন প্রণয়ন করে।

সংহতিকরণ (Integration) :

সংহতিকরণ আইনের একটি সহায়ক উৎস। আইন প্রণয়নের পর তা বিন্যস্ত করার প্রয়োজন পড়ে। এ বিন্যাসকরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে আইনের অসংগতি দূর করা। এ সময় আইনের কিছু কিছু পরিবর্তন ঘটে। পরিবর্তনের কারণে আবার নতুন নতুন আইনের সংযোজন হয়। এক্ষেত্রে সংহতিকরণ আইন প্রণয়নের উৎস হিসেবে কাজ করে।

আইনজ্ঞদের ভাষ্য (Comments of Lawyer):

অনেক আইনবিদদের রচনাবলিও আইনের উৎস হিসেবে কাজ করছে। তাদের ব্যাখ্যা ও আলোচনা আইনের প্রকৃত অর্থ, অভিপ্রায় ও মর্ম উদ্ঘাটন করে। এসব গ্রন্থে অনেক আইনগত নীতি থাকে, যেগুলো বিভিন্ন রাষ্ট্রে পরবর্তীতে আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন- বৃটেনের আইন ব্যবস্থায়ও কোক (Coke), ব্ল্যাকস্টোন (Blackstone). বেল্ট (Kent) প্রমুখ পণ্ডিতের ব্যাখ্যার বিশেষ অবদান রয়েছে।

প্রশাসনিক ঘোষণা ( Administrative Declaration):

অনেক সময় আইনসভা তার নির্বাহী কর্তৃত্বের বহুলাংশ শাসন বিভাগের কর্মকর্তাদের হাতে অর্পণ করে। তখন শাসন বিভাগের কর্মকর্তাগণ অর্পিত ক্ষমতাবলে বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী ঘোষণা ও ডিগ্রি প্রদানের দ্বারা নতুন আইনের সৃষ্টি করেন।

পরিশেষ

উপর্যুক্ত আলোচনার নিরিখে বলা যায়, আইন নিছক কোন ধারণা নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উৎসের সমন্বয়ে গড়ে ওঠেছে। বর্তমানে সংবিধান, আইনসভা আইনের অন্যতম উৎস হলেও প্রথা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং অন্য উৎসসমূহও আইন প্রণয়নে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। তাই আমরা রাষ্ট্রপতি উইলসনের সাথে একমত হয়ে বলতে পারি যে, “বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা দ্বারা আইনের সৃষ্টি সভ্যতার এক বিশেষ স্তরে উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত আইনের উৎসরূপে গণ্য করা হয় না।”

আমাদের সাথেই থাকুন,

facebook.com/EracoxBangla

 

error: Content is protected !!
Exit mobile version